https://www.facebook.com/obaidul1991
রাষ্ট্রকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হবে
- Update Time : ০৩:৫৭:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
- / ১১ Time View

অনৈসলামী রাষ্ট্রের বিপদ
মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানবদের জান্নাতে নিতে চান। সে জন্য তাদের জন্য জান্নাতের পথে চলার সরল পথটিও বাতলিয়ে দিয়েছেন। পবিত্র কুর’আনে বর্ণিত হয়েছে সে রোডম্যাপ। শয়তান এখানে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে এই বলে, সে মানুষদের জান্নাতের পথে চলা অসম্ভব করবেই। শয়তান তার সে এজেন্ডাকে সফল করতে শুধু মূর্তিপূজা, বৌদ্ধপূজা, খৃষ্টপূজা, নাস্তিকতা, সেক্যুলারিজম, কম্যুনিজম, মন্দির মন্ডপ ও নানারূপ উপাসনাগৃহ নিয়ে হাজির হয়না। বরং সে লক্ষ পূরণে গড়ে তোলে শক্তিশালী রাষ্ট্র ও বিশাল রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো। বস্তুত রাষ্ট্রই হলো পৃথিবী পৃষ্ঠে শয়তানের সর্ববৃহৎ নাশকতার প্রকল্প। জনগণকে জান্নাতের পথ থেকে ফিরিয়ে জাহান্নামে নিতে লক্ষ লক্ষ মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও পূজামন্ডপ যে কাজটি করে, তার চেয়ে হাজার গুণ অধিক নাশকতার সা০০মর্থ্য রাখে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলি। সে কাজে শয়তানের হাতিয়ার রূপে কাজ করে অনৈসলামী রাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থা, রাজনীতি, সামরিরক ও বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশ, বিচার ব্যবস্থা, মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলি। মুসলিম দেশগুলিতে তাদের সাফল্য বিশাল। ফলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিশরের ন্যায় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলিতে মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও পূজামন্ডপের সংখ্যা অতি নগন্য হলেও সিরাতাল মুস্তাকীম থেকে দূরে সরা লোকদের সংখ্যাটি বিশাল। তারাই ভোট দিয়ে, অর্থ দিয়ে, প্রয়োজনে যুদ্ধ করে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের কাজকে অসম্ভব করে রেখেছে।
রাষ্ট্রের সামর্থ্য বিশাল। শক্তিশালী রাষ্ট্র হাতে থাকাতেই ফিরাউন ও নমরুদের ন্যায় দুর্বৃত্ত শাসকগণও দেশের জাহেল জনগণকে তাদের উপাসকে পরিণত করতে পেরেছিল। রাষ্ট্র হাতে থাকায় গণতন্ত্রের খুনি, বিচারবহির্ভুত হত্যার নায়ক, বাকশালি ফ্যাসিবাদের জনক, ভারতের একনিষ্ঠ গোলাম এবং দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত মুজিবও নিজেকে বাংলাদেশীদের নেতা, পিতা ও বন্ধুর আসনে বসাতে পেরেছিল। বাঙালির ইতিহাসের সর্বকালের সবচেয়ে বড় এই অপরাধীকে সরকার প্রতিপালিত চাটুকারগণ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির খেতাবও দিয়েছে। অথচ রাষ্ট্র হাতে না থাকায় হযরত ইব্রাহীম (আ:), হযরত মূসা (আ:) ও হযরত ঈসা (আ:)’য়ের ন্যায় শ্রেষ্ঠ নবীগণও সত্যদ্বীনকে প্রতিষ্ঠা দিতে পারেননি। তাঁরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং নিজ গৃহ থেকে বিতাড়িত হয়ে নানা দেশের নানা জনপদে উদ্বাস্তুর ন্যায় ঘুরেছেন।
তাই শয়তানের খলিফাদের হাতে রাষ্ট্র অধিকৃত হওয়ার বিপদটি অতি ভয়ানক। তখন জনগণকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোর কাজটি অতি কঠিন হয়ে পড়ে। অতিশয় মিথ্যাও তখন প্রবল বিজয় পায়। এরই উদাহরণ হলো ভারত। মানুষ চাঁদে গেছে -সেটি যতটা বিস্ময়কর, তার চেয়েও অধিক বিস্ময়কর হলো শতকোটি হিন্দু এখনো গরুপূজা, লিঙ্গপূজা, মূর্তিপূজা ও সর্পপূজার ন্যায় সনাতন অজ্ঞতা ও অসভ্যতা নিয়ে বাঁচে। লক্ষ লক্ষ মানুষ এখনো সে দেশটিতে গোমূত্র সেবন করে এবং গোবরকে পবিত্র মনে করে। ভারতের প্রায় ১২০ কোটি মানুষের মাঝে এমন সনাতন অজ্ঞতাও মহা ধুম ধামে বেঁচে আছে সনাতন ধর্ম রূপে। হিন্দুত্ববাদীদের হাতে ভারতের ন্যায় বিশাল দেশটির শাসন ক্ষমতা অধিকৃত হওয়ায় সে দেশে ইসলামের প্রচার রুখে দেয়ার কাজটি অতি সহজ হয়ে গেছে। প্রখ্যাত ইসলাম প্রচারক ডা. যাকির নায়েককে ভারত ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। তাঁর টিভি চ্যানেল পিস টিভিকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মুসলিমদের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে গণহত্যা, গণধর্ষণ ও গণনির্যাতন। মসজিদ, মুসলিমদের ঘর-বাড়ি ও তাদের ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানগুলিকে ধ্বংস করা হচ্ছে। অথচ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে বাইরে থাকাতে এমন মুসলিম বিরোধী নাশকতার কাজগুলি উগ্র হিন্দুত্ববাদীগণ এতো কাল করতে পারিনি।
বাংলাদেশের মত একটি মুসলিম দেশে সিরাতাল মুস্তাকীম ভূলিয়ে দেয়ার কাজে ব্যবহৃত হয় রাষ্ট্রের বিপুল সংখ্যক স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, বহুশত পত্র-পত্রিকা, টিভি ও বই-পুস্তক। জনগণকে বিভ্রান্ত করার সে কাজটি করা হয় জাতীয়তাবাদ, গোত্রবাদ, বর্ণবাদ, সেক্যুলারিজম, সমাজতন্ত্র, নাস্তিকতাবাদ ইত্যাদি নানা মতবাদের নামে। শিক্ষার নামে শিক্ষাঙ্গণে নাচ গান নাটক ইত্যাদি নানা বিষয়ের পাঠ দেয়া হলেও পাঠ দেয়া হয়না জান্নাতের রোডম্যাপ তথা পবিত্র কুর’আনের। নিয়ন্ত্রিত করা হচ্ছে কুর’আন শিক্ষা। পৌত্তলিক রবীন্দ্রনাথের জীবনী পড়ানো হলেও মহান নবীজী (সা:) এবং শ্রেষ্ঠ সাহাবাদের জীবনী পড়ানো হচ্ছে না। ইসলামের পক্ষে খাড়া হওয়াকে সাম্প্রাদায়িক রাজনীতি বলে নিন্দা করা হচ্ছে।
ইসলামবিরোধীদের হাতে রাষ্ট্র অধিকৃত হলে সেটি পরিণত হয় মানব সন্তানদের জাহান্নামে নেয়ার বাহনে। তখন রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তিদের কাজ হয়, মহান আল্লাহ তায়ালার বিধানের বিরুদ্ধে জনগণকে বিদ্রোহী করা এবং তাদেরকে শয়তানের সৈনিকে পরিণত করা। এভাবেই অনৈসলামীক রাষ্ট্রগুলি জনগণকে জাহান্নামের উপযোগী করে গড়ে তোলে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তখন জনগণকে রাস্তায় নামানো হয় ইসলামপন্থীদের ফাঁসিতে ঝুলানোর দাবী জানাতে। উস্কানি দেয়ার কাজে তখন ব্যবহৃত হয় দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, পত্র-পত্রিকা ও মিডিয়া। শেখ হাসিনার শাসনামলে ২০১৩ সালে সেরূপ মিছিল ও সমাবেশ আয়োজিত হয়েছে ঢাকার রাস্তায় -বিশেষ করে শাহবাগ মোড়ে। শয়তান ও তার অনুসারিদের এটি হলো অতি পুরনো কৌশল। সে কৌশল দেখা গেছে পৌত্তলিক রোমান শাসকমালেও। সে আমলে হযরত ঈসা (আ:)’য়ে শূলে চড়িয়ে হ্ত্যার দাবী জানাতে জেরুজালেমবাসীকে রাস্তায় নামানো হয়েছিল। সে মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছিল রোমান শাসকের আশির্বাদপুষ্ট ইহুদি ধর্মনেতারা।

সর্বশ্রেষ্ঠ নেক আমল: জাহান্নামের পথ থেকে বাঁচানো
এ পৃথিবী পৃষ্ঠে নেক আমলের সংখ্যা বহু। অর্থদান, খাদ্যদান, শিক্ষাদান, বস্ত্রদান, চিকিৎসাদান, গৃহদান -এসবই উত্তম নেক আমল। তবে সর্বশ্রেষ্ঠ নেক আমল হলো জাহান্নামের আগুন থেকে মানুষকে বাঁচানো। জান্নাতের এক টুকরো জমিন পৃথিবী-ভর্তি স্বর্ণ দিয়েও কেনা যায় না -যার উল্লেখ এসেছে পবিত্র কুরআনের সুরা আল ইমরানে। বলা হয়েছে:
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَمَاتُوا وَهُمْ كُفَّارٌ فَلَن يُقْبَلَ مِنْ أَحَدِهِم مِّلْءُ الْأَرْضِ ذَهَبًا وَلَوِ افْتَدَىٰ بِهِ ۗ أُولَـٰئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ وَمَا لَهُم مِّن نَّاصِرِينَ
অর্থ: নিশ্চয়ই যারা কাফের হয়েছে এবং কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে, তারা যদি সারা পৃথিবীর সমান পরিমাণ স্বর্ণও বিনিময় রূপে পেশ করে, তবুও সেটি কবুল করা হবে না। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব! পক্ষান্তরে তাদের কোনই সাহায্যকারী নেই।” –(সুরা আল ইমরান, আয়াত ৯১)।
