মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! ত্যাগীদের সহযোগিতা দিন আপনি তাদের অভিভাবক — কালাম ফয়েজী
- Update Time : ০৩:৪৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
- / ৫৫ Time View

বিএনপি পাগল আনোয়ার রিকশা হারিয়ে পথে পথে ঘুরছে। আমি তাকে একটা রিক্সা কিনে দিতে চাইলাম। লোক লাগালাম তাকে খুঁজে বের করার জন্য। একজন ইউটিউব সংবাদকর্মী তার সন্ধান দিল। জানালো আনোয়ার রিক্সা নেবে না। সে পুরাতন রিক্সাটাই ফিরে পেতে চায়। আমি আনোয়ারের সাথে ফোনে কথা বললাম। সে জানালো এ পর্যন্ত তাকে ১০০জন লোক রিক্সা কিনে দিতে চেয়েছে। সে নিতে রাজি হয়নি। বললাম সে যদি নতুন রিক্সা নিতে চায় তবে যেন আমার কেনা রিক্সাটাই নেয়। অতঃপর তাকে যৎসামান্য সহযোগিতা করলাম। সে বেশ খুশি হল।
আমি নিজেও বিএনপি পাগল মানুষ। নিবেদিতপ্রাণ বিএনপির একজন ভক্তকে বিপদে পাশে দাঁড়াতে পেরেছি, এতে আমি বেশ আনন্দ অনুভব করছি।
কিন্তু আমার কথা সেখানে নয়। আমি অতিশয় ক্ষুদ্র মানুষ। সংসারে কত অসহায় অক্ষম মানুষ থাকে আমি তাদের জন্য কিইবা করতে পারি। বিএনপির করতে গিয়ে গত ১৭-১৮ বছরে কত মানুষ পরিচয়হীন ঠিকানাহীন হয়েছে সেই চরম দুঃসময়েও খোঁজ খবর নিয়ে বিএনপির কান্ডারী জনাব তারেক রহমান অতি গোপনীয়তার সাথে ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নিয়েছেন, সহযোগিতা দিয়েছেন, সেটা অনেকের জানা থাকার কথা। এখন তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এখন আর গোপনীয়তার প্রয়োজন নেই। তিনি প্রকাশ্য দিবালোকেই অনেক অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন, সেই সুযোগ এখন তার পুরোপুরি নাগালে। আগে সহযোগিতা করতেন সীমিত পরিসরে। এখন সেই পরিসর অনেক বৃদ্ধি করার সুযোগ এসেছে।
যারা সর্বহারা এবং সর্বস্বান্ত হয়েছেন, প্রাণ হারিয়েছেন অথবা পঙ্গুত্ববরণ করছেন তাদের ডেকে বীরের মর্যাদা দিবেন, তাদের ত্যাগের মূল্যায়ন করবেন, বীরত্বের জন্য ভাতা দিবেন এবং বিশেষভাবে পুরস্কৃত করবেন, দেশের মানুষ সেটাই মনে-প্রাণে চায়।
দুঃখের সঙ্গে একটা বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়। জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতায় এসেছিল। তারা দীর্ঘ ১৮ মাস ক্ষমতায় ছিল। সময়টা একেবারে কম নয়। কিন্তু দুর্ভাগ্য সাধারণ মানুষের ভাগ্য ফেরানো দূরে থাক, জুলাই যোদ্ধাদের জন্যও তারা উল্লেখ করার মতো কিছুই করেনি। নিহত আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত যোদ্ধাদের মূল্যায়ন করবেন, অসুস্থদের প্রোপার ট্রিটমেন্ট করবেন, সে কাজগুলিও তারা ঠিকভাবে করেননি।
কয়দিন পর পর আহত জুলাই যোদ্ধাদের দেখা গেছে চিকিৎসার দাবিতে আন্দোলনে রাস্তায় নামতে। এমনকি হাসপাতালে তাদের মর্যাদার সাথে ট্রিটমেন্ট করা হচ্ছে না, ভালো আচরণ করা হচ্ছে না, এরকম বক্তব্য প্রায়ই পত্রপত্রিকায় এসেছে। অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান অধ্যাপক ড. ইউনুস সাহেব এমন একজন অথর্ব মহিলাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন যিনি শুধু অযোগ্যতার পরিচয়ই দেননি, তার কি কাজ, কি কাজ তার করা প্রয়োজন সেটাও বোধহয় জানতেন না।
বিষয়টা ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকবে।ইউনুস সরকার ছিল জুলাইযোদ্ধাদের রক্তের মাধ্যমে অর্জিত প্রথম সরকার। বলা চলে জুলাই যোদ্ধাদের প্রতিনিধিত্বকারী সরকার। তাদের কাছে জনগণের প্রত্যাশাও ছিল অনেক বেশি। সেটা পূরণ না হোক। যারা সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়েছে পঙ্গুত্ব বরণ করছে তাদের মিনিমাম দাবি পূরণ করার খুব প্রয়োজন ছিল। অথচ অন্তবর্তী সরকারের কর্তা ব্যক্তিদের দ্বারাই জুলাই যোদ্ধারা সবচেয়ে বেশি অপমান অবজ্ঞার শিকার হয়েছেন। দাবি আদায়ের জন্য রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে হয়েছে কয়েকবার।
