০৩:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬
https://www.facebook.com/obaidul1991

জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে হামলা, ব্যানার ছেঁড়া ও মারধর; বিজয় রাকিন সিটিতে সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালিয়ে ভবনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অভিযোগ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
  • Update Time : ১০:৪৬:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৩০ Time View

জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করতে গিয়ে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের হামলায় আক্রান্ত হয়েছেন ‘মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সমিতি’ (রেজি নং: ঢ-০ ৩৮০১/৯৭; জামুকা রেজি নং: ২৪৯/২০১৮)-এর নিবন্ধিত সদস্য ও কাফরুলস্থ বিজয় রাকিন সিটির ফ্ল্যাট মালিকরা। সন্ত্রাসীরা সংবাদ সম্মেলনের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ফ্ল্যাট মালিকদের শারীরিক লাঞ্ছনা ও হুমকি-ধামকি দিয়ে সংবাদ সম্মেলনস্থল থেকে জোরপূর্বক বের করে দেয়। একই সময়ে বিজয় রাকিন সিটির অভ্যন্তরে সশস্ত্র বহিরাগত ক্যাডাররা একযোগে হামলা ও তাণ্ডব চালিয়ে আবাসন ভবনসমূহের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। এতে ভবনে বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধা, বৃদ্ধ, নারী ও নিষ্পাপ শিশুরা নিজ ঘরেই চরম আতঙ্ক ও জীবনঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

 শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমিতির জমানো তহবিল থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা আত্মসাৎ, দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসকদের অপসারণ, অবৈধ প্রহসনের নির্বাচন বাতিল, বৈধ কার্যনির্বাহী পরিষদ পুনর্বহাল এবং অধিবাসীদের নিরাপত্তার দাবিতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করার কথা ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে হামলা ও তাণ্ডবের বিবরণ:

উপস্থিত ফ্ল্যাট মালিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা জানান, ফ্ল্যাট মালিকেরা শান্তিপূণভাবে সংবাদ সম্মেলন শুরু করার পরপরই একদল সশস্ত্র বহিরাগত সন্ত্রাসী জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করে ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে। তারা উপস্থিত সদস্য ও ফ্ল্যাট মালিকদের মারধর করে অরাজকতা সৃষ্টি করে এবং স্লোগান দিতে দিতে মিলনায়তন থেকে বের করে দেয়।

একই সময়ে বিজয় রাকিন সিটির ভেতরেও হামলা চালানো হয়। সন্ত্রাসীদের হামলায় একজন ফ্ল্যাট মালিক রক্তাক্ত ও মারাত্মক আহত হন এবং একাধিক নিরাপত্তাকর্মীকে বেধড়ক মারধর করা হয়। বহিরাগত চিহ্নিত অপরাধী ও সন্ত্রাসীরা বর্তমানে বিজয় রাকিন সিটিতে অবাধ যাতায়াত ও অবস্থান নিয়ে বাসিন্দাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যের মূল বিষয়বস্তু  ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিবরণ:

১. বহিরাগতদের নগ্ন হস্তক্ষেপ ও সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক অন্যায়ভাবে প্রশাসক নিয়োগ:

২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে ২০০০ সালে বহিষ্কৃত এবং ২০১৬ সালে ব্যাংকিং সুদে টাকা বুঝে পেয়ে স্বত্ব ত্যাগকারী নঈম জাহাঙ্গীর ও বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে সশস্ত্র বহিরাগত সন্ত্রাসী চক্র কার্যালয়ে বর্বরোচিত তাণ্ডব চালায়, নথিপত্র ও নগদ টাকা লুট করে এবং পেট্রোল ঢেলে মূল রেকর্ডপত্র পুড়িয়ে দেয়। নির্বাচিত বৈধ কমিটির কার্যক্রমকে বাধার মুখে ফেলে এবং সশস্ত্র বহিরাগত চক্রটির অপপ্রচার ও অযাচিত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বেআইনিভাবে একের পর এক প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।

২. প্রশাসক ও বহিরাগতদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ:

