০৩:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬

কুর’আনী দর্শন বিবর্জিত বাঙালি মুসলিম এবং ব্যর্থতা ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে

মতামত
  • Update Time : ০১:২৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
  • / ৯০ Time View

                                                                                                       https://www.facebook.com/BangladeshNezameislamparty

Bangladesh Nezame Islam party – YouTube

 

ইসলামী রাষ্ট্র: ঈমানের দৃশ্যমান রূপ

 

মুসলিম উম্মাহর শক্তির মূল উৎস তেল-গ্যাস, অর্থবল ও জনবল নয়, সেটি কুর’আনী দর্শন। নবীজী (সা:)’য়ের যুগে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের কাজের শুরুটি হয় মুসলিম মনে সে কুর’আনী দর্শন বলবান করার মধ্য দিয়ে। বীজ থেকে যেমন বৃক্ষের জন্ম, তেমনি কুর’আনী দর্শন থেকে জন্ম ঈমানের। ঈমান থেকে জন্ম হয় জিহাদের। তাই যেখানে কুর’আনী দর্শন নাই, সেখানে ঈমান ও জিহাদ কোনটাই নাই। সে জনগোষ্ঠি তখন ব্যর্থ হয় ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে। ইসলামী রাষ্ট্র হলো একটি জনগোষ্ঠির কুর’আনী দর্শন ও ঈমানের দৃশ্যমান রূপ। তাই যেখানে ইসলামী রাষ্ট্র নেই, বুঝতে হবে সে জনপদের মানুষ বাঁচে মুসলিম নাম নিয়ে, সত্যিকার ঈমানদারী নিয়ে নয়। মহান রব’য়ের সার্বভৌমত্ব, তাঁর শরিয়া ও তার রাজনৈতিক এজেন্ডা এরূপ নামসর্বস্ব মুসলিমদের কাছে কোন গুরুত্বই রাখে না। তারা আল্লাহর দ্বীনের পরাজয় নিয়ে তৃপ্তিতে ঘুমায়।

ইসলাম কবুলের সাথে সাথে একজন ব্যক্তির মনে ঈমানের সে কাঙ্খিত বল সৃষ্টি হয়না। সে স্তরে পৌঁছতে তাকে অবশ্যই কুর’আন আত্মীয়করণের স্তর অতিক্রম করতে হয়। যারা ইসলাম কবুল করেছে অথচ সে স্তর অতিক্রম করেনি তাদের নিয়ে মহান রব’য়ের ভাষ্য হলো:

قَالَتِ الْأَعْرَابُ آمَنَّا ۖ قُل لَّمْ تُؤْمِنُوا وَلَـٰكِن قُولُوا أَسْلَمْنَا وَلَمَّا يَدْخُلِ الْإِيمَانُ فِي قُلُوبِكُمْ ۖ وَإِن تُطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ لَا يَلِتْكُم مِّنْ أَعْمَالِكُمْ شَيْئًا ۚ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

অর্থ: “মরুবাসী আরবগণ বলে, আমরা ঈমান এনেছি। (হে নবী) তাদেরকে বলুন, “তোমরা ঈমান আনোনি; বরং বল, আমরা আত্মসমর্পণ করেছি। এখনো তোমাদের অন্তরে ঈমান প্রবেশ করেনি। যদি তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য কর, তবে তোমাদের কর্ম বিন্দুমাত্রও নিস্ফল করা হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম মেহেরবান।” –(সুরা হুজরাত, আয়াত ১৪)।

উপরে বর্ণিত সুরা হুজরাতের ১৪ নম্বর আয়াত থেকে বুঝা যায়, ইসলাম কবুলের অর্থ আল্লাহতায়ালার কাছে আত্মসমর্পণ মাত্র। তবে আত্মসমর্পণের সাথে অন্তরের গভীরে ঈমান প্রবেশ করেনা। ফলে মুমিন হওয়ার কাজটিও তখন হয়না। ঈমানদার হতে তাকে আরো বহুদূর এগোতে হয়। অন্তরের গভীরে পবিত্র কুর’আনের জ্ঞানকে প্রবেশ করাতে হয়। এজন্যই ইসলামের প্রথমে নামাজ-রোজা ও হজ্জ-যাকাত ফরজ করা হয়নি। ফরজ করা হয়েছে কুর’আন বুঝাকে। এভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে ঈমানদার হওয়াকে। অন্তরের গভীরে কুর’আনী জ্ঞানের প্রবেশ করানোর কাজটি না হলে মানুষ নামাজী, সুফি ও হাজী হয় বটে তবে ঈমানদার হয় না। এমন নামাজী, সুফি ও হাজীরা অফিসে ঘুষ খায়, ব্যবসায় প্রতারণা করে এবং নির্বাচন এলে দুর্বৃত্তদের ভোটে বিজয়ী করে। এদের কারণেই বাংলাদেশের মত মুসলিম দেশগুলিতে ইসলাম বিরোধী দুর্বৃত্তদের শাসন।

মুসলিম কিরূপে ঈমানদার হয়?

