১০:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬
https://www.facebook.com/obaidul1991

চান্দুরা–সিঙ্গারবিল সড়ক মরণফাঁদে: খানাখন্দে বিপর্যস্ত ২২ কিলোমিটার, চরম দুর্ভোগে জনজীবন

বিশেষ প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৩:০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • / ৩ Time View


 বিশেষ প্রতিনিধি:টেকসই উন্নয়ন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ চান্দুরা–সিঙ্গারবিল সড়ক এখন কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
চান্দুরা–সিঙ্গারবিল আঞ্চলিক সড়কটি বিজয়নগর উপজেলার প্রধান সড়কগুলোর একটি। এটি পাশ্ববর্তী আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প সংযোগ সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আখাউড়া স্থলবন্দরসহ সিলেট-কুমিল্লাগামী যানবাহনও বিকল্প পথ হিসেবে এ সড়ক ব্যবহার করে। প্রায় ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের মধ্যে বিজয়নগর অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ২২ কিলোমিটার।
সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতে সড়কের অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। পুরো সড়কজুড়ে অসংখ্য খানাখন্দ ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় এটি এখন প্রায় চলাচলের অনুপযোগী। গর্তে পানি জমে ছোট ছোট জলাশয়ের সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচল যেমন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তেমনি পথচারীদের চলাচলেও দেখা দিয়েছে চরম ভোগান্তি।
শনিবার (৩ মে) সরেজমিনে চান্দুরা, সাতগাঁও, আলাদাউদপুর, মির্জাপুর, মোল্লারটেক, পেটুয়াজুড়ি, চম্পকনগর, নোয়াগাঁও মোড়, আদমপুর, খিরাতলা, শ্রীপুর ও সিঙ্গারবিল এলাকাজুড়ে সড়কের বেহাল চিত্র দেখা যায়। কোথাও পিচ উঠে গিয়ে উঁচু-নিচু অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, আবার কোথাও বড় বড় গর্ত তৈরি হয়ে সড়কের অংশ বিশেষ ডেবে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি দীর্ঘ সময় জমে থাকে। পাশাপাশি অনেক বাসিন্দা বাড়ির পানি সরাসরি সড়কে ফেলায় পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। প্রায় এক বছর আগে ইটের খোয়া ফেলে আংশিক সংস্কার করা হলেও তা টেকসই হয়নি; বরং বর্তমানে সড়কটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী, শিশু, বয়োবৃদ্ধ ও রোগীরা। এসএসসি পরীক্ষার্থী সাদিয়া জানায়, “বৃষ্টির কারণে গর্তগুলো পানিতে ঢেকে থাকায় চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যানবাহন সংকট ও অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।”

সিএনজি চালক রিবন ও সুমন মিয়া বলেন, “সড়কের অবস্থা এতটাই খারাপ যে প্রায়ই গাড়ি গর্তে আটকে যায়, যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।”
চম্পকনগর ও চান্দুরা এলাকার বাসিন্দারা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে যায় এবং দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে পুরো সড়ক এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কৃষক ফারুক মিয়া বলেন, “কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। যানবাহন পাওয়া যায় না, আবার অতিরিক্ত ভাড়াও গুনতে হচ্ছে।”
এদিকে স্থানীয়রা চান্দুরা–সিঙ্গারবিল–আখাউড়া সংযোগ সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধীনে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন। একই দাবি সংসদেও উত্থাপন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।
দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটির টেকসই সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ শুরু করে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

thedailysarkar

দৈনিক সরকার পত্রিকা ১৯৯১ সাল হতে ঢাকা হতে প্রকাশিত হচ্ছে।

https://www.facebook.com/obaidul1991

চান্দুরা–সিঙ্গারবিল সড়ক মরণফাঁদে: খানাখন্দে বিপর্যস্ত ২২ কিলোমিটার, চরম দুর্ভোগে জনজীবন

Update Time : ০৩:০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬


 বিশেষ প্রতিনিধি:টেকসই উন্নয়ন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ চান্দুরা–সিঙ্গারবিল সড়ক এখন কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
চান্দুরা–সিঙ্গারবিল আঞ্চলিক সড়কটি বিজয়নগর উপজেলার প্রধান সড়কগুলোর একটি। এটি পাশ্ববর্তী আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প সংযোগ সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আখাউড়া স্থলবন্দরসহ সিলেট-কুমিল্লাগামী যানবাহনও বিকল্প পথ হিসেবে এ সড়ক ব্যবহার করে। প্রায় ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের মধ্যে বিজয়নগর অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ২২ কিলোমিটার।
সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতে সড়কের অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। পুরো সড়কজুড়ে অসংখ্য খানাখন্দ ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় এটি এখন প্রায় চলাচলের অনুপযোগী। গর্তে পানি জমে ছোট ছোট জলাশয়ের সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচল যেমন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তেমনি পথচারীদের চলাচলেও দেখা দিয়েছে চরম ভোগান্তি।
শনিবার (৩ মে) সরেজমিনে চান্দুরা, সাতগাঁও, আলাদাউদপুর, মির্জাপুর, মোল্লারটেক, পেটুয়াজুড়ি, চম্পকনগর, নোয়াগাঁও মোড়, আদমপুর, খিরাতলা, শ্রীপুর ও সিঙ্গারবিল এলাকাজুড়ে সড়কের বেহাল চিত্র দেখা যায়। কোথাও পিচ উঠে গিয়ে উঁচু-নিচু অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, আবার কোথাও বড় বড় গর্ত তৈরি হয়ে সড়কের অংশ বিশেষ ডেবে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি দীর্ঘ সময় জমে থাকে। পাশাপাশি অনেক বাসিন্দা বাড়ির পানি সরাসরি সড়কে ফেলায় পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। প্রায় এক বছর আগে ইটের খোয়া ফেলে আংশিক সংস্কার করা হলেও তা টেকসই হয়নি; বরং বর্তমানে সড়কটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী, শিশু, বয়োবৃদ্ধ ও রোগীরা। এসএসসি পরীক্ষার্থী সাদিয়া জানায়, “বৃষ্টির কারণে গর্তগুলো পানিতে ঢেকে থাকায় চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যানবাহন সংকট ও অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।”

সিএনজি চালক রিবন ও সুমন মিয়া বলেন, “সড়কের অবস্থা এতটাই খারাপ যে প্রায়ই গাড়ি গর্তে আটকে যায়, যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।”
চম্পকনগর ও চান্দুরা এলাকার বাসিন্দারা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে যায় এবং দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে পুরো সড়ক এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কৃষক ফারুক মিয়া বলেন, “কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। যানবাহন পাওয়া যায় না, আবার অতিরিক্ত ভাড়াও গুনতে হচ্ছে।”
এদিকে স্থানীয়রা চান্দুরা–সিঙ্গারবিল–আখাউড়া সংযোগ সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধীনে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন। একই দাবি সংসদেও উত্থাপন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।
দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটির টেকসই সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ শুরু করে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।