০৫:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬

বাংলাদেশ দূতাবাস রোম কর্তৃক যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
  • Update Time : ০১:৪২:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
  • / ১৪ Time View

বাংলাদেশ দূতাবাস রোমে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উদযাপিত
হয়েছে। রাষ্ট্রদূত রকিবুল হক সকালে দূতাবাসে জাতীয় সংগীতের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে
দিবসটি উদযাপনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।

পরবর্তীতে দূতাবাসে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভার প্রারম্ভে ১৯৭১ সালে
স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদগণের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং
মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মাননীয় পররাষ্ট্র
প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে মন্ত্রণালয় থেকে
প্রেরিত প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তাগণ বাংলাদেশের মহান
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য সম্পর্কে আলোচনা করেন।
সন্ধ্যায় রোমের একটি হোটেলে গুরুত্বপূর্ণ ইতালিয়ান ব্যক্তিবর্গ, বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও
কূটনীতিকগণ, রোমস্থ জাতিসংঘের তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা এবং প্রবাসী
বাংলাদেশিদের সম্মানে একটি কূটনৈতিক অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি
হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া ও ওশেনিয়া ডিভিশনের মহাপরিচালক
ও রাষ্ট্রদূত মিজ আলেসসান্দ্রা স্কিয়াভো।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশী শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ এবং ইতালির জাতীয়
সংগীত পরিবেশন করা হয়। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রোমের মেয়র-এর প্রেরিত বক্তব্য
পাঠ করে শোনানো হয়। তিনি রোমের অর্থনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান তুলে ধরেন এবং প্রবাসী
বাংলাদেশিদেরকে ইতালিয়ান সমাজে একীভূতকরণের হার বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা
অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই মহান স্বাধীনতা দিবস পালনের প্রেক্ষাপট ও স্বাধীনতা
যুদ্ধে শহীদগণকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন ইতিবাচক দিক এবং
সক্ষমতার বিষয় উল্লেখ করেন। তিনি ২০২৬ সালে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে একটি সুখী, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার যে নতুন সম্ভাবনা
সৃষ্টি হয়েছে, তা যার যার জায়গা থেকে বাস্তবায়নের জন্য সকলকে আহবান জানান। রাষ্ট্রদূত তাঁর

বক্তব্যে বাংলাদেশ-ইতালি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নের বিভিন্ন আঙ্গিক উল্লেখ করেন।
তিনি ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথা উল্লেখ করে ইতালি এবং বাংলাদেশ উভয় দেশের
অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় তাঁদেরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
বিশেষ অতিথি রাষ্ট্রদূত মিজ আলেসসান্দ্রা স্কিয়াভো তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশ-ইতালি
সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বর্তমান সরকারের সাথে ইতালি সরকারের
সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বাণিজ্য, শিক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা,
প্রতিরক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-ইতালির পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ হতে
ইতালিতে বৈধ উপায়ে অধিকতর দক্ষ কর্মী প্রেরণের লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ করার উপর গুরুত্বারোপ
করেন।
বাংলাদেশ কর্ণার স্থাপনের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী দেশীয় শাড়ি ও হস্তশিল্পের বিভিন্ন পণ্য
প্রদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশ এর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ফুটিয়ে তোলা হয়। নৈশভোজে উপস্থিত
অতিথিবৃন্দকে বাংলাদেশি এবং ইতালিয়ান খাবার পরিবেশন করা হয়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thedailysarkar@gmail.com

About Author Information

বাংলাদেশ দূতাবাস রোম কর্তৃক যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত

Update Time : ০১:৪২:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশ দূতাবাস রোমে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উদযাপিত
হয়েছে। রাষ্ট্রদূত রকিবুল হক সকালে দূতাবাসে জাতীয় সংগীতের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে
দিবসটি উদযাপনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।

পরবর্তীতে দূতাবাসে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভার প্রারম্ভে ১৯৭১ সালে
স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদগণের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং
মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মাননীয় পররাষ্ট্র
প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে মন্ত্রণালয় থেকে
প্রেরিত প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তাগণ বাংলাদেশের মহান
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য সম্পর্কে আলোচনা করেন।
সন্ধ্যায় রোমের একটি হোটেলে গুরুত্বপূর্ণ ইতালিয়ান ব্যক্তিবর্গ, বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও
কূটনীতিকগণ, রোমস্থ জাতিসংঘের তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা এবং প্রবাসী
বাংলাদেশিদের সম্মানে একটি কূটনৈতিক অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি
হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া ও ওশেনিয়া ডিভিশনের মহাপরিচালক
ও রাষ্ট্রদূত মিজ আলেসসান্দ্রা স্কিয়াভো।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশী শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ এবং ইতালির জাতীয়
সংগীত পরিবেশন করা হয়। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রোমের মেয়র-এর প্রেরিত বক্তব্য
পাঠ করে শোনানো হয়। তিনি রোমের অর্থনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান তুলে ধরেন এবং প্রবাসী
বাংলাদেশিদেরকে ইতালিয়ান সমাজে একীভূতকরণের হার বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা
অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই মহান স্বাধীনতা দিবস পালনের প্রেক্ষাপট ও স্বাধীনতা
যুদ্ধে শহীদগণকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন ইতিবাচক দিক এবং
সক্ষমতার বিষয় উল্লেখ করেন। তিনি ২০২৬ সালে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে একটি সুখী, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার যে নতুন সম্ভাবনা
সৃষ্টি হয়েছে, তা যার যার জায়গা থেকে বাস্তবায়নের জন্য সকলকে আহবান জানান। রাষ্ট্রদূত তাঁর

বক্তব্যে বাংলাদেশ-ইতালি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নের বিভিন্ন আঙ্গিক উল্লেখ করেন।
তিনি ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথা উল্লেখ করে ইতালি এবং বাংলাদেশ উভয় দেশের
অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় তাঁদেরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
বিশেষ অতিথি রাষ্ট্রদূত মিজ আলেসসান্দ্রা স্কিয়াভো তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশ-ইতালি
সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বর্তমান সরকারের সাথে ইতালি সরকারের
সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বাণিজ্য, শিক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা,
প্রতিরক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-ইতালির পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ হতে
ইতালিতে বৈধ উপায়ে অধিকতর দক্ষ কর্মী প্রেরণের লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ করার উপর গুরুত্বারোপ
করেন।
বাংলাদেশ কর্ণার স্থাপনের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী দেশীয় শাড়ি ও হস্তশিল্পের বিভিন্ন পণ্য
প্রদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশ এর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ফুটিয়ে তোলা হয়। নৈশভোজে উপস্থিত
অতিথিবৃন্দকে বাংলাদেশি এবং ইতালিয়ান খাবার পরিবেশন করা হয়।