https://www.facebook.com/obaidul1991
গোদাগাড়ীর এএসপি আব্দুস ছালামকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ
- Update Time : ০৩:৩৯:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৩১ Time View

রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি , মোঃ আতিকুর রহমান :রাজশাহীর গোদাগাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মীর্জা মো. আব্দুস ছালামকে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন গোদাগাড়ী ও তানোরের কয়েকজন এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিক। তাঁদের দাবি, মাদকবিরোধী অভিযান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকার কারণে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, গোদাগাড়ী সার্কেলে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এএসপি আব্দুস ছালাম মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন। তাঁর নেতৃত্ব ও তদারকিতে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ায় মাদকসংশ্লিষ্টদের মধ্যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ, চলমান মাদকবিরোধী তৎপরতার কারণে স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক তথ্য প্রচার করতে পারে।
সচেতন নাগরিকরা বলেন, কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করে তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। একতরফা বক্তব্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করা হলে প্রকৃত ঘটনা আড়ালে থাকার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “এএসপি আব্দুস ছালাম দায়িত্ব নেওয়ার পর মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের তৎপরতা বেড়েছে। আমরা চাই, তিনি আইন অনুযায়ী তাঁর দায়িত্ব পালন করে যান। কোনো অভিযোগ থাকলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে সত্য-মিথ্যা যাচাই করা হোক।”
এদিকে এএসপি আব্দুস ছালামকে ঘিরে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনের বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকেও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তাঁর দাবি, মাদকবিরোধী অভিযান ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তৎপরতার কারণে একটি মহলের অসন্তোষ তৈরি হয়ে থাকতে পারে।
তাঁর পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, গোদাগাড়ীর সালাউদ্দিন বিশ্বাস উকিলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তাঁর কোনো বক্তব্য বা মন্তব্য নেওয়া হয়নি। অথচ ওই প্রতিবেদনে তাঁর নাম উল্লেখ করে বিষয়টি নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এএসপি আব্দুস ছালামের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ না করে তাঁর নাম ব্যবহার করে কোনো নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করা হলে তা সাংবাদিকতার বস্তুনিষ্ঠতার প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। এ ধরনের প্রতিবেদনের কারণে তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তাঁর পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের আরও দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে মাদকবিরোধী অভিযান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের তৎপরতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটি প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যসহ প্রকাশ করা উচিত।
তবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে উদ্দেশ্য করে অভিযোগ করার আগে অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলেও তাঁরা মনে করেন। অভিযোগ সত্য হলে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগের সত্যতা না থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যও জনগণের সামনে তুলে ধরার দাবি জানান তাঁরা।
রাজশাহী জেলা পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য যথাযথ প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া রয়েছে। অভিযোগের ধরন, প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিকদের মতে, মাদকবিরোধী অভিযান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রকৃত অভিযোগ থাকলে সেটিও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।
তাঁরা বলেন, “সত্য ও যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তাঁর বক্তব্য নেওয়ার সুযোগও থাকা উচিত।”
এদিকে এএসপি আব্দুস ছালামের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সংবাদগুলোর প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়েছে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ না করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ ও তথ্য যাচাই করা উচিত। মাদকবিরোধী অভিযান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাঁর দায়িত্ব পালন অব্যাহত থাকবে বলেও তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত অভিযান এবং মাদকবিরোধী তৎপরতার কারণে কোনো কোনো মহল ক্ষুব্ধ হয়ে এসব নেতিবাচক সংবাদ প্রচার করতে পারে। তবে এই দাবিরও স্বাধীনভাবে যাচাই প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

