ঈমানদার হতে হলে প্রথমে নিজের অন্তরকে ঈমানদার বানাতে হয়। সে জন্য নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে হয়। আর সে জিহাদের অস্ত্র হলো কুর’আন। যার হাতে কুর’আনী জ্ঞানের সে অস্ত্রটি নাই, বুঝতে হবে সে বিজয় পায়নি তার নফসের বিরুদ্ধে। এমন নামাজী ও হাজীরাই দুর্বৃত্ত হয়। তারা ঈমানদারের ভান করে বটে, কিন্তু প্রকৃত ঈমানদার নয়। অন্তরের গভীরে কুর’আনী জ্ঞান প্রবেশ করানোর জন্য মহান আল্লাহতায়ালা নামাজ-রোজা ও হজ্জ-যাকাত ফরজ করার আগে কুর’আন থেকে জ্ঞানার্জনকে ফরজ করেছেন। নবুয়তের শুরুতে নবীজী (সা:)’য়ের উপর যে কয়েকটি সুরা প্রথমে নাযিল হয় তার মধ্যে একটি সুরা হলো সুরা মুজাম্মিল। এ সুরাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে অর্ধেক রাত বা তার চেয়ে কিছু কম বা বেশী পরিমাণ সময় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ধ্যানমগ্ন মনে বুঝে বুঝে কুর’আন তেলাওয়াতের। সে নির্দেশটি এসেছে এভাবে:

يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ

قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا

نِّصْفَهُ أَوِ انقُصْ مِنْهُ قَلِيلًا

أَوْ زِدْ عَلَيْهِ وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا

অর্থ: ‍“হে বস্ত্রাবৃত রাসূল! (কুর’আন পাঠের জন্য) রাতে দাঁড়িয়ে যান, কিছু রাত বাদ দিয়ে; অর্ধরাত্রি অথবা তার চেয়ে কিছু কম রাত, অথবা তার চেয়ে কিছু বেশী রাত ধরে কুর’আন আবৃত্তি করুন সুবিন্যস্ত ভাবে ও স্পষ্টভাবে।” –(সুরা মুজাম্মিল, আয়াত ১-৪)।

পবিত্র কুর’আনে যখন কোন হুকুম আসে -তখন সেটি ফরজ হয়ে যায়। উপরিউক্ত আয়াতে ফরজ করা হয়েছে পবিত্র কুর‌’আন থেকে জ্ঞানার্জনকে। ৫ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হয়েছে নবীজী (সা:)’য়ের নবুয়ত প্রাপ্তির ১১ বছর পর যখন তিনি মিরাজে যান। এই এগারো বছর কাল ধরে মুসলিমগণ ব্যস্ত থেকেছেন কুর’আন আত্মস্থ করার কাজে। তখন এটিই ছিল ফরজ ইবাদত। ফলে তারা হৃদয়ের গভীরে স্থাপন করতে পেরেছেন কুর’আনী দর্শন। এই কুর’আনী দর্শন তাদের জীবনে বিপ্লব এনেছিল। তারা পরিণত হয়েছিল পূর্ণ ঈমানদারে। প্রশ্ন হলো, ঈমাানদার কাকে বলে? ঈমানের দাবী অনেকেই করে, কিন্তু তারা সবাই ঈমানদার নয়। তাদের অনেকেই মুনাফিক। প্রকৃত ঈমানদার কারা -তা নিয়ে মহান রব’য়ের বয়ান হলো নিম্মরূপ:

إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا وَجَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ۚ أُولَـٰئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ

অর্থ: “একমাত্র তারাই হলো মুমিন, যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের উপর ঈমান আনার পর আর কোন রূপ সন্দেহ পোষণ করে না এবং নিজেদের জীবন ও ধন-সম্পদ দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে। ঈমানের দাবীতে এ ব্যক্তিগণ হলো সত্যবাদী।” –(সুরা হুজরাত, আয়াত ১৫)।