সৌভাগ্য ১৩ তম জাতীয় নির্বাচনে তথা স্বতঃস্ফূর্ত ভোটের মাধ্যমে যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে সে সরকারের বয়স এখনো একমাস পূর্ণ হয়নি। তা সত্ত্বও একজন জুলাইযোদ্ধা এখন পর্যন্ত ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বলেনি যে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের প্রতি নজর দেযননি কিংবা তাদের সাথে তাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণ করেছেন। বরং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিজে তাদের সঙ্গে মিলিত হয়েছেন। তাদের খোঁজখবর নিয়েছেন। তাদের যথাযথ চিকিৎসা ও ভাতাদি দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন।
এবার কথা বলি ফ্যাসিবাদের নৃশংসতার ১৭ বছর নিয়ে। দীর্ঘ দেড় যুগ বিএনপি নেতাকর্মীরা শুধু বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকার অপরাধে নির্মম নির্যাতন নিপীড়ন, মামলা হামলা ও গুম-খুনের শিকার হয়েছেন। বিগত আওয়ামী লীগের শাসনামলের লীগ সমর্থিত ব্যক্তিরা যত অন্যায় অপরাধ করুক তাদের অপরাধকে অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়নি। বরং তাদের কাউকে কাউকে রীতিমতো লাইসেন্স দেয়া হয়েছিল অন্যায় অপরাধ অরাজকতা সৃষ্টির জন্য। কতক লোক পবিত্র সংসদে দাঁড়িয়ে এমন অশ্লীল অশ্রাব্য ও অপমানজনক শব্দ উচ্চারণ করেছেন, যা সম্মানিত মানুষরা সচরাচর করেন না। তারা এমন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড করেছেন যা সাধারণত মানুষ করে না। অন্যায় অপরাধ জোর জুলুম দলীয় পরিচয় দিয়ে লীগ সমর্থকরাই করেছে, তার উপর বিএনপি কর্মীদের নামে মামলা দিয়ে, তাদের গ্রেফতার করিয়ে, জেল খাটিয়ে এমন কষ্ট দিয়েছে যা সাধারণত কলোনিয়াল শাসকরা দিয়ে থাকে। দখলদার দেশের শাসকরা পরাধীন দেশের মানুষের সাথে যেরকম আচরণ করে লীগ নেতারা তেমনটাই করেছিলেন বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে। বিএনপি কর্মীদের জীবন, সম্মান ও সম্পদ যেরকম মূল্যহীন ছিল বিগত সরকারের কাছে, তেমনি দেশের মানুষের জীবন সম্পদ সম্মানও মূল্যহীন ছিল আওয়ামী ফ্যাসিবাদের কাছে। বিগত ১৭ বছরে দেশের মানুষ ছিল চরম অসহায়। লীগ সমর্থিত লোকের বাইরে আর কারো খানা ছিল না। মনে হতো আমরা সবাই পরাধীন দেশের নাগরিক। এজন্য কেউ কেউ নিজের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে গা বাঁচানোর চেষ্টা করেছে। এক পর্যায়ে লীগে যোগদান করার হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। ফলে অবসরপ্রাপ্ত সামরিক বেসামরিক আমলা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে হাট বাজারের দোকানদার স্কুল মাস্টার সবাই লীগপন্থী হয়ে পড়েছিল। অবস্থাটা এমন ছিল লীগপন্থী হওয়া মানে প্রাণে বেঁচে যাওয়া আর লীগের বাইরে থাকা মানে জীবন সম্মান সম্পদ বিপন্ন হওয়া।

বিএনপির অনেক নেতাকর্মী আছেন যাদের নামে শত শত মামলা। তার মধ্যে বেশিরভাগ মামলা ছিল গায়েবী। অনেকে কয়েদখানায় থেকেও নতুন মামলার আসামি হয়েছেন। কেউ কেউ জেল থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য জমিজমা বিক্রি করে টাকা খরচ করেছেন কিন্তু পরক্ষণে তাকে জেলগেটে আটকে দেয়া হয়েছে। তাকে নতুন মামলা আসামি দেখানো হয়েছে। কাউকে সহজে গ্রেপ্তার করা না গেলে গভীর রাতে গিয়ে পুলিশ তার বাড়িতে হানা দিয়েছে। শতাধিক পুলিশ নিজেরাই মব সৃষ্টি করে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে মায়ের বুক থেকে, স্ত্রীর কাছ থেকে ছিনিয়ে এনেছে। সন্তানদের আর্তচিৎকার, স্ত্রীর করুণ কান্নায়ও পুলিশের মন গলেনি। থানায় আনার পর টাকা আদায়ের জন্য চলেছে কত রকম টর্চার।
