https://www.facebook.com/obaidul1991
নিজের নাক কেটে অন্যের শুভ-যাত্রা ” ———- মোশারফ হোসেন
- Update Time : ০৬:৪৪:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৩২ Time View

রোহিঙ্গারা আর কত দিন বাংলাদেশে থাকবে তার কোনো নির্দিষ্ট বা নিশ্চিত সময়সীমা এখনো
নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। ২০১৭ সালের ব্যাপক অনুপ্রবেশের পর প্রায় ৯ বছর পার হয়ে গেলেও
মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির কারণে এখনও নিরাপদ এবং টেকসই
প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়নি। ২০২৬ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এসে এটি স্পষ্ট যে, ২০১৭ সালের
সেই মানবিক সিদ্ধান্তের চরম মাশুল এখন বাংলাদেশকে দিতে হচ্ছে। ক্যাম্পগুলোতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি,
পরিবেশের বিপর্যয়, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি এবং ইয়াবা-অস্ত্রের চোরাচালান বাংলাদেশের
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং দেশের
সাধারণ মানুষ এখন তীব্রভাবে অনুভব করছে যে, শক্তিশালী দেশগুলোর মতো শুরুতেই কঠোর বা
কৌশলগত অবস্থান না নেওয়া বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদী ভুল ছিল। রোহিঙ্গা
সংকটের মূল কেন্দ্র মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সাথে ভারত, থাইল্যান্ড বা মালয়েশিয়ার কোনো
সরাসরি ও সহজ স্থল সীমান্ত নেই। কিন্তু বাংলাদেশের কক্সবাজার ও বান্দরবান সীমান্ত রাখাইনের
ঠিক পাশেই অবস্থিত। ২০১৭ সালে যখন মিয়ানমার সেনাবাহিনী গণহত্যা শুরু করে, তখন লাখ লাখ
মানুষ কয়েক দিনের মধ্যে পায়ে হেঁটে নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে এসে জড়ো হয়।
থাইল্যান্ড বা মালয়েশিয়ার মতো সমুদ্রপথে আসা নৌকা ফিরিয়ে দেওয়া যতটা সহজ ছিল, চোখের
সামনে সীমান্তে লাখ লাখ ক্ষুধার্ত ও গুলিবিদ্ধ মানুষকে পুশব্যাক করা বাংলাদেশের জন্য ততটা সহজ
বা মানবিক ছিল না। তৎকালীন সরকারের ধারণা ছিল, যেহেতু এটি একটি বৈশ্বিক মানবিক সংকট,
তাই জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদী থাকা-খাওয়া ও
চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করবে। প্রথম কয়েক বছর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিপুল অর্থ
সাহায্য দিয়েছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা সংকট এবং বিশ্বব্যাপী
অর্থনৈতিক মন্দার কারণে রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক অর্থায়ন আশঙ্কাজনকভাবে কমে
গেছে। ফলে বর্তমানে এই বিশাল ব্যয়ের একটি বড় অংশ বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থনীতি থেকে বহন
করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার শুরুতে হিসাব করেছিল যে, আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ করে
মিয়ানমারকে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করা যাবে। এ কারণে ২০১৭
সালের নভেম্বর মাসেই মিয়ানমারের সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাবাসন চুক্তি সই করা হয়েছিল।
কিন্তু বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমারের দীর্ঘমেয়াদী চালবাজি এবং ভূরাজনীতিতে চীন ও ভারতের
মিয়ানমার-ঘেঁষা অবস্থান সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারেনি। ফলে মিয়ানমার আন্তর্জাতিক চাপকে
তোয়াক্কা না করে বছরের পর বছর চুক্তি লঙ্ঘন করে চলেছে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এই
বিশাল শরণার্থী সংকটকে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের নৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের একটি বড় সুযোগ হিসেবে
দেখেছিল। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হওয়া এবং দেশের ভেতরে একটি মানবিক ভাবমূর্তি তৈরি
করার মাধ্যমে তৎকালীন রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে এক ধরণের বৈশ্বিক বৈধতা বা সমর্থন পাওয়ার
হিসাবও এর পেছনে কাজ করেছিল। মিয়ানমারে সংঘাতের কারণে ২০২৪ সাল থেকে শুরু করে এখন
পর্যন্ত আরও ১ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে । যার ফলে
সমস্যা সমাধানের চেয়ে আরও জটিল আকার ধারণ করছে। আন্তর্জাতিক সহায়তার পরিমাণ দিন দিন
কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের ওপর অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে Asian News
Network। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত মিয়ানমার তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা
দিয়ে ফিরিয়ে না নিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের বাংলাদেশে অবস্থান দীর্ঘায়িত হওয়ার
ব্যবস্থাপনাই চলমান রাখতে হচ্ছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা
যখন বাংলাদেশ সীমান্তে এসে জড়ো হয়, তখন তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার (প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনা) সম্পূর্ণ মানবিক কারণে সীমান্ত খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা বিপন্ন
মানুষদের আশ্রয় না দিলে সেখানে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঘটত। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাত
থেকে বাঁচতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা যখন বাংলাদেশ সীমান্তে এসে জড়ো হয়, তখন তৎকালীন বাংলাদেশ
সরকার (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) সম্পূর্ণ মানবিক কারণে সীমান্ত খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা বিপন্ন মানুষদের আশ্রয় না দিলে সেখানে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়
ঘটত। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এবং এর সমর্থকদের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ
মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করা হয় লাখ লাখ মানুষের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংস
অত্যাচার ও গণহত্যার মুখে সীমান্ত বন্ধ রাখলে এক চরম মানবিক বিপর্যয় ঘটত। সে সময় শেখ
হাসিনার একটি বক্তব্য বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয় "আমরা যদি ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারি, তবে
আরও ৭ লাখ মানুষকেও খাওয়াতে পারব।" এছাড়া, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের
মাটিতে ১ কোটি বাঙালি শরণার্থীর আশ্রয় পাওয়ার ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতাও সাধারণ মানুষের মধ্যে
রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতি তৈরি করেছিল The Wall Street Journal। আন্তর্জাতিক
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে একটি বড় মানবিক দেশ হিসেবে
পরিচিতি পায় এবং শেখ হাসিনাকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল "মাদার অব হিউম্যানিটি" (মানবতার
মা) উপাধিতে ভূষিত করে Diplomat Magazine। এটি বাংলাদেশকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদসহ
বিভিন্ন বৈশ্বিক ফোরামে নৈতিকভাবে একটি উচ্চ অবস্থান দেয় এবং আন্তর্জাতিক সাহায্য
সংস্থাগুলোর বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও মানবিক সহায়তার পথ সুগম করে Sky News। বাস্তব
দৃষ্টিকোণ থেকে, নাফ নদী ও স্থল সীমান্ত পেরিয়ে ধেয়ে আসা লাখ লাখ মরিয়া মানুষকে কোনো রকম
প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ (যেমন গুলি চালানো) ছাড়া পুরোপুরি আটকে রাখা কঠিন ছিল। বলপ্রয়োগ করলে
বাংলাদেশ নিজেই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে সমালোচনার মুখে পড়তে পারত।
বাংলাদেশ ৯ মাসে স্বাধীন হয়েছে কিন্তু রোহিঙ্গারা সহজে দেশে যেতে পারবে কিভাবে? বাংলাদেশের
স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং রোহিঙ্গা সংকটের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ায় রোহিঙ্গাদের সহজে
নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়া একটি অত্যন্ত জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। ১৯৭১ সালে বাঙালিরা
নিজের মাতৃভূমিতে থেকে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছিল এবং ভারতের সরাসরি সামরিক সহযোগিতা ও
বৈশ্বিক সমর্থন ছিল The Daily Star। অন্যদিকে, রোহিঙ্গারা নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে অন্য
দেশে শরণার্থী হিসেবে রয়েছে, যাদের কোনো নিজস্ব রাষ্ট্র বা শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সামরিক
সমর্থন নেই। রোহিঙ্গারা সহজে বা টেকসই উপায়ে কীভাবে দেশে ফিরতে পারে, সে বিষয়ে
আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের কিছু প্রধান সুপারিশ নিচে তুলে ধরা হলো :- রোহিঙ্গারা
তখনই সহজে ফিরতে পারবে যখন মিয়ানমার সরকার তাদের নাগরিক অধিকার, ভোটের অধিকার এবং
স্বাধীনভাবে চলাচলের আইনি স্বীকৃতি দেবে The Daily Star। এটি ছাড়া তারা সেখানে আবার
নির্যাতনের শিকার হওয়ার ভয়ে ফিরতে চাইছে না বিডিনিউজ২৪.কম। আন্তর্জাতিক আইনি ও
