০১:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬
https://www.facebook.com/obaidul1991

অন্যের সম্পদ বা সাফল্য দেখে লোভ ————– মোশারফ হোসেন

মতামত
  • Update Time : ০৪:০৪:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
  • / ২২ Time View


আমরা পৃথিবীতে মানুষ হয়ে জন্ম লাভ করেছি বলেই এই পার্থিব জিবনের প্রতিটি
জিনিসের উপর আকর্ষন থাকবেই। কাম, ক্রোধ,লোভ লালসার মায়ায় নিজে অন্ধ হয়ে
থাকি।তাই ধন সম্পদও ক্ষমতার প্রতি এতো লোভ। একমাত্র মহাত্মা শ্রেনীর
মানুষেরা এই পার্থিব বস্তুর প্রতি আসক্ত থাকেন না। লোভ লালসার বন্ধন তাদেরকে
বেঁধে রাখতে পারে না। লোভী লোকেরা পৃথিবীকে একটি শূন্য-ফলাফলের খেলা হিসেবে
দেখে। কেকটি বড় হলে যে সবাই উপকৃত হবে, এমনটা ভাবার পরিবর্তে, তারা কেকটিকে
একটি ধ্রুবক হিসেবে দেখে এবং এর সবচেয়ে বড় অংশটি পেতে চায়। তারা দৃঢ়ভাবে
বিশ্বাস করে যে, অন্যের ক্ষতির বিনিময়ে হলেও তারা আরও বেশি পাওয়ার যোগ্য।
আমার মতো লোভী লোকেরা কারসাজিতে পারদর্শী। মনস্তাত্ত্বিক কারণ- ব্যক্তিগত
নিরাপত্তাহীনতা, আত্মমর্যাদার অভাব এবং সবকিছু নিয়ন্ত্রণের
আকাঙ্ক্ষাও লোভের কারণ হতে পারে। কিছু ব্যক্তি নিজেদের অপূর্ণতার অনুভূতি
পুষিয়ে নিতে বা অন্যের উপর ক্ষমতা জাহির করতে সম্পদের সন্ধান করে। লোভ একটি
প্রতিকারমূলক কৌশল হিসেবে কাজ করতে পারে, যা নিরাপত্তা ও আত্মমর্যাদার এক
মিথ্যা অনুভূতি প্রদান করে। অন্যের সম্পদ বা সাফল্য দেখে লোভ হওয়া মানুষের
একটি জটিল মনস্তাত্ত্বিক ও আচরণগত প্রবণতা। এর পেছনে সামাজিক, জৈবিক এবং
মানসিক কারণ কাজ করে। মানুষ নিজের অবস্থার ওপর সন্তুষ্ট না হয়ে যখন অন্যের
সাথে তুলনা করে, তখন লোভের জন্ম হয়। অন্যের ভালো কিছু দেখে নিজের অভাববোধ
তীব্রতর হয়। নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাহীনতা, আত্মমর্যাদার অভাব অথবা
মানসিক কোনো শূন্যতা পূরণের জন্য মানুষ বস্তুগত সম্পদ বা অন্যের সম্পদের প্রতি
লোভাতুর হয়ে ওঠে। মানুষের চাহিদা অসীম। একটি লক্ষ্য অর্জিত হলে বা সম্পদ পেলে,
মানুষ আরও পাওয়ার জন্য আকাঙ্ক্ষিত হয়ে ওঠে। এ মুদ্রাদোষটি আমার মতো
অনেকেরই আছে। সম্পদ কেবল আরাম-আয়েশ নয়, বরং ক্ষমতা ও সামাজিক মর্যাদার
প্রতীক হিসেবে কাজ করে। অন্যের ক্ষমতা ও মর্যাদা দেখে নিজের তা অর্জনের লোভ
জাগে। বিবর্তনগত কারণ- কিছু গবেষণায় বলা হয়, লোভ মানুষের একটি স্বাভাবিক
প্রবৃত্তি যা টিকে থাকার সংগ্রামের সাথে যুক্ত, যদিও আধুনিক সমাজে এটি নেতিবাচক
রূপ নেয়। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হয়েছে, লোভ মানুষকে আত্মকেন্দ্রিক ও
অহংকারী করে তোলে, যা ঈমান ও দ্বীনের জন্য ক্ষতিকর। এটি মানুষের ভেতরের
সন্তুষ্টি কেড়ে নেয় এবং মনকে সারাক্ষণ অশান্ত রাখে। একমাত্র বাঁচার উপায়