উপরিউক্ত আয়াতে বুঝানো হয়েছে, ঈমানদার হওয়ার শর্ত হলো, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের উপর ঈমানের সাথে অবশ্যই জিহাদ থাকতে হবে এবং সে জিহাদে অবশ্যই জান ও মালের বিনিয়োগ থাকতে হবে। যাদের জীবনে সে জিহাদ আছে একমাত্র তাদেরকেই ঈমানের দাবীতে সত্যবাদী বলা হয়েছে। এ জন্যই নবীজী (সা:)‌’য়ের এমন কোন সাহাবী ছিলেন না যাদের জীবনে জিহাদ ছিল না। ফলে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জিহাদে সৈনিকের অভাব হয়নি। কিন্তু বাংলাদেশের মত মুসলিম দেশে চিত্রটি ভিন্ন। এসব দেশে নামাজী-রোজাদারের সংখ্যা কোটি কোটি, কিন্তু সৈনিক নাই ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জিহাদে। ফলে বিজয় জুটেনি মহান রব’য়ের দ্বীনের।

দর্শনের শক্তি

মানব মহা মানব হয় এবং চেতনায় বিপ্লব আসে দেহের শক্তিতে নয়, বরং দর্শনের শক্তিতে। এবং দর্শনের বলেই মুসলিম উম্মাহ অতীতে সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র ও সভ্যতার জন্ম দিতে পেরেছিল। একমাত্র কুর’আনী দর্শন থেকে ঈমানদার জবাব খুঁজে পায়, কেন এ জীবনে সে বাঁচবে, কিভাবে সে বাঁচবে এবং কেন আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দিবে সে তাঁর নিজ জান-মাল। তখন তাঁর প্রতিক্ষণের ভাবনা, কর্ম, রাজনীতি এবং যুদ্ধবিগ্রহও ইবাদতে পরিণত হয়। ঈমানদার মাত্রই তখন মহান রব’য়ের সার্বক্ষণিক সৈনিকে পরিণত হয়। অথচ স্রেফ নামাজ-রোজা ও হজ্জ-যাকাত পালনের কারণে সে ভাবনা ও তাড়না গড়ে উঠে না, সেটি সম্ভব হলে বাংলাদশের কোটি কোটি নামাজী রোজাদার মানুষ আল্লাহর পথের সৈনিকে পরিণত হতো এবং তাদের হাতে ইসলামী রাষ্ট্র গড়ে উঠতো। এবং বিজয় বাড়াতো আল্লাহতায়ালার দ্বীনের। কিন্তু সেটি হয়নি। এখানে তাদের ব্যর্থতাটি অন্তরকে ঈমানদার করায়। কারণ, সেখানে স্থান পায়নি কুর’আনী দর্শন। হৃদয়ে কুর’আনী দর্শন ধারণ না করেও নামাজী, হাজী, সুফি, পীর, পীরের মুরিদ ও তাবলিগী হওয়া সহজ, কিন্তু সত্যিকার ঈমানদার হওয়া যায়না।

রণাঙ্গণে শুধু অস্ত্র কাজ করে না। কাজ করে অস্ত্রধারীর দর্শন ও ঈমানী বল। কুর‌’আনী দর্শন ব্যক্তিকে নির্ভিক যোদ্ধায় পরিণত করে। যুদ্ধ তখন সর্বোচ্চ ইবাদতে পরিণত হয়। দর্শনের বলে প্রাথমিক যুগের মুসলিমগণ পরাজিত করেছিল রোমান ও পারসিক সাম্রাজ্যের ন্যায় দুটি বিশ্বশক্তিকে। কুর’আনী দর্শনের বলেই আফগান মুসলিমগণ পরাজিত করতে পেরেছে ব্রিটিশ, সোভিয়েত রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায় তিনটি বিশ্বশক্তিকে। একই কারণে ক্ষুদ্র হামাস বাহিনী ২ বছরের বেশি কাল যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে অত্যাধুনিক ইসরাইলী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। এ গ্রন্থ লেখা কালে ইরান যুদ্ধ করেছে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার বিরুদ্ধে। যুদ্ধের আজ তৃতীয় সপ্তাহ, ইরান এখনো পরাজিত হয়নি। এটিই ইরানের বিশাল বিজয়।

স্ট্রাটেজী: কুর’আন থেকে দূরে সরানো

প্রতি দেশে শয়তানী শক্তির সনাতন স্ট্রাটেজী হলো কুর’আন থেকে মুসলিমদের দূরে সরানো। যেখানেই তারা সে কাজে সফল হয়েছে, সেখানেই তারা সহজ বিজয় পেয়েছে। তার উদাহরণ হলো পাকিস্তান। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল ইসলামের নামে। কিন্তু ইসলামের শত্রুপক্ষ সফল হয়েছে পাকিস্তানের জনগণকে -বিশেষ করে যুব সমাজ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ইসলাম থেকে দূরে সরাতে এবং ভাসিয়ে নিতে পেরেছে জাতীয়তাবাদ, ফ্যাসিবাদ, সেক্যুলারিজম, কম্যুনিজমের ন্যায় হারাম মতবাদী রাজনীতির স্রোতে। ইসলাম বিরোধী সে স্রোত প্রবল ভাবে দেখা গেছে ষাটের দশকে। দেশের বিপুল সংখ্যাক বাঙালি নেতাকর্মী মতবাদী রাজনীতির জোয়ারে ভেসে ভারতের শিবিরে গিয়ে উঠেছে। এবং পৌত্তলিকদের অর্থ, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ নিয়ে তাদের বিজয়ী করতে যুদ্ধে করেছে। পৌত্তলিক ভারতের এজেন্ডাই ছিল তাদের এজেন্ডা।