সবচেয়ে বেশি নিপীড়ন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে এবং তার পরিবার। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব অর্জন ও তা রক্ষার জন্য জিয়া পরিবারের অবদান সবচেয়ে বেশি। অথচ তাদের নিন্দা বাক্য ও বাজে কথা শুনতে হয়েছে সবচেয়ে বেশি। জুলুমও করা হয়েছে সবচেয়ে বেশি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী মাত্র চার বছর বয়সে মায়ের সঙ্গে জেল খেটেছেন দুই বছরের ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে সঙ্গে নিয়ে। একদিন দুইদিন না, দীর্ঘ ছয় মাস। জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত। যদি দেশ স্বাধীন না হতো তবে হয়তো কোনদিনই তাদের মুক্তি মিলতো না।
এরপর মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি তার পিতাকে হারিয়েছিলেন। আদরের ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে হারান ২০১৫ সালে। তাও তিনি প্রাণ হারিয়েছেন স্বৈরাচারের নির্মম নির্যাতনের ফলে।
তিনি নিজেও ১/১১ এর ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার। তিনি রীতিমত মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছেন। মা বেগম খালেদা জিয়া বিনা অপরাধে কয়েদ খেটেছেন বছরের পর বছর। এক কাপড়ে তাকে বসৎবাড়ি থেকে অপমান করে বের করে দেয়া হয়েছিল। এসব অপমানের কথা কি মন থেকে কখনো মুছে ফেলা সম্ভব? সম্ভব না।
২০০৮ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চিকিৎসার জন্য দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। তারপর দীর্ঘ ১৭ বছর বিদেশে কাটান। অতঃপর ১৭ বছর বাদে স্বদেশের মাটিতে পা রাখলেন ঠিক কিন্তু মমতাময়ী মায়ের সঙ্গে একদিনও প্রাণ খুলে কথা বলতে পারলেন না। এসে দেখলেন মা তার গুরুতর অসুস্থ এবং এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
দেশে ফেরার মাত্র তিন দিনের মাথায় তিনি তার মায়ের মৃত্যু সংবাদ পেলেন। মা সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। একজন মানুষের উপর দিয়ে কত ধকল গেলে তিনি স্বাভাবিক থাকেন কিভাবে। তবু তিনি স্বাভাবিক আছেন। সব কষ্টকে মর্মে উপলব্ধি করলেও কাউকে কিছুই বুঝতে দিলেন না।
জিয়া পরিবার স্বনামধন্য ও সর্বত্যাগী একটি পরিবার। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব অর্জন ও রক্ষায় যাদের সবচেয়ে বেশি অবদান। তা সত্ত্বেও যদি সে পরিবারের উপর এত নিপীড়ন চলে তবে পরিচয়হীনদের কপালে কি ঘটেছিল তা তো বলারই অপেক্ষা রাখে না।
এত কষ্টের পরও বিএনপির নেতা কর্মীরা দল ত্যাগ করেনি। বছরের পর বছর তারা বাড়িতে আসেনি। ঘরে থাকতে পারেনি। বনে জঙ্গলে, ধান ক্ষেতে, পাট ক্ষেতে রাত কাটিয়েছে। কত নিপীড়ন মুখ বুঁজে সহ্য করেছে। পাশাপাশি তারা বিএনপির আদর্শকে শক্ত হাতে ধরে রেখেছিল। আজ তাদের সেই ত্যাগের মূল্যায়ন প্রয়োজন।
ইতিমধ্যে যারা সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছে গেছেন, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বা আগামী দিনে উপজেলা চেয়ারম্যান বা ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন তারা যেন খেয়াল রাখেন সর্বহারা ত্যাগীরা যেন তাদের দ্বারা কষ্ট না পায়। সাধারণ কর্মীরা অপমান অবজ্ঞার শিকার না হন।
বরং যারা গুলির মুখে বুক চেতিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন তাদেরকে এনে অনুষ্ঠান আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে পুরস্কৃত করা হয়। সামান্য সুবিধা হাতে এলে সেটা যেন তাদের মাঝে সম্মানের সাথে বন্টন করে দেয়া হয়। মনে রাখতে হবে তারা একদিন দুদিন বা একবার দুইবার কষ্ট পায়নি, তারা কষ্ট পেয়েছে বছরের পর বছর। সেই কষ্টের জন্য তাদের বাড়তি সম্মান পাবার অধিকার তৈরি হয়েছে। সুতরাং সে অধিকার তাদের ফিরিয়ে দেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
সব মানুষ সমান যোগ্যতা রাখে না, সমান সুযোগও পায় না। যে কর্মী শিক্ষিত অবস্থাপন্ন সে ইচ্ছে করলে ইউপি চেয়ারম্যান হতে পারে কিংবা একটা ভালো চাকরিও পেতে পারেন। কিন্তু যাদের সে যোগ্যতা নেই তারা কী পাবে? তাদের জন্য কী করণীয়?
একটা উপজেলায় শত শত বিএনপি কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের সবাইকে সমান পদ ও মর্যাদা দেয়া সম্ভব না। সেক্ষেত্রে তাদের জন্য আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের ছেলেমেয়েদের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রয়োজনে তাদের চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করতে হবে।
মনে রাখবেন ত্যাগীরা অভিমানী হয়। ধান্দাবাজরা নির্লজ্জ হয়। তারা যেভাবে মৌমাছির মত মৌচাক ঘিরে রাখে, ত্যাগীরা সেটা পারে না। ধাক্কাধাক্কি ধস্তাধস্তি দেখলে তারা সেখান থেকে সরে যায়। তাছাড়া আমাদের সমাজের সুযোগ সুবিধা সীমিত। সমস্যা অবারিত। সীমিত সামর্থ্য দিয়ে বিপুল সমস্যার সমাধান সম্ভব না। সে ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে যেসব কর্মীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের সবার আগে পুনর্বাসন করতে হবে। প্রয়োজনে খুঁজে বের করে তাদের যথাযথ সম্মান জানাতে হবে।
খেয়াল করলে দেখবেন স্বাধীনতা যুদ্ধে যেসব তরুণ যোদ্ধা রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন, তাদের মুজিব সরকার পুরস্কৃত করেনি। বরং নানান বদনাম দিয়ে তাদের অপমান অপদস্থ করা হয়েছিল। প্রাপ্য অধিকার দাবী করতে গিয়ে তারা বাড়তি বিপদে পড়ে গিয়েছিল। অনেকে খুন গুমের শিকার হয়েছিল। এর পরিণাম মুজিব সরকারের জন্য ভালো হয়নি।
আমরা দেখেছি মদিনা ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম হওয়ার পর যে সকল যোদ্ধাগণ অবসরে যান তাদের প্রত্যেককে প্রতি মাসে রাষ্ট্রীয়ভাবে মাসোহারার ব্যবস্থা করা হয়। যাতে সাহাবীরা সম্মানজনক জীবন যাপন করতে পারেন। মদিনা ছাড়াও দূরান্তে যে সকল প্রাদেশিক সরকার ছিল তারাও রাষ্ট্রীয়ভাবে বীরদের ভাতা ও সম্মান জানানোর ব্যবস্থা করতেন। আমাদের দেশেও ত্যাগীদের জন্য সেরকম ভাতার ব্যবস্থা করতে হবে। ভাতা যে সকলের প্রয়োজন তা না। যাদের প্রয়োজন তারা নিবে। যাদের প্রয়োজন নেই তারা নেবে না। কিন্তু মর্যাদা ও স্বীকৃতি তাদের সকলের প্রাপ্য। সেটা তাদের দিতেই হবে। সেসব রাষ্ট্রীয়ভাবে দেয়া সম্ভব না হলে দলীয়ভাবে দেয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
শুধু ভাতা দিয়ে ক্ষান্ত হলে চলবে না। যারা গত সতের বছরের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে জীবন হারিয়েছে, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হারিয়ে পঙ্গুত্ববরণ করছে এবং আর্থিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের জীবনবৃত্তান্ত লিখতে হবে, লেখাতে হবে। তাদের মহিমাময় অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে হবে। তাদের গৌরবজনক ত্যাগ নিয়ে ইতিহাস রচনা করতে হবে। আর সেটাই হবে অনাগত দিনে আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। এর মধ্যে তারা প্রেরণা খুঁজে পাবে।
এ গ্রন্থের সবার উপরে স্থান পাবে আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, আরাফাত রহমান কোকো ও আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাম।
আশা করছি বিষয়টা প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ গভীরভাবে ভেবে দেখবেন।
১১/০২/২৬



























