মশার অত্যাচারে অচল চট্টগ্রামের বাঁশখালী বাসীর জনজীবন
- Update Time : ০৪:৪৯:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১১ Time View

বাঁশখালী প্রতিনিধি , মোঃ জসীম উদ্দীন : প্রায় এক মাস ধরে বাঁশখালীতে এই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ফেব্রুয়ারিতে শীতের রেশ কেটে যাওয়ার আগে থেকে মশার যে প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে তা এখন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। মশার কয়েল, নানা ব্র্যান্ডের ইনসেক্টিসাইড, ধূপ-ধোঁয়া কোনো কিছু ব্যবহার করেই মশার হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না বাঁশখালী বাসী।
সন্ধ্যার পর থেকে বাড়িঘরে ঢুকে পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে মশা। সন্ধ্যা থেকেই মশারির নিচে আশ্রয় নিয়ে বাঁচতে হচ্ছে বাঁশখালীর লোকজনকে। আতঙ্ক তৈরি হয়েছে মশাবাহিত রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ারও। মশা নিয়ে প্রতিদিনই অভিযোগ বেড়ে চলেছে।
বাঁশখালীর বিভিন্ন জায়গায় মশার উপদ্রব এমনভাবে বেড়ে চলেছে যে ব্যবসায়ীরা তাদের প্রতিষ্ঠানে বসে ব্যবসা করা অক্ষম হয়ে পড়ছে। গ্রাম পর্যায়ে মানুষ দিনের বেলায়ও মশারি টাঙিয়ে ঘুমাচ্ছে।
মশার অতিষ্ঠে পবিত্র রমজানে তারাবীর নামাজ এবং সেহেরী খাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
মশার সংখ্যা এমনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে যে বাঁশখালীর পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ দাবি করছে কখনো কখনো ‘মশার ঢেউ এত ঘন যে মনে হয় তারা বাতাসের চেয়ে ঘন। বাসার দরজা ও জানালা বন্ধ রাখলেও মশা ভিতরে ঢুকে পড়ছে এবং কোয়েল জ্বালিয়ে থাকাই এখন প্রায় সাধারণ রুটিনের অংশ। ঘরে থাকা অবস্থায়ও তারা মশার কামড় থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। মশারি টানিয়ে সুরক্ষা নেয়ার চেষ্টা করা হলেও তা সবসময় কার্যকর হচ্ছে না।
বাঁশখালীর বিভিন্ন স্থানে বসবাসকারী লোকজন মশার উপদ্রব বাড়ার কারণ হিসেবে খাল, নালা-নর্দমায় ময়লা আবর্জনা জমিয়ে থাকা। খাল ও নালা-নর্দমার পঁচা পানি এবং জনবসতির আশপাশে অপরিচ্ছন্নতার কথা তুলে ধরে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কথাও বলছেন।
বাঁশখালী পৌরসভা বাসী বলছেন বদ্ধ জলাশয় ও আটকা পড়া পানিতে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মীদের ওষুধ ছিটানোর তত্পরতার কথা।
কিন্তু জলদি পৌরসভার কয়েকজন সচেতন নাগরিকের অভিযোগ, ওষুধ ছিটানোর কাজে পৌরসভার কর্মীদের তত্পরতা বিশেষ করে বাসাবাড়ির আশপাশে এখনো দৃশ্যমান নয়।
এদিকে আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, এ সময়টাকে বৃষ্টিপাতের তেমন একটা সম্ভাবনা নেই। ফলে মুষলধারে বৃষ্টির পানিতে মশার প্রজননস্থল ভেসে গিয়ে নগরী পরিচ্ছন্ন ও মশকমুক্ত হয়ে উঠবে এমন সম্ভাবনাও আগামী দেড় দুই মাসের মধ্যে নেই।


























