০৯:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬

সমন্বিত চাষে পিরোজপুরে হাফেজ অলিউল্লাহ ডাকুয়ার কৃষি বিপ্লব

Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২১২ Time View

পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর কলারদোয়ানিয়ার কৃষিতে এক অভূতপূর্ব বিপ্লব ঘটিয়েছেন হাফেজ অলিউল্লাহ ডাকুয়া। প্রচলিত কৃষির ধারণা বদলে দিয়ে একই জমিতে বহুমুখী চাষাবাদ বা ‘সমন্বিত কৃষি প্রযুক্তি’ ব্যবহার করে তিনি এখন জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি লাভ করেছেন জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা।

হাফেজ ওয়ালিউল্লাহর এই কৃষি বিপ্লবের মূল চাবিকাঠি হলো জমির সঠিক ও বহুমুখী ব্যবহার। তিনি তাঁর জমিতে কোনো অংশই ফেলে রাখেননি। তাঁর খামারে দেখা যায় এক নান্দনিক দৃশ্য:
আইলে সবজি: ধানের জমির চারপাশের উঁচু আইল বা পাড়ে চাষ করছেন লাল শাক, পালং শাকসহ বিভিন্ন মৌসুমি শাক-সবজি। জলাধারে মৎস্যচাষ: জমির মাঝখানে বা পাশে পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা ড্রেন ও ছোট জলাশয়ে চলছে মাছ চাষ।
স্থানীয়রা জানান, হাফেজ অলিউল্লাহ ডাকুয়ার এই পদ্ধতি অত্যন্ত লাভজনক। ধানের জমিতে মাছের বিচরণ থাকায় পোকা-মাকড় দমন হচ্ছে প্রাকৃতিক উপায়ে, আর মাছের বর্জ্য ধানের জমিতে জৈব সার হিসেবে কাজ করছে। ফলে একদিকে যেমন সারের খরচ কমছে, অন্যদিকে বিষমুক্ত সবজি ও মাছ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।
নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে হাফেজ অলিউল্লাহ ডাকুয়ার বলেন, “পরিশ্রম আর সঠিক পরিকল্পনা থাকলে মাটি থেকে সোনা ফলানো সম্ভব। আমি চেয়েছিলাম অল্প জায়গায় কীভাবে সর্বোচ্চ ফলন পাওয়া যায়। আজ যখন জাতীয়ভাবে বিভিন্ন পুরস্কৃত হয়েছি, তখন মনে হচ্ছে আমার কষ্ট সার্থক হয়েছে।”
হাফেজ অলিউল্লাহ ডাকুয়ার এই বহুমুখী চাষাবাদ দেখে এলাকার বেকার যুবক ও সাধারণ কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ তাঁর খামার দেখতে আসছেন এবং পরামর্শ নিচ্ছেন। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, অলিউল্লাহ ডাকুয়ার এই মডেল সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষকদের আয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
জাতীয় পর্যায়ে এই অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ পরামর্শ ও সহযোগিতা  দেয়া হয়েছে। তার এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি গ্লোবাল জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন কর্তৃক গ্লোবাল জার্নালিস্ট অ্যাওয়ার্ড, শেরে বাংলা সাংস্কৃতিক জোট থেকে শেরে বাংলা স্মৃতি অ্যাওয়ার্ড, সামাজিক পরিবেশ ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা থেকে মানবাধিকার অ্যাওয়ার্ড, টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটি অব বাংলাদেশ কর্তৃক ট্রাব অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছেন। অত্যন্ত ধার্মিক হাফেজ অলিউল্লাহ ডাকুয়া ছারছিনা দরবার শরীফের মুরিদ ও খাদেম। ছারছিনা দরবার শরীফের প্রতিটি মাহফিলে তিনি উপস্থিত থেকে কাজ করেন। মরহুম আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী (রহঃ) এর ভক্ত হাফেজ অলিউল্লাহ তার প্রতিটি ওয়াজ মাহফিলে উপস্থিত থাকতেন। সক্রিয়ভাবে রাজনীতি না করলেও তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন সমর্থক হিসেবে অনেক বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে পিরোজপুর ১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী মাসুদ সাঈদির পক্ষে কাজ করছেন। তিনি বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ফোরামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য, গ্লোবাল জার্নালিস্ট এন্ড কালচারাল এসোসিয়েশনের নির্বাহী সদস্য এবং ন্যাশনাল হিউম্যান রাইট্স এন্ড হেলথ কেয়ার সোসাইটির কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন
Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

