মানুষ বেশি কাছে এলেই অস্বস্তি লাগে —————– মোশারফ হোসেন
- Update Time : ০৫:৫১:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৫২২ Time View

মানুষ বেশি কাছে এলেই অস্বস্তি লাগে । অনেকেই ভাবেন এটা অহংকার, কিন্তু এর ভেতরে থাকে এমন
এক ভয়, যা কেউ দেখতে পায় না। শুরুতে সব স্বাভাবিক লাগে। বন্ধু, আলাপ, আড্ডা- সবই ভালো লাগে।
কিন্তু ধীরে ধীরে সব কিছু বদলে যায়। কেউ কোন প্রশ্ন করলে অস্বস্তি লাগে। কেউ কাছে এলে মনে
হয়, শ্বাসরুদ্ধ হয়ে যাচ্ছি। কথার মাঝেই চুপ হয়ে যাওয়া, চোখ এড়িয়ে যাওয়া, অভ্যাসে পরিণত হয়।
বাইরের চোখে দেখলে মনে হয়, সে খুব একলা থাকতে চায় বা নিজেকে বড় ভাবে কিন্তু ভেতরে লুকিয়ে
থাকে এক অদৃশ্য ভয়ভয় যে ঘনিষ্ঠ হলে, নিজের জায়গা হারিয়ে যাবে, অথবা কেউ কষ্ট দেবে। এভাবে
ধীরে ধীরে তৈরি হয় এক অদৃশ্য দেয়াল, দেয়ালের ভেতরে একা মানুষ, আর বাইরে পৃথিবী চলতে থাকে।
ফলাফল আত্মবিশ্বাস কমে যায়, সম্পর্ক দূরে সরে যায়, আর নিঃসঙ্গতা বেড়ে যায়। তবে প্রত্যেক
মানুষেরই সুন্দর জিবন যাপন করার ইচ্ছা থাকে। সেই ইচ্ছা পূরন করতে অনেকেই অনেক ধরনের পথ
বেছে নেয়। যদি কেউ রাজনীতিকে পছন্দ করেন তাহলে আপনি এ ভূল পছন্দ থেকে সরে আসুন। ভাই
আমাদের দেশের রাজনীতি করতে তেমন শিক্ষা দিক্ষা লাগেনা। জ্ঞানের অভাবে এখান থেকে শুরু হয়
অপরাজনীতির অংশ প্রতিহিংসা। সহজে কেউ পরিশ্রম করে শরীরের ঘাম জরিয়ে উৎপাদনশীল কাজ
করতে রাজী হয় না। একটু ঝুকি নিয়ে রাজনীতি করলেই সাদা পোশাক পরে মিটিং মিছিলে শ্লোগান দিলেই
ব্যাস হয়ে গেল। এরই প্রতিফলন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান
সাদ্দাম প্যারোলের আবেদন করলেও মুক্তি না দিয়ে কারাফটকে স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখানোর
ঘটনা "সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন" বলে মনে করছে
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র। বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি
সাদ্দামের পরিবারের পক্ষ থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর আনুষ্ঠানিকভাবে প্যারোলের আবেদনটি
করা হয়েছিল। আহ রাজনীতি রে! বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান
সাদ্দামের মৃত স্ত্রী ও সন্তানের লাশ যশোরের জেল গেইটে দেখা পেল। বর্তমান নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের
সাদ্দাম দীর্ঘ ১১ মাস ধরে জেলে আছে। সম্ভবত জেলে যাবার ২ মাস পর সে বাবা হয়। জন্মের পর
বাপ-ছেলে কেউ কাউকে ছুঁয়ে দেখতে পারেনি। তাহলে এটা কেমন জিবন। এইদিকে সমাজ, সংসার, অভাব,
অনটনের কাছে আত্নসমর্পণ করে নিজের কলিজার টুকরো সন্তানকে হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যা
করে পরপারে পারি জমিয়েছেন সাদ্দামের স্ত্রী ও পুত্র। এই দায় রাজনীতির, এই দায় রাষ্ট্রের, এই
দায় আমাদের নোংরা মন মানসিকতার রাজনীতি, মানুষের কল্যাণের জন্য। এর উল্টোটা ঘটলে সমাজ
জঙ্গলের থেকেও ভয়ংকর হয়ে দাঁড়ায়। তাই আমাদের এখন থেকে প্রতিজ্ঞা করা উচিত প্রতিহিংসার
রাজনীতি, অসুস্থ রাজনীতি বাদ দিয়ে একটু সুন্দর সুস্থ স্বাভাবিক একটা দেশ কি আমাদের ভবিষ্যৎ
প্রজন্ম আশা করতে পারেনা ?

























