০৩:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬
https://www.facebook.com/obaidul1991

নরসিংদীতে মাদ্রাসার ছাত্রকে বলাৎকারের চেষ্টা: শিক্ষক সাকিলুল ইসলামের বিরুদ্ধে মডেল থানায় মামলা

রেজাউল করিম
  • Update Time : ০৬:১৩:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
  • / ৯ Time View
নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি:  ​নরসিংদী জেলা সদরের বাসাইল শাপলা চত্বর এলাকায় অবস্থিত ‘দারুত তাকওয়া মাদ্রাসা’-র এক হেফজখানার ছাত্রকে (১৪) একাধিকবার বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগে ওই মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ছাত্রের পিতা হাফেজ ক্বারী কাউছার ভূইয়া বাদী হয়ে নরসিংদী মডেল থানায় এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
​অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম সাকিলুল ইসলাম (২৫)। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর থানার খুকনী পশ্চিমপাড়া এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে। বর্তমানে তিনি নরসিংদীর বাসাইল শাপলা চত্বর এলাকার দারুত তাকওয়া মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
​মামলার এজহার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোর ওই মাদ্রাসার হেফজখানায় আবাসিক ছাত্র হিসেবে পড়াশোনা করে আসছিল। গত ১৬ জুন ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১০:৩০ ঘটিকায় রাতের পড়া শেষ করে মাদ্রাসার ৫ম তলার বিল্ডিংয়ের উত্তর পাশের কক্ষে অন্যান্য ছাত্রদের সাথে সে ঘুমিয়ে পড়ে। একই কক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষক সাকিলুল ইসলামও অবস্থান করছিলেন। রাত আনুমানিক ১১:০০ ঘটিকার সময় অভিযুক্ত শিক্ষক ঘুমন্ত ওই ছাত্রকে ডেকে সজাগ করে জোরপূর্বক নিজের বিছানায় নিয়ে যান এবং পা টিপে দিতে বলেন। একপর্যায়ে রাত ১১:১৫ ঘটিকার সময় শিক্ষক সাকিলুল ইসলাম ওই ছাত্রকে জাপটে ধরে বিছানায় শুইয়ে ফেলে এবং তার পরিহিত পায়জামা খুলে জোরপূর্বক বলাৎকারের চেষ্টা চালান। সে সময় কিশোরটি শিক্ষকের সাথে ধস্তাধস্তি করে কোনোমতে নিজেকে মুক্ত করে পালিয়ে নিজের বিছানায় চলে যায়।
​অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রথম দিনের ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ১৭ জুন ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১১:০০ ঘটিকায় অভিযুক্ত শিক্ষক পুনরায় একই কায়দায় ঘুমন্ত ছাত্রকে ডেকে তুলে নিজের বিছানায় নিয়ে যান এবং পা টেপার কথা বলে দুই দুইবার বলাৎকারের চেষ্টা চালান।
​পরবর্তীতে গত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭:৩০ ঘটিকার সময় ভুক্তভোগী মাদ্রাসা ছাত্র ভয় ও আতঙ্কে মাদ্রাসা থেকে নিজ বাসায় চলে আসে এবং পুনরায় মাদ্রাসায় যেতে অস্বীকৃতি জানায়। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে তার বাবার কাছে মাদ্রাসায় ঘটে যাওয়া ওই নির্মম নির্যাতনের বিস্তারিত বিবরণ দেয়। পরবর্তীতে ঘটনাটি আত্মীয়-স্বজনদের সাথে আলোচনা করার কারণে থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয় বলে বাদী পক্ষ জানান।
​গত ১৯ জুন ২০২৬ তারিখ বিকাল ১৭:০৫ ঘটিকায় নরসিংদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগটি প্রাপ্ত হওয়ার পর পুলিশ এটিকে নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করে। নরসিংদী মডেল থানার মামলা নং- ৪০/৩১৬, তারিখ: ১৯/০৬/২০২৬ ইং। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০২০) এর ৯(৪)(খ) ধারায় রুজু করা হয়েছে। নরসিংদী সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এ আর এম আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

thedailysarkar

দৈনিক সরকার পত্রিকা ১৯৯১ সাল হতে ঢাকা হতে প্রকাশিত হচ্ছে।

https://www.facebook.com/obaidul1991

নরসিংদীতে মাদ্রাসার ছাত্রকে বলাৎকারের চেষ্টা: শিক্ষক সাকিলুল ইসলামের বিরুদ্ধে মডেল থানায় মামলা