ব্যক্তিকে জান্নাতে নেয় একমাত্র তাঁর ঈমান ও নেক আমল। যেমন বলা হয়েছে:
وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَنُكَفِّرَنَّ عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَحْسَنَ الَّذِي كَانُوا يَعْمَلُونَ
অর্থ: “এবং যারা ঈমান আনে এবং নেক আমল করে, আমি অবশ্যই তাদের মন্দ কাজগুলো তাদের আমল নামা থেকে মিটিয়ে দেব এবং তাদেরকে কর্মের উৎকৃষ্টতর প্রতিদান দেব অর্থাৎ জান্নাত দিব।” –(সুরা আন কাবুত, আয়াত ৭)।
এবং আরো বলা হয়েছে:
وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَنُدْخِلَنَّهُمْ فِي الصَّالِحِينَ
অর্থ: “এবং যারা ঈমান আনে এবং নেক আমল করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে নেক আমলকারী তথা সৎকর্মশীলদের সাথে (জান্নাতে) অন্তর্ভুক্ত করবো।”–(সুরা আন কাবুত, আয়াত ৯)।
সর্বশ্রেষ্ঠ নেক আমলের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হলো ইসলামী রাষ্ট্র। অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের সে সামর্থ্য নাই। তাই সর্বশ্রেষ্ঠ নেক আমল হলো ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের জিহাদে অর্থ, শ্রম, মেধা ও রক্তের বিনিয়োগ করা তথা শহীদ হওয়া। সে নেক আমলে প্রবল তাড়না দেখা গেছে নবীজী (সা:)’য়ের সাহাবাদের মাঝে। নবীজী (সা:)’য়ের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হলো, তিনি শুধু আরবভূমির লক্ষ লক্ষ মানুষকেই নয়, বিশ্বের বহু কোটি মানুষকেও জান্নাতের আগুন থেকে বাঁচিয়েছিলেন। সেটি সম্ভব হয়েছিল ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের কাজে সফল হওয়াতে। রাষ্ট্রকে তিনি গড়ে তুলেছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ নেক কর্মের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ারে। লক্ষ লক্ষ মসজিদ মাদ্রাসা নির্মাণ করেও কি এতো বড় নেক আমল করা যায়? সমগ্র মানব ইতিহাসে আর কোন নবীই নেক আমলের এতো বড় অবকাঠামো নির্মাণ করতে পারেননি। তিনি আগামী দিনের বিশ্ববাসীর জন্য মডেল রেখে যান সেরূপ একটি রাষ্ট্র নির্মাণের। এটিই হলো তাঁর সবচেয়ে বড় লিগ্যাসি। এজন্যই মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁকে আখ্যায়ীত করেছেন সমগ্র মানব জাতির জন্য “রাহমাতুল্লীল আলামীন” তথা সর্বশ্রেষ্ঠ রহমত এবং “উসওয়াতুন হাসানা” তথা উত্তম অনুকরণীয় মডেল রূপে।
নবীজী (সা:)’য়ের সাফল্যের মূল কারণ, তিনি তাঁর অনুসারীদের শুধু নামাজী, রোজাদার ও হাজী রূপে বাঁচতে শেখাননি। বরং তাদেরকে তিনি দুর্বৃত্ত শক্তির নির্মূলে ও ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের জিহাদে সার্বক্ষণিক সৈনিকে পরিণত করেছিলেন। নামাজের আযান শুনে নামাজে ছুটতে হয়। আযান শুনেও নামাজে অবহেলা করা কুফুরি। একাজ কাফিরদের। অপর দিকে দুর্বৃত্ত শাসকের হাতে অধিকৃত ভূমি থেকে ধ্বনিত হয় জিহাদের আযান। নামাজের আযান দিনে মাত্র ৫ বার; কিন্তু জিহাদের এ আযান সর্বক্ষণ -যতক্ষণ মুসলিম ভূমিতে থাকে শত্রুশক্তির অধিকৃতি। মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে সে আযান ধ্বনিত হয়েছে পবিত্র কুর’আনে। তাই চরম কুফুরি হলো চোখের সামনে দুর্বৃত্তদের অধিকৃতি দেখেও নীরব ও নিষ্ক্রিয় থাকা। এমন নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা হলো মহান আল্লাহ তায়ালার নির্দেশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। অথচ সে বিদ্রোহ নিয়ে বাঁচছে অধিকাংশ মুসলিম। বাংলাদেশের মুসলিমগণও এর ব্যতিক্রম নয়। এরূপ বিদ্রোহের কারণেই মুসলিম ভূমিতে আজ পরাজিত মহান আল্লাহ তায়ালার দ্বীন ও এজেন্ডা। 17/07/2026
ফিরোজ মাহবুব কামাল


























