ঘুষ বৈষম্য ও দুর্নীতি সৃষ্টির বড় হাতিয়ার ———- মোশারফ হোসেন
- Update Time : ০৫:০৪:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ২৯ Time View

ঘুষ বৈষম্য ও দুর্নীতি সৃষ্টির বড় হাতিয়ার। ঘুষ সমাজের নৈতিক অবক্ষয় ঘটায় এবং ন্যায়বিচারের
পথে বাধা সৃষ্টি করে। ঘুষ দেওয়া বা নেওয়া দুটোই বেআইনি এবং বড় ধরনের একটি দুর্নীতি হিসেবে
গণ্য। জুলাই অভ্যুত্থানের পরে ঘুষখোরদের দৌরাত্ম বেড়ে গেছে। জনগনের বৈষম্য বিরোধী
আন্দোলনের চাপে দেশ থেকে পালিয়েছে অপরাধী স্বৈরশাসক ও সমর্থিত চ্যালা চামুন্ডারা। দেশের
পরিচালনা দায়িত্ব সকলের সমঝতায় তৈরী হয় অর্ন্তরবর্তীকালীন সরকার। ক্ষনিকের
অর্ন্তরবর্তীকালীন সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য স্বৈরসমর্থিত ঘুষখোর কর্মচারীরা তাদের
চাহিদা আরও পাঁচগুন বৃদ্ধি করে। জনগনকে জিম্মিকরে ঘুষ আদায়ের খবর দেশের বিভিন্ন পত্র
পত্রিকায় ও সামাজিক মিডিয়ায় ও ইলেট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু কে রাখে কার খবর।
সবাই বাঁচতে চায় কিন্তু দেশ যে তলাবিহীন ঝুড়ি হয়ে যাওয়ার পথে সে খবর নাই। রায়পুরার রাধানগর
ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) আবুল কালাম আজাদ নামজারী জমাভাগের
নামে ভুক্তভোগী শিল্পী বেগমের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ নরসিংদীর ভয়েস ১
ফেব্রুয়ারী ২০২৬ থেকে জানা গেছে ও সামাজিক প্রচার মাধ্যম এন্ট্রি কোরাপশন মুভমেন্ট ১৭
জানুয়ারী ২০২৬ ইং তারিখে প্রচারিত দূর্নীতি ও অনিয়ম কলামে ময়মনসিংহের সদর উপজেলার
খাগডহর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা নাজমুন নাহারের বিরুদ্ধে সেবার নামে ঘুষ-দুর্নীতি এবং অফিসের
কর্মচারীদের নাজেহাল করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত ৫ আগষ্ট /২৫ দৈনিক সরকার পত্রিকায়
প্রকাশিত নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা
শান্তিরঞ্জন দাস আজ কোটিপতি। তিনি বাস করেন অভিজাত শিক্ষা নগরী নরসিংদী পৌরসভার
মালাকারের মোড়ে তার নিজস্ব বিলাসবহুল বহুতল ভবনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ফ্ল্যাটে। অভিযোগ
উঠেছে, এই চাকরি করেই সম্পদের পাহাড় গড়েছেন শান্তি রঞ্জন দাস । এসব অভিযোগের প্রতিকার
কিছুই হলো না। তবে ঘুষ হলো দুর্নীতি ও অনৈতিকতার একটি রূপ, যা সমাজের জন্য ক্ষতিকর। ঘুষ-
দুর্নীতি বাংলাদেশের অন্যতম সমস্যা। ইহা আমাদের জাতীয় উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে
প্রধান অন্তরায় এবং মানুষকে শোষণের হাতিয়ার। যে কোনো জাতির নৈতিক মূল্যবোধ লালন ও এর
বিকাশ সাধন খুবই জরুরী। নৈতিক মুল্যবোধ না থাকলে মানবজাতির ইহকালীন উন্নতি ও পরকালীন
মুক্তি সম্ভব নয়। সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, প্রকল্প বাস্তবায়নে অস্বচ্ছতা ও রাজস্ব ফাঁকির
কারণে দেশের কোষাগার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দুর্নীতিবাজদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ।
সমাজে দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তিরা প্রায়শই বিপুল অর্থের মালিক হয়ে একধরনের ‘ভিআইপি’ মর্যাদা
লাভ করেন। এটি সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি করে। যখন দেখা যায়, ঘুষের
টাকায় গড়া সম্পদের পাহাড়ের মালিকেরা সমাজের চোখে সম্মানিত হচ্ছেন, তখন দেশের তরুণ
প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা যায়। নৈতিকতা ও সততার মূল্যবোধ ক্রমশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং
একসময় পুরো সমাজই দুর্নীতির এই চক্রে আবর্তিত হতে থাকে। এটি কেবল আর্থিক ক্ষতি নয়,
একটি জাতির নৈতিক মেরুদণ্ডকেও ভেঙে দেয়। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল একটি দেশে,
অর্থনৈতিক বৈষম্য, মাদকদ্রব্য পাচার, চাঁদাবাজি ও বেকারত্বের মতো সমস্যাগুলো প্রায়শই
দুর্নীতির হাত ধরেই ফুলেফেঁপে ওঠে। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠায় ঘুষ সংস্কৃতি
একটি প্রধান বাধা। জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কার্যকর আইন প্রয়োগ ছাড়া এই সমস্যার
সমাধান সম্ভব নয়। ঘুষের বিরুদ্ধে সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা থাকলে দেশ একটি শুদ্ধ ও উন্নত
ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে। আশা করি একমাত্র সরকার ইচ্ছে করলে যে কোন সময়
আইনের মাধ্যমে ঘুষ দূর্নীতি রন্ধ করতে পারবে।
























