০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬

কিসের এত অহংকার মৃত্যুর পর কাফনের কাপড় ছাড়া কিছুই সঙ্গী নয়

Reporter Name
  • Update Time : ১১:৩৬:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ২৮০ Time View
মোহাম্মদ হানিফ, নোয়াখালী প্রতিনিধি : অহংকার এমন এক মারাত্মক আচরণ। যা একজন বিনয়ী ও সফল ব্যক্তিকে তার সফলতার উচ্চস্থান থেকে মুহূর্তের মধ্যে নিচে ছুঁড়ে ফেলে দেয়।অহংকার করা ঠিক নয়, কারণ মানুষ যা নিয়ে গর্ব করে, যেমন অর্থ-সম্পদ, ক্ষমতা ইত্যাদি, তা মৃত্যুর পর কোনো কিছুই সঙ্গে যায় না, কেবল কাফনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই থাকে না। তাই মৃত্যুর পর যে যার সৎকর্ম ও ভালো কাজগুলোই একমাত্র সঙ্গী হয় এবং সেগুলোর উপরই বিচার হবে, এই উপলব্ধি থেকে অহংকার ত্যাগ করে সৎকর্ম করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
মানুষ তার অর্থ বা ক্ষমতার জন্য অহংকার করে। কিন্তু মৃত্যুর পর এই সম্পদ বা ক্ষমতা কিছুই সঙ্গে যায় না, শুধু কাফনের কাপড়টুকু থাকে। যেমনটি হযরত আলি (রা.) বলেছেন, “মানুষের কিসের এত অহংকার। যার শুরু একফোটা রক্তবিন্দু দিয়ে আর শেষ হয় মৃত্তিকায়। এই পৃথিবীর জীবন ক্ষণস্থায়ী। মৃত্যুর পর যখন আমরা পরকালে পৌঁছাব, তখন কেউ কারো সঙ্গী হবে না।
জীবনের সঠিক সঞ্চয় দোয়া, ইমান ও মানবসেবা.কিসের এত অহংকার মৃত্যুর পর কাফনের কাপড় ছাড়া কিছুই সঙ্গী নয়.পদ-পদবী নয়, কবরে যাবে কেবল ঈমান ও সৎকর্ম।ক্ষণিকের পৃথিবী, অনন্ত আখেরাত আমরা কোন পথে?শূন্য হাতে এসেছি, শূন্য হাতেই ফিরবো. ধন-সম্পদ নয়, কর্মফলই হবে প্রকৃত মূলধন অন্ধকারের ঘরকে আলোকিত করো সৎকর্মে।খালি হাতে কবরের যাত্রী: জীবনের প্রকৃত পাঠ.জন্মের শুরুটা এক টুকরো কান্না দিয়ে, আর শেষ হয় নিথর দেহ মাটির বুকে সমাহিত হওয়ার মধ্য দিয়ে। এটাই আমাদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন ও অনিবার্য সত্য। অথচ আমরা এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীকে স্থায়ী ভেবে পদ-পদবী, আধিপত্য, সম্পদ আর অহংকারের প্রাচীর গড়ে তুলি। ভুলে যাই শেষমেশ সবাইকে একা যাত্রা করতে হবে সেই অন্ধকার কবরের পথে, যেখানে নেই ক্ষমতার মঞ্চ, নেই সম্পদের পাহাড়, নেই কোনো দম্ভের আসন।
আমরা প্রায়ই ভাবি সত্তর বা একশ বছরের আয়ু মানেই সাফল্য। কিন্তু প্রকৃত সফলতা হলো প্রতিটি মুহূর্তকে আখেরাতের মূলধন হিসেবে কাজে লাগানো। মৃত্যুর দরজায় পৌঁছালে আমাদের ব্যাংক ব্যালেন্স, প্রাসাদোপম বাড়ি কিংবা নাম-যশ কোনো কাজে আসবে না। আমাদের সম্বল হবে কেবল ঈমান, সৎকর্ম আর আল্লাহভীতি।
