০৪:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
https://www.facebook.com/obaidul1991
রায়পুরায় স্কুল ফিডিংয়ে অনিয়মের অভিযোগ: রুটি মিললেও মিলছে না ডিম, দুধ ও কলা
রোমান পথিক
- Update Time : ০৬:৪৪:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
- / ২২ Time View

রায়পুরা প্রতিনিধি: নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় সরকারি স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত খাবারের পরিবর্তে দীর্ঘদিন ধরে শুধু রুটি সরবরাহ, কয়েকদিন কোনো খাবারই না দেওয়া এবং বরাদ্দকৃত খাদ্যসামগ্রীর হিসাব নিয়ে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয়রা। অভিযোগের তীর উঠেছে ফিডিং কর্মসূচির দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিলার ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের লক্ষিপুর ৫০ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয়রা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তাদের দাবি, লক্ষিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোকুলনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মনোহরাবাদ (খামার) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঈদুল আজহার পর থেকে শিক্ষার্থীদের শুধু রুটি দেওয়া হচ্ছে। অথচ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রুটির সঙ্গে ডিম, দুধ ও কলাও দেওয়ার কথা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ১৬ ও ২৩ জুন কোনো খাদ্যসামগ্রীই সরবরাহ করা হয়নি। এতে সরকারের পুষ্টিকেন্দ্রিক এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
লক্ষিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজা আক্তার অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঈদের পর থেকে শুধু রুটি এসেছে। ডিম, দুধ কিংবা কলা দেওয়া হয়নি। ১৬ ও ২৩ জুন কোনো খাবারই আসেনি। বিষয়গুলো রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। সাব-ডিলারদের কাছে জানতে চাইলে তারা বিল না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।’
লক্ষিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজা আক্তার অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঈদের পর থেকে শুধু রুটি এসেছে। ডিম, দুধ কিংবা কলা দেওয়া হয়নি। ১৬ ও ২৩ জুন কোনো খাবারই আসেনি। বিষয়গুলো রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। সাব-ডিলারদের কাছে জানতে চাইলে তারা বিল না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।’
অভিযোগের বিষয়ে রায়পুরা উপজেলার স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মূল ডিলার আওলাদ মোল্লার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সোহরাব হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। চালানপত্র এনে যাচাই করা হবে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকদের প্রতিদিন বিতরণকৃত খাবারের তালিকা সংরক্ষণ এবং সেই অনুযায়ী বিলে স্বাক্ষর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে রাধানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাপ মিয়া, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি চান মিয়া, সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ, ইউনিয়ন যুবদল নেতা মামুন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মোরাদ হোসেন শিবলু, প্রচার সম্পাদক ডা. হোসেন আলী, ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল মিয়া, ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রমজান আলী, মহিলা দলের সভাপতি জিমা আক্তার, কাজল মিয়া এবং সমাজসেবক হাজী আবু কাউছারসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অনিয়ম উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
Tag :

















