১১:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬
https://www.facebook.com/obaidul1991

জননেতার সংজ্ঞা ও বিস্তারিত আলোচনা

মতামত
  • Update Time : ০২:০৬:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • / ৪৫ Time View

 

জননেতা হলেন এমন একজন রাজনৈতিক বা সামাজিক ব্যক্তিত্ব, যিনি দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়, কল্যাণ এবং সামগ্রিক উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করেন এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করেন। সহজ কথায়, যিনি জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে থাকেন এবং জনসাধারণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করেন, তিনিই জননেতা বা গণমানুষের নেতা। ‘জননেতা’ শব্দের অর্থ হলো জনসাধারণের নেতা বা পরিচালক। রাজনীতি বিজ্ঞানী ও দার্শনিকদের মতে, একজন সাধারণ নেতা এবং জননেতার মধ্যে সুনির্দিষ্ট পার্থক্য রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের মতে, “জননেতা হচ্ছেন জনগণের প্রতিনিধি, যিনি তাদের কল্যাণে কাজ করেন।” গ্রিক দার্শনিক প্লেটো তার ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, একজন প্রকৃত জননেতা বা শাসকের মধ্যে জ্ঞান, নৈতিকতা, ন্যায়বোধ ও আত্মত্যাগের গুণ থাকা অপরিহার্য। সাধারণ কোনো রাজনৈতিক পদের অধিকারী হলেই কেউ জননেতা হতে পারেন না। জননেতা হয়ে ওঠার জন্য কিছু বিশেষ গুণাবলি প্রয়োজন ঃ- (১) নিজস্ব বা দলীয় স্বার্থের চেয়ে সাধারণ মানুষের কল্যাণকে তিনি সর্বদা অগ্রাধিকার দেন। (২) তিনি জনগণের অতি সাধারণ ও প্রান্তিক স্তরের মানুষের সাথে মিশে যেতে পারেন এবং তাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকেন। (৩) তাঁর কথা ও কাজের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে অনুপ্রাণিত এবং ঐক্যবদ্ধ করার এক অসাধারণ ক্ষমতা থাকে। (৪) প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে আদর্শ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান বজায় রাখেন। (৫) সমাজের সমসাময়িক সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানের পাশাপাশি ভবিষ্যতের সংকট মোকাবিলার সুদূরপ্রসারী রূপকল্প (Vision) তাঁর থাকে। (৬) প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বা শোষকের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অধিকারের পক্ষে কথা বলার মতো নির্ভীক সাহস তাঁর থাকে।  সাধারণ নেতা ঃ- নির্দিষ্ট দল, গোষ্ঠী বা প্রাতিষ্ঠানিক পদের ওপর নির্ভরশীল। মূলত দলীয় এজেন্ডা বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করেন। সাধারণ জনগণের সাথে দূরত্ব বজায় রেখে চলেন। পদ বা ক্ষমতা চলে গেলে নেতৃত্বের প্রভাব কমে যায়। জননেতা ঃ- সাধারন মানুষের অকুন্ঠ সমর্থন ও ভালবাসার উপর প্রতিষ্ঠিত। দলমত নির্বিশেষেসর্বস্তরের মানুষের অধিকার রক্ষা করেন। সাধারণ মানুষের অতি নিকটে থাকেন ও সহজেই প্রবেশগম্য। আমাদের মাঝে অনেকেই নামের পূর্বে জননেতা উল্লেখ করতে দেখা যায়। বিশদ ব্যাখ্যায় জনগন নন্দিত “জননেতা” ক্ষমতা বা পদ না থাকলেও জনগণের হৃদয়ে তাঁর স্থান আজীবন থাকে। ইতিহাসের দিকে তাকালে অনেক কালজয়ী নেতা এসেছেন, যাঁদেরকে তাঁদের কাজের জন্য মানুষ ভালোবেসে ‘জননেতা’ উপাধিতে ভূষিত করেছে ঃ- (১) মহাত্মা গান্ধী: অহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে ভারতের সাধারণ মানুষকে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।

(২) নেলসন ম্যান্ডেলা: বর্ণবাদের বিরুদ্ধে আজীবন লড়াই করে দক্ষিণ আফ্রিকার সব বর্ণের মানুষের নেতায় পরিণত হন। (৩) মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বাংলার শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের জন্য তাঁকে বিশেষভাবে ‘জননেতা’ বলা হতো। (৪) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান  যিনি সাধারণ মানুষের স্বাধিকার ও স্বাধীনতার দাবিকে নিজের কণ্ঠে ধারণ করে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। এবং তার জিবনের অধিকাংশ সময় কারাগারে কাটিয়েছেন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি দেশের সঠিক ও টেকসই উন্নয়নের জন্য সুশিক্ষিত এবং আদর্শিক জননেতার উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি। 