অপর দিকে পাকিস্তানের সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্ব ব্যর্থ হয়েছে কুর’আনী দর্শনকে ধারণ করতে; যুদ্ধকে তারা জিহাদের পরিণত করতে পারিনি। জিহাদ হলে কি তারা ১৯৭১’য়ে পৌত্তলিক বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করতো? তারা তো অবিরাম জিহাদ ও শাহাদতের পথ বেছে নিত। জিহাদ ও শাহাদত তো জান্নাতের দরজা; কোন ঈমানদার কি তা থেকে পলায়নক করে? ইসলাম থেকে দূরে সরার কারণে ক্ষুদ্র ইসরাইলী বাহিনীর কাছে ১৯৬৭ ও ১৯৭৩ সালে পরাজিত হয়েছে মিশর, জর্দান ও সিরিয়ার যৌথ বাহিনী। ইতিহাসের শিক্ষা হলো, ইসলাম থেকে দূরে সরে কাফির বাহিনীও বিজয়ী হতে পারে। তাই বিজয় পেয়েছে পৌত্তলিক ভারত। কিন্তু ইসলাম থেকে দূরে সরে কখনোই কোন মুসলিম বাহিনী বিজয় পায় না। কারণ, তাদের অপরাধটি কাফিরদের চেয়েও গুরুতর; সেটি মুনাফিকির।

শত্রুর সবচেয়ে বড় নাশকতা

পানি ছাড়া যেমন ফসল বাঁচে না, তেমনি কুর’আনী জ্ঞান ছাড়া ঈমান বাঁচে না। তখন ঈমানশূণ্য সে ব্যক্তিটি বাঁচে নামে মাত্র মুসলিম রূপে। সে ঈমানশূণ্যতা থেকেই জন্ম নেয় জিহাদশূণ্যতা। এ পথ বেয়েই মুসলিম জীবনে নেমে আসে দুর্বৃত্তি, বিপর্যয় ও পরাজয়। এটিই হলো দুর্বৃত্ত বেঈমান রূপে বেড়ে উঠার রোডম্যাপ। শয়তান ও তার অনুসারীদের কাছে এ বিষয়টি অজানা নয়। এজন্যই বাংলাদেশের ন্যায় বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্রের জনগণকে ইসলাম থেকে দূরে সরানোই হলো ভারতের হিন্দুত্ববাদী শাসকচক্রের মূল এজেন্ডা। সেটি ১৯৭১’য়ে দেশটির জন্ম থেকেই।

ভারতীয় এজেন্ডা পূরণে মুজিব, হাসিনা ও তাঁদের অনুসারীদের ভূমিকা ছিল নিছক ভারত-অনুগত সেবাদাসের। তাদের শাসনামলে শাস্তিযোগ্য অপরাধে পরিণত করা হয় ইসলামের পক্ষে কথা বলা, বই লেখা ও প্রকাশনাকে। সে সাথে প্লাবন আনা হয় কলকাতা থেকে প্রকাশিত সেক্যুলার ও হিন্দুত্ববাদী সাহিত্যের। তারা  ১৯৪৭, ১৯৫২ এবং ১৯৭১ নিয়ে বাংলাদেশীদের চেতনালোকে যে বয়ান প্রতিষ্ঠা পেয়েছে -সেটি হলো ভারতসেবী বাঙালি ফ্যাসিস্টদের সত্য বিবর্জিত বয়ান। ইসলাম ও বাঙালি মুসলিমের বিরুদ্ধে এটিই হলো ইসলামের শত্রুপক্ষের সবচেয়ে বড় নাশকতা। বাঙালি মুসলিমের চেতনার ভূমি দখলে নিয়েছে এ দুর্বৃত্তরা। তাদের এ নাশকতা কঠিন করেছে ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ। ইসলামী দর্শনের যে ভূমির উপর নির্মিত হয় ইসলামী রাষ্ট্র, শত্রুশক্তির নাশকতা সেখানেই।

—————— ফিরোজ মাহবুব কামাল

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thedailysarkar@gmail.com

About Author Information

কুর’আনী দর্শন বিবর্জিত বাঙালি মুসলিম এবং ব্যর্থতা ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে

Update Time : ০১:২৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

                                                                                                       https://www.facebook.com/BangladeshNezameislamparty

Bangladesh Nezame Islam party – YouTube

 

ইসলামী রাষ্ট্র: ঈমানের দৃশ্যমান রূপ

 

মুসলিম উম্মাহর শক্তির মূল উৎস তেল-গ্যাস, অর্থবল ও জনবল নয়, সেটি কুর’আনী দর্শন। নবীজী (সা:)’য়ের যুগে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের কাজের শুরুটি হয় মুসলিম মনে সে কুর’আনী দর্শন বলবান করার মধ্য দিয়ে। বীজ থেকে যেমন বৃক্ষের জন্ম, তেমনি কুর’আনী দর্শন থেকে জন্ম ঈমানের। ঈমান থেকে জন্ম হয় জিহাদের। তাই যেখানে কুর’আনী দর্শন নাই, সেখানে ঈমান ও জিহাদ কোনটাই নাই। সে জনগোষ্ঠি তখন ব্যর্থ হয় ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে। ইসলামী রাষ্ট্র হলো একটি জনগোষ্ঠির কুর’আনী দর্শন ও ঈমানের দৃশ্যমান রূপ। তাই যেখানে ইসলামী রাষ্ট্র নেই, বুঝতে হবে সে জনপদের মানুষ বাঁচে মুসলিম নাম নিয়ে, সত্যিকার ঈমানদারী নিয়ে নয়। মহান রব’য়ের সার্বভৌমত্ব, তাঁর শরিয়া ও তার রাজনৈতিক এজেন্ডা এরূপ নামসর্বস্ব মুসলিমদের কাছে কোন গুরুত্বই রাখে না। তারা আল্লাহর দ্বীনের পরাজয় নিয়ে তৃপ্তিতে ঘুমায়।

ইসলাম কবুলের সাথে সাথে একজন ব্যক্তির মনে ঈমানের সে কাঙ্খিত বল সৃষ্টি হয়না। সে স্তরে পৌঁছতে তাকে অবশ্যই কুর’আন আত্মীয়করণের স্তর অতিক্রম করতে হয়। যারা ইসলাম কবুল করেছে অথচ সে স্তর অতিক্রম করেনি তাদের নিয়ে মহান রব’য়ের ভাষ্য হলো:

قَالَتِ الْأَعْرَابُ آمَنَّا ۖ قُل لَّمْ تُؤْمِنُوا وَلَـٰكِن قُولُوا أَسْلَمْنَا وَلَمَّا يَدْخُلِ الْإِيمَانُ فِي قُلُوبِكُمْ ۖ وَإِن تُطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ لَا يَلِتْكُم مِّنْ أَعْمَالِكُمْ شَيْئًا ۚ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

অর্থ: “মরুবাসী আরবগণ বলে, আমরা ঈমান এনেছি। (হে নবী) তাদেরকে বলুন, “তোমরা ঈমান আনোনি; বরং বল, আমরা আত্মসমর্পণ করেছি। এখনো তোমাদের অন্তরে ঈমান প্রবেশ করেনি। যদি তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য কর, তবে তোমাদের কর্ম বিন্দুমাত্রও নিস্ফল করা হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম মেহেরবান।” –(সুরা হুজরাত, আয়াত ১৪)।

উপরে বর্ণিত সুরা হুজরাতের ১৪ নম্বর আয়াত থেকে বুঝা যায়, ইসলাম কবুলের অর্থ আল্লাহতায়ালার কাছে আত্মসমর্পণ মাত্র। তবে আত্মসমর্পণের সাথে অন্তরের গভীরে ঈমান প্রবেশ করেনা। ফলে মুমিন হওয়ার কাজটিও তখন হয়না। ঈমানদার হতে তাকে আরো বহুদূর এগোতে হয়। অন্তরের গভীরে পবিত্র কুর’আনের জ্ঞানকে প্রবেশ করাতে হয়। এজন্যই ইসলামের প্রথমে নামাজ-রোজা ও হজ্জ-যাকাত ফরজ করা হয়নি। ফরজ করা হয়েছে কুর’আন বুঝাকে। এভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে ঈমানদার হওয়াকে। অন্তরের গভীরে কুর’আনী জ্ঞানের প্রবেশ করানোর কাজটি না হলে মানুষ নামাজী, সুফি ও হাজী হয় বটে তবে ঈমানদার হয় না। এমন নামাজী, সুফি ও হাজীরা অফিসে ঘুষ খায়, ব্যবসায় প্রতারণা করে এবং নির্বাচন এলে দুর্বৃত্তদের ভোটে বিজয়ী করে। এদের কারণেই বাংলাদেশের মত মুসলিম দেশগুলিতে ইসলাম বিরোধী দুর্বৃত্তদের শাসন।

মুসলিম কিরূপে ঈমানদার হয়?

