০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬
https://www.facebook.com/obaidul1991

উর্দুভাষীদের পুনর্বাসন ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে এসপিজিআরসি’র লংমার্চ ও স্মারকলিপি পেশ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
  • Update Time : ০১:০৫:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৩ Time View
সরকার
উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর স্থায়ী পুনর্বাসন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মৌলিক নাগরিক অধিকার বাস্তবায়নের ৭ দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে লংমার্চ ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে ষ্ট্রান্ডেড পিপল’স জেনারেল রিহ্যাবলিটেশন কমিটি (এসপিজিআরসি)।

১০ অক্টোবর (শনিবার) দুপুর ১২টায় এসপিজিআরসি’র সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ এর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা উর্দুভাষীরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জমায়েত হন। পরবর্তীতে সেখান থেকে একটি মিছিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে লংমার্চ করে প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে এক স্মারকলিপি পেশ করা হয়।

একই কর্মসূচি ও স্মারকলিপির অনুলিপি দেশের সকল জেলার এসপিজিআরসি’র নেতৃবৃন্দ নিজ নিজ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নিকট পৃথকভাবে পেশ করেন।

কর্মসূচিতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এসপিজিআরসি’র সভাপতি এম শওকত আলী, সহ-সভাপতি ইকবাল আহমেদ, সহ-সভাপতি মোঃ খোরশেদ আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আইয়ুব আলী এবং খুলনা জোনের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরসহ সংগঠনের অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দ।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, দেশের ১৩টি জেলার প্রায় ৭০টি ক্যাম্পে বিপুলসংখ্যক উর্দুভাষী মানুষ স্বাধীনতা-উত্তর দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তা, আবাসন সংকট ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। বিশেষ করে ২০২২ সালের ২১ জুন নারায়ণগঞ্জ শহরের কুমুদিনি ও কোম্পানি বাগান এলাকা থেকে উচ্ছেদকৃত ২৫০টি পরিবার আজ পর্যন্ত কোনো পুনর্বাসন না পেয়ে চরম মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। এসপিজিআরসি’র প্রতিষ্ঠাতা মরহুম এম. নাসিম খানের অনুসৃত শান্তিপূণ ও সাংবিধানিক পথ অনুসরণ করেই দীর্ঘদিনের অবহেলিত এ জনগোষ্ঠীর পক্ষে স্মারকলিপিতে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

এসপিজিআরসি’র পেশকৃত ৭ দফা দাবি:
১. ইতোমধ্যে উচ্ছেদকৃত ক্যাম্পবাসীদের জন্য দ্রুত স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
২. স্থায়ী পুনর্বাসন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কোনো ক্যাম্পবাসীকে উচ্ছেদ না করা এবং বিদ্যমান ক্যাম্প উচ্ছেদের ক্ষেত্রে পুনর্বাসন সুনিশ্চিত করা।
৩. স্থায়ী পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পবাসীদের যাবতীয় নাগরিক ও মৌলিক সুযোগ-সুবিধা অব্যাহত রাখা।
৪. দেশের সকল উর্দুভাষী ক্যাম্পে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
৫. মিরপুর সেকশন-১২-এর অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি, জনি হত্যা, খুলনায় মুজিব ও আজাদ হত্যা, চট্টগ্রামে রেশমী হত্যা, মিরপুরে শামীম হত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং এসপিজিআরসি নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের বিচার করা।
৬. বহিরাগতদের মাধ্যমে ক্যাম্পে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ করে ক্যাম্পগুলোকে নিরাপদ আবাসস্থলে রূপান্তর করা।
৭. ক্যাম্পভিত্তিক বিদ্যমান প্রাইমারি স্কুলগুলো দখলের চক্রান্ত বন্ধ করে তা রক্ষায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ।