thedailysarkar

দৈনিক সরকার পত্রিকা ১৯৯১ সাল হতে ঢাকা হতে প্রকাশিত হচ্ছে।

সমন্বিত চাষে পিরোজপুরে হাফেজ অলিউল্লাহ ডাকুয়ার কৃষি বিপ্লব

Update Time : ০১:৩৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর কলারদোয়ানিয়ার কৃষিতে এক অভূতপূর্ব বিপ্লব ঘটিয়েছেন হাফেজ অলিউল্লাহ ডাকুয়া। প্রচলিত কৃষির ধারণা বদলে দিয়ে একই জমিতে বহুমুখী চাষাবাদ বা ‘সমন্বিত কৃষি প্রযুক্তি’ ব্যবহার করে তিনি এখন জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি লাভ করেছেন জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা।

হাফেজ ওয়ালিউল্লাহর এই কৃষি বিপ্লবের মূল চাবিকাঠি হলো জমির সঠিক ও বহুমুখী ব্যবহার। তিনি তাঁর জমিতে কোনো অংশই ফেলে রাখেননি। তাঁর খামারে দেখা যায় এক নান্দনিক দৃশ্য:
আইলে সবজি: ধানের জমির চারপাশের উঁচু আইল বা পাড়ে চাষ করছেন লাল শাক, পালং শাকসহ বিভিন্ন মৌসুমি শাক-সবজি। জলাধারে মৎস্যচাষ: জমির মাঝখানে বা পাশে পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা ড্রেন ও ছোট জলাশয়ে চলছে মাছ চাষ।
স্থানীয়রা জানান, হাফেজ অলিউল্লাহ ডাকুয়ার এই পদ্ধতি অত্যন্ত লাভজনক। ধানের জমিতে মাছের বিচরণ থাকায় পোকা-মাকড় দমন হচ্ছে প্রাকৃতিক উপায়ে, আর মাছের বর্জ্য ধানের জমিতে জৈব সার হিসেবে কাজ করছে। ফলে একদিকে যেমন সারের খরচ কমছে, অন্যদিকে বিষমুক্ত সবজি ও মাছ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।
নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে হাফেজ অলিউল্লাহ ডাকুয়ার বলেন, “পরিশ্রম আর সঠিক পরিকল্পনা থাকলে মাটি থেকে সোনা ফলানো সম্ভব। আমি চেয়েছিলাম অল্প জায়গায় কীভাবে সর্বোচ্চ ফলন পাওয়া যায়। আজ যখন জাতীয়ভাবে বিভিন্ন পুরস্কৃত হয়েছি, তখন মনে হচ্ছে আমার কষ্ট সার্থক হয়েছে।”
হাফেজ অলিউল্লাহ ডাকুয়ার এই বহুমুখী চাষাবাদ দেখে এলাকার বেকার যুবক ও সাধারণ কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ তাঁর খামার দেখতে আসছেন এবং পরামর্শ নিচ্ছেন। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, অলিউল্লাহ ডাকুয়ার এই মডেল সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষকদের আয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
জাতীয় পর্যায়ে এই অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ পরামর্শ ও সহযোগিতা  দেয়া হয়েছে। তার এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি গ্লোবাল জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন কর্তৃক গ্লোবাল জার্নালিস্ট অ্যাওয়ার্ড, শেরে বাংলা সাংস্কৃতিক জোট থেকে শেরে বাংলা স্মৃতি অ্যাওয়ার্ড, সামাজিক পরিবেশ ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা থেকে মানবাধিকার অ্যাওয়ার্ড, টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটি অব বাংলাদেশ কর্তৃক ট্রাব অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছেন। অত্যন্ত ধার্মিক হাফেজ অলিউল্লাহ ডাকুয়া ছারছিনা দরবার শরীফের মুরিদ ও খাদেম। ছারছিনা দরবার শরীফের প্রতিটি মাহফিলে তিনি উপস্থিত থেকে কাজ করেন। মরহুম আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী (রহঃ) এর ভক্ত হাফেজ অলিউল্লাহ তার প্রতিটি ওয়াজ মাহফিলে উপস্থিত থাকতেন। সক্রিয়ভাবে রাজনীতি না করলেও তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন সমর্থক হিসেবে অনেক বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে পিরোজপুর ১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী মাসুদ সাঈদির পক্ষে কাজ করছেন। তিনি বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ফোরামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য, গ্লোবাল জার্নালিস্ট এন্ড কালচারাল এসোসিয়েশনের নির্বাহী সদস্য এবং ন্যাশনাল হিউম্যান রাইট্স এন্ড হেলথ কেয়ার সোসাইটির কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন