০৭:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬
https://www.facebook.com/obaidul1991

জেলা পরিষদের  সরকারি ডাকবাংলো দখল করে রাজাপুর থানা ওসি’র বসবাস, বিদেশি মেহমানদের থাকার সুযোগে প্রতিবন্ধকতা,জনমনে ক্ষোভ

আমিনুল ইসলাম
  • Update Time : ০৩:৩১:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • / ১৬ Time View
ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ  ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর কক্ষ দখল করে আবাসিক হিসেবে রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস এর বসবাসের অভিযোগ উঠেছে। জানাগেছে, ভারত থেকে আসা ধর্মীয় মেহমানদের থাকার জায়গা না হওয়ায় স্থানীয় মুসলিম ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল রাজাপুর থানায় সদ্য যোগদানকারী ওসি সুজন বিশ্বাস থানার নিজস্ব বাসভবনে না উঠে চলমান ধারা থেকে বেরিয়ে সরাসরি জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর কক্ষ দখল করে বসবাস শুরু করেন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে উক্ত থানায় কর্মরত  ওসিরা থানার ভেতরের একটি ভবনে বসবাস করে আসলেও বর্তমান ওসি ডাকবাংলোতে ওঠায় এবং প্রধান ফটকে তালাবদ্ধ করে রাখায় সাধারণের প্রবেশাধিকারে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে  ।

৯ মে ভারতের জৌনপুর থেকে তিন জন প্রখ্যাত আলেম ধর্মপ্রচারের উদ্দেশ্যে রাজাপুরে এসেছেন। যুগ যুগ ধরে এই মেহমানরা যখনই এলাকায় আসতেন, তখন সরকারি নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করে এই ডাকবাংলোতেই অবস্থান করতেন। কিন্তু এবার ওসির দখলের কারণে তাদের উপযুক্ত আবাসন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”প্রতি বছরই জৌনপুরের আলেমরা আমাদের এলাকায় আসেন এবং সর্বোচ্চ দুই দিন এই ডাকবাংলোতে থাকেন। এবার ওসি সেখানে বসবাস করায় বিশিষ্ট আলেমদের থাকার ব্যবস্থা হয়নি ডাকবাংলোতে।

ডাকবাংলোর কেয়ারটেকারের দ্বায়িত্বে থাকা মো. মানিক তালুকদার জানান, ভবনটি ফাঁকা থাকায় কয়েকদিন আগে ওসি সাহেব এখানে উঠেছেন। বর্তমানে তিনি ভবনের প্রধান কেচিগেটে তালাবদ্ধ করে রাখেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরী জানান, “ডাকবাংলোটি মূলত জেলা পরিষদ পরিচালনা করে, তবে উপজেলা প্রশাসন তদারকি করে থাকেন। থানার ভেতরের ওসির বাসভবনে কিছু সংস্কার কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে তিনি ডাকবাংলো থেকে থানার ভেতরে শিফট করবেন।”
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস জানান, “থানার ভেতরে ওসিদের থাকার জন্য কোনো মানসম্মত আবাসিক ভবন নেই। আগের ওসিরা একটি ব্যারাকে থাকতেন, যা বর্তমানে পরিত্যক্ত ও বসবাসের অনুপযোগী। তাই বাধ্য হয়ে আমি ডাকবাংলোতে উঠেছি।”
স্থানীয়দের মতে, সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন সংকটের সমাধান সাধারণ মানুষের সেবায় নিয়োজিত স্থাপনা বা পর্যটকদের বিশ্রামের জায়গা দখল করে হতে পারে না। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করে ডাকবাংলোটি সবার জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন রাজাপুরের সচেতন নাগরিক সমাজ।
Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

thedailysarkar

দৈনিক সরকার পত্রিকা ১৯৯১ সাল হতে ঢাকা হতে প্রকাশিত হচ্ছে।

https://www.facebook.com/obaidul1991

জেলা পরিষদের  সরকারি ডাকবাংলো দখল করে রাজাপুর থানা ওসি’র বসবাস, বিদেশি মেহমানদের থাকার সুযোগে প্রতিবন্ধকতা,জনমনে ক্ষোভ

Update Time : ০৩:৩১:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ  ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর কক্ষ দখল করে আবাসিক হিসেবে রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস এর বসবাসের অভিযোগ উঠেছে। জানাগেছে, ভারত থেকে আসা ধর্মীয় মেহমানদের থাকার জায়গা না হওয়ায় স্থানীয় মুসলিম ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল রাজাপুর থানায় সদ্য যোগদানকারী ওসি সুজন বিশ্বাস থানার নিজস্ব বাসভবনে না উঠে চলমান ধারা থেকে বেরিয়ে সরাসরি জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর কক্ষ দখল করে বসবাস শুরু করেন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে উক্ত থানায় কর্মরত  ওসিরা থানার ভেতরের একটি ভবনে বসবাস করে আসলেও বর্তমান ওসি ডাকবাংলোতে ওঠায় এবং প্রধান ফটকে তালাবদ্ধ করে রাখায় সাধারণের প্রবেশাধিকারে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে  ।

৯ মে ভারতের জৌনপুর থেকে তিন জন প্রখ্যাত আলেম ধর্মপ্রচারের উদ্দেশ্যে রাজাপুরে এসেছেন। যুগ যুগ ধরে এই মেহমানরা যখনই এলাকায় আসতেন, তখন সরকারি নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করে এই ডাকবাংলোতেই অবস্থান করতেন। কিন্তু এবার ওসির দখলের কারণে তাদের উপযুক্ত আবাসন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”প্রতি বছরই জৌনপুরের আলেমরা আমাদের এলাকায় আসেন এবং সর্বোচ্চ দুই দিন এই ডাকবাংলোতে থাকেন। এবার ওসি সেখানে বসবাস করায় বিশিষ্ট আলেমদের থাকার ব্যবস্থা হয়নি ডাকবাংলোতে।

ডাকবাংলোর কেয়ারটেকারের দ্বায়িত্বে থাকা মো. মানিক তালুকদার জানান, ভবনটি ফাঁকা থাকায় কয়েকদিন আগে ওসি সাহেব এখানে উঠেছেন। বর্তমানে তিনি ভবনের প্রধান কেচিগেটে তালাবদ্ধ করে রাখেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরী জানান, “ডাকবাংলোটি মূলত জেলা পরিষদ পরিচালনা করে, তবে উপজেলা প্রশাসন তদারকি করে থাকেন। থানার ভেতরের ওসির বাসভবনে কিছু সংস্কার কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে তিনি ডাকবাংলো থেকে থানার ভেতরে শিফট করবেন।”
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস জানান, “থানার ভেতরে ওসিদের থাকার জন্য কোনো মানসম্মত আবাসিক ভবন নেই। আগের ওসিরা একটি ব্যারাকে থাকতেন, যা বর্তমানে পরিত্যক্ত ও বসবাসের অনুপযোগী। তাই বাধ্য হয়ে আমি ডাকবাংলোতে উঠেছি।”
স্থানীয়দের মতে, সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন সংকটের সমাধান সাধারণ মানুষের সেবায় নিয়োজিত স্থাপনা বা পর্যটকদের বিশ্রামের জায়গা দখল করে হতে পারে না। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করে ডাকবাংলোটি সবার জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন রাজাপুরের সচেতন নাগরিক সমাজ।