ভাবুন তো, এক ধনী ব্যবসায়ী মৃত্যুর পর কোটি টাকার সম্পদ রেখে গেলেন। কিন্তু তার সঙ্গে কবরের ঘরে গেল শুধুই সাদা কাফনের কাপড়। বিপরীতে, এক সাধারণ মানুষ যিনি হয়তো অল্প আয়ে জীবন কাটিয়েছেন, কিন্তু আল্লাহর ইবাদত করেছেন, মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সৎ পথে চলেছেন তার সেই অদৃশ্য মূলধনই তাকে পরকালে সম্মানিত করবে।
আমরা ভুলে যাই, আমাদের সূচনা ছিল এক বিন্দু তুচ্ছ পানির ফোঁটা থেকে। তখন কেউ আমাদের চিনত না। আবার মৃত্যুর পর আমাদের দেহ মাটির নিচে মিলিয়ে যাবে, মানুষও একসময় ভুলে যাবে। কিন্তু আল্লাহ আমাদের কখনো ভুলবেন না। তিনি গোপন বা প্রকাশ্যে করা প্রতিটি কাজের হিসাব রাখবেন।
রাসূলুল্লাহ (স.) সতর্ক করে বলেছেন: কবর প্রতিদিন আহ্বান করে আমি অন্ধকারের ঘর, আমি একাকীত্বের ঘর, আমি কীটপতঙ্গের ঘর।অথচ আমরা সেই ঘরকে সুন্দর করার চেষ্টা না করে দুনিয়ার রাজপ্রাসাদ গড়তে ব্যস্ত। অহংকারের প্রাসাদ এতটাই উঁচু করি যে তা আমাদের দৃষ্টিকে সত্য থেকে আড়াল করে দেয়।
ইতিহাস সাক্ষী ফেরাউন, হযরত নুহ (আ.)-এর যুগের অহংকারীরা কিংবা নাম-যশে মোহগ্রস্ত রাজারা কেউ বেঁচে থাকেনি। তাদের প্রাসাদ আজ ভগ্নস্তূপে পরিণত। অথচ পৃথিবী বিনয়ী ও ঈমানদারদের নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারণ করে।
আজ আমাদের উচিত অহংকারের দেওয়াল ভেঙে প্রকৃত সত্যকে উপলব্ধি করা। আমরা সবাই ক্ষণিকের অতিথি। ফিরতি পথে আমাদের সঙ্গে যাবে না কোনো গাড়ি-বাড়ি, ধন-সম্পদ কিংবা অহংকার। সঙ্গে যাবে কেবল সৎকর্ম, ইমান আর মানুষের কল্যাণে করা কাজ।
আসুন, আমরা নম্রতা বেছে নিই, বৈভব নয় মানবসেবাকে অগ্রাধিকার দিই। এমন জীবন গড়ি, যাতে কবরের অন্ধকারে দাঁড়িয়ে বলতে পারি হে আল্লাহ, আমি প্রস্তুত। আমাদের জীবনের লক্ষ্য হোক আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন আর মানবতার কল্যাণে আত্মনিয়োগ।
এই সত্য হৃদয়ে ধারণ করলে আমাদের দৃষ্টি বদলাবে, অন্তর ভিজবে বিনম্রতার অশ্রুতে, আর জীবন হবে আল্লাহর পথে চলার প্রকৃত উদাহরণ। তখনই আমাদের জাতি বদলাবে, তখনই আল্লাহর রহমতে অন্ধকার কবর আলোয় ভরে উঠবে।আল্লাহ তায়ালা আপনার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি দুনিয়ার জীবন যতদিন থাকে আখেরাতের কামাই আখেরাতের প্রস্তুতি নেওয়ার মতো সেই তৌফিক দান করেন।
লেখকও সাংবাদিক গুলজার হানিফ

