১১:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬

নরসিংদী কারাগারে কয়েদির মৃত্যু, গাফিলতির অভিযোগ কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে

Reporter Name
  • Update Time : ০১:৫০:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫
  • / ২৮৫ Time View
রেজাউল করিম, জেলা প্রতিনিধি নরসিংদী : নরসিংদী জেলা কারাগারে কারারক্ষীর গাফলতিতে এক কয়েদির মৃত্যু হয়েছে, কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছেন কয়েদির স্বজনরা।
নিহত কয়েদি রুকন মিয়া (৩৫) সদর উপজেলার নজরপুর ইউনিয়নের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
একদিকে জেল সুপার বলছেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। আর অন্যদিকে ১০০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বলছেন মৃত অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে গ্রহণ করেন। এ নিয়ে মানুষের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে নানা কৌতুহল।
নিহতের ভাই রুবেল বলেন, রুকন একেবারে সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল, তার শুধুমাত্র ডায়াবেটিসের সমস্যা। এছাড়া শারীরিক কোন সমস্যা ছিল না। জেলা কারাগারের পুলিশ তাকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। না হলে হঠাৎ করে সে কেন মারা যাবে? রুকন গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসে পুলিশ। কিন্তু এই বিষয়টি সম্পর্কে আমাদের পরিবারের কাউকে কিছু জানানো হয়নি। তখনই আমার ভাই মারা যায়। বিষয়টি তারা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। আজকে বুধবার সকালে অন্যমাধ্যম থেকে খোঁজ নিয়ে হাসপাতালে এসে দেখি আমার ভাই মৃত। আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে কারাগারে হত্যা করা হয়েছে।জেল সুপারকে একাধিকবার বললেও তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। এই ঘটনার পরপর নরসিংদী জেলা জুড়ে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কারাগারের মধ্যে একজন কয়দির মৃত্যু আর অন্যদিকে দুইজন দায়িত্বশীল কর্মকতার বক্তব্য নিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক রহস্য ও ধুম্রজাল।
জেল সুপার মোঃ শামীম জানান, মাদক মামলায় আসামী হিসেবে রুকন মিয়া নরসিংদী কারাগারে বন্দী ছিলো। গতকাল বিকেলে কয়েদি রুকন মিয়া হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ খবর অন্যান্য কয়েদিরা জানানোর সাথে সাথে তাকে নরসিংদী জেলা ১শ’ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করার পর,কর্তব্যরত ডাক্তার খোকনকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি সে শারীরিক অসুস্থতার কারণে মারা গিয়েছে। জেল থেকে তাকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি।
জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়েক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে গতকাল রাত সাড়ে ৮টার পরে জেলা কারাগার হতে একজন বন্দী আসেন। আমাদের কর্ত্যবরত চিকিৎসক তাকে মৃত অবস্থায় রিসিভ করেন। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী তার গায়ে কোনো আঘাতের চিহৃ ছিলনা এবং সে হঠাৎ করে অজ্ঞান হয়ে পরে এবং তার ডায়বেটিস ছিল।
নিহতের লাশের সুরাতল রির্পোট তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

thedailysarkar

দৈনিক সরকার পত্রিকা ১৯৯১ সাল হতে ঢাকা হতে প্রকাশিত হচ্ছে।

নরসিংদী কারাগারে কয়েদির মৃত্যু, গাফিলতির অভিযোগ কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে

Update Time : ০১:৫০:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫
রেজাউল করিম, জেলা প্রতিনিধি নরসিংদী : নরসিংদী জেলা কারাগারে কারারক্ষীর গাফলতিতে এক কয়েদির মৃত্যু হয়েছে, কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছেন কয়েদির স্বজনরা।
নিহত কয়েদি রুকন মিয়া (৩৫) সদর উপজেলার নজরপুর ইউনিয়নের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
একদিকে জেল সুপার বলছেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। আর অন্যদিকে ১০০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বলছেন মৃত অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে গ্রহণ করেন। এ নিয়ে মানুষের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে নানা কৌতুহল।
নিহতের ভাই রুবেল বলেন, রুকন একেবারে সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল, তার শুধুমাত্র ডায়াবেটিসের সমস্যা। এছাড়া শারীরিক কোন সমস্যা ছিল না। জেলা কারাগারের পুলিশ তাকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। না হলে হঠাৎ করে সে কেন মারা যাবে? রুকন গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসে পুলিশ। কিন্তু এই বিষয়টি সম্পর্কে আমাদের পরিবারের কাউকে কিছু জানানো হয়নি। তখনই আমার ভাই মারা যায়। বিষয়টি তারা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। আজকে বুধবার সকালে অন্যমাধ্যম থেকে খোঁজ নিয়ে হাসপাতালে এসে দেখি আমার ভাই মৃত। আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে কারাগারে হত্যা করা হয়েছে।জেল সুপারকে একাধিকবার বললেও তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। এই ঘটনার পরপর নরসিংদী জেলা জুড়ে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কারাগারের মধ্যে একজন কয়দির মৃত্যু আর অন্যদিকে দুইজন দায়িত্বশীল কর্মকতার বক্তব্য নিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক রহস্য ও ধুম্রজাল।
জেল সুপার মোঃ শামীম জানান, মাদক মামলায় আসামী হিসেবে রুকন মিয়া নরসিংদী কারাগারে বন্দী ছিলো। গতকাল বিকেলে কয়েদি রুকন মিয়া হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ খবর অন্যান্য কয়েদিরা জানানোর সাথে সাথে তাকে নরসিংদী জেলা ১শ’ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করার পর,কর্তব্যরত ডাক্তার খোকনকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি সে শারীরিক অসুস্থতার কারণে মারা গিয়েছে। জেল থেকে তাকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি।
জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়েক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে গতকাল রাত সাড়ে ৮টার পরে জেলা কারাগার হতে একজন বন্দী আসেন। আমাদের কর্ত্যবরত চিকিৎসক তাকে মৃত অবস্থায় রিসিভ করেন। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী তার গায়ে কোনো আঘাতের চিহৃ ছিলনা এবং সে হঠাৎ করে অজ্ঞান হয়ে পরে এবং তার ডায়বেটিস ছিল।
নিহতের লাশের সুরাতল রির্পোট তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।