https://www.facebook.com/obaidul1991
ভারত ও ইসরাইলকে মানবাধিকার ও বিশ্বের শান্তি বজায় রাখতে হবে
- Update Time : ০৬:১৪:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
- / ১১ Time View

ইসরাইলের ভূমিকায় ভারত
ভারত প্রমাণ করেছে, দেশটি হলো দক্ষিণ এশিয়ার বুকে আরেক ইসরাইল। ভারতে কাছে বাংলাদেশ ও কাশ্মীর হলো ফিলিস্তিন। ইহুদিরা চায় বৃহৎ ইসরাইল; ভারত চায় অখণ্ড ভারত। ভূ-রাজনৈতিক আগ্রাসী নীতি যেমন ইসরাইলের, তেমনি সে নীতি ভারতের। সম্প্রতি ভারতের সে স্বপ্নের কথাটি বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেই বললেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত শ্রী দিনেশ ত্রিবেদী। শ্রী ত্রিবেদী বাংলাদশকে ভারতভুক্ত করে ১৬০ কোটি জনসংখ্যার বিশাল ভারতকে বিশ্বশক্তি বানাতে চান। অধিকৃত ফিলিস্তিনে যে জুলুম নির্যাতনের মুখে ফিলিস্তিনীরা, সে অবস্থার মুখে এখন ভারতীয় মুসলিমগণ। গাজা ও জর্দান নদীর পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনীদের ঘর বাড়ী যেমন ইসরাইলী ভাঙছে, একই ভাবে ভারতীয় সরকার ভাঙছে মুসলিমদের ঘরবাড়ী, দোকান পাট এবং মসজিদ।

ভারতের সবগুলি হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশের স্বায়ত্তশাসন রয়েছে। কিন্তু ভারত অধিকৃত একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরে সে স্বায়ত্তশাসন নাই। কাশ্মীর দীর্ঘকাল শাসিত হয়েছে হিন্দুত্ববাদী কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা। এবং একই ভাবে দীর্ঘকাল বাংলাদেশ শাসিত হয়েছে মুজিব ও হাসিনার ন্যায় ভারতের অনুগত গোলামদের দ্বারা। ইসরাইলের যেমন ফিলিস্তিনী ভীতি; ভারতের তেমনি মুসলিম ভীতি। সে ভীতি নিয়ে ইসরাইল যেমন অধিকৃত ভূমি থেকে ফিলিস্তিনীদের উৎখাত চায়। ভারতও তেমনি চায় ভারত থেকে মুসলিমদের বহিষ্কার। ভারতে শুরু হয়েছে মুসলিমদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়ার ষড়যন্ত্র। ইসরাইলের সামনে মূল বাধাটি হলো হামাসের ন্যায় ইসলামপন্থী ফিলিস্তিনীগণ। অপর দিকে আগ্রাসী ভারতের সামনে মূল বাধা হলো বাংলাদেশের ইসলামপন্থীগণ। তাই ভারতের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের ইসলামপন্থী মাত্রই হামাস। সে কথাটি ভারতের মিডিয়ায় আজকাল স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। ফলে ভারত চায়, ইসলামপন্থী দলগুলির ত্বরিৎ নির্মূল। সে লক্ষ্য সাধনে ভারত হাসিনার কাঁধে বন্দুক রেখে দীর্ঘকাল সে নির্মূলের যুদ্ধটি লড়েছে। এখন সে যুদ্ধটি লড়তে চায় বিএনপির কাঁধে বন্দুক রেখে। তাই ভারত সরকার বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে।
ভারতের ভয়, বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের বিজয় এলে তাতে ভারতের ২২ কোটি মুসলিম জেগে উঠবে। তাতে সংকটে পড়বে ভারতের নিরাপত্তা। তখন স্বাধীনতার দাবী উঠবে আসাম, মেঘালয়, মনিপুর, অরুনাচল, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম ও ত্রিপুরার ন্যায় ৭টি রাজ্য নিয়ে গঠিত উত্তর-পূর্বের বিশাল অহিন্দু অঞ্চল জুড়ে। এবং স্বাধীনতার লড়াই তীব্রতর হবে কাশ্মীরে। তাই ভারত চায়, যে কোন মূল্যে বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের দমন রুখতে। ফলে ভারতে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, দেশটির বাংলাদেশ নীতিতে কোন পরিবর্তন আসে না। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস দল। কংগ্রেস সেদিন আজকের বিজিপি সরকারের ন্যায় শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী নৃশংসতাকে পুরোপুরি সমর্থন করেছে। এবং পূর্ণ সহযোগিতা দিয়েছে হাসিনার একদলীয় নির্বাচনের ইঞ্জিনীয়ারিংয়ে। আরো স্মরণীয় হলো, কংগ্রেস সরকারের হাতেই হায়দারাবাদ, কাশ্মীর, গোয়া, মানভাদর অধিকৃত হয়েছিল। এবং কংগ্রেস আমলেই মুসলিম নির্মূলে সংঘটিত হয়েছিল বহু হাজার দাঙ্গা এবং ধ্বংস হয়েছিল বাবরি মসজিদ। এখন সে অভিন্ন নীতি নিয়ে কাজ করছে বিজিপি।
ইসরাইলীদের আদর্শিক আত্মীয়
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজাতে শুরু হয়েছে ইসরাইল পরিচালিত নির্মম গণহত্যা এবং আবাসিক ভবন ও অবকাঠামো ধ্বংসের প্রক্রিয়া। চলছে বিরামহীন বোমা ও মিজাইল বর্ষণ। ইসরাইল ২০২৬’য়ের ১৬ জুন অবধি ৭৫ হাজারের বেশি নিরপরাধ বেসামরিক মানুষকে হত্যা করছে -যার মধ্যে অর্ধেকের বেশি নারী ও শিশু। গাজার শতকরা ৮০ ভাগের বেশি আবাসিক ভবন ধ্বংস করা হয়েছে। বহু হাজার মানুষ আজও নিখোঁজ; মনে করা হচ্ছে তারা চাপা পড়েছে ধ্বংসস্তুপের নিচে। বোমা ফেলে ধ্বংস করা হয়েছে অধিকাংশ হাসপাতাল। হাসপাতালগুলির চত্বরে পাওয়া গেছে গণকবর। কোন সভ্য ও বিবেকমান মানুষ কখনো গণহত্যায় সমর্থন দেয় না। অথচ যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরাইলকে ভারত সমর্থন দিচ্ছে। গাজার গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞকে ভারতীয় উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা উৎসবের বিষয় বানিয়েছে। এমন কদর্য গর্হিত কাজ একমাত্র তারাই করে যাদের রয়েছে নৃশংস গণহত্যার নিজস্ব এজেন্ডা ও ইতিহাস। ইসরাইলের সাথে ভারতের গভীর মিলটি এখানে আদর্শের। মুসলিমদের বিরুদ্ধে আগ্রাসন ও গণহত্যার যে নীতি ইসরাইলীদের, সে অভিন্ন নীতি ভারতীয় হিন্দুত্ববাদীদেরও।
গাজাতে যত মুসলিম নারী, পুরুষ ও শিশুকে হত্যা করা হয়েছে তার চেয়ে বহুগুণ বেশি মানব হত্যা হয়েছে কাশ্মীরের জম্মু, হায়দারাবাদ, গুজরাত, উত্তর প্রদেশ এবং আসামের নেলীতে। ইসরাইলীদের অতি ঘনিষ্ট আদর্শিক আত্মীয় তাই হিন্দুত্ববাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও তার সাথীরা। ভারত সরকার তাই শুরু থেকেই ইসরাইলী বর্বরতাকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। ইসরাইলে গিয়ে সহায়তা দিচ্ছে বহু হাজার ভারতীয়। পশ্চিম বাংলার বিজিপি দলীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দ্র অধিকারী হুমকি দিয়েছে, “বাংলাদেশকে গাজা বানানো হবে।” বিশ্বজুড়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে মিছিল হলেও সেরূপ মিছিল ভারতের হতে দেয়া হয়না। যেমন মোম্বাই শহর ও কর্নাটাকা প্রদেশে ইসরাইলের বিরুদ্ধে মিছিল করতে দেয়া হয়নি। বরং দেশটিতে মিছিল হয়েছে ইসরাইলের পক্ষে। সে মিছিলগুলি করেছে নরেন্দ্র মোদীর দল হিন্দুত্ববাদী বিজিপি ও রাষ্ট্রীয় সেবক সংঘ (RSS)’য়ের নেতা-কর্মীরা।