ঈমানদার হতে হলে প্রথমে নিজের অন্তরকে ঈমানদার বানাতে হয়। সে জন্য নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে হয়। আর সে জিহাদের অস্ত্র হলো কুর’আন। যার হাতে কুর’আনী জ্ঞানের সে অস্ত্রটি নাই, বুঝতে হবে সে বিজয় পায়নি তার নফসের বিরুদ্ধে। এমন নামাজী ও হাজীরাই দুর্বৃত্ত হয়। তারা ঈমানদারের ভান করে বটে, কিন্তু প্রকৃত ঈমানদার নয়। অন্তরের গভীরে কুর’আনী জ্ঞান প্রবেশ করানোর জন্য মহান আল্লাহতায়ালা নামাজ-রোজা ও হজ্জ-যাকাত ফরজ করার আগে কুর’আন থেকে জ্ঞানার্জনকে ফরজ করেছেন। নবুয়তের শুরুতে নবীজী (সা:)’য়ের উপর যে কয়েকটি সুরা প্রথমে নাযিল হয় তার মধ্যে একটি সুরা হলো সুরা মুজাম্মিল। এ সুরাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে অর্ধেক রাত বা তার চেয়ে কিছু কম বা বেশী পরিমাণ সময় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ধ্যানমগ্ন মনে বুঝে বুঝে কুর’আন তেলাওয়াতের। সে নির্দেশটি এসেছে এভাবে:

يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ

قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا

نِّصْفَهُ أَوِ انقُصْ مِنْهُ قَلِيلًا

أَوْ زِدْ عَلَيْهِ وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا

অর্থ: ‍“হে বস্ত্রাবৃত রাসূল! (কুর’আন পাঠের জন্য) রাতে দাঁড়িয়ে যান, কিছু রাত বাদ দিয়ে; অর্ধরাত্রি অথবা তার চেয়ে কিছু কম রাত, অথবা তার চেয়ে কিছু বেশী রাত ধরে কুর’আন আবৃত্তি করুন সুবিন্যস্ত ভাবে ও স্পষ্টভাবে।” –(সুরা মুজাম্মিল, আয়াত ১-৪)।

পবিত্র কুর’আনে যখন কোন হুকুম আসে -তখন সেটি ফরজ হয়ে যায়। উপরিউক্ত আয়াতে ফরজ করা হয়েছে পবিত্র কুর‌’আন থেকে জ্ঞানার্জনকে। ৫ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হয়েছে নবীজী (সা:)’য়ের নবুয়ত প্রাপ্তির ১১ বছর পর যখন তিনি মিরাজে যান। এই এগারো বছর কাল ধরে মুসলিমগণ ব্যস্ত থেকেছেন কুর’আন আত্মস্থ করার কাজে। তখন এটিই ছিল ফরজ ইবাদত। ফলে তারা হৃদয়ের গভীরে স্থাপন করতে পেরেছেন কুর’আনী দর্শন। এই কুর’আনী দর্শন তাদের জীবনে বিপ্লব এনেছিল। তারা পরিণত হয়েছিল পূর্ণ ঈমানদারে। প্রশ্ন হলো, ঈমাানদার কাকে বলে? ঈমানের দাবী অনেকেই করে, কিন্তু তারা সবাই ঈমানদার নয়। তাদের অনেকেই মুনাফিক। প্রকৃত ঈমানদার কারা -তা নিয়ে মহান রব’য়ের বয়ান হলো নিম্মরূপ:

إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا وَجَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ۚ أُولَـٰئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ

অর্থ: “একমাত্র তারাই হলো মুমিন, যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের উপর ঈমান আনার পর আর কোন রূপ সন্দেহ পোষণ করে না এবং নিজেদের জীবন ও ধন-সম্পদ দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে। ঈমানের দাবীতে এ ব্যক্তিগণ হলো সত্যবাদী।” –(সুরা হুজরাত, আয়াত ১৫)।

