০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬

আধিপত্যের বিরোধে সোনাইমুড়ীর নদনা বাজারে ভয়াবহ সংঘর্ষ

Reporter Name
  • Update Time : ০৫:১৪:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৩৭২ Time View
ভাঙচুর-লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত ৪০ দোকান, আহত ৫০
মোহাম্মদ হানিফ | নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর দুই পক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে নদনা বাজার। ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অন্তত ৫০টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৫০-৬০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে  উপজেলার নদনা ইউনিয়নের নদনা বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের পর বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আতঙ্কে অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্য কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়রা জানান, নদনা ইউনিয়নের উত্তর শাকতলা ও দক্ষিণ শাকতলা গ্রামের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার ও প্রভাব খাটানোকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। বর্তমানে এ সংক্রান্ত চারটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৫ ডিসেম্বর নদনা বাজারে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে চেয়ার নিয়ে বসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে ওইদিনই সংঘর্ষ বেধে যায়। পরদিন ৬ ডিসেম্বর সকালে উত্তর শাকতলার হৃদয় নামের এক যুবককে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ৮ ডিসেম্বর রাতে। এদিন দক্ষিণ শাকতলার পল্লী চিকিৎসক গিয়াস উদ্দিনের মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর রিপনের সেলুন, বাবুলের ফলের দোকান ও জহিরের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে সংঘর্ষ চরম আকার ধারণ করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১০টার দিকে নদনা বাজারে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে একের পর এক দোকানে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ শুরু হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে পল্লী চিকিৎসক গিয়াস উদ্দিনের ওষুধের দোকান, জামালের কসমেটিকস দোকান, মহারাজের ফাস্টফুড, সুমন ইলেকট্রনিকস, জামাল ও মহিনের মোবাইল দোকান, তাহেরের কাপড়ের দোকান, আনোয়ারের মুদি, ফিরোজের ওয়ার্কশপ, মহিন পাটোয়ারী মুদি, মা ইলেকট্রনিক অ্যান্ড টেলিকম এবং ফোরকান সু স্টোরসহ আরও বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
ব্যবসায়ীরা জানান, দোকানে থাকা মালামাল লুটপাটের পাশাপাশি কয়েকটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তাদের ধারণা। অনেক ব্যবসায়ী এক মুহূর্তে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
সংঘর্ষ চলাকালে খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় টহল জোরদার করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মহিন ও বাবুল অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দুই পাড়ার মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা ছিল। আমরা বারবার প্রশাসনকে জানালেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন নিরীহ ব্যবসায়ীদের দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হলো, লুট করা হলো। আমরা পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খায়। এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে তারা দাবি করেন।
এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে পরিস্থিতির ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার, ক্ষতিপূরণ এবং স্থায়ী শান্তির দাবি জানিয়েছেন।
Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

thedailysarkar

দৈনিক সরকার পত্রিকা ১৯৯১ সাল হতে ঢাকা হতে প্রকাশিত হচ্ছে।

আধিপত্যের বিরোধে সোনাইমুড়ীর নদনা বাজারে ভয়াবহ সংঘর্ষ

Update Time : ০৫:১৪:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
ভাঙচুর-লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত ৪০ দোকান, আহত ৫০
মোহাম্মদ হানিফ | নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর দুই পক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে নদনা বাজার। ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অন্তত ৫০টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৫০-৬০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে  উপজেলার নদনা ইউনিয়নের নদনা বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের পর বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আতঙ্কে অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্য কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়রা জানান, নদনা ইউনিয়নের উত্তর শাকতলা ও দক্ষিণ শাকতলা গ্রামের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার ও প্রভাব খাটানোকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। বর্তমানে এ সংক্রান্ত চারটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৫ ডিসেম্বর নদনা বাজারে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে চেয়ার নিয়ে বসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে ওইদিনই সংঘর্ষ বেধে যায়। পরদিন ৬ ডিসেম্বর সকালে উত্তর শাকতলার হৃদয় নামের এক যুবককে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ৮ ডিসেম্বর রাতে। এদিন দক্ষিণ শাকতলার পল্লী চিকিৎসক গিয়াস উদ্দিনের মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর রিপনের সেলুন, বাবুলের ফলের দোকান ও জহিরের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে সংঘর্ষ চরম আকার ধারণ করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১০টার দিকে নদনা বাজারে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে একের পর এক দোকানে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ শুরু হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে পল্লী চিকিৎসক গিয়াস উদ্দিনের ওষুধের দোকান, জামালের কসমেটিকস দোকান, মহারাজের ফাস্টফুড, সুমন ইলেকট্রনিকস, জামাল ও মহিনের মোবাইল দোকান, তাহেরের কাপড়ের দোকান, আনোয়ারের মুদি, ফিরোজের ওয়ার্কশপ, মহিন পাটোয়ারী মুদি, মা ইলেকট্রনিক অ্যান্ড টেলিকম এবং ফোরকান সু স্টোরসহ আরও বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
ব্যবসায়ীরা জানান, দোকানে থাকা মালামাল লুটপাটের পাশাপাশি কয়েকটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তাদের ধারণা। অনেক ব্যবসায়ী এক মুহূর্তে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
সংঘর্ষ চলাকালে খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় টহল জোরদার করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মহিন ও বাবুল অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দুই পাড়ার মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা ছিল। আমরা বারবার প্রশাসনকে জানালেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন নিরীহ ব্যবসায়ীদের দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হলো, লুট করা হলো। আমরা পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খায়। এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে তারা দাবি করেন।
এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে পরিস্থিতির ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার, ক্ষতিপূরণ এবং স্থায়ী শান্তির দাবি জানিয়েছেন।