অর্থনৈতিক চাপ: জাতিসংঘ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক
সম্প্রদায় যদি মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ও আরাকান আর্মির ওপর কঠোর অর্থনৈতিক
নিষেধাজ্ঞা এবং কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে, তবেই তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হতে পারে।
বহুপাক্ষিক বা আঞ্চলিক কূটনৈতিক উদ্যোগ (চীন ও ভারতের ভূমিকা): মিয়ানমারের ওপর সবচেয়ে
বেশি প্রভাব রয়েছে চীন ও ভারতের। বাংলাদেশ যদি এই দুই প্রতিবেশী দেশকে যুক্ত করে একটি
শক্তিশালী ত্রিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় মধ্যস্থতা তৈরি করতে পারে, তবে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সহজ
হতে পারে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, রোহিঙ্গাদের সহজে ফিরে যাওয়া কোনো সামরিক যুদ্ধের মাধ্যমে
সম্ভব নয়; এটি কেবল একটি শক্তিশালী, সমন্বিত এবং আন্তরিক আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও
আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সম্ভব। আন্তর্জাতিক সহায়তার পরিমাণ দিন দিন কমে যাওয়ায়
বাংলাদেশের ওপর অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে Asian News Network। তবে
যতক্ষণ পর্যন্ত মিয়ানমার তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা দিয়ে ফিরিয়ে না
নিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের বাংলাদেশে অবস্থান দীর্ঘায়িত হওয়ার ব্যবস্থাপনাই চলমান রাখতে
হচ্ছে। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের সীমান্ত খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তটির পেছনে কোনো
একক স্বার্থ বা সুবিধা ছিল না; বরং এর পেছনে গভীর মানবিক দায়বদ্ধতা, আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি
এবং তৎকালীন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করেছে বলে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক
বিশ্লেষকগণ মনে করেন। মিয়ানমারে নিরাপদ পরিবেশ ও নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা: রোহিঙ্গারা তখনই
সহজে ফিরতে পারবে যখন মিয়ানমার সরকার তাদের নাগরিক অধিকার, ভোটের অধিকার এবং
স্বাধীনভাবে চলাচলের আইনি স্বীকৃতি দেবে The Daily Star। এটি ছাড়া তারা সেখানে আবার
নির্যাতনের শিকার হওয়ার ভয়ে ফিরতে চাইছে না বিডিনিউজ২৪.কম। আন্তর্জাতিক আইনি ও
অর্থনৈতিক চাপ: জাতিসংঘ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক
সম্প্রদায় যদি মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ও আরাকান আর্মির ওপর কঠোর অর্থনৈতিক
নিষেধাজ্ঞা এবং কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে, তবেই তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হতে পারে।
বহুপাক্ষিক বা আঞ্চলিক কূটনৈতিক উদ্যোগ (চীন ও ভারতের ভূমিকা): মিয়ানমারের ওপর সবচেয়ে
বেশি প্রভাব রয়েছে চীন ও ভারতের। বাংলাদেশ যদি এই দুই প্রতিবেশী দেশকে যুক্ত করে একটি
শক্তিশালী ত্রিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় মধ্যস্থতা তৈরি করতে পারে, তবে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সহজ
হতে পারে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, রোহিঙ্গাদের সহজে ফিরে যাওয়া কোনো সামরিক যুদ্ধের মাধ্যমে
সম্ভব নয়; এটি কেবল একটি শক্তিশালী, সমন্বিত এবং আন্তরিক আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও
আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সম্ভব। বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আগমনে নেশার বড়ি ইয়াবা আমদানীতে
আমাদের যুব সমাজ ধ্বংশের দিকে। কিভাবে আমরা নেশা প্রতিরোধ করব?রোহিঙ্গাদের আগমন এবং
সীমান্ত সুরক্ষার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে মাদক কারবারিরা বড় আকারে ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথ
(আইস) দেশে প্রবেশ করাচ্ছে, যা আমাদের যুবসমাজের জন্য এক বড় হুমকি। মাদক প্রতিরোধ এবং
যুবসমাজকে রক্ষা করতে সামাজিক, প্রশাসনিক ও মনস্তাত্ত্বিক স্তরে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ
করা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের যুব সমাজকে নেশার মাধ্যমে ধ্বংশ করা ও একটি চক্রান্ত। সীমান্তে
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা: নাফ নদী ও কক্সবাজারের দুর্গম সীমান্ত এলাকাগুলোতে বর্ডার গার্ড
বাংলাদেশ (BGB) এবং কোস্ট গার্ডের টহল আরও জোরদার করতে হবে। আধুনিক ড্রোন ও নজরদারি
প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাদক চোরাচালানের রুটগুলো বন্ধ করা আবশ্যক। মাদকের গডফাদার ও
খুচরা বিক্রেতা—উভয়ের ক্ষেত্রেই কঠোর আইনি শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যেন কেউ রাজনৈতিক
বা প্রশাসনিক প্রভাবে পার না পেয়ে যায়। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে মাদকের
কুফল অন্তর্ভুক্ত করা এবং নিয়মিত সেমিনার ও কাউন্সেলিংয়ের আয়োজন করা দরকার। এখন
প্রশ্ন জাগে পাশ্ববর্তী অন্যান্য দেশ তাদেরকে স্থান দেইনি আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার
এত দরদ হল কেন? এ প্রশ্নের উত্তর বেরিয়ে আসে- তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার পেছনে প্রধান কারণ ছিল চরম মানবিক বিপর্যয় এড়ানো এবং
তৎকালীন আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা। পার্শ্ববর্তী
অন্যান্য দেশ যেমন ভারত বা থাইল্যান্ড যেখানে রোহিঙ্গাদের প্রবেশ কঠোরভাবে প্রতিহত
করেছিল, সেখানে বাংলাদেশের এই "দরদ" বা বিশেষ সিদ্ধান্তের পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ
কাজ করেছিল। রাখাইন রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সরাসরি স্থল ও নদী (নাফ নদী) সীমান্ত রয়েছে।
২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংসতা এত তীব্র ছিল যে, লাখ লাখ মানুষ জীবন বাঁচাতে মরিয়া
হয়ে সীমান্ত পেরিয়ে চলে আসে। সীমান্তে তখন যদি জোরপূর্বক পুশব্যাক (বলপ্রয়োগ করে ফেরত
পাঠানো) করা হতো, তবে সীমান্তে হাজার হাজার মানুষের চোখের সামনে মৃত্যু ঘটত, যা বাংলাদেশের
জন্য একটি বিশাল মানবিক ও নৈতিক বিপর্যয় তৈরি করত। ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক চেতনা:
বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় প্রায় ১ কোটি বাঙালি ভারতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় পেয়েছিল। এই
ঐতিহাসিক স্মৃতি এবং মনস্তাত্ত্বিক দায়বদ্ধতা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এবং তৎকালীন
সরকারের নীতি নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলেছিল। অন্যান্য দেশ কেন আশ্রয় দেয়নি? বুদ্ধিমান ভারত
প্রথম থেকেই রোহিঙ্গা সংকটকে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেছে।
তারা রোহিঙ্গাদের সাথে জঙ্গিবাদের সংযোগ থাকতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে তাদের পুশব্যাক করে
এবং দেশে থাকা রোহিঙ্গাদেরও নজরদারিতে রাখে। থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া: এই দেশগুলোর সাথে
মিয়ানমারের সীমান্ত মূলত সমুদ্রবেষ্টিত বা অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি। তারা তাদের নৌবাহিনী ব্যবহার
করে সাগরে ভাসমান রোহিঙ্গাদের নৌকাগুলোকে তাদের জলসীমায় ঢুকতে না দিয়ে অন্য দেশের দিকে
ঠেলে দিয়েছিল, কারণ তারা এই দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ও সামাজিক বোঝা নিতে চায়নি। তবে
তৎকালীন সরকারের এই সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে প্রশংসিত হলেও, সুনির্দিষ্ট কোনো চুক্তি ছাড়া
এত বিপুল সংখ্যক শরণার্থীকে ঢুকতে দেওয়া দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ এবং
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য বড় সংকট তৈরি করেছে বলে বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা
বিশ্লেষকরা মনে করেন। শক্তিশালী ভারত, মালশিয়া,থাইল্যান্ড এই দীর্ঘ মেয়াদি অর্থর্নৈতিক ও
সামাজিক বোঝা নিতে চায়নি, আমরা কোন হিসেবে এ বোঝা নিয়েছি ? বাংলাদেশ এই দীর্ঘমেয়াদী
অর্থনৈতিক ও সামাজিক বোঝা কোনো পূর্বপরিকল্পিত লাভ-ক্ষতির হিসাব কষে নেয়নি; বরং
তাৎক্ষণিক ভৌগোলিক বাধ্যবাধকতা, বৈশ্বিক সাহায্যের আশ্বাস এবং কূটনৈতিক কৌশলের ভুল
হিসাবের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এই বিশাল
শরণার্থী সংকটকে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের নৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের একটি বড় সুযোগ হিসেবে
দেখেছিল। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হওয়া এবং দেশের ভেতরে একটি মানবিক ভাবমূর্তি তৈরি
করার মাধ্যমে তৎকালীন রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে এক ধরণের বৈশ্বিক বৈধতা বা সমর্থন পাওয়ার
হিসাবও এর পেছনে কাজ করেছিল। একেই বলে নিজের নাক কেটে অন্যের শুভ-যাত্রা।
