উপরিউক্ত আয়াতে বুঝানো হয়েছে, ঈমানদার হওয়ার শর্ত হলো, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের উপর ঈমানের সাথে অবশ্যই জিহাদ থাকতে হবে এবং সে জিহাদে অবশ্যই জান ও মালের বিনিয়োগ থাকতে হবে। যাদের জীবনে সে জিহাদ আছে একমাত্র তাদেরকেই ঈমানের দাবীতে সত্যবাদী বলা হয়েছে। এ জন্যই নবীজী (সা:)‌’য়ের এমন কোন সাহাবী ছিলেন না যাদের জীবনে জিহাদ ছিল না। ফলে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জিহাদে সৈনিকের অভাব হয়নি। কিন্তু বাংলাদেশের মত মুসলিম দেশে চিত্রটি ভিন্ন। এসব দেশে নামাজী-রোজাদারের সংখ্যা কোটি কোটি, কিন্তু সৈনিক নাই ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জিহাদে। ফলে বিজয় জুটেনি মহান রব’য়ের দ্বীনের।

দর্শনের শক্তি

মানব মহা মানব হয় এবং চেতনায় বিপ্লব আসে দেহের শক্তিতে নয়, বরং দর্শনের শক্তিতে। এবং দর্শনের বলেই মুসলিম উম্মাহ অতীতে সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র ও সভ্যতার জন্ম দিতে পেরেছিল। একমাত্র কুর’আনী দর্শন থেকে ঈমানদার জবাব খুঁজে পায়, কেন এ জীবনে সে বাঁচবে, কিভাবে সে বাঁচবে এবং কেন আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দিবে সে তাঁর নিজ জান-মাল। তখন তাঁর প্রতিক্ষণের ভাবনা, কর্ম, রাজনীতি এবং যুদ্ধবিগ্রহও ইবাদতে পরিণত হয়। ঈমানদার মাত্রই তখন মহান রব’য়ের সার্বক্ষণিক সৈনিকে পরিণত হয়। অথচ স্রেফ নামাজ-রোজা ও হজ্জ-যাকাত পালনের কারণে সে ভাবনা ও তাড়না গড়ে উঠে না, সেটি সম্ভব হলে বাংলাদশের কোটি কোটি নামাজী রোজাদার মানুষ আল্লাহর পথের সৈনিকে পরিণত হতো এবং তাদের হাতে ইসলামী রাষ্ট্র গড়ে উঠতো। এবং বিজয় বাড়াতো আল্লাহতায়ালার দ্বীনের। কিন্তু সেটি হয়নি। এখানে তাদের ব্যর্থতাটি অন্তরকে ঈমানদার করায়। কারণ, সেখানে স্থান পায়নি কুর’আনী দর্শন। হৃদয়ে কুর’আনী দর্শন ধারণ না করেও নামাজী, হাজী, সুফি, পীর, পীরের মুরিদ ও তাবলিগী হওয়া সহজ, কিন্তু সত্যিকার ঈমানদার হওয়া যায়না।

রণাঙ্গণে শুধু অস্ত্র কাজ করে না। কাজ করে অস্ত্রধারীর দর্শন ও ঈমানী বল। কুর‌’আনী দর্শন ব্যক্তিকে নির্ভিক যোদ্ধায় পরিণত করে। যুদ্ধ তখন সর্বোচ্চ ইবাদতে পরিণত হয়। দর্শনের বলে প্রাথমিক যুগের মুসলিমগণ পরাজিত করেছিল রোমান ও পারসিক সাম্রাজ্যের ন্যায় দুটি বিশ্বশক্তিকে। কুর’আনী দর্শনের বলেই আফগান মুসলিমগণ পরাজিত করতে পেরেছে ব্রিটিশ, সোভিয়েত রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায় তিনটি বিশ্বশক্তিকে। একই কারণে ক্ষুদ্র হামাস বাহিনী ২ বছরের বেশি কাল যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে অত্যাধুনিক ইসরাইলী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। এ গ্রন্থ লেখা কালে ইরান যুদ্ধ করেছে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার বিরুদ্ধে। যুদ্ধের আজ তৃতীয় সপ্তাহ, ইরান এখনো পরাজিত হয়নি। এটিই ইরানের বিশাল বিজয়।

স্ট্রাটেজী: কুর’আন থেকে দূরে সরানো

প্রতি দেশে শয়তানী শক্তির সনাতন স্ট্রাটেজী হলো কুর’আন থেকে মুসলিমদের দূরে সরানো। যেখানেই তারা সে কাজে সফল হয়েছে, সেখানেই তারা সহজ বিজয় পেয়েছে। তার উদাহরণ হলো পাকিস্তান। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল ইসলামের নামে। কিন্তু ইসলামের শত্রুপক্ষ সফল হয়েছে পাকিস্তানের জনগণকে -বিশেষ করে যুব সমাজ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ইসলাম থেকে দূরে সরাতে এবং ভাসিয়ে নিতে পেরেছে জাতীয়তাবাদ, ফ্যাসিবাদ, সেক্যুলারিজম, কম্যুনিজমের ন্যায় হারাম মতবাদী রাজনীতির স্রোতে। ইসলাম বিরোধী সে স্রোত প্রবল ভাবে দেখা গেছে ষাটের দশকে। দেশের বিপুল সংখ্যাক বাঙালি নেতাকর্মী মতবাদী রাজনীতির জোয়ারে ভেসে ভারতের শিবিরে গিয়ে উঠেছে। এবং পৌত্তলিকদের অর্থ, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ নিয়ে তাদের বিজয়ী করতে যুদ্ধে করেছে। পৌত্তলিক ভারতের এজেন্ডাই ছিল তাদের এজেন্ডা।

