https://www.facebook.com/obaidul1991
চাঁদপুরে রিত্রুটিং এজেন্সি ও দালাল চক্রের প্রতারণায় সর্বস্বান্ত প্রবাসী পরিবার অনাহারে দিন কাটছে
- Update Time : ০২:১১:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
- / ৫৬ Time View

বিশেষ প্রতিনিধি: চাঁদপুরে রিত্রুটিং এজেন্সি ও দালাল চক্রের প্রতারণায় সর্বস্বান্ত প্রবাসী পরিবার অনাহারে দিন কাটছে সৌদি প্রবাসী মোঃ জহির কাজীর, দ্রুত দেশে ফেরত ও ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ফেরতের দাবি পরিবারের চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালাল চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে এক প্রবাসী পরিবার এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। সৌদি আরবে টিস্যু ফ্যাক্টরিতে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরও কাজ না দিয়ে উল্টো আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি টাকা না দিলে প্রবাসীকে সৌদি আরব থেকে বের করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগী প্রবাসী মোঃ জহির কাজীর স্ত্রী মিতু বেগম (৪০) গত ৩০ এপ্রিল হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তসলিম পাটোয়ারী, আউয়াল পাটোয়ারী, তাদের ছেলে নাহিদ এবং তাজু পাটোয়ারীসহ একটি দালাল চক্রকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা জহির কাজীকে সৌদি আরবে ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে মোট ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেয়। পরে গত ৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে তাকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর কোম্পানির কোনো প্রতিনিধি তাকে রিসিভ করতে আসেনি। পরবর্তীতে তাকে একটি রুমে আটকে রাখা হলেও কোনো কাজ দেওয়া হয়নি। বর্তমানে সৌদি আরবে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন মোঃ জহির কাজী। পরিবারের দাবি, তিনি ঠিকমতো খাবারও পাচ্ছেন না এবং অনাহারে-অর্ধাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দীর্ঘদিন কাজ না থাকায় তিনি মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। ভুক্তভোগীর স্ত্রী মিতু বেগম জানান, “আমার স্বামীকে বিদেশ পাঠাতে ঘরবাড়ি ও জমি-জমা বিক্রি করেছি। এখন সে বিদেশে না খেয়ে কষ্টে আছে। কাজও পায়নি, আবার উল্টো টাকা চাওয়া হচ্ছে।” অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা এখন আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করছে। টাকা না দিলে জহির কাজীকে সৌদি আরব থেকে বের করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে বলেছেন— “আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েও কোনো লাভ হবে না।” অনুসন্ধানে জানা গেছে, চক্রটি ভুয়া ভিজিটিং কার্ড ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। ওই কার্ডে কোনো বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির নাম নেই। সেখানে শুধু “লাইসেন্স নং ০৯৬” এবং পরিচালক হিসেবে “মোঃ মোবারক” নাম উল্লেখ রয়েছে। এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার সাব-ইন্সপেক্টর জুবাইদা রহমান বলেন, “অভিযোগ হাতে পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” ভুক্তভোগী পরিবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। পরিবারের দাবি, মোঃ জহির কাজীকে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং দালাল চক্রের মাধ্যমে নেওয়া সম্পূর্ণ ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিতে হবে। পরিবারটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছেও আকুল আবেদন জানিয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকারের আন্তরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে একজন অসহায় প্রবাসীর জীবন রক্ষা পাবে এবং প্রতারক দালাল চক্রের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও পরিবারটি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি সহযোগিতা কামনা করেছে, যাতে দ্রুত জহির কাজীকে দেশে ফিরিয়ে এনে তার পরিবারকে এই দুর্বিষহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দেওয়া যায় এবং প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা দ্রুত ফেরত নিশ্চিত করা






