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

thedailysarkar

দৈনিক সরকার পত্রিকা ১৯৯১ সাল হতে ঢাকা হতে প্রকাশিত হচ্ছে।

কিসের এত অহংকার মৃত্যুর পর কাফনের কাপড় ছাড়া কিছুই সঙ্গী নয়

Update Time : ১১:৩৬:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
মোহাম্মদ হানিফ, নোয়াখালী প্রতিনিধি : অহংকার এমন এক মারাত্মক আচরণ। যা একজন বিনয়ী ও সফল ব্যক্তিকে তার সফলতার উচ্চস্থান থেকে মুহূর্তের মধ্যে নিচে ছুঁড়ে ফেলে দেয়।অহংকার করা ঠিক নয়, কারণ মানুষ যা নিয়ে গর্ব করে, যেমন অর্থ-সম্পদ, ক্ষমতা ইত্যাদি, তা মৃত্যুর পর কোনো কিছুই সঙ্গে যায় না, কেবল কাফনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই থাকে না। তাই মৃত্যুর পর যে যার সৎকর্ম ও ভালো কাজগুলোই একমাত্র সঙ্গী হয় এবং সেগুলোর উপরই বিচার হবে, এই উপলব্ধি থেকে অহংকার ত্যাগ করে সৎকর্ম করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
মানুষ তার অর্থ বা ক্ষমতার জন্য অহংকার করে। কিন্তু মৃত্যুর পর এই সম্পদ বা ক্ষমতা কিছুই সঙ্গে যায় না, শুধু কাফনের কাপড়টুকু থাকে। যেমনটি হযরত আলি (রা.) বলেছেন, “মানুষের কিসের এত অহংকার। যার শুরু একফোটা রক্তবিন্দু দিয়ে আর শেষ হয় মৃত্তিকায়। এই পৃথিবীর জীবন ক্ষণস্থায়ী। মৃত্যুর পর যখন আমরা পরকালে পৌঁছাব, তখন কেউ কারো সঙ্গী হবে না।
জীবনের সঠিক সঞ্চয় দোয়া, ইমান ও মানবসেবা.কিসের এত অহংকার মৃত্যুর পর কাফনের কাপড় ছাড়া কিছুই সঙ্গী নয়.পদ-পদবী নয়, কবরে যাবে কেবল ঈমান ও সৎকর্ম।ক্ষণিকের পৃথিবী, অনন্ত আখেরাত আমরা কোন পথে?শূন্য হাতে এসেছি, শূন্য হাতেই ফিরবো. ধন-সম্পদ নয়, কর্মফলই হবে প্রকৃত মূলধন অন্ধকারের ঘরকে আলোকিত করো সৎকর্মে।খালি হাতে কবরের যাত্রী: জীবনের প্রকৃত পাঠ.জন্মের শুরুটা এক টুকরো কান্না দিয়ে, আর শেষ হয় নিথর দেহ মাটির বুকে সমাহিত হওয়ার মধ্য দিয়ে। এটাই আমাদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন ও অনিবার্য সত্য। অথচ আমরা এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীকে স্থায়ী ভেবে পদ-পদবী, আধিপত্য, সম্পদ আর অহংকারের প্রাচীর গড়ে তুলি। ভুলে যাই শেষমেশ সবাইকে একা যাত্রা করতে হবে সেই অন্ধকার কবরের পথে, যেখানে নেই ক্ষমতার মঞ্চ, নেই সম্পদের পাহাড়, নেই কোনো দম্ভের আসন।
আমরা প্রায়ই ভাবি সত্তর বা একশ বছরের আয়ু মানেই সাফল্য। কিন্তু প্রকৃত সফলতা হলো প্রতিটি মুহূর্তকে আখেরাতের মূলধন হিসেবে কাজে লাগানো। মৃত্যুর দরজায় পৌঁছালে আমাদের ব্যাংক ব্যালেন্স, প্রাসাদোপম বাড়ি কিংবা নাম-যশ কোনো কাজে আসবে না। আমাদের সম্বল হবে কেবল ঈমান, সৎকর্ম আর আল্লাহভীতি।
