১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
https://www.facebook.com/obaidul1991
বাঁশখালীতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বনাম তোষামোদি রাজনীতি: কার স্বার্থে এই আঁতাত?
আনিছুর রহমান
- Update Time : ০২:৪২:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৪ Time View

আনিছুর রহমান(নিজস্ব প্রতিবেদক): বাঁশখালীর মাটি ও মানুষের সঙ্গে যাঁদের নাড়ির টান আছে, তাঁরা জানেন এখানকার প্রতিটি অনিয়ম আর শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা কতটা সাহসের কাজ। কিন্তু অদ্ভুত এক সমীকরণ আজ আমাদের চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। অনিয়মকারী প্রশাসনের বিরুদ্ধে যখন কোনো সৎ ও সাহসী সাংবাদিকের কলম গর্জে ওঠে, ঠিক তখনই সেই একই বিতর্কিত প্রশাসনের পক্ষে কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীকে সাফাই গাইতে দেখা যায়। সাধারণ মানুষের মনে তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—সাংবাদিকের সত্য প্রকাশ আর রাজনৈতিক দলের এই অন্ধ তোষামোদির সম্পর্কটা আসলে কিসের?
এটি কি তবে দুস্থ ও এতিম জনগণের জন্য বরাদ্দ ত্রাণের মাল লুটপাটের হিসেব-নিকেশ ধামাচাপা দেওয়ার কোনো গভীর গোপন আঁতাত, নাকি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা হাতিয়ে নেওয়ার সস্তা অপচেষ্টা? আজ বাঁশখালীর চায়ের দোকান থেকে শুরু করে অলিগলিতে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এই প্রশ্নটিই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাঁশখালীর প্রশাসনের সামগ্রিক ভূমিকা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। এই ক্ষোভের পালে নতুন হাওয়া লেগেছে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এতিম ও দুস্থদের হক নষ্ট করে তাদের জন্য নির্ধারিত সরকারি পুকুরের মাছ যখন সরাসরি কর্তাদের ভাতের প্লেটে গিয়ে পৌঁছায়, তখন সাধারণ মানুষের কষ্ট দেখার কেউ থাকে না। অথচ এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি নিয়ে যখন বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশিত হলো, তখন দেখা গেল এক ভিন্ন চিত্র।
প্রশাসনের অন্যায় কাজের বিচার বা সংশোধনের দাবি না জানিয়ে, উল্টো সেই বিতর্কিত প্রশাসনের পক্ষ নিয়ে সাফাই গাইতে মাঠে নেমে পড়েছেন কতিপয় রাজনৈতিক নেতা। বছরের পর বছর ধরে তিলে তিলে অর্জিত কোনো দল বা সংগঠনের সুনাম নষ্ট করার জন্য বোধহয় এই ধরনের সুবিধাবাদী রাজনৈতিক কর্মীরাই যথেষ্ট।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি এই দলকানা লোকগুলোর দেওয়া বেশ কয়েকটি পোস্ট আমাদের কারও চোখ এড়িয়ে যায়নি। সবচেয়ে বেশি আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই সংকীর্ণ মানসিকতার তোষামোদি কর্মকাণ্ডে কেবল সাধারণ বা অশিক্ষিত কর্মীরাই যুক্ত নন, বরং সমাজের তথাকথিত বিজ্ঞ আইনজীবীরাও কলম ধরেছেন!
অথচ কয়দিন আগের জাতীয় নির্বাচনের কথা একটু স্মরণ করুন। নির্বাচনের ঠিক আগের দিনগুলোতেও এরাই টকশোতে, মাঠে-ঘাটে সত্যের বাণী শুনিয়েছিলেন এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতার বড় বড় গুণগান গেয়ে গলা ফাটিয়েছিলেন। অথচ ক্ষমতার চেয়ার বদল বা সামান্য সুযোগের হাতছানি পেতেই তারা সেদিনকার বলা কথাগুলো কত দ্রুতই না ভুলে গেলেন! নীতির এই বর্জ্জন দেখে মনে হয়, সুবিধাবাদিতা বুঝি এদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রধান চালিকাশক্তি।

অবশ্য তাদের এই ভেক ধরা ও দ্বিমুখী রূপ দেখে আমি ব্যক্তিগতভাবে একটুও অবাক হইনি। কারণ এদের আসল চরিত্র বাঁশখালীর মানুষ ভালো করেই চেনে। তবে অনেক সাধারণ মানুষই এদের এমন গিরগিটির মতো রঙ বদল দেখে রীতিমতো বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন। অনেকে খোলাখুলিই আক্ষেপ করে বলছেন, অতীতে ফেলে আসা দিনগুলোর অনিয়ম আর বঞ্চনার সমুচিত জবাব আগামী দিনের বিভিন্ন নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমেই কড়ায়-গণ্ডায় বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
আবার কেউ কেউ আক্ষেপ করে বলছেন, এত আশা করে একদলকে ভোট দিলাম, আর আজ দেখছি অন্যপক্ষ বা তাদের দোসররা ক্ষমতার মোহে মত্ত হয়ে এই সমস্ত ন্যক্কারজনক অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বাঁশখালীর আপামর সচেতন মহল মনে করেন, এই অনিয়ম আর দুর্নীতিবাজ প্রশাসন আর তাদের চাটুকার অপশক্তির মোকাবিলা করার জন্য এ অঞ্চলের সচেতন জনতাই যথেষ্ট।
আজ বাঁশখালীর অন্তত পঁচানব্বই শতাংশ সাধারণ মানুষ প্রশ্নবিদ্ধ ও পক্ষপাতদুষ্ট এই প্রশাসনকে দ্রুত উপজেলা থেকে অপসারণ করার জোর দাবি তুলেছেন। বাকি এক শতাংশ লোকও মৌখিক হ্যাঁ সূচক সম্মতির মাধ্যমে নীরব ভাষায় এই দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। জনগণের এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও অসন্তোষের টাইমবোমা সময়মতো আমলে না নেওয়া হলে বা প্রশমিত না করা হলে, এর পরিণতি কারও জন্যই সুখকর হবে না। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট মহলের টনক নড়ুক—এটাই আজ বাঁশখালীর সর্বস্তরের মানুষের প্রাণের দাবি।
Tag :
