আত্মার সাথে যুদ্ধ করে নিজেকে সন্তুষ্ট রাখা, অন্যের সম্পদে লোভ না করা, এবং যা
আছে তা নিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাই লোভ থেকে মুক্তির উপায়। অন্যের সম্পদ বা
সাফল্য দেখে লোভ হওয়া মানুষের একটি জটিল মনস্তাত্ত্বিক ও আচরণগত প্রবণতা।
এর পেছনে সামাজিক, জৈবিক এবং মানসিক কারণ কাজ করে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাই এর সমাধান দিচ্ছেন, ‘হে লোকসকল! তোমরা আল্লাহকে ভয়
করো এবং উপার্জনে সহজতা অবলম্বন করো। জেনে রেখো, যতক্ষণ পর্যন্ত কেউ তার
জন্যে নির্ধারিত রিজিক পূর্ণ না করে ততক্ষণ তার কিছুতেই মৃত্যু হবে না। একটু
দেরিতে হলেও তা তার কাছে পৌঁছবেই। তাই আল্লাহকে ভয় করো। উপার্জনে সহজতা
অবলম্বন করো। হালাল যতটুকু তা গ্রহণ করো আর যা কিছু হারাম তা বর্জন করো’।
[সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ২১৪৪]।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

thedailysarkar

দৈনিক সরকার পত্রিকা ১৯৯১ সাল হতে ঢাকা হতে প্রকাশিত হচ্ছে।

https://www.facebook.com/obaidul1991

অন্যের সম্পদ বা সাফল্য দেখে লোভ ————– মোশারফ হোসেন

Update Time : ০৪:০৪:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬


আমরা পৃথিবীতে মানুষ হয়ে জন্ম লাভ করেছি বলেই এই পার্থিব জিবনের প্রতিটি
জিনিসের উপর আকর্ষন থাকবেই। কাম, ক্রোধ,লোভ লালসার মায়ায় নিজে অন্ধ হয়ে
থাকি।তাই ধন সম্পদও ক্ষমতার প্রতি এতো লোভ। একমাত্র মহাত্মা শ্রেনীর
মানুষেরা এই পার্থিব বস্তুর প্রতি আসক্ত থাকেন না। লোভ লালসার বন্ধন তাদেরকে
বেঁধে রাখতে পারে না। লোভী লোকেরা পৃথিবীকে একটি শূন্য-ফলাফলের খেলা হিসেবে
দেখে। কেকটি বড় হলে যে সবাই উপকৃত হবে, এমনটা ভাবার পরিবর্তে, তারা কেকটিকে
একটি ধ্রুবক হিসেবে দেখে এবং এর সবচেয়ে বড় অংশটি পেতে চায়। তারা দৃঢ়ভাবে
বিশ্বাস করে যে, অন্যের ক্ষতির বিনিময়ে হলেও তারা আরও বেশি পাওয়ার যোগ্য।
আমার মতো লোভী লোকেরা কারসাজিতে পারদর্শী। মনস্তাত্ত্বিক কারণ- ব্যক্তিগত
নিরাপত্তাহীনতা, আত্মমর্যাদার অভাব এবং সবকিছু নিয়ন্ত্রণের
আকাঙ্ক্ষাও লোভের কারণ হতে পারে। কিছু ব্যক্তি নিজেদের অপূর্ণতার অনুভূতি
পুষিয়ে নিতে বা অন্যের উপর ক্ষমতা জাহির করতে সম্পদের সন্ধান করে। লোভ একটি
প্রতিকারমূলক কৌশল হিসেবে কাজ করতে পারে, যা নিরাপত্তা ও আত্মমর্যাদার এক
মিথ্যা অনুভূতি প্রদান করে। অন্যের সম্পদ বা সাফল্য দেখে লোভ হওয়া মানুষের
একটি জটিল মনস্তাত্ত্বিক ও আচরণগত প্রবণতা। এর পেছনে সামাজিক, জৈবিক এবং
মানসিক কারণ কাজ করে। মানুষ নিজের অবস্থার ওপর সন্তুষ্ট না হয়ে যখন অন্যের
সাথে তুলনা করে, তখন লোভের জন্ম হয়। অন্যের ভালো কিছু দেখে নিজের অভাববোধ
তীব্রতর হয়। নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাহীনতা, আত্মমর্যাদার অভাব অথবা
মানসিক কোনো শূন্যতা পূরণের জন্য মানুষ বস্তুগত সম্পদ বা অন্যের সম্পদের প্রতি
লোভাতুর হয়ে ওঠে। মানুষের চাহিদা অসীম। একটি লক্ষ্য অর্জিত হলে বা সম্পদ পেলে,
মানুষ আরও পাওয়ার জন্য আকাঙ্ক্ষিত হয়ে ওঠে। এ মুদ্রাদোষটি আমার মতো
অনেকেরই আছে। সম্পদ কেবল আরাম-আয়েশ নয়, বরং ক্ষমতা ও সামাজিক মর্যাদার
প্রতীক হিসেবে কাজ করে। অন্যের ক্ষমতা ও মর্যাদা দেখে নিজের তা অর্জনের লোভ
জাগে। বিবর্তনগত কারণ- কিছু গবেষণায় বলা হয়, লোভ মানুষের একটি স্বাভাবিক
প্রবৃত্তি যা টিকে থাকার সংগ্রামের সাথে যুক্ত, যদিও আধুনিক সমাজে এটি নেতিবাচক
রূপ নেয়। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হয়েছে, লোভ মানুষকে আত্মকেন্দ্রিক ও
অহংকারী করে তোলে, যা ঈমান ও দ্বীনের জন্য ক্ষতিকর। এটি মানুষের ভেতরের
সন্তুষ্টি কেড়ে নেয় এবং মনকে সারাক্ষণ অশান্ত রাখে। একমাত্র বাঁচার উপায়

আত্মার সাথে যুদ্ধ করে নিজেকে সন্তুষ্ট রাখা, অন্যের সম্পদে লোভ না করা, এবং যা
আছে তা নিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাই লোভ থেকে মুক্তির উপায়। অন্যের সম্পদ বা
সাফল্য দেখে লোভ হওয়া মানুষের একটি জটিল মনস্তাত্ত্বিক ও আচরণগত প্রবণতা।
এর পেছনে সামাজিক, জৈবিক এবং মানসিক কারণ কাজ করে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাই এর সমাধান দিচ্ছেন, ‘হে লোকসকল! তোমরা আল্লাহকে ভয়
করো এবং উপার্জনে সহজতা অবলম্বন করো। জেনে রেখো, যতক্ষণ পর্যন্ত কেউ তার
জন্যে নির্ধারিত রিজিক পূর্ণ না করে ততক্ষণ তার কিছুতেই মৃত্যু হবে না। একটু
দেরিতে হলেও তা তার কাছে পৌঁছবেই। তাই আল্লাহকে ভয় করো। উপার্জনে সহজতা
অবলম্বন করো। হালাল যতটুকু তা গ্রহণ করো আর যা কিছু হারাম তা বর্জন করো’।
[সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ২১৪৪]।