ভাবুন তো, এক ধনী ব্যবসায়ী মৃত্যুর পর কোটি টাকার সম্পদ রেখে গেলেন। কিন্তু তার সঙ্গে কবরের ঘরে গেল শুধুই সাদা কাফনের কাপড়। বিপরীতে, এক সাধারণ মানুষ যিনি হয়তো অল্প আয়ে জীবন কাটিয়েছেন, কিন্তু আল্লাহর ইবাদত করেছেন, মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সৎ পথে চলেছেন তার সেই অদৃশ্য মূলধনই তাকে পরকালে সম্মানিত করবে।
আমরা ভুলে যাই, আমাদের সূচনা ছিল এক বিন্দু তুচ্ছ পানির ফোঁটা থেকে। তখন কেউ আমাদের চিনত না। আবার মৃত্যুর পর আমাদের দেহ মাটির নিচে মিলিয়ে যাবে, মানুষও একসময় ভুলে যাবে। কিন্তু আল্লাহ আমাদের কখনো ভুলবেন না। তিনি গোপন বা প্রকাশ্যে করা প্রতিটি কাজের হিসাব রাখবেন।
রাসূলুল্লাহ (স.) সতর্ক করে বলেছেন: কবর প্রতিদিন আহ্বান করে আমি অন্ধকারের ঘর, আমি একাকীত্বের ঘর, আমি কীটপতঙ্গের ঘর।অথচ আমরা সেই ঘরকে সুন্দর করার চেষ্টা না করে দুনিয়ার রাজপ্রাসাদ গড়তে ব্যস্ত। অহংকারের প্রাসাদ এতটাই উঁচু করি যে তা আমাদের দৃষ্টিকে সত্য থেকে আড়াল করে দেয়।
ইতিহাস সাক্ষী ফেরাউন, হযরত নুহ (আ.)-এর যুগের অহংকারীরা কিংবা নাম-যশে মোহগ্রস্ত রাজারা কেউ বেঁচে থাকেনি। তাদের প্রাসাদ আজ ভগ্নস্তূপে পরিণত। অথচ পৃথিবী বিনয়ী ও ঈমানদারদের নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারণ করে।
আজ আমাদের উচিত অহংকারের দেওয়াল ভেঙে প্রকৃত সত্যকে উপলব্ধি করা। আমরা সবাই ক্ষণিকের অতিথি। ফিরতি পথে আমাদের সঙ্গে যাবে না কোনো গাড়ি-বাড়ি, ধন-সম্পদ কিংবা অহংকার। সঙ্গে যাবে কেবল সৎকর্ম, ইমান আর মানুষের কল্যাণে করা কাজ।
আসুন, আমরা নম্রতা বেছে নিই, বৈভব নয় মানবসেবাকে অগ্রাধিকার দিই। এমন জীবন গড়ি, যাতে কবরের অন্ধকারে দাঁড়িয়ে বলতে পারি হে আল্লাহ, আমি প্রস্তুত। আমাদের জীবনের লক্ষ্য হোক আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন আর মানবতার কল্যাণে আত্মনিয়োগ।
এই সত্য হৃদয়ে ধারণ করলে আমাদের দৃষ্টি বদলাবে, অন্তর ভিজবে বিনম্রতার অশ্রুতে, আর জীবন হবে আল্লাহর পথে চলার প্রকৃত উদাহরণ। তখনই আমাদের জাতি বদলাবে, তখনই আল্লাহর রহমতে অন্ধকার কবর আলোয় ভরে উঠবে।আল্লাহ তায়ালা আপনার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি দুনিয়ার জীবন যতদিন থাকে আখেরাতের কামাই আখেরাতের প্রস্তুতি নেওয়ার মতো সেই তৌফিক দান করেন।
লেখকও সাংবাদিক গুলজার হানিফ