মুসলিমের মূল ব্যর্থতাটি শিক্ষাঙ্গণে
- Update Time : ০১:০৬:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
- / ১২৪ Time View

ফিরোজ মাহবুব কামাল:
আজকের মুসলিমদের মূল ব্যর্থতাটি কৃষি, শিল্প ও অর্থনীতিতে নয়; বরং সেটি শিক্ষা নীতিতে ও শিক্ষাঙ্গণে। নবীজী (সা:) যে শিক্ষানীতি প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলেন সে শিক্ষানীতি মুসলিম বিশ্বের কোথাও বেঁচে নাই। এবং এমন কোন ইসলামী রাষ্ট্র নাই -যা প্রতিষ্ঠা দিবে নবীজী (সা:)’য়ের শিক্ষানীতিকে। সে শিক্ষানীতির মূল টেক্সট বুক ছিল পবিত্র কুর’আন। পবিত্র কুর’আনের মাধ্যমেই পাঠ দিতেন সর্বজ্ঞানী ও সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক মহান আল্লাহতায়ালা। জ্ঞানের ভূমিতে মানব সন্তানদের কোথায় শূণ্যতা, কোথায় সংকট এবং কিরূপে বাড়ানো যায় ঈমানের পুষ্টি -সেটি সর্বজ্ঞানী মহান স্রষ্টার চেয়ে আর কে অধিক জানেন? তাই কুর’আনকে নাযিল করেছেন শিক্ষাদানের পূর্ণাঙ্গ টেক্সটবুক রূপে। এ পবিত্র কিতাব থেকে পাঠ গ্রহণ করেই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব নির্মিত হয়েছে নবীজী (সা:)’য়ের যুগে।
https://www.facebook.com/obaidul1991
কিন্তু মুসলিম দেশগুলিতে সে পবিত্র কিতাব থেকে আজ আর পাঠদান হয়না। ফলে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীগণ ডিগ্রি পাচ্ছে বটে, কিন্তু সে শিক্ষা থেকে পুষ্টি পাচ্ছে না তাদের ঈমান। সে পুষ্টিহীনতা স্পষ্ট দেখা যায় ডিগ্রিধারীদের ঈমান, আমল, রাজনীতি ও বুদ্ধিবৃত্তিতে। এমনকি দ্বীনি মাদ্রাসাগুলিও তেমন সফলতা দেখাতে পারছে না। ফলে মুসলিমগণ দারুন ভাবে ব্যর্থ হচ্ছে নবীজী (সা:)’য়ের আমলের ন্যায় সবল ঈমানের মুসলিম রূপে বেড়ে উঠতে। তাদের দুর্বল ঈমান নামাজ-রোজা ও হজ্জ-যাকাতে হাজির করলেও সে ঈমান মহান রব’য়ের এজেন্ডাকে বিজয়ী করার জিহাদে হাজির করে না। এবং হাজির করে না ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জিহাদে। ঈমানের যে বল শরিয়া পালনের জন্য জরুরি সে বলটুকুও তারা দেখাতে পারছে না।
শিক্ষানীতিই নির্ধারণ করে জনগণের দর্শন, রাজনীতি, বুদ্ধিবৃত্তি, সংস্কৃতি এবং চারিত্রিক পরিশুদ্ধির মান। ব্যর্থ শিক্ষানীতির কারণে মুসলিম সন্তানদের পরিশুদ্ধির কাজটি কোথাও সঠিক ভাবে হচ্ছে না। ফলে মুসলিম শিশু বেড়ে উঠছে অজ্ঞতা, অসভ্যতা, বর্বরতা ও দুর্নীতির প্রতি আসক্তি নিয়ে। এরই প্রমাণ, বাংলাদেশের মত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি দেশ দুর্বৃত্তিতে এ শতাব্দীর শুরুতে বিশ্বে ৫ বার প্রথম হয়েছে। এরূপ কদর্য নৈতিক অবস্থা সম্ভবত জাহিলী যুগের আরব জাহিলদেরও ছিল না। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ নতুন রেকর্ড গড়ে জনগণের ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় যাওয়া। নির্বাচনের দিন ভোটারকে ভোট দিতে দেয়া হয়নি, বরং ভোট দিয়েছে পুলিশ, নির্বাচনী কর্মচারী ও শাসক দলের ক্যাডার। দেশটি এখনো ভাসছে দুর্বৃত্তির জোয়ারে; ২০২৪ সালে দুর্নীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল বিশ্বে ১০ম। অথচ এ দেশের সরকার ও জনগণের গর্ব মসজিদ-মাদ্রাসার বিশাল সংখ্যা ও তাবলিগ জামাতের ইজতেমায় বিপুল লোক সমাগম নিয়ে।
