০৫:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬
https://www.facebook.com/obaidul1991

রাজশাহী হাসপাতাল নাকি জীবাণুর আড়ত? রাজশাহীর মেডিকেল কলেজ  হাসপাতালের ওয়াশরুমের চিত্র যেন ‘ময়লার ভাগাড়’।

মোঃ আতিকুর রহমান 
  • Update Time : ০৬:৩৩:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • / ৬৬ Time View
বিশেষ প্রতিনিধি: যেখানে মানুষ আসে রোগ থেকে মুক্তি পেতে, সেখানেই ওত পেতে আছে হাজারো জীবাণু। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রামেকহ) সাধারণ ওয়ার্ডের ওয়াশরুমগুলোর চিত্র দেখে চেনার উপায় নেই এটি কোনো চিকিৎসাকেন্দ্র, নাকি কোনো ময়লার ভাগাড়। দুর্গন্ধ, নোংরা পরিবেশ আর উপচে পড়া আবর্জনার কারণে হাসপাতালের ভেতরেই তৈরি হয়েছে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি।
সরেজমিনে দেখা গেছে যে হাসপাতালের কয়েকটি সাধারণ ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, ওয়াশরুমগুলোর দরজা ভাঙা, মেঝেতে জমে আছে নোংরা পানি। কমোড ও প্যানগুলো দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় সেখানে চরম দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। বেসিনগুলোর মুখ বন্ধ হয়ে থাকায় নোংরা পানি উপচে পড়ছে মেঝেতে। দূর থেকে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের বাধ্য হয়েই এই চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ব্যবহার করতে হচ্ছে।
ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজনরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এখানে সুস্থ মানুষ আসলে রোগাক্রান্ত হয়ে বাড়ি ফিরবে। ওয়াশরুমের ভেতরে ঢোকা তো দূরের কথা, বারান্দা দিয়ে হাঁটার সময়ও ওড়না দিয়ে নাক চেপে ধরে রাখতে হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কি এগুলো চোখে পড়ে না?”
আরেক নারী রোগী জানান, ওয়াশরুমের এই নোংরা পরিবেশের কারণে অনেকেই দীর্ঘক্ষণ টয়লেট চেপে রাখছেন, যা বিশেষ করে কিডনি বা ইউরিন ইনফেকশনের রোগীদের জন্য আরও মারাত্মক বিপদ ডেকে আনছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে,রাজশাহী মেডিকেল কলেজ  হাসপাতালের ওয়াশরুম থেকে ছড়াতে পারে টাইফয়েড, ডায়রিয়া, জন্ডিস এবং বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়াজনিত মারাত্মক রোগ। যেখানে শত শত দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষ একসঙ্গে অবস্থান করছেন, সেখানে এমন পরিবেশ পুরো হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও সমাধানের দাবি
এই বিষয়ে হাসপাতাল প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনভাবে যোগাযোগ করেনি তবে একজনের মুখে শোনা যায় পর্যাপ্ত লোকও বল থাকা সত্ত্বেও  লোকবল সংকট দেখিয়ে কাজ করে না আইয়া ও সুইপার এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাজ করে না এ বিষয়ে পরিছন্ন কর্মীদের কে জিজ্ঞেস করলে তারা বলে তাদেরকে  কোন  বিশেষ নির্দেশ দেওয়ার হচ্ছে না । শুধু আশ্বাসে আর কাজ হবে না। হাসপাতালের মতো অতি জরুরি সেবা কেন্দ্রে নিয়মিত তদারকি, পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ এবং ওয়াশরুমগুলোর দ্রুত সংস্কার এখন সময়ের দাবি। কর্তৃপক্ষ যত দ্রুত এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেবে, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি তত দ্রুত কমবে।
Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

thedailysarkar

দৈনিক সরকার পত্রিকা ১৯৯১ সাল হতে ঢাকা হতে প্রকাশিত হচ্ছে।

https://www.facebook.com/obaidul1991

রাজশাহী হাসপাতাল নাকি জীবাণুর আড়ত? রাজশাহীর মেডিকেল কলেজ  হাসপাতালের ওয়াশরুমের চিত্র যেন ‘ময়লার ভাগাড়’।

Update Time : ০৬:৩৩:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
বিশেষ প্রতিনিধি: যেখানে মানুষ আসে রোগ থেকে মুক্তি পেতে, সেখানেই ওত পেতে আছে হাজারো জীবাণু। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রামেকহ) সাধারণ ওয়ার্ডের ওয়াশরুমগুলোর চিত্র দেখে চেনার উপায় নেই এটি কোনো চিকিৎসাকেন্দ্র, নাকি কোনো ময়লার ভাগাড়। দুর্গন্ধ, নোংরা পরিবেশ আর উপচে পড়া আবর্জনার কারণে হাসপাতালের ভেতরেই তৈরি হয়েছে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি।
সরেজমিনে দেখা গেছে যে হাসপাতালের কয়েকটি সাধারণ ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, ওয়াশরুমগুলোর দরজা ভাঙা, মেঝেতে জমে আছে নোংরা পানি। কমোড ও প্যানগুলো দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় সেখানে চরম দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। বেসিনগুলোর মুখ বন্ধ হয়ে থাকায় নোংরা পানি উপচে পড়ছে মেঝেতে। দূর থেকে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের বাধ্য হয়েই এই চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ব্যবহার করতে হচ্ছে।
ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজনরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এখানে সুস্থ মানুষ আসলে রোগাক্রান্ত হয়ে বাড়ি ফিরবে। ওয়াশরুমের ভেতরে ঢোকা তো দূরের কথা, বারান্দা দিয়ে হাঁটার সময়ও ওড়না দিয়ে নাক চেপে ধরে রাখতে হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কি এগুলো চোখে পড়ে না?”
আরেক নারী রোগী জানান, ওয়াশরুমের এই নোংরা পরিবেশের কারণে অনেকেই দীর্ঘক্ষণ টয়লেট চেপে রাখছেন, যা বিশেষ করে কিডনি বা ইউরিন ইনফেকশনের রোগীদের জন্য আরও মারাত্মক বিপদ ডেকে আনছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে,রাজশাহী মেডিকেল কলেজ  হাসপাতালের ওয়াশরুম থেকে ছড়াতে পারে টাইফয়েড, ডায়রিয়া, জন্ডিস এবং বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়াজনিত মারাত্মক রোগ। যেখানে শত শত দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষ একসঙ্গে অবস্থান করছেন, সেখানে এমন পরিবেশ পুরো হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও সমাধানের দাবি
এই বিষয়ে হাসপাতাল প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনভাবে যোগাযোগ করেনি তবে একজনের মুখে শোনা যায় পর্যাপ্ত লোকও বল থাকা সত্ত্বেও  লোকবল সংকট দেখিয়ে কাজ করে না আইয়া ও সুইপার এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাজ করে না এ বিষয়ে পরিছন্ন কর্মীদের কে জিজ্ঞেস করলে তারা বলে তাদেরকে  কোন  বিশেষ নির্দেশ দেওয়ার হচ্ছে না । শুধু আশ্বাসে আর কাজ হবে না। হাসপাতালের মতো অতি জরুরি সেবা কেন্দ্রে নিয়মিত তদারকি, পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ এবং ওয়াশরুমগুলোর দ্রুত সংস্কার এখন সময়ের দাবি। কর্তৃপক্ষ যত দ্রুত এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেবে, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি তত দ্রুত কমবে।