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

thedailysarkar

দৈনিক সরকার পত্রিকা ১৯৯১ সাল হতে ঢাকা হতে প্রকাশিত হচ্ছে।

https://www.facebook.com/obaidul1991

জননেতার সংজ্ঞা ও বিস্তারিত আলোচনা

Update Time : ০২:০৬:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

 

জননেতা হলেন এমন একজন রাজনৈতিক বা সামাজিক ব্যক্তিত্ব, যিনি দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়, কল্যাণ এবং সামগ্রিক উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করেন এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করেন। সহজ কথায়, যিনি জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে থাকেন এবং জনসাধারণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করেন, তিনিই জননেতা বা গণমানুষের নেতা। ‘জননেতা’ শব্দের অর্থ হলো জনসাধারণের নেতা বা পরিচালক। রাজনীতি বিজ্ঞানী ও দার্শনিকদের মতে, একজন সাধারণ নেতা এবং জননেতার মধ্যে সুনির্দিষ্ট পার্থক্য রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের মতে, “জননেতা হচ্ছেন জনগণের প্রতিনিধি, যিনি তাদের কল্যাণে কাজ করেন।” গ্রিক দার্শনিক প্লেটো তার ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, একজন প্রকৃত জননেতা বা শাসকের মধ্যে জ্ঞান, নৈতিকতা, ন্যায়বোধ ও আত্মত্যাগের গুণ থাকা অপরিহার্য। সাধারণ কোনো রাজনৈতিক পদের অধিকারী হলেই কেউ জননেতা হতে পারেন না। জননেতা হয়ে ওঠার জন্য কিছু বিশেষ গুণাবলি প্রয়োজন ঃ- (১) নিজস্ব বা দলীয় স্বার্থের চেয়ে সাধারণ মানুষের কল্যাণকে তিনি সর্বদা অগ্রাধিকার দেন। (২) তিনি জনগণের অতি সাধারণ ও প্রান্তিক স্তরের মানুষের সাথে মিশে যেতে পারেন এবং তাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকেন। (৩) তাঁর কথা ও কাজের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে অনুপ্রাণিত এবং ঐক্যবদ্ধ করার এক অসাধারণ ক্ষমতা থাকে। (৪) প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে আদর্শ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান বজায় রাখেন। (৫) সমাজের সমসাময়িক সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানের পাশাপাশি ভবিষ্যতের সংকট মোকাবিলার সুদূরপ্রসারী রূপকল্প (Vision) তাঁর থাকে। (৬) প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বা শোষকের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অধিকারের পক্ষে কথা বলার মতো নির্ভীক সাহস তাঁর থাকে।  সাধারণ নেতা ঃ- নির্দিষ্ট দল, গোষ্ঠী বা প্রাতিষ্ঠানিক পদের ওপর নির্ভরশীল। মূলত দলীয় এজেন্ডা বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করেন। সাধারণ জনগণের সাথে দূরত্ব বজায় রেখে চলেন। পদ বা ক্ষমতা চলে গেলে নেতৃত্বের প্রভাব কমে যায়। জননেতা ঃ- সাধারন মানুষের অকুন্ঠ সমর্থন ও ভালবাসার উপর প্রতিষ্ঠিত। দলমত নির্বিশেষেসর্বস্তরের মানুষের অধিকার রক্ষা করেন। সাধারণ মানুষের অতি নিকটে থাকেন ও সহজেই প্রবেশগম্য। আমাদের মাঝে অনেকেই নামের পূর্বে জননেতা উল্লেখ করতে দেখা যায়। বিশদ ব্যাখ্যায় জনগন নন্দিত “জননেতা” ক্ষমতা বা পদ না থাকলেও জনগণের হৃদয়ে তাঁর স্থান আজীবন থাকে। ইতিহাসের দিকে তাকালে অনেক কালজয়ী নেতা এসেছেন, যাঁদেরকে তাঁদের কাজের জন্য মানুষ ভালোবেসে ‘জননেতা’ উপাধিতে ভূষিত করেছে ঃ- (১) মহাত্মা গান্ধী: অহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে ভারতের সাধারণ মানুষকে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।

(২) নেলসন ম্যান্ডেলা: বর্ণবাদের বিরুদ্ধে আজীবন লড়াই করে দক্ষিণ আফ্রিকার সব বর্ণের মানুষের নেতায় পরিণত হন। (৩) মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বাংলার শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের জন্য তাঁকে বিশেষভাবে ‘জননেতা’ বলা হতো। (৪) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান  যিনি সাধারণ মানুষের স্বাধিকার ও স্বাধীনতার দাবিকে নিজের কণ্ঠে ধারণ করে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। এবং তার জিবনের অধিকাংশ সময় কারাগারে কাটিয়েছেন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি দেশের সঠিক ও টেকসই উন্নয়নের জন্য সুশিক্ষিত এবং আদর্শিক জননেতার উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি।