০৭:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬

সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচার চায় ———– মোশারফ হোসেন

মতামত
  • Update Time : ০৩:১৯:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৪০ Time View

জীবনের এই মহাভ্রমন সময় খুবই সংক্ষিপ্ত। এই জগতে যা সত্য অন্য জগতে তা মিথ্যা ও
হতে পারে। আমরা যত বিত্তবান, শিক্ষিত ও শক্তিশালী হই না কেন আমাদেরও শেষ পরিনতি
আছে। ক্যালকাটা রিশ্ববিদ্যালয়ের বাপন হালদার লেখেছেন- জিবনের তিনটি সত্য কী কী ?
বিখ্যাত ক্ষমতাশীন আলেকজান্ডার মৃত্যুশর্যায় তার সেনাপতিকে ডেকে বলেছিলেন, আমার
মৃত্যুর পর আমার তিনটি ইচ্ছা তোমরা পূরন করবে। (১) আমার মৃত্যুর পর আমার
চিকিৎসকরা শুধু আমার কফিন বহন করবে। (২) আমার বিদায় কফিন যে পথ দিয়ে গোরস্থানে
নিয়ে যাবে, সেই পথে আমার কোষাগারে রক্ষিত সোনা রোপা ও অন্যান্য মূল্যবান পাথর ছড়িয়ে
দিতে হবে। (৩) আমার শেষ অভিপ্রায় “ আমার কফিন বহনের সময় আমার শূণ্য দুই হাত
বাইরে বের কেরে রাখবে। যাতে মানুষ বুঝতে পারে শক্তিশালী আলেকজান্ডার এত কিছুর মালিক
হয়েও আজ শূন্য হাতে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। এখন আসা যাক লেখার মূল প্রসঙ্গ
অর্থপাঁচার সমন্ধে। অর্থপাঁচার কি? আমরা যতটুকু বুঝি অর্থপাঁচার একটি অবৈধ
অর্থনৈতিক কায্যক্রম। যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের সম্পদের উৎস গোপন
করার উদ্দেশ্যে সেই সম্পদের আংশিক বা পূর্ন অংশ রূপান্তর বা বৈধ জায়গায় বিণিয়োগ করা
হয় যাতে সেই বিণিয়োগকৃত সম্পদ থেকে অর্জিত আয় বৈধ বলে মনে হয়, তাকে মানিলন্ডারিং
বা অর্থপাঁচার বলা হয়। বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশী অর্থপাঁচার হয় (১) যুক্তরাষ্ট্র (২)
যুক্তরাজ্য (৩) কানাডা (৪)অষ্ট্রেলিয়া (৫) সিঙ্গাপুর (৬) হংকং (৭) সংযুক্ত আরব আমিরাত
(৮) মালশিয়া (৯) কেম্যান আইল্যান্ড (১০) ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যন্ড। বিশেষ করে
ফ্যাসিষ্ট আমলের অন্যতম অর্থপাঁচারকারী কলংকিত পি কে হালদার বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে
পাশ্ববর্তী দেশ ভরেতে গিয়েছিলেন। নরাধম সেখানে পুলিমের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। পি কে
হালদারের ভারতে অনেক সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে , তা বাংলাদেশ থেকে পাঁচার করা অর্থ
দিয়ে কেনা। এ ঘটনার সত্যতা আছে। অর্থ পাঁচারের ও অপব্যবহার বন্ধের একটা আইন
আমাদের দেশে আছে। তবে তা এখন পর্যন্ত কিছু করে দেখাতে পারেনি। গত ১১ অক্টোবর
২০২৫ তারিখে দৈনিক সরকার পত্রিকায় ছাপানো রায়পুরার ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা
শান্তি রঞ্জন দাস কোটিপতি কলামে মানিলন্ডারিং এর সংবাদ উল্লেখ আছে। কিন্তু তার
কিছুই হল না। এই আইনের নাম হচ্ছে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন। অর্থপাঁচারএমন একটি
প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ বা সম্পদ বৈধ করে নেওয়া হয়। ইতিহাস
বলছে, বিশ্বে অর্থের অপব্যবহার বন্ধের প্রথম উদ্যোগটি নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭০
সালে। ব্যাংকে অপরাধ চক্রের আর্থিক লেনদেন বন্ধ করতে তৈরী করে ব্যাংক সিক্রেসি
এ্যাক্ট। এটি পাশ হয় ১৯৭০ সালের ২৬ অক্টোবর। এই আইনে বলাছিল ১০ হাজার ডলারের
বেশী লেনদেন হলেই তা নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে জানাতে হবে। আমাদের বাংলাদেশে অবৈধ অর্থের

ব্যবহার নিয়ে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০১২ জারী করা হয়, যা পরবর্তীতে ২০১২
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ নামে পরিচিত। ওয়াশিংটন ভিত্তিক সংস্থা (জি এফ আই) গ্লোবাল
ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেগরিটি বলেছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে
প্রতিবছর গড়ে ৭৩৫ কোটি ৩৭ লাখ ডলার পাঁচার হয়। বাংলা টাকায় তখনকার সময় ৮০ হাজার
কোটি । সুইজাল্যৈান্ডের কেন্দ্রিয় ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনের মতে ২০২১ সালে দেশটির
বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশীদের গচ্ছিত অর্থের পরিমান ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফাঁ যা বাংলা
টাকায় প্রায় ৮ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। তবে অনেকেরই ধারনা পাঁচারকৃত অর্থের পরিমান
আরও নেশী হতে পারে। (সূত্র- প্রথম আলো ১৭ অক্টোবর ২০২৩ ইং। ওয়াশিংটন ডিসি
ভিত্তিক সংস্থা (জি এফ আই) গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেগরিটি এর প্রতিবেদনে জানা
গেছে বিদেশে অবৈধভাবে অর্থপাঁচারের ক্ষেত্রে আমাদের বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান
করছিল। আজ সময় এসেছে দেশের মানুষ এসবের সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচার চায়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thedailysarkar@gmail.com

About Author Information

সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচার চায় ———– মোশারফ হোসেন

Update Time : ০৩:১৯:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

জীবনের এই মহাভ্রমন সময় খুবই সংক্ষিপ্ত। এই জগতে যা সত্য অন্য জগতে তা মিথ্যা ও
হতে পারে। আমরা যত বিত্তবান, শিক্ষিত ও শক্তিশালী হই না কেন আমাদেরও শেষ পরিনতি
আছে। ক্যালকাটা রিশ্ববিদ্যালয়ের বাপন হালদার লেখেছেন- জিবনের তিনটি সত্য কী কী ?
বিখ্যাত ক্ষমতাশীন আলেকজান্ডার মৃত্যুশর্যায় তার সেনাপতিকে ডেকে বলেছিলেন, আমার
মৃত্যুর পর আমার তিনটি ইচ্ছা তোমরা পূরন করবে। (১) আমার মৃত্যুর পর আমার
চিকিৎসকরা শুধু আমার কফিন বহন করবে। (২) আমার বিদায় কফিন যে পথ দিয়ে গোরস্থানে
নিয়ে যাবে, সেই পথে আমার কোষাগারে রক্ষিত সোনা রোপা ও অন্যান্য মূল্যবান পাথর ছড়িয়ে
দিতে হবে। (৩) আমার শেষ অভিপ্রায় “ আমার কফিন বহনের সময় আমার শূণ্য দুই হাত
বাইরে বের কেরে রাখবে। যাতে মানুষ বুঝতে পারে শক্তিশালী আলেকজান্ডার এত কিছুর মালিক
হয়েও আজ শূন্য হাতে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। এখন আসা যাক লেখার মূল প্রসঙ্গ
অর্থপাঁচার সমন্ধে। অর্থপাঁচার কি? আমরা যতটুকু বুঝি অর্থপাঁচার একটি অবৈধ
অর্থনৈতিক কায্যক্রম। যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের সম্পদের উৎস গোপন
করার উদ্দেশ্যে সেই সম্পদের আংশিক বা পূর্ন অংশ রূপান্তর বা বৈধ জায়গায় বিণিয়োগ করা
হয় যাতে সেই বিণিয়োগকৃত সম্পদ থেকে অর্জিত আয় বৈধ বলে মনে হয়, তাকে মানিলন্ডারিং
বা অর্থপাঁচার বলা হয়। বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশী অর্থপাঁচার হয় (১) যুক্তরাষ্ট্র (২)
যুক্তরাজ্য (৩) কানাডা (৪)অষ্ট্রেলিয়া (৫) সিঙ্গাপুর (৬) হংকং (৭) সংযুক্ত আরব আমিরাত
(৮) মালশিয়া (৯) কেম্যান আইল্যান্ড (১০) ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যন্ড। বিশেষ করে
ফ্যাসিষ্ট আমলের অন্যতম অর্থপাঁচারকারী কলংকিত পি কে হালদার বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে
পাশ্ববর্তী দেশ ভরেতে গিয়েছিলেন। নরাধম সেখানে পুলিমের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। পি কে
হালদারের ভারতে অনেক সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে , তা বাংলাদেশ থেকে পাঁচার করা অর্থ
দিয়ে কেনা। এ ঘটনার সত্যতা আছে। অর্থ পাঁচারের ও অপব্যবহার বন্ধের একটা আইন
আমাদের দেশে আছে। তবে তা এখন পর্যন্ত কিছু করে দেখাতে পারেনি। গত ১১ অক্টোবর
২০২৫ তারিখে দৈনিক সরকার পত্রিকায় ছাপানো রায়পুরার ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা
শান্তি রঞ্জন দাস কোটিপতি কলামে মানিলন্ডারিং এর সংবাদ উল্লেখ আছে। কিন্তু তার
কিছুই হল না। এই আইনের নাম হচ্ছে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন। অর্থপাঁচারএমন একটি
প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ বা সম্পদ বৈধ করে নেওয়া হয়। ইতিহাস
বলছে, বিশ্বে অর্থের অপব্যবহার বন্ধের প্রথম উদ্যোগটি নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭০
সালে। ব্যাংকে অপরাধ চক্রের আর্থিক লেনদেন বন্ধ করতে তৈরী করে ব্যাংক সিক্রেসি
এ্যাক্ট। এটি পাশ হয় ১৯৭০ সালের ২৬ অক্টোবর। এই আইনে বলাছিল ১০ হাজার ডলারের
বেশী লেনদেন হলেই তা নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে জানাতে হবে। আমাদের বাংলাদেশে অবৈধ অর্থের

ব্যবহার নিয়ে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০১২ জারী করা হয়, যা পরবর্তীতে ২০১২
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ নামে পরিচিত। ওয়াশিংটন ভিত্তিক সংস্থা (জি এফ আই) গ্লোবাল
ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেগরিটি বলেছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে
প্রতিবছর গড়ে ৭৩৫ কোটি ৩৭ লাখ ডলার পাঁচার হয়। বাংলা টাকায় তখনকার সময় ৮০ হাজার
কোটি । সুইজাল্যৈান্ডের কেন্দ্রিয় ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনের মতে ২০২১ সালে দেশটির
বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশীদের গচ্ছিত অর্থের পরিমান ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফাঁ যা বাংলা
টাকায় প্রায় ৮ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। তবে অনেকেরই ধারনা পাঁচারকৃত অর্থের পরিমান
আরও নেশী হতে পারে। (সূত্র- প্রথম আলো ১৭ অক্টোবর ২০২৩ ইং। ওয়াশিংটন ডিসি
ভিত্তিক সংস্থা (জি এফ আই) গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেগরিটি এর প্রতিবেদনে জানা
গেছে বিদেশে অবৈধভাবে অর্থপাঁচারের ক্ষেত্রে আমাদের বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান
করছিল। আজ সময় এসেছে দেশের মানুষ এসবের সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচার চায়।