১১:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬
https://www.facebook.com/obaidul1991

প্রসঙ্গ – শুধু গল্প মাত্র ———— মোশারফ হোসেন

মতামত
  • Update Time : ০১:৪৩:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৩ Time View

প্রবীন মুরুব্বীদের মুখ থেকে শুনেছি, ফেরাউন ফিলিস্থানের বাসিন্দা। সে একজন তরমুজ ব্যবসায়ী।
ভ্যাট দিতে দিতে তার সব তরমুজ শেষ। ব্যবসার শেষ জায়গাটি হল মিশরে রাজার সরকারী কবরস্থানের
প্রধান ফটকে। তখন সে ভাবতে লাগল ভ্যাট দিতে দিতে আমার সব পূঁজী ও মালামাল শেষ। আমি কি
করব এখানেই বসলাম। কিছুক্ষন পর রাজার এক মন্ত্রীর লাশ নিয়ে আসছে কবরস্থ করতে। ফেরাউন
বলল লাশ কবরস্থ করতে হলে আমাকে চাঁদা দিতে হবে। নইলে কবর দেওয়া যাবে না। শেষ ফলে তাকে
চাহিদা মত টাকা দিয়ে লাশ কবর দিয়ে সবাই রাজ দরবারে চলে গেল। রাজার কাছে সবাই ফরিয়াদ জানাল
কবরস্থানে এক চাঁদাবাজ মাস্তান টাকা ছাড়া লাশ দাফন করতে দেয়না। এখন কি করা। রাজা আদেশ
দিলেন তাকে প্রাসাদে হাজির করা হোক। সেনাপতি চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করে রাজমহলে রাজার কাছে
নিয়ে আসলেন, রাজা তার চোখ মুখ দেখে তাকে রাজ দরবারে খাঞ্জাচীর দায়িত্ব দিলেন। কিছুদিন পর
চাঁদাবাজ তার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে রাজাকে সরিয়ে নিজে রাজসিংহাসনে বসলেন। আসলে এটা কোন পূঁথি
পুস্তকে নেই। শুধু গল্প মাত্র। ফেরাউন কি চাঁদাবাজ ছিল ? না, প্রচলিত অর্থে ফেরাউন কোনো
'চাঁদাবাজ' বা মাস্তান ছিলেন না। তবে তিনি একজন চরম স্বৈরাচারী, অত্যাচারী এবং শোষক শাসক
ছিলেন। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রজাদের ওপর জুলুম করার কারণে আধুনিক পরিভাষার
অনেক অন্যায়ের সাথে তার কাজের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে
ফেরাউনের জুলুমের ধরনগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: ফেরাউন বনি ইসরাইল সম্প্রদায়ের মানুষকে
ক্রীতদাস বানিয়ে রেখেছিলেন। তাদের দিয়ে কোনো মজুরি ছাড়াই পাথর টানা এবং পিরামিড বা বড় বড়
প্রাসাদ তৈরির মতো অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ জোর করে করিয়ে নিতেন। তৎকালীন সময়ে
রাজকীয় ফরমান বা আইনের দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষের উৎপাদিত ফসল, গবাদিপশু এবং ধন-
সম্পদ জোরপূর্বক রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করতে বাধ্য করা হতো। কেউ কর দিতে ব্যর্থ হলে বা
তার বিরোধিতা করলে তাকে নির্মম শারীরিক নির্যাতন সহ্য করতে হতো। ফেরাউন এতটাই অহংকারী
হয়ে উঠেছিলেন যে, তিনি নিজেকে সৃষ্টির "শ্রেষ্ঠ প্রতিপালক" বা খোদা হিসেবে দাবি করেন। তার এই
একনায়কতন্ত্রের সামনে সাধারণ মানুষের জানমালের কোনো নিরাপত্তা ছিল না। সুতরাং, ফেরাউন
কোনো সাধারণ গলির চাঁদাবাজ ছিলেন না; তিনি ছিলেন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার চূড়ায় বসা একজন চরম
অত্যাচারী ও শোষক শাসক, যিনি পুরো শাসনব্যবস্থাকেই জুলুমের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার
করেছিলেন। 'ফেরাউন' কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম নয়, এটি প্রাচীন মিশরের রাজাদের বা শাসকদের
একটি সাধারণ উপাধি বা খেতাব। ফেরাউনের আসল নাম বা পরিচয় ইতিহাসবিদ ও ধর্মীয় বর্ণনা
অনুযায়ী বিভিন্ন যুগে ভিন্ন ভিন্ন শাসক এই উপাধি ধারণ করেছেন: হজরত মুসা (আ.)-এর যুগের
ফেরাউন: অধিকাংশ ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের মতে, মুসা (আ.)-এর সময়ের বিখ্যাত ও ক্ষমতাধর
ফেরাউন ছিলেন দ্বিতীয় রামেসিস (Ramesses II)। তবে ধর্মীয় ও ইসরাঈলী বর্ণনা মতে কারও
কারও মতে তার নাম ছিল ওলীদ ইবনে মাসআব ইবনে রাইয়ান। হজরত ইউসুফ (আ.)-এর যুগের
ফেরাউন: এই যুগের শাসকের নাম পাওয়া যায় রাইয়ান ইবনে ওয়ালীদের নাম। জন্মস্থান দ্বিতীয়
রামেসিস প্রাচীন মিশরের ১৯তম রাজবংশে জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মস্থান বা রাজধানী ছিল
প্রাচীন মিশরের নীল নদ উপত্যকার ডেল্টা অঞ্চলের পিয়ারামেসেস (Pi-Ramesses) বা বর্তমান

মিসরের উত্তরাঞ্চলে। এখন প্রশ্ন হল – চাঁদাবাজী কখন আরম্ভ হয়েছিল ? চাঁদাবাজী বা জোরপূর্বক
অর্থ বা সম্পত্তি আদায়ের (Extortion) ইতিহাস মানব সভ্যতার ইতিহাসের মতোই প্রাচীন এবং এটি
নির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা বছরে শুরু হয়নি। আদিম যুগে বা মধ্যযুগে শক্তিশালী গোষ্ঠী বা সামন্ত
রাজারা যখন দুর্বলদের ভয় দেখিয়ে বা জোরপূর্বক কর, নজরানা বা সম্পদ আদায় করত, মূলত তখন
থেকেই বিভিন্ন রূপে চাঁদাবাজির সূচনা ঘটেছিল। আমাদের দেশে ও সমাজে প্রতিহিংসার রাজনীতির
কারনে চাঁদাবাজী বাড়ে। আমরা তৃতীয় বিশ্বে সবচেয়ে দরিদ্র দেশের নাগরিক। ছোট একটি দেশ অুযায়ী
আমাদের জনসংখ্যা অনেক বেশী। অতীতের সরকার বাহাদুরগন বাহাবা পাওয়ার জন্য আমাদের মাথার
উপর রোহিঙ্গা পূর্নবাসন রেখে গেছেন। প্রতিহিংসার রাজনীতি মূলত সমাজে এক ধরনের
অস্থিতিশীলতা ও আইনহীনতার জন্ম দেয়, যার সরাসরি প্রভাব হিসেবে চাঁদাবাজি ও নানাবিধ
অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পায়। যখন কোনো দেশে বা অঞ্চলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরম
আকার ধারণ করে, তখন রাজনৈতিক দলগুলো বা তাদের অঙ্গসংগঠনগুলো জনকল্যাণের চেয়ে
প্রতিপক্ষকে দমন এবং নিজেদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার দিকেই বেশি মনোযোগ দেয়। এই
পরিস্থিতি চাঁদাবাজি বাড়ার পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ হিসেবে কাজ করে। আইনশৃঙ্খলার
অবনতি: প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রায়শই রাজনৈতিক
উদ্দেশ্য হাসিলে ব্যস্ত থাকে। এর ফলে সাধারণ অপরাধ ও চাঁদাবাজি দমনের মতো মৌলিক
দায়িত্বগুলো উপেক্ষিত হয়, যার সুযোগ নেয় এক ধরনের অপরাধী চক্র। দখলদারিত্ব ও ক্ষমতার
দাপট রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বা দলের ভেতরের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সময় এক পক্ষ অন্য
পক্ষকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করতে চায়। এর অংশ হিসেবে বাজার, বাস টার্মিনাল, ফুটপাত এবং
বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য চাঁদাবাজির আশ্রয় নেওয়া হয়। অপরাধীদের
রাজনৈতিক আশ্রয়- প্রতিহিংসার রাজনীতিতে অনেক সময় মাঠপর্যায়ের ক্যাডার বা অপরাধীদের
ব্যবহার করা হয়। বিনিময়ে এই অপরাধীরা রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় প্রশাসনিক দায়মুক্তি পায়
এবং নির্বিঘ্নে সাধারণ মানুষের ওপর চাঁদাবাজি চালিয়ে যায়। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বেকারত্ব-
অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ ব্যবসায়িক বিনিয়োগ কমিয়ে দেয়। এর ফলে কর্মসংস্থান সংকুচিত
হয় এবং অনেক বেকার বা সুযোগসন্ধানী যুবক সহজেই রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজিকে
পূঁজী করে আয়ের পথ হিসেবে বেছে নেয়। সংক্ষেপে বলতে গেলে, প্রতিহিংসার রাজনীতি আইনের
শাসনকে দুর্বল করে দেয়। আর যেখানে আইনের শাসন থাকে না, সেখানেই চাঁদাবাজি একটি নিয়মিত
সংস্কৃতিতে পরিণত হয়, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে অতিষ্ঠ করে তোলে এবং দেশের
অর্থনৈতিক বিকাশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম কমাতে হলে দেশের
সরকার, রাজনীতিবিদ ও সকল জনগনকে সোচ্চার হতে হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

thedailysarkar

দৈনিক সরকার পত্রিকা ১৯৯১ সাল হতে ঢাকা হতে প্রকাশিত হচ্ছে।

https://www.facebook.com/obaidul1991

প্রসঙ্গ – শুধু গল্প মাত্র ———— মোশারফ হোসেন

Update Time : ০১:৪৩:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

প্রবীন মুরুব্বীদের মুখ থেকে শুনেছি, ফেরাউন ফিলিস্থানের বাসিন্দা। সে একজন তরমুজ ব্যবসায়ী।
ভ্যাট দিতে দিতে তার সব তরমুজ শেষ। ব্যবসার শেষ জায়গাটি হল মিশরে রাজার সরকারী কবরস্থানের
প্রধান ফটকে। তখন সে ভাবতে লাগল ভ্যাট দিতে দিতে আমার সব পূঁজী ও মালামাল শেষ। আমি কি
করব এখানেই বসলাম। কিছুক্ষন পর রাজার এক মন্ত্রীর লাশ নিয়ে আসছে কবরস্থ করতে। ফেরাউন
বলল লাশ কবরস্থ করতে হলে আমাকে চাঁদা দিতে হবে। নইলে কবর দেওয়া যাবে না। শেষ ফলে তাকে
চাহিদা মত টাকা দিয়ে লাশ কবর দিয়ে সবাই রাজ দরবারে চলে গেল। রাজার কাছে সবাই ফরিয়াদ জানাল
কবরস্থানে এক চাঁদাবাজ মাস্তান টাকা ছাড়া লাশ দাফন করতে দেয়না। এখন কি করা। রাজা আদেশ
দিলেন তাকে প্রাসাদে হাজির করা হোক। সেনাপতি চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করে রাজমহলে রাজার কাছে
নিয়ে আসলেন, রাজা তার চোখ মুখ দেখে তাকে রাজ দরবারে খাঞ্জাচীর দায়িত্ব দিলেন। কিছুদিন পর
চাঁদাবাজ তার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে রাজাকে সরিয়ে নিজে রাজসিংহাসনে বসলেন। আসলে এটা কোন পূঁথি
পুস্তকে নেই। শুধু গল্প মাত্র। ফেরাউন কি চাঁদাবাজ ছিল ? না, প্রচলিত অর্থে ফেরাউন কোনো
'চাঁদাবাজ' বা মাস্তান ছিলেন না। তবে তিনি একজন চরম স্বৈরাচারী, অত্যাচারী এবং শোষক শাসক
ছিলেন। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রজাদের ওপর জুলুম করার কারণে আধুনিক পরিভাষার
অনেক অন্যায়ের সাথে তার কাজের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে
ফেরাউনের জুলুমের ধরনগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: ফেরাউন বনি ইসরাইল সম্প্রদায়ের মানুষকে
ক্রীতদাস বানিয়ে রেখেছিলেন। তাদের দিয়ে কোনো মজুরি ছাড়াই পাথর টানা এবং পিরামিড বা বড় বড়
প্রাসাদ তৈরির মতো অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ জোর করে করিয়ে নিতেন। তৎকালীন সময়ে
রাজকীয় ফরমান বা আইনের দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষের উৎপাদিত ফসল, গবাদিপশু এবং ধন-
সম্পদ জোরপূর্বক রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করতে বাধ্য করা হতো। কেউ কর দিতে ব্যর্থ হলে বা
তার বিরোধিতা করলে তাকে নির্মম শারীরিক নির্যাতন সহ্য করতে হতো। ফেরাউন এতটাই অহংকারী
হয়ে উঠেছিলেন যে, তিনি নিজেকে সৃষ্টির "শ্রেষ্ঠ প্রতিপালক" বা খোদা হিসেবে দাবি করেন। তার এই
একনায়কতন্ত্রের সামনে সাধারণ মানুষের জানমালের কোনো নিরাপত্তা ছিল না। সুতরাং, ফেরাউন
কোনো সাধারণ গলির চাঁদাবাজ ছিলেন না; তিনি ছিলেন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার চূড়ায় বসা একজন চরম
অত্যাচারী ও শোষক শাসক, যিনি পুরো শাসনব্যবস্থাকেই জুলুমের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার
করেছিলেন। 'ফেরাউন' কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম নয়, এটি প্রাচীন মিশরের রাজাদের বা শাসকদের
একটি সাধারণ উপাধি বা খেতাব। ফেরাউনের আসল নাম বা পরিচয় ইতিহাসবিদ ও ধর্মীয় বর্ণনা
অনুযায়ী বিভিন্ন যুগে ভিন্ন ভিন্ন শাসক এই উপাধি ধারণ করেছেন: হজরত মুসা (আ.)-এর যুগের
ফেরাউন: অধিকাংশ ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের মতে, মুসা (আ.)-এর সময়ের বিখ্যাত ও ক্ষমতাধর
ফেরাউন ছিলেন দ্বিতীয় রামেসিস (Ramesses II)। তবে ধর্মীয় ও ইসরাঈলী বর্ণনা মতে কারও
কারও মতে তার নাম ছিল ওলীদ ইবনে মাসআব ইবনে রাইয়ান। হজরত ইউসুফ (আ.)-এর যুগের
ফেরাউন: এই যুগের শাসকের নাম পাওয়া যায় রাইয়ান ইবনে ওয়ালীদের নাম। জন্মস্থান দ্বিতীয়
রামেসিস প্রাচীন মিশরের ১৯তম রাজবংশে জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মস্থান বা রাজধানী ছিল
প্রাচীন মিশরের নীল নদ উপত্যকার ডেল্টা অঞ্চলের পিয়ারামেসেস (Pi-Ramesses) বা বর্তমান

মিসরের উত্তরাঞ্চলে। এখন প্রশ্ন হল – চাঁদাবাজী কখন আরম্ভ হয়েছিল ? চাঁদাবাজী বা জোরপূর্বক
অর্থ বা সম্পত্তি আদায়ের (Extortion) ইতিহাস মানব সভ্যতার ইতিহাসের মতোই প্রাচীন এবং এটি
নির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা বছরে শুরু হয়নি। আদিম যুগে বা মধ্যযুগে শক্তিশালী গোষ্ঠী বা সামন্ত
রাজারা যখন দুর্বলদের ভয় দেখিয়ে বা জোরপূর্বক কর, নজরানা বা সম্পদ আদায় করত, মূলত তখন
থেকেই বিভিন্ন রূপে চাঁদাবাজির সূচনা ঘটেছিল। আমাদের দেশে ও সমাজে প্রতিহিংসার রাজনীতির
কারনে চাঁদাবাজী বাড়ে। আমরা তৃতীয় বিশ্বে সবচেয়ে দরিদ্র দেশের নাগরিক। ছোট একটি দেশ অুযায়ী
আমাদের জনসংখ্যা অনেক বেশী। অতীতের সরকার বাহাদুরগন বাহাবা পাওয়ার জন্য আমাদের মাথার
উপর রোহিঙ্গা পূর্নবাসন রেখে গেছেন। প্রতিহিংসার রাজনীতি মূলত সমাজে এক ধরনের
অস্থিতিশীলতা ও আইনহীনতার জন্ম দেয়, যার সরাসরি প্রভাব হিসেবে চাঁদাবাজি ও নানাবিধ
অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পায়। যখন কোনো দেশে বা অঞ্চলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরম
আকার ধারণ করে, তখন রাজনৈতিক দলগুলো বা তাদের অঙ্গসংগঠনগুলো জনকল্যাণের চেয়ে
প্রতিপক্ষকে দমন এবং নিজেদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার দিকেই বেশি মনোযোগ দেয়। এই
পরিস্থিতি চাঁদাবাজি বাড়ার পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ হিসেবে কাজ করে। আইনশৃঙ্খলার
অবনতি: প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রায়শই রাজনৈতিক
উদ্দেশ্য হাসিলে ব্যস্ত থাকে। এর ফলে সাধারণ অপরাধ ও চাঁদাবাজি দমনের মতো মৌলিক
দায়িত্বগুলো উপেক্ষিত হয়, যার সুযোগ নেয় এক ধরনের অপরাধী চক্র। দখলদারিত্ব ও ক্ষমতার
দাপট রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বা দলের ভেতরের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সময় এক পক্ষ অন্য
পক্ষকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করতে চায়। এর অংশ হিসেবে বাজার, বাস টার্মিনাল, ফুটপাত এবং
বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য চাঁদাবাজির আশ্রয় নেওয়া হয়। অপরাধীদের
রাজনৈতিক আশ্রয়- প্রতিহিংসার রাজনীতিতে অনেক সময় মাঠপর্যায়ের ক্যাডার বা অপরাধীদের
ব্যবহার করা হয়। বিনিময়ে এই অপরাধীরা রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় প্রশাসনিক দায়মুক্তি পায়
এবং নির্বিঘ্নে সাধারণ মানুষের ওপর চাঁদাবাজি চালিয়ে যায়। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বেকারত্ব-
অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ ব্যবসায়িক বিনিয়োগ কমিয়ে দেয়। এর ফলে কর্মসংস্থান সংকুচিত
হয় এবং অনেক বেকার বা সুযোগসন্ধানী যুবক সহজেই রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজিকে
পূঁজী করে আয়ের পথ হিসেবে বেছে নেয়। সংক্ষেপে বলতে গেলে, প্রতিহিংসার রাজনীতি আইনের
শাসনকে দুর্বল করে দেয়। আর যেখানে আইনের শাসন থাকে না, সেখানেই চাঁদাবাজি একটি নিয়মিত
সংস্কৃতিতে পরিণত হয়, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে অতিষ্ঠ করে তোলে এবং দেশের
অর্থনৈতিক বিকাশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম কমাতে হলে দেশের
সরকার, রাজনীতিবিদ ও সকল জনগনকে সোচ্চার হতে হবে।