দায়িত্ব পেয়েই ১ম প্রশাসক আবু মাসুদ সমিতির ব্যাংক হিসাব থেকে সরাসরি ১ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন (যার বিরুদ্ধে দুদকে মামলা বিদ্যমান)। পরবর্তীতে মহামান্য হাইকোর্টের স্পষ্ট ‘স্থিতাবস্থা’ (Status Quo) আদেশ ও ব্যাংক হিসাব স্থগিতের নির্দেশ অমান্য করে ৩য় প্রশাসক আবু মোঃ ইশতিয়াক আজিজ (উলফাত) আরও ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা বেআইনিভাবে উত্তোলন ও আত্মসাৎ করেন। দুই প্রশাসক মিলে সাধারণ সদস্যদের প্রায় আড়াই কোটি টাকা লুটপাট করেছে।

৩. প্রহসনের নির্বাচনের অপচেষ্টা ও কারণ:

মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ (রিট ৯৫২৯/২০২৫) গত ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে ঐতিহাসিক রায়ে নির্বাচিত কমিটি বিলুপ্তিকে অসদ্বিশ্বাসপ্রসূত ও বেআইনি ঘোষণা করেন। আদালতের এই নির্দেশ অবমাননা করে, নিজেদের বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে এবং বহিরাগত চক্রান্তকারী চক্রকে অবৈধ সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে অস্তিত্বহীন ব্যক্তিদের দিয়ে ভুয়া ‘পকেট ভোটার তালিকা’ বানিয়ে গত ৩০/০৮/২০২৬ তারিখে প্রহসনের নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। পরবর্তীতে জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নিজেই উক্ত বেআইনি নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন।

৪. ফ্ল্যাট দখল, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা:

১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ও ১৯৯৭ সালে নিবন্ধিত এই সমিতির সদস্যগণ সরকারি চালানের মাধ্যমে মোট ২৮,৮৮,৮০,৪১৫/- টাকা শতভাগ পরিশোধ করে ১৬.০২ একর জমি লিজ নিয়ে বৈধ বণ্টননামা ও নামজারির মাধ্যমে ফ্ল্যাট বরাদ্দ পান। অথচ প্রশাসক ও বহিরাগত সন্ত্রাসী চক্র মিলে বৈধ সদস্যদের সংবিধিবদ্ধ ফ্ল্যাট জোরপূর্বক দখল করে অ-সদস্যদের কাছে ভাড়া দিয়ে অবৈধ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এবং ২৭৪টি পরিবারের বৈধ মালিকদের উচ্ছেদের হুমকি দিচ্ছে। উল্টো মিথ্যা মামলায় সমিতির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদুল আলম ও বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান শারীরিক প্রতিবন্ধী দপ্তর সম্পাদক মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন লাভলুকে অন্যায়ভাবে দীর্ঘদিন কারাবন্দি করে আটক রাখা হয়েছিল।

ফ্ল্যাট মালিক ও বাসিন্দাদের সুনির্দিষ্ট দাবি:

১. জাতীয় প্রেসক্লাবে ও বিজয় রাকিন সিটিতে হামলাকারী বহিরাগত সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও আইনানুগ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

২. বহিরাগতদের অযাচিত হস্তক্ষেপে নিযুক্ত এবং আদালতের আদেশ অমান্য করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎকারী দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসক ইশতিয়াক আজিজ উলফাতকে অবিলম্বে অপসারণ ও বিচার করতে হবে।

৩. ২০২৪ সালের ৭ ডিসেম্বরে দায়িত্ব নেওয়া সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত বৈধ কার্যনির্বাহী পরিষদকে স্বস্থানে পুনর্বহাল এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

৪. বিজয় রাকিন সিটিতে অনধিকার প্রবেশকারী বহিরাগত সন্ত্রাসীদের উচ্ছেদ করে ৫০৭টি পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা ও নিরাপদ আবাসিক পরিবেশ সুনিশ্চিত করতে হবে।

৫. সমিতির সদস্য ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ফ্ল্যাট মালিক বীর মুক্তিযোদ্ধা স্কয়ারটন লিডার কাজী মফিজ  চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে, নাগরিকদের জীবনের অধিকার হরণ করে এই দুর্বৃত্ত চক্র আজ পুরো আবাসনকে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে। আমরা অবিলম্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচার বিভাগের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

মোঃ আব্দুল বারী ,সম্পাদক ,বিজয় রাকিন সিটি অ্যাপার্টমেন্ট ওনার্স কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ ,  বিজয় রাকিন সিটি, ভবন বি4 , টাওয়ার-4, প্লট নং- ১/২, ব্লক-ডি, সেকশন-১৫, কাফরুল, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

thedailysarkar

দৈনিক সরকার পত্রিকা ১৯৯১ সাল হতে ঢাকা হতে প্রকাশিত হচ্ছে।

https://www.facebook.com/obaidul1991

জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে হামলা, ব্যানার ছেঁড়া ও মারধর; বিজয় রাকিন সিটিতে সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালিয়ে ভবনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অভিযোগ

