১২:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬
https://www.facebook.com/obaidul1991

রাজাপুরে এলজিইডির খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ, পরিদর্শনে গিয়ে সত্যতা পেলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌরী 

শহিদুল ইসলাম,
  • Update Time : ০২:০৯:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৪ Time View
সরকার
 রাজাপুর (ঝালকাঠি) প্রতিনিধিঃ 
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় এলজিইডির খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের শিডিউল অনুযায়ী কাজ না করে দায়সারাভাবে খনন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সুবিধাভোগীরা। নয়াদিগন্তসহ কয়েকটি পত্রিকায় যোগাযোগ  মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি। পরিদর্শনে তিনি কাজের নানা অসঙ্গতি ও নকশার চেয়ে খনন কম হওয়ার প্রমাণ পেয়েছেন।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আঙ্গারিয়া এলাকায় রাঢ়ি বাড়ির সামনে থেকে শুরু হওয়া ওই খালের পুনঃখনন কাজ পরিদর্শনের সময় ফিতা দিয়ে মাপ নেন ইউএনও। শিডিউল অনুযায়ী খালের প্রস্থ ৩০ ফুট হওয়ার কথা থাকলেও কোথাও ২৬ ফুট আবার কোথাও ২৮ ফুট পাওয়া যায়। এ সময় রাজাপুর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিটার ওই খাল পুনঃখননে বরাদ্দ রয়েছে ২৪ লাখ টাকা। এছাড়া উপজেলায় মোট ১৩টি খাল খনন ও ৩টি বাঁধ নির্মাণে প্রায় ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আলোচিত দুটি খালের ৪ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার খননে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, খালটি পূর্ণাঙ্গভাবে খনন না করে কেবল মাঝখান থেকে সামান্য পলি অপসারণ করে নালার মতো আকৃতি দেওয়া হয়েছে। তারা বলেন, “নিয়ম মেনে খাল খনন করা হলে এই এলাকার হাজারো কৃষক সেচ সুবিধা পেত। কিন্তু যেভাবে কাজ হয়েছে, তাতে সরকারের বিপুল অর্থ অপচয় হলেও সাধারণ মানুষের কোনো উপকারে আসবে না।”
ভুক্তভোগী কৃষকরা আরও জানান, খনন কাজ শুরুর সময় খালের দুই পাড়ের অসংখ্য ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। যথাযথভাবে খনন না হওয়ায় একদিকে কৃষকরা গাছ হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, অন্যদিকে পাড় তির্যকভাবে (Slope) না কাটায় তা পুনরায় ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে সেচ সুবিধা বা মাছ চাষ—কোনোটিই এখন আর সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি সাংবাদিকদের বলেন, “অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মাপ দেওয়ার পর বেশ কিছু স্থানে নির্ধারিত ৩০ ফুট প্রস্থ পাওয়া যায়নি। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে খালের খনন কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে জনস্বার্থে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thedailysarkar@gmail.com

About Author Information

https://www.facebook.com/obaidul1991

রাজাপুরে এলজিইডির খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ, পরিদর্শনে গিয়ে সত্যতা পেলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌরী 

Update Time : ০২:০৯:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
সরকার
 রাজাপুর (ঝালকাঠি) প্রতিনিধিঃ 
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় এলজিইডির খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের শিডিউল অনুযায়ী কাজ না করে দায়সারাভাবে খনন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সুবিধাভোগীরা। নয়াদিগন্তসহ কয়েকটি পত্রিকায় যোগাযোগ  মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি। পরিদর্শনে তিনি কাজের নানা অসঙ্গতি ও নকশার চেয়ে খনন কম হওয়ার প্রমাণ পেয়েছেন।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আঙ্গারিয়া এলাকায় রাঢ়ি বাড়ির সামনে থেকে শুরু হওয়া ওই খালের পুনঃখনন কাজ পরিদর্শনের সময় ফিতা দিয়ে মাপ নেন ইউএনও। শিডিউল অনুযায়ী খালের প্রস্থ ৩০ ফুট হওয়ার কথা থাকলেও কোথাও ২৬ ফুট আবার কোথাও ২৮ ফুট পাওয়া যায়। এ সময় রাজাপুর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিটার ওই খাল পুনঃখননে বরাদ্দ রয়েছে ২৪ লাখ টাকা। এছাড়া উপজেলায় মোট ১৩টি খাল খনন ও ৩টি বাঁধ নির্মাণে প্রায় ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আলোচিত দুটি খালের ৪ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার খননে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, খালটি পূর্ণাঙ্গভাবে খনন না করে কেবল মাঝখান থেকে সামান্য পলি অপসারণ করে নালার মতো আকৃতি দেওয়া হয়েছে। তারা বলেন, “নিয়ম মেনে খাল খনন করা হলে এই এলাকার হাজারো কৃষক সেচ সুবিধা পেত। কিন্তু যেভাবে কাজ হয়েছে, তাতে সরকারের বিপুল অর্থ অপচয় হলেও সাধারণ মানুষের কোনো উপকারে আসবে না।”
ভুক্তভোগী কৃষকরা আরও জানান, খনন কাজ শুরুর সময় খালের দুই পাড়ের অসংখ্য ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। যথাযথভাবে খনন না হওয়ায় একদিকে কৃষকরা গাছ হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, অন্যদিকে পাড় তির্যকভাবে (Slope) না কাটায় তা পুনরায় ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে সেচ সুবিধা বা মাছ চাষ—কোনোটিই এখন আর সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি সাংবাদিকদের বলেন, “অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মাপ দেওয়ার পর বেশ কিছু স্থানে নির্ধারিত ৩০ ফুট প্রস্থ পাওয়া যায়নি। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে খালের খনন কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে জনস্বার্থে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।