দেশে একটি সুষ্ঠ ও সফল শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার মূল দায়িত্বটি রাষ্ট্রের। সেটিকে অবশ্যই কুর’আন ভিত্তিক হতে হবে। পবিত্র কুর’আনকে বাদ দিয়ে মুসলিমদের শিক্ষার কোন সিলেবাসই রচিত হতে পারে না। শিক্ষাব্যবস্থায় পবিত্র কুর’আনের জ্ঞানদান বাদ দিলে জ্ঞানার্জনের ফরজ পালিত হয় না। একটি মুসলিম রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থার প্রণয়ন করা -যা দিয়ে মুসলিম নাগরিকদের জ্ঞানার্জনের ফরজ আদায় হয়। কৃষক চাষাবাদ করতে পারে, শ্রমিক কারখানায় শ্রম দিতে পারে, সরকারি কর্মচারি অফিসে কাজ করতে পারে; কিন্তু সফল একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ তো রাষ্ট্রের। তখন দেশের শিক্ষাব্যবস্থা বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদের হাতিয়ারে পরিণত হয়। কিন্তু রাষ্ট্র যখন ইসলামের শত্রুপক্ষের হাতে অধিকৃত হয় তখন সেটি করা হয় না, বরং ঘটে তার উল্টোটি। তখন স্ট্র্যাটেজি হয় পবিত্র কুর’আনকে ছাত্র-ছাত্রীদের দৃষ্টির অগোচরে রাখা।
ফ্যাসিস্ট মুজিব ও হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা পরিণত হয় ছাত্র-ছাত্রীদের ইসলাম থেকে দূরে সরানোর হাতিয়ারে। ছাত্র-ছাত্রীদের গড়ে তোলা হয় ইসলামের শত্রু রূপে। ২০১৩ সালে ঢাকার শাহবাগ মোড়ে এসব মগজ-ধোলাইকৃত ছাত্র-ছাত্রীদের দেখা গেছে ইসলামপন্থী নেতাদের বিরুদ্ধে “বিচার নয়, ফাঁসি চাই” স্লোগান দিতে। তাদের দাবী মেনে নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার জেল ফাঁসিতে রুপান্তরীত করা হয়। প্রতিটি মুসলিমের জিহাদ তাই শুধু দেশের সীমান্ত বাঁচানো নিয়ে নয়, বরং সেটি ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামের শত্রুদের হাত থেকে শিক্ষাব্যবস্থা ও সংস্কৃতি বাঁচানোর জিহাদ। সে লক্ষ্যপূরণে প্রতিটি ঈমানদারকে প্রতিটি মুহুর্ত বুদ্ধিৃবৃত্তিক ও রাজনৈতিক জিহাদ নিয়ে বাঁচতে হয়। শত্রুশক্তির ষড়যন্ত্র, হামলা ও অধিকৃতির মুখে নিরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা হলো নিরেট মুনাফিকির আলামত।
নবীজী (সা:) এবং খোলাফায়ে রাশেদার আমলে প্রত্যেক সাহাবী শত্রুশক্তির বিরুদ্ধে জিহাদে যোগ দিতে প্রতিমুহুর্ত প্রস্তুত থাকতেন। ফলে তাদের আমলে মুসলিম ভূমি কখনোই শত্রুদের হাতে অধিকৃত হয়নি। তাদের জিহাদ শুধু সশস্ত্র যুদ্ধে ছিল না, সেটি ছিল বুদ্ধিবৃত্তিক ও শিক্ষা-সাংস্কৃতিক অঙ্গণেও। যখনই তারা জিহাদ পালনে অবহেলা দেখিয়েছে তখনই মুসলিম ভূমি এজিদের ন্যায় নৃশংস দুর্বৃত্তদের হাতে অধিকৃত হয়েছে এবং শুরু হয়েছে মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে লাগাতর নাশকতা। শুরু হয়েছিল গোত্রবাদী নাশকতাও। তাদের সে নাশকতা থেকে বাঁচেনি ইমাম হোসেন (রা:)’র ন্যায় জান্নাতের যুবনেতা ও নবীজী (সা:)’য়ের নাতি। আজ প্রায় সমগ্র মুসলিম দুনিয়া অধিকৃত হয়ে আছে এজিদের আদর্শিক আত্মীয় স্বৈরশাসকদের হাতে। ইসলামের এ শত্রুদের হাত থেকে ১৯৪৭’য়ের অখণ্ড পাকিস্তান যেমন বাঁচেনি, তেমনি ১৯৭১’য়ের বাংলাদেশও বাঁচেনি। বাংলাদেশে স্বৈরাচারী দুর্বৃত্তদের হাতে নৃশংস নাশকতার শিকার হয়েছে ইসলামপন্থী নেতাকর্মীগণ। এবং পূর্ণ স্বাধীনতা পেয়েছে কেবল ভারতীয় স্বার্থের সেবকগণ। গণহত্যা হয়েছে যেমন ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে, তেমনি ২০২৪ সালে ঢাকার রাজপথে।
