বাংলাদেশের মাটিতে সবচেয়ে বড় বড় অপরাধগুলি চোর ডাকাত, খুনি ও সন্ত্রাসীদের ন্যায় সামাজিক দুর্বৃত্তদের হাতে হয়না, সেগুলি হয় রাজনৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক দুর্বৃত্তদের হাতে। চোর ডাকাত, খুনি ও সন্ত্রাসীদের অপরাধে কিছু মানুষের জান মালের ক্ষতি হয়। কিন্তু রাজনৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক দুর্বৃত্তগণ ধ্বংস ডেকে আনে সমগ্র জাতির জীবনে। রাজনৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক দুর্বৃত্তদের হাতে অধিকৃত এমন রাষ্ট্রই হলো প্রকৃত অনৈসলামীক রাষ্ট্র। এমন প্রতিটি রাষ্ট্রই পরিনত হয় আযাবের হাতিয়ারে। এবং পরিণত হয় জনগণের জাহান্নামে নেয়ার বাহনে। অনৈসলামীক রাষ্ট্রের এটিই হলো সবচেয়ে ভয়ানক নাশকতা। নিছক বেশি বেশি মসজিদ মাদ্রাসা নির্মাণ করে এমন রাষ্ট্রের বিপদ থেকে জনগণকে মুক্তি দেয়া যায়না। মুক্তি দেয়ার সে কাজটি সম্ভব হয় একমাত্র ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে মধ্য দিয়ে। যেখানেই ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে ব্যর্থতা, সেখানেই বিজয়টি শয়তান ও তার অনুসারীদের। ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের কাজে আরব মুসলিমগণ ব্যর্থ হয়েছে বলেই আজ সেখানে চলছে ইসরাইলীদের নৃশংস বর্বরতা। সেকাজে বাঙালি মুসলিমদের ব্যর্থতার কারণে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল শেখ হাসিনার ন্যায় ফ্যাসিস্ট দুর্বৃত্তের নৃশংসতা।
ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতিয়ানহু, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ন্যায় দুর্বৃত্তদের ভিন্ন ভিন্ন ধর্মীয় পরিচয় থাকলেও তাদের আদর্শিক পরিচয়টি এক এবং অভিন্ন। তাদের সে অভিন্ন পরিচয়টি হলো: এরা সবাই নিজ নিজ ভূমিতে শয়তানের বিশ্বস্ত ও অনুগত খলিফা। এরা কোন দেশে বিজয়ী হলে মহান আল্লাহ তায়ালার এজেন্ডা স্রেফ কিতাবে থেকে যায়; তখন প্লাবন আসে ইসলাম ও মুসলিম বিরোধী নৃশংসতায়। নরেন্দ্র মোদী আবির্ভূত হয়েছে গুজরাতের গণহত্যাকারী রূপে। মোদী যখন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী, সে প্রদেশে ২০০২ সালের দাঙ্গায় প্রায় ৫ হাজার মুসলিমকে হত্যা করা হয়। শত শত মুসলিম গৃহে আগুন দেয়া হয়; বহু শিশু ও নারীকে জীবন্ত আগুনে নিক্ষেপ করা হয়। গণধর্ষণের শিকার হয় হাজার হাজার মুসলিম মহিলা। এ নৃশংস হত্যাকান্ড ও ধর্ষণের সাথে জড়িত ছিল মোদীর নিজ দলের নেতাকর্মীগণ। যখন কোন জনপদে এরূপ গণহত্যা শুরু হয়, তখন নিরপেক্ষ ও নিষ্ক্রিয় থাকাটাই গুরুতর অপরাধ। তখন মজলুমের পক্ষ নেয়াটিই হলো শ্রেষ্ঠ ধার্মিকতা, তাকওয়া ও মানবতা। পরম অধর্ম ও অপরাধ হলো সেরূপ হত্যাপাগল দাঙ্গাকারীদের সমর্থন করা।
কোন সভ্য রাষ্ট্রে দাঙ্গা শুরু হলে কয়েক মিনিটের মধ্যে সে দাঙ্গা উপদ্রুত এলাকায় পুলিশ পৌঁছে যায়। কিন্তু নরেন্দ্র মোদী সেটি হতে দেয়নি। পরিকল্পিত ভাবে মোদি দাঙ্গা থামানোর কাজ থেকে পুলিশকে দূরে রেখেছে এবং মুসলিম নির্মূলের কাজকে অধিক নৃশংস ও ব্যাপকতর হতে দিয়েছে। এতে নরেন্দ্র মোদীর দলীয় ক্যাডারগণ সুযোগ পেয়েছে অবাধে ও উৎসবভরে মুসলিম মহল্লাগুলিতে গণহত্যা চালানোর। সে সাথে গণধর্ষণের। নরেন্দ্র মোদী নিজ অফিসে বসে সে নৃশংসতা উপভোগ করেছে এবং কোন উদ্যোগ নেয়নি। এ নৃশংস খুনিকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু রূপে গ্রহন করেছিল শাপলা চত্বরের গণহত্যার খুনি শেখ হাসিনা। এথেকে বুঝা যায়, ইসলামের ও মানবতার এ শত্রুদের মাঝে সম্পর্কটা কত গভীর। প্রতি যুগে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের পথে এরাই মূল বাধা।


























