০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬

মুসলিমদের গর্ব ও উৎসব বিভক্তি নিয়ে!–ফিরোজ মাহবুব কামাল

Reporter Name
  • Update Time : ০১:৪৩:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫
  • / ১৭৮ Time View

ফেসবুক: https://www.facebook.com/BangladeshNezameislamparty

ইউটিউব:www.youtube.com/@bangladeshnezameislamparty

 ভৌগলিক বিভক্তি: বেঈমানীর দৃশ্যমান রূপ

প্রতিটি ঈমানদারের উপর ফরজ যেমন নামায়-রোজা, তেমনি ফরজ হলো মুসলিম উম্মাহর মাঝে একতা গড়া। এবং হারাম হলো বিভক্তি। অথচ আজ মুসলিমদের গর্ব ও উৎসবের বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে ভাষা, বর্ণ ও ভৌগলিকতার নামে বিভক্তি। নামায-রোজা পালন না করলে ব্যক্তি কাফির হয়; অপর দিকে একতা না থাকলে মুসলিম উম্মাহ বিভক্ত, পরাজিত ও পরাধীন হয়। শত্রুর পদতলে পিষ্ট সে মুসলিম ভূমিতে তখন অসম্ভব হয় পূর্ণ ইসলাম পালন। তখন মুসলিমের জন্য থাকে না জান, মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা। নামায়-রোজায় ক্বাজা আছে, কিন্তু ক্বাজা নেই একতার ফরজ পালনে।

কে কোন দেশের, বর্ণের বা ভাষার –রোজ হাশরের বিচার দিনে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না। কিন্তু এ হিসাব অবশ্যই দিতে হবে বিভক্ত মুসলিম উম্মাহকে একতাবদ্ধ করার কাজে আদৌ কোন ভূমিকা ছিল কিনা -তা নিয়ে। প্রশ্ন উঠবে, কি ভূমিকা ছিল আল্লাহ তায়ালার আইন তথা শরিয়তকে আল্লাহর ভূমিতে বিজয়ী করায়? কারণ, নামাজ-রোজার ন্যায় এ দায়িত্ব পালনের দায়ও ফরজ ছিল। মুসলিম উম্মাহর আজকের শক্তিহানী ও পরাজয়ের মূল কারণটি লোকবল বা অর্থবলের কমতি নয়। বরং সেটি হলো ৫০টির বেশী রাষ্ট্রের নামে মুসলিম উম্মাহর বিভক্তি। আজ যদি খেলাফত বেঁচে থাকতো  এবং আরব ভূমি ২২ টুকরোয় বিভক্ত না হতো -তবে কি ইসরাইল সৃষ্টি হতো? তখন কি ইসরাইল পরিচালিত গণহত্যায় গাজায় নিহত হতো ৬০ হাজারের বেশী নারী, শিশু ও পুরুষ? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কি তখন সাহস পেত ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, ইয়েমেন, ইরানে হামলা করতে? এসবের মূল কারণ মুসলিম উম্মাহর বিভক্তি।

বিভক্তি মানেই সিরাতাল মুস্তাকীম থেকে বিচ্যুতি। এবং সেটি আল্লাহ তায়ালার নির্দেশের সাথে বড় মাপের বেঈমানী।  মুসলিম উম্মাহর বিভক্ত মানচিত্র  হলো সে বিচ্যুতি ও বেঈমানীর দৃশ্যমান দলিল। প্রশ্ন হলো, বিভক্ত হওয়ার দিনগুলিকে – বাংলাদেশের যেমন জন্য ১৬ ডিসেম্বর, বিজয় দিবস রূপে উৎসব করার অর্থ তো সে বিচ্যুতি ও বেঈমানী নিয়ে উৎসব করা। অথচ শুধু বাংলাদেশে নয়, সেরূপ উৎসব ২২টি বিভক্ত আরব দেশেও হচ্ছে। অথচ ঈমান বেঁচে থাকলে মুসলিম উম্মাহর বিভক্তি নিয়ে মুসিলমদের মাঝে মাতম হতো। মুসলিমদের বিভক্তি ও পরাজয় নিয়ে উৎসব হবে শত্রু দেশের রাজধানীগুলিতে –যেমন দিল্লিতে প্রতি বছর হয় ১৬ ডিসেম্বর এলে হয় -সেটি বোধগম্য। কিন্তু বিস্ময়ের বিষয় হলো, বিভক্তি নিয়ে উৎসব হয় মুসলিম ভূমিতে!