স্মারকলিপিতে নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার মানবিক ও দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গিতে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর এ ন্যায্য দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

thedailysarkar

দৈনিক সরকার পত্রিকা ১৯৯১ সাল হতে ঢাকা হতে প্রকাশিত হচ্ছে।

https://www.facebook.com/obaidul1991

উর্দুভাষীদের পুনর্বাসন ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে এসপিজিআরসি’র লংমার্চ ও স্মারকলিপি পেশ

Update Time : ০১:০৫:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
সরকার
উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর স্থায়ী পুনর্বাসন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মৌলিক নাগরিক অধিকার বাস্তবায়নের ৭ দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে লংমার্চ ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে ষ্ট্রান্ডেড পিপল’স জেনারেল রিহ্যাবলিটেশন কমিটি (এসপিজিআরসি)।

১০ অক্টোবর (শনিবার) দুপুর ১২টায় এসপিজিআরসি’র সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ এর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা উর্দুভাষীরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জমায়েত হন। পরবর্তীতে সেখান থেকে একটি মিছিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে লংমার্চ করে প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে এক স্মারকলিপি পেশ করা হয়।

একই কর্মসূচি ও স্মারকলিপির অনুলিপি দেশের সকল জেলার এসপিজিআরসি’র নেতৃবৃন্দ নিজ নিজ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নিকট পৃথকভাবে পেশ করেন।

কর্মসূচিতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এসপিজিআরসি’র সভাপতি এম শওকত আলী, সহ-সভাপতি ইকবাল আহমেদ, সহ-সভাপতি মোঃ খোরশেদ আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আইয়ুব আলী এবং খুলনা জোনের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরসহ সংগঠনের অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দ।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, দেশের ১৩টি জেলার প্রায় ৭০টি ক্যাম্পে বিপুলসংখ্যক উর্দুভাষী মানুষ স্বাধীনতা-উত্তর দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তা, আবাসন সংকট ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। বিশেষ করে ২০২২ সালের ২১ জুন নারায়ণগঞ্জ শহরের কুমুদিনি ও কোম্পানি বাগান এলাকা থেকে উচ্ছেদকৃত ২৫০টি পরিবার আজ পর্যন্ত কোনো পুনর্বাসন না পেয়ে চরম মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। এসপিজিআরসি’র প্রতিষ্ঠাতা মরহুম এম. নাসিম খানের অনুসৃত শান্তিপূণ ও সাংবিধানিক পথ অনুসরণ করেই দীর্ঘদিনের অবহেলিত এ জনগোষ্ঠীর পক্ষে স্মারকলিপিতে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

এসপিজিআরসি’র পেশকৃত ৭ দফা দাবি:
১. ইতোমধ্যে উচ্ছেদকৃত ক্যাম্পবাসীদের জন্য দ্রুত স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
২. স্থায়ী পুনর্বাসন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কোনো ক্যাম্পবাসীকে উচ্ছেদ না করা এবং বিদ্যমান ক্যাম্প উচ্ছেদের ক্ষেত্রে পুনর্বাসন সুনিশ্চিত করা।
৩. স্থায়ী পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পবাসীদের যাবতীয় নাগরিক ও মৌলিক সুযোগ-সুবিধা অব্যাহত রাখা।
৪. দেশের সকল উর্দুভাষী ক্যাম্পে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
৫. মিরপুর সেকশন-১২-এর অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি, জনি হত্যা, খুলনায় মুজিব ও আজাদ হত্যা, চট্টগ্রামে রেশমী হত্যা, মিরপুরে শামীম হত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং এসপিজিআরসি নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের বিচার করা।
৬. বহিরাগতদের মাধ্যমে ক্যাম্পে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ করে ক্যাম্পগুলোকে নিরাপদ আবাসস্থলে রূপান্তর করা।
৭. ক্যাম্পভিত্তিক বিদ্যমান প্রাইমারি স্কুলগুলো দখলের চক্রান্ত বন্ধ করে তা রক্ষায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ।

স্মারকলিপিতে নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার মানবিক ও দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গিতে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর এ ন্যায্য দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।