Update Time : ১০:৪৬:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করতে গিয়ে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের হামলায় আক্রান্ত হয়েছেন ‘মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সমিতি’ (রেজি নং: ঢ-০ ৩৮০১/৯৭; জামুকা রেজি নং: ২৪৯/২০১৮)-এর নিবন্ধিত সদস্য ও কাফরুলস্থ বিজয় রাকিন সিটির ফ্ল্যাট মালিকরা। সন্ত্রাসীরা সংবাদ সম্মেলনের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ফ্ল্যাট মালিকদের শারীরিক লাঞ্ছনা ও হুমকি-ধামকি দিয়ে সংবাদ সম্মেলনস্থল থেকে জোরপূর্বক বের করে দেয়। একই সময়ে বিজয় রাকিন সিটির অভ্যন্তরে সশস্ত্র বহিরাগত ক্যাডাররা একযোগে হামলা ও তাণ্ডব চালিয়ে আবাসন ভবনসমূহের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। এতে ভবনে বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধা, বৃদ্ধ, নারী ও নিষ্পাপ শিশুরা নিজ ঘরেই চরম আতঙ্ক ও জীবনঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

 শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমিতির জমানো তহবিল থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা আত্মসাৎ, দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসকদের অপসারণ, অবৈধ প্রহসনের নির্বাচন বাতিল, বৈধ কার্যনির্বাহী পরিষদ পুনর্বহাল এবং অধিবাসীদের নিরাপত্তার দাবিতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করার কথা ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে হামলা ও তাণ্ডবের বিবরণ:

উপস্থিত ফ্ল্যাট মালিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা জানান, ফ্ল্যাট মালিকেরা শান্তিপূণভাবে সংবাদ সম্মেলন শুরু করার পরপরই একদল সশস্ত্র বহিরাগত সন্ত্রাসী জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করে ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে। তারা উপস্থিত সদস্য ও ফ্ল্যাট মালিকদের মারধর করে অরাজকতা সৃষ্টি করে এবং স্লোগান দিতে দিতে মিলনায়তন থেকে বের করে দেয়।

একই সময়ে বিজয় রাকিন সিটির ভেতরেও হামলা চালানো হয়। সন্ত্রাসীদের হামলায় একজন ফ্ল্যাট মালিক রক্তাক্ত ও মারাত্মক আহত হন এবং একাধিক নিরাপত্তাকর্মীকে বেধড়ক মারধর করা হয়। বহিরাগত চিহ্নিত অপরাধী ও সন্ত্রাসীরা বর্তমানে বিজয় রাকিন সিটিতে অবাধ যাতায়াত ও অবস্থান নিয়ে বাসিন্দাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যের মূল বিষয়বস্তু  ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিবরণ:

১. বহিরাগতদের নগ্ন হস্তক্ষেপ ও সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক অন্যায়ভাবে প্রশাসক নিয়োগ:

২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে ২০০০ সালে বহিষ্কৃত এবং ২০১৬ সালে ব্যাংকিং সুদে টাকা বুঝে পেয়ে স্বত্ব ত্যাগকারী নঈম জাহাঙ্গীর ও বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে সশস্ত্র বহিরাগত সন্ত্রাসী চক্র কার্যালয়ে বর্বরোচিত তাণ্ডব চালায়, নথিপত্র ও নগদ টাকা লুট করে এবং পেট্রোল ঢেলে মূল রেকর্ডপত্র পুড়িয়ে দেয়। নির্বাচিত বৈধ কমিটির কার্যক্রমকে বাধার মুখে ফেলে এবং সশস্ত্র বহিরাগত চক্রটির অপপ্রচার ও অযাচিত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বেআইনিভাবে একের পর এক প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।

২. প্রশাসক ও বহিরাগতদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ:

দায়িত্ব পেয়েই ১ম প্রশাসক আবু মাসুদ সমিতির ব্যাংক হিসাব থেকে সরাসরি ১ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন (যার বিরুদ্ধে দুদকে মামলা বিদ্যমান)। পরবর্তীতে মহামান্য হাইকোর্টের স্পষ্ট ‘স্থিতাবস্থা’ (Status Quo) আদেশ ও ব্যাংক হিসাব স্থগিতের নির্দেশ অমান্য করে ৩য় প্রশাসক আবু মোঃ ইশতিয়াক আজিজ (উলফাত) আরও ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা বেআইনিভাবে উত্তোলন ও আত্মসাৎ করেন। দুই প্রশাসক মিলে সাধারণ সদস্যদের প্রায় আড়াই কোটি টাকা লুটপাট করেছে।

৩. প্রহসনের নির্বাচনের অপচেষ্টা ও কারণ:

মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ (রিট ৯৫২৯/২০২৫) গত ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে ঐতিহাসিক রায়ে নির্বাচিত কমিটি বিলুপ্তিকে অসদ্বিশ্বাসপ্রসূত ও বেআইনি ঘোষণা করেন। আদালতের এই নির্দেশ অবমাননা করে, নিজেদের বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে এবং বহিরাগত চক্রান্তকারী চক্রকে অবৈধ সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে অস্তিত্বহীন ব্যক্তিদের দিয়ে ভুয়া ‘পকেট ভোটার তালিকা’ বানিয়ে গত ৩০/০৮/২০২৬ তারিখে প্রহসনের নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। পরবর্তীতে জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নিজেই উক্ত বেআইনি নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন।

৪. ফ্ল্যাট দখল, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা:

১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ও ১৯৯৭ সালে নিবন্ধিত এই সমিতির সদস্যগণ সরকারি চালানের মাধ্যমে মোট ২৮,৮৮,৮০,৪১৫/- টাকা শতভাগ পরিশোধ করে ১৬.০২ একর জমি লিজ নিয়ে বৈধ বণ্টননামা ও নামজারির মাধ্যমে ফ্ল্যাট বরাদ্দ পান। অথচ প্রশাসক ও বহিরাগত সন্ত্রাসী চক্র মিলে বৈধ সদস্যদের সংবিধিবদ্ধ ফ্ল্যাট জোরপূর্বক দখল করে অ-সদস্যদের কাছে ভাড়া দিয়ে অবৈধ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এবং ২৭৪টি পরিবারের বৈধ মালিকদের উচ্ছেদের হুমকি দিচ্ছে। উল্টো মিথ্যা মামলায় সমিতির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদুল আলম ও বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান শারীরিক প্রতিবন্ধী দপ্তর সম্পাদক মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন লাভলুকে অন্যায়ভাবে দীর্ঘদিন কারাবন্দি করে আটক রাখা হয়েছিল।

ফ্ল্যাট মালিক ও বাসিন্দাদের সুনির্দিষ্ট দাবি:

১. জাতীয় প্রেসক্লাবে ও বিজয় রাকিন সিটিতে হামলাকারী বহিরাগত সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও আইনানুগ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

২. বহিরাগতদের অযাচিত হস্তক্ষেপে নিযুক্ত এবং আদালতের আদেশ অমান্য করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎকারী দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসক ইশতিয়াক আজিজ উলফাতকে অবিলম্বে অপসারণ ও বিচার করতে হবে।

৩. ২০২৪ সালের ৭ ডিসেম্বরে দায়িত্ব নেওয়া সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত বৈধ কার্যনির্বাহী পরিষদকে স্বস্থানে পুনর্বহাল এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

৪. বিজয় রাকিন সিটিতে অনধিকার প্রবেশকারী বহিরাগত সন্ত্রাসীদের উচ্ছেদ করে ৫০৭টি পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা ও নিরাপদ আবাসিক পরিবেশ সুনিশ্চিত করতে হবে।

৫. সমিতির সদস্য ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ফ্ল্যাট মালিক বীর মুক্তিযোদ্ধা স্কয়ারটন লিডার কাজী মফিজ  চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে, নাগরিকদের জীবনের অধিকার হরণ করে এই দুর্বৃত্ত চক্র আজ পুরো আবাসনকে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে। আমরা অবিলম্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচার বিভাগের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

মোঃ আব্দুল বারী ,সম্পাদক ,বিজয় রাকিন সিটি অ্যাপার্টমেন্ট ওনার্স কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ ,  বিজয় রাকিন সিটি, ভবন বি4 , টাওয়ার-4, প্লট নং- ১/২, ব্লক-ডি, সেকশন-১৫, কাফরুল, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬।