০৩:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গোদাগাড়ীতে বেপরোয়া মোটরসাইকেল ও শব্দ দূষণে জনদুর্ভোগ
বিশেষ প্রতিনিধি
- Update Time : ০৩:২৫:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
- / ৭২ Time View

স্টাফ রিপোর্টার, মোঃ আতিকুর রহমান : রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে গোদাগাড়ী থেকে চাপাল পর্যন্ত সড়কে সন্ধ্যার পর কিছু মোটরসাইকেল চালকের বেপরোয়া চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ উঠেছে, একদল যুবক মোটরসাইকেলের সাইলেন্সার পাইপ খুলে অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টি করে উচ্চগতিতে চলাচল করছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বিরক্তি ও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজাবাড়ী এলাকা-সহ আশপাশের কিছু গ্যারেজের তরুণরা এই ধরনের কার্যকলাপে জড়িত। সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত তারা দলবদ্ধভাবে রাস্তায় বের হয়ে মোটরসাইকেলের গতি বাড়িয়ে বিকট শব্দ তৈরি করছে, ফলে পথচারী, শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও রোগীরা মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
এছাড়া এই বেপরোয়া গতির কারণে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু শব্দ দূষণই নয়, এটি জননিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা চান, যারা এই ধরনের অবৈধভাবে সাইলেন্সার খুলে শব্দ দূষণ করছে এবং বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলা-তে দিন দিন বাড়ছে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা, যা এখন জনদুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে গোদাগাড়ী থেকে চাপাল সড়ক এবং রাজাবাড়ী এলাকা-সহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যার পর একদল যুবকের মোটরসাইকেল দৌরাত্ম্য যেন নিয়মিত দৃশ্য হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব মোটরসাইকেল চালক ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের বাইকের সাইলেন্সার পাইপ খুলে ফেলে বিকট শব্দ সৃষ্টি করছে। এরপর তারা দলবদ্ধভাবে উচ্চগতিতে রাস্তায় চলাচল করে, যা শুধু শব্দ দূষণই নয়, বরং চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির সৃষ্টি করছে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, পথচারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষদের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে রাতের নীরব পরিবেশে এই উচ্চ শব্দ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। অনেকেই জানিয়েছেন, শিশু ও বৃদ্ধরা এই শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে এবং রোগীদের বিশ্রামে বিঘ্ন ঘটছে।
অভিযোগ রয়েছে, এলাকার কিছু গ্যারেজকেন্দ্রিক তরুণরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত। তারা মোটরসাইকেলে অবৈধ পরিবর্তন এনে শব্দ বৃদ্ধি করছে, যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। ট্রাফিক আইন অনুযায়ী সাইলেন্সার পরিবর্তন বা খুলে ফেলা এবং বেপরোয়া গতিতে যান চালানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হলেও বাস্তবে এর তেমন প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
এমতাবস্থায় এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, বিশেষ করে ট্রাফিক পুলিশ ও থানা প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, জরিমানা এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে করে এই শব্দ দূষণ ও ঝুঁকিপূর্ণ চালনা থেকে সাধারণ মানুষ মুক্তি পেতে পারে।
স্থানীয়দের আশা, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং এলাকাবাসী স্বস্তি ফিরে পাবে।
Tag :





