Update Time : ০৬:১৩:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি:  ​নরসিংদী জেলা সদরের বাসাইল শাপলা চত্বর এলাকায় অবস্থিত ‘দারুত তাকওয়া মাদ্রাসা’-র এক হেফজখানার ছাত্রকে (১৪) একাধিকবার বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগে ওই মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ছাত্রের পিতা হাফেজ ক্বারী কাউছার ভূইয়া বাদী হয়ে নরসিংদী মডেল থানায় এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
​অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম সাকিলুল ইসলাম (২৫)। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর থানার খুকনী পশ্চিমপাড়া এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে। বর্তমানে তিনি নরসিংদীর বাসাইল শাপলা চত্বর এলাকার দারুত তাকওয়া মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
​মামলার এজহার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোর ওই মাদ্রাসার হেফজখানায় আবাসিক ছাত্র হিসেবে পড়াশোনা করে আসছিল। গত ১৬ জুন ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১০:৩০ ঘটিকায় রাতের পড়া শেষ করে মাদ্রাসার ৫ম তলার বিল্ডিংয়ের উত্তর পাশের কক্ষে অন্যান্য ছাত্রদের সাথে সে ঘুমিয়ে পড়ে। একই কক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষক সাকিলুল ইসলামও অবস্থান করছিলেন। রাত আনুমানিক ১১:০০ ঘটিকার সময় অভিযুক্ত শিক্ষক ঘুমন্ত ওই ছাত্রকে ডেকে সজাগ করে জোরপূর্বক নিজের বিছানায় নিয়ে যান এবং পা টিপে দিতে বলেন। একপর্যায়ে রাত ১১:১৫ ঘটিকার সময় শিক্ষক সাকিলুল ইসলাম ওই ছাত্রকে জাপটে ধরে বিছানায় শুইয়ে ফেলে এবং তার পরিহিত পায়জামা খুলে জোরপূর্বক বলাৎকারের চেষ্টা চালান। সে সময় কিশোরটি শিক্ষকের সাথে ধস্তাধস্তি করে কোনোমতে নিজেকে মুক্ত করে পালিয়ে নিজের বিছানায় চলে যায়।
​অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রথম দিনের ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ১৭ জুন ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১১:০০ ঘটিকায় অভিযুক্ত শিক্ষক পুনরায় একই কায়দায় ঘুমন্ত ছাত্রকে ডেকে তুলে নিজের বিছানায় নিয়ে যান এবং পা টেপার কথা বলে দুই দুইবার বলাৎকারের চেষ্টা চালান।
​পরবর্তীতে গত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭:৩০ ঘটিকার সময় ভুক্তভোগী মাদ্রাসা ছাত্র ভয় ও আতঙ্কে মাদ্রাসা থেকে নিজ বাসায় চলে আসে এবং পুনরায় মাদ্রাসায় যেতে অস্বীকৃতি জানায়। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে তার বাবার কাছে মাদ্রাসায় ঘটে যাওয়া ওই নির্মম নির্যাতনের বিস্তারিত বিবরণ দেয়। পরবর্তীতে ঘটনাটি আত্মীয়-স্বজনদের সাথে আলোচনা করার কারণে থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয় বলে বাদী পক্ষ জানান।
​গত ১৯ জুন ২০২৬ তারিখ বিকাল ১৭:০৫ ঘটিকায় নরসিংদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগটি প্রাপ্ত হওয়ার পর পুলিশ এটিকে নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করে। নরসিংদী মডেল থানার মামলা নং- ৪০/৩১৬, তারিখ: ১৯/০৬/২০২৬ ইং। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০২০) এর ৯(৪)(খ) ধারায় রুজু করা হয়েছে। নরসিংদী সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এ আর এম আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।