অপর দিকে পাকিস্তানের সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্ব ব্যর্থ হয়েছে কুর’আনী দর্শনকে ধারণ করতে; যুদ্ধকে তারা জিহাদের পরিণত করতে পারিনি। জিহাদ হলে কি তারা ১৯৭১’য়ে পৌত্তলিক বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করতো? তারা তো অবিরাম জিহাদ ও শাহাদতের পথ বেছে নিত। জিহাদ ও শাহাদত তো জান্নাতের দরজা; কোন ঈমানদার কি তা থেকে পলায়নক করে? ইসলাম থেকে দূরে সরার কারণে ক্ষুদ্র ইসরাইলী বাহিনীর কাছে ১৯৬৭ ও ১৯৭৩ সালে পরাজিত হয়েছে মিশর, জর্দান ও সিরিয়ার যৌথ বাহিনী। ইতিহাসের শিক্ষা হলো, ইসলাম থেকে দূরে সরে কাফির বাহিনীও বিজয়ী হতে পারে। তাই বিজয় পেয়েছে পৌত্তলিক ভারত। কিন্তু ইসলাম থেকে দূরে সরে কখনোই কোন মুসলিম বাহিনী বিজয় পায় না। কারণ, তাদের অপরাধটি কাফিরদের চেয়েও গুরুতর; সেটি মুনাফিকির।

শত্রুর সবচেয়ে বড় নাশকতা

পানি ছাড়া যেমন ফসল বাঁচে না, তেমনি কুর’আনী জ্ঞান ছাড়া ঈমান বাঁচে না। তখন ঈমানশূণ্য সে ব্যক্তিটি বাঁচে নামে মাত্র মুসলিম রূপে। সে ঈমানশূণ্যতা থেকেই জন্ম নেয় জিহাদশূণ্যতা। এ পথ বেয়েই মুসলিম জীবনে নেমে আসে দুর্বৃত্তি, বিপর্যয় ও পরাজয়। এটিই হলো দুর্বৃত্ত বেঈমান রূপে বেড়ে উঠার রোডম্যাপ। শয়তান ও তার অনুসারীদের কাছে এ বিষয়টি অজানা নয়। এজন্যই বাংলাদেশের ন্যায় বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্রের জনগণকে ইসলাম থেকে দূরে সরানোই হলো ভারতের হিন্দুত্ববাদী শাসকচক্রের মূল এজেন্ডা। সেটি ১৯৭১’য়ে দেশটির জন্ম থেকেই।

ভারতীয় এজেন্ডা পূরণে মুজিব, হাসিনা ও তাঁদের অনুসারীদের ভূমিকা ছিল নিছক ভারত-অনুগত সেবাদাসের। তাদের শাসনামলে শাস্তিযোগ্য অপরাধে পরিণত করা হয় ইসলামের পক্ষে কথা বলা, বই লেখা ও প্রকাশনাকে। সে সাথে প্লাবন আনা হয় কলকাতা থেকে প্রকাশিত সেক্যুলার ও হিন্দুত্ববাদী সাহিত্যের। তারা  ১৯৪৭, ১৯৫২ এবং ১৯৭১ নিয়ে বাংলাদেশীদের চেতনালোকে যে বয়ান প্রতিষ্ঠা পেয়েছে -সেটি হলো ভারতসেবী বাঙালি ফ্যাসিস্টদের সত্য বিবর্জিত বয়ান। ইসলাম ও বাঙালি মুসলিমের বিরুদ্ধে এটিই হলো ইসলামের শত্রুপক্ষের সবচেয়ে বড় নাশকতা। বাঙালি মুসলিমের চেতনার ভূমি দখলে নিয়েছে এ দুর্বৃত্তরা। তাদের এ নাশকতা কঠিন করেছে ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ। ইসলামী দর্শনের যে ভূমির উপর নির্মিত হয় ইসলামী রাষ্ট্র, শত্রুশক্তির নাশকতা সেখানেই।

—————— ফিরোজ মাহবুব কামাল