ঈমান দেখা যায় উম্মাহর একতার মাঝে

মহান আল্লাহ তায়ালা তো চান মুসলিম উম্মাহর মাঝে সীসাঢালা প্রাচীরসম একতা। তাই যারা মহান আল্লাহ তায়ালাকে খুশি করতে চান -তারা কি খুশি হতে পারে মুসলিম উম্মাহর বিভক্তি নিয়ে? বস্তুত ঈমান দেখা যায় মুসলিম উম্মাহর একতার মাঝে। এবং বেঈমানী দেখা যায় বেঈমানীর মাঝে। মুমিন ব্যক্তি শুধু নামাজ-রোজা, হজ্জ-যাকাত ও কুর’আন তেলাওয়াতের তাড়না নিয়ে বাঁচে না, বাঁচে একতা প্রতিষ্ঠার তাড়না ও সাধনা নিয়েও। কারণ সে তাড়না ও সাধনা তাঁর মহান আল্লাহকে খুশি করে। আর বিভক্তি খুশি করে শয়তানকে। এজন্যই নানা ভাষা, নানা বর্ণ ও নানা অঞ্চলের প্রকৃত ঈমানদারগণ শুধু নামাজের কাতারে একত্রে দাঁড়ায় না, তারা একত্রে বসবাস করে মুসলিম ভূমির অখণ্ড মানচিত্রের মাঝে। নবীজী (সা:) ও তাঁর সাহাবাদের আমলে  আরব, ইরানী, তুর্কি, কুর্দি, হাবশী, মুর মুসলিমগণ তো সেটিই করেছে। সেরূপ একতার তাড়না নিয়েই ১৯৪৭ সালে বাঙালি, পাঞ্জাবী, সিন্ধি, পাঠান, বেলুচ ইত্যাদি পরিচয়ের মানুষ একত্রে মিলে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা করেছিল।

নামাজের কাতার ভাঙ্গা বা কারো গৃহ ভাঙ্গা যেমন হারাম, তেমনি হারাম হলো মুসলিম রাষ্ট্রের মানচিত্র ভাঙ্গা। সে ভাঙ্গার এজেন্ডা নিয়ে প্রতি দেশে রাজনীতি করে শয়তানের এজেন্টগণ। তাদের কারণেই মুসলিম উম্মাহর ভৌগলিক মানচিত্র ৫০টির বেশী টুকরোয় বিভক্ত।  ১৯৭১’য়ে পূর্ব পাকিস্তানের বুকে সে ভাঙ্গার এজেন্ডা ছিল বাঙালি ফ্যাসিস্ট, বাঙালি জাতীয়তাবাদী, কম্যুনিস্ট, সেক্যুলারিস্ট ও বাঙালি হিন্দুত্ববাদীদের। বঙ্গীয় বদ্বীপে তারা কাজ করে শয়তানের বিশ্বস্ত খলিফা। তাদের পাকিস্তান ভাঙ্গার প্রকল্পে সহয়তা দিয়েছে ইসলামের চিহ্নিত শত্রু ভারত ও সোভিয়েত রাশিয়া।  তাদের সে মুসলিম বিরোধী নাশকতার কাজে বিশ্বের তাবত কাফেরগণ খুশি হতে ।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

thedailysarkar

দৈনিক সরকার পত্রিকা ১৯৯১ সাল হতে ঢাকা হতে প্রকাশিত হচ্ছে।

মুসলিমদের গর্ব ও উৎসব বিভক্তি নিয়ে!–ফিরোজ মাহবুব কামাল

Update Time : ০১:৪৩:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫

ফেসবুক: https://www.facebook.com/BangladeshNezameislamparty

ইউটিউব:www.youtube.com/@bangladeshnezameislamparty

 ভৌগলিক বিভক্তি: বেঈমানীর দৃশ্যমান রূপ

প্রতিটি ঈমানদারের উপর ফরজ যেমন নামায়-রোজা, তেমনি ফরজ হলো মুসলিম উম্মাহর মাঝে একতা গড়া। এবং হারাম হলো বিভক্তি। অথচ আজ মুসলিমদের গর্ব ও উৎসবের বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে ভাষা, বর্ণ ও ভৌগলিকতার নামে বিভক্তি। নামায-রোজা পালন না করলে ব্যক্তি কাফির হয়; অপর দিকে একতা না থাকলে মুসলিম উম্মাহ বিভক্ত, পরাজিত ও পরাধীন হয়। শত্রুর পদতলে পিষ্ট সে মুসলিম ভূমিতে তখন অসম্ভব হয় পূর্ণ ইসলাম পালন। তখন মুসলিমের জন্য থাকে না জান, মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা। নামায়-রোজায় ক্বাজা আছে, কিন্তু ক্বাজা নেই একতার ফরজ পালনে।

কে কোন দেশের, বর্ণের বা ভাষার –রোজ হাশরের বিচার দিনে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না। কিন্তু এ হিসাব অবশ্যই দিতে হবে বিভক্ত মুসলিম উম্মাহকে একতাবদ্ধ করার কাজে আদৌ কোন ভূমিকা ছিল কিনা -তা নিয়ে। প্রশ্ন উঠবে, কি ভূমিকা ছিল আল্লাহ তায়ালার আইন তথা শরিয়তকে আল্লাহর ভূমিতে বিজয়ী করায়? কারণ, নামাজ-রোজার ন্যায় এ দায়িত্ব পালনের দায়ও ফরজ ছিল। মুসলিম উম্মাহর আজকের শক্তিহানী ও পরাজয়ের মূল কারণটি লোকবল বা অর্থবলের কমতি নয়। বরং সেটি হলো ৫০টির বেশী রাষ্ট্রের নামে মুসলিম উম্মাহর বিভক্তি। আজ যদি খেলাফত বেঁচে থাকতো  এবং আরব ভূমি ২২ টুকরোয় বিভক্ত না হতো -তবে কি ইসরাইল সৃষ্টি হতো? তখন কি ইসরাইল পরিচালিত গণহত্যায় গাজায় নিহত হতো ৬০ হাজারের বেশী নারী, শিশু ও পুরুষ? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কি তখন সাহস পেত ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, ইয়েমেন, ইরানে হামলা করতে? এসবের মূল কারণ মুসলিম উম্মাহর বিভক্তি।

বিভক্তি মানেই সিরাতাল মুস্তাকীম থেকে বিচ্যুতি। এবং সেটি আল্লাহ তায়ালার নির্দেশের সাথে বড় মাপের বেঈমানী।  মুসলিম উম্মাহর বিভক্ত মানচিত্র  হলো সে বিচ্যুতি ও বেঈমানীর দৃশ্যমান দলিল। প্রশ্ন হলো, বিভক্ত হওয়ার দিনগুলিকে – বাংলাদেশের যেমন জন্য ১৬ ডিসেম্বর, বিজয় দিবস রূপে উৎসব করার অর্থ তো সে বিচ্যুতি ও বেঈমানী নিয়ে উৎসব করা। অথচ শুধু বাংলাদেশে নয়, সেরূপ উৎসব ২২টি বিভক্ত আরব দেশেও হচ্ছে। অথচ ঈমান বেঁচে থাকলে মুসলিম উম্মাহর বিভক্তি নিয়ে মুসিলমদের মাঝে মাতম হতো। মুসলিমদের বিভক্তি ও পরাজয় নিয়ে উৎসব হবে শত্রু দেশের রাজধানীগুলিতে –যেমন দিল্লিতে প্রতি বছর হয় ১৬ ডিসেম্বর এলে হয় -সেটি বোধগম্য। কিন্তু বিস্ময়ের বিষয় হলো, বিভক্তি নিয়ে উৎসব হয় মুসলিম ভূমিতে!

ঈমান দেখা যায় উম্মাহর একতার মাঝে

মহান আল্লাহ তায়ালা তো চান মুসলিম উম্মাহর মাঝে সীসাঢালা প্রাচীরসম একতা। তাই যারা মহান আল্লাহ তায়ালাকে খুশি করতে চান -তারা কি খুশি হতে পারে মুসলিম উম্মাহর বিভক্তি নিয়ে? বস্তুত ঈমান দেখা যায় মুসলিম উম্মাহর একতার মাঝে। এবং বেঈমানী দেখা যায় বেঈমানীর মাঝে। মুমিন ব্যক্তি শুধু নামাজ-রোজা, হজ্জ-যাকাত ও কুর’আন তেলাওয়াতের তাড়না নিয়ে বাঁচে না, বাঁচে একতা প্রতিষ্ঠার তাড়না ও সাধনা নিয়েও। কারণ সে তাড়না ও সাধনা তাঁর মহান আল্লাহকে খুশি করে। আর বিভক্তি খুশি করে শয়তানকে। এজন্যই নানা ভাষা, নানা বর্ণ ও নানা অঞ্চলের প্রকৃত ঈমানদারগণ শুধু নামাজের কাতারে একত্রে দাঁড়ায় না, তারা একত্রে বসবাস করে মুসলিম ভূমির অখণ্ড মানচিত্রের মাঝে। নবীজী (সা:) ও তাঁর সাহাবাদের আমলে  আরব, ইরানী, তুর্কি, কুর্দি, হাবশী, মুর মুসলিমগণ তো সেটিই করেছে। সেরূপ একতার তাড়না নিয়েই ১৯৪৭ সালে বাঙালি, পাঞ্জাবী, সিন্ধি, পাঠান, বেলুচ ইত্যাদি পরিচয়ের মানুষ একত্রে মিলে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা করেছিল।

নামাজের কাতার ভাঙ্গা বা কারো গৃহ ভাঙ্গা যেমন হারাম, তেমনি হারাম হলো মুসলিম রাষ্ট্রের মানচিত্র ভাঙ্গা। সে ভাঙ্গার এজেন্ডা নিয়ে প্রতি দেশে রাজনীতি করে শয়তানের এজেন্টগণ। তাদের কারণেই মুসলিম উম্মাহর ভৌগলিক মানচিত্র ৫০টির বেশী টুকরোয় বিভক্ত।  ১৯৭১’য়ে পূর্ব পাকিস্তানের বুকে সে ভাঙ্গার এজেন্ডা ছিল বাঙালি ফ্যাসিস্ট, বাঙালি জাতীয়তাবাদী, কম্যুনিস্ট, সেক্যুলারিস্ট ও বাঙালি হিন্দুত্ববাদীদের। বঙ্গীয় বদ্বীপে তারা কাজ করে শয়তানের বিশ্বস্ত খলিফা। তাদের পাকিস্তান ভাঙ্গার প্রকল্পে সহয়তা দিয়েছে ইসলামের চিহ্নিত শত্রু ভারত ও সোভিয়েত রাশিয়া।  তাদের সে মুসলিম বিরোধী নাশকতার কাজে বিশ্বের তাবত কাফেরগণ খুশি হতে ।