০৫:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬
ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাড়ৈগাতি এলাকায় মুদি দোকানে অগ্নিকান্ডের মোটিভকে ঘিরে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে থানায় দেয়া অভিযোগের আসামীকে কোর্টে দায়েরকৃত নালিশীতে স্বাক্ষী করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে এনিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঝালকাঠিতে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে থানার অভিযোগে আসামী এবং কোর্টের নালিশীতে তিনি স্বাক্ষী, স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ প্রকাশ

বিশেষ প্রতিনিধি
  • Update Time : ০২:৫২:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
  • / ১৩ Time View


ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাড়ৈগাতি এলাকায় মুদি দোকানে অগ্নিকান্ডের মোটিভকে ঘিরে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে থানায় দেয়া অভিযোগের আসামীকে কোর্টে দায়েরকৃত নালিশীতে স্বাক্ষী করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে এনিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানাগেছে, গত ৬ ফেব্রুয়ারী বাড়ৈগাতি গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী (এক পা নেই) আব্দুল বারেকের মুদি দোকানে আগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। তবে কিভাবে আগুন লেগেছে তা কেউই তখন নিশ্চিত করে বলতে পারেনি। এঘটনায় আব্দুল বারেক বাদী হয়ে ঝালকাঠি সদর থানায় একটি অভিযোগ (স্মারক নং-১২৬, তারিখ- ০৭-০২-২৬ইং) দায়ের করেন। ঐ অভিযোগে সন্দেহমূলক ভাবে শুধুমাত্র মিজানুর রহমান (৪৫) এর নাম উল্লেখ করা হয়। মিজান লেশ প্রতাপ গ্রামের শাহজাহান তালুকদারের পুত্র। ঐ ঘটনায় আব্দুল বারেক বাদী হয়ে ঝালকাঠির সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি নালিশী অভিযোগ (নং- এমপি ১০৬, তারিখ- ০৯-০৩-২৬ইং) দায়ের করেন। সেই মামলায় স্থানীয় প্রবাসী ফেরত ব্যবসায়ী আঃ মতিন হাওলাদার (৪৫),  আলমগীর তালুকদার (৪৮), আঃ জলিল শেখ (৪৪), মনির হোসেন (৪০)কে আসামী করা হয়। এতে স্বাক্ষী রাখা হয় ক্ষতিগ্রস্ত মুদি দোকানী বারেক খন্দকারের স্ত্রী জুয়েনা বেগম, মিঠু চৌকিদার, সুলতান মীর, কবির হাওলাদার, হাফিজুর রহমান বাচ্চু, জামাল মোল্লা, মিজান তালুকদারকে।

প্রথম দেয়া অভিযোগের আসামীকে রাখা হয়েছে নালিশী অভিযোগের সর্বশেষ স্বাক্ষী। একারণেই মামলাটি নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
অগ্নিকান্ডের ঘটনায় প্রথম দেয়া অভিযোগ এবং পরবর্তিতে আদলতে দেয়া নালিশী অভিযোগের বর্ণনায়ও রয়েছে বিস্তর পার্থক্য।
স্থানীয়দের দাবী সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উন্মেচন করে প্রকৃত দোষীকে শাস্তির আওতায় নেয়ার জন্য।
স্থানীয় ইউপি সদস্য হাফিজুর রহমান বাচ্চু ও গ্রাম পুলিশ মিরাজ খান মিঠু জানান, ঘটনার রাতে বাজারে শব্দ পেয়ে আমরা সেখানে যাই। ততক্ষণে দোকান পুড়ে ভস্মিভুত হয়ে গেছে। কে বা কারা আগুন দিয়ে অথবা কিভাবে আগুন লেগেছে তা আমরা কিছুই জানি না।
শুক্রবার বিকেলে সদর থানার এসআই আসাদুজ্জামান  ঘটনাস্থলে তদন্ত করে স্বাক্ষী ও স্থানীয়দের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
মামলার বাদী বারেক খন্দকার বলেন, প্রথমে একজনকে আসামী করে থানায় অভিযোগ দিয়েছিলাম। সে হুজুরবাড়ি গিয়ে শপথ করে নির্দোষ স্বীকার করেছে। পরে মতিনকে সন্দেহ হলে তাকেো হুজুর গিয়ে বলার জন্য বলা হলে সে অপারগতা প্রকাশ করে। এছাড়াও একাধিক কারণে সেসহ আরো কয়েকজনকে সন্দেহ করায় আদালতে মামলাটি করা হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thedailysarkar@gmail.com

About Author Information

ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাড়ৈগাতি এলাকায় মুদি দোকানে অগ্নিকান্ডের মোটিভকে ঘিরে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে থানায় দেয়া অভিযোগের আসামীকে কোর্টে দায়েরকৃত নালিশীতে স্বাক্ষী করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে এনিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঝালকাঠিতে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে থানার অভিযোগে আসামী এবং কোর্টের নালিশীতে তিনি স্বাক্ষী, স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ প্রকাশ

Update Time : ০২:৫২:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬


ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাড়ৈগাতি এলাকায় মুদি দোকানে অগ্নিকান্ডের মোটিভকে ঘিরে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে থানায় দেয়া অভিযোগের আসামীকে কোর্টে দায়েরকৃত নালিশীতে স্বাক্ষী করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে এনিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানাগেছে, গত ৬ ফেব্রুয়ারী বাড়ৈগাতি গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী (এক পা নেই) আব্দুল বারেকের মুদি দোকানে আগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। তবে কিভাবে আগুন লেগেছে তা কেউই তখন নিশ্চিত করে বলতে পারেনি। এঘটনায় আব্দুল বারেক বাদী হয়ে ঝালকাঠি সদর থানায় একটি অভিযোগ (স্মারক নং-১২৬, তারিখ- ০৭-০২-২৬ইং) দায়ের করেন। ঐ অভিযোগে সন্দেহমূলক ভাবে শুধুমাত্র মিজানুর রহমান (৪৫) এর নাম উল্লেখ করা হয়। মিজান লেশ প্রতাপ গ্রামের শাহজাহান তালুকদারের পুত্র। ঐ ঘটনায় আব্দুল বারেক বাদী হয়ে ঝালকাঠির সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি নালিশী অভিযোগ (নং- এমপি ১০৬, তারিখ- ০৯-০৩-২৬ইং) দায়ের করেন। সেই মামলায় স্থানীয় প্রবাসী ফেরত ব্যবসায়ী আঃ মতিন হাওলাদার (৪৫),  আলমগীর তালুকদার (৪৮), আঃ জলিল শেখ (৪৪), মনির হোসেন (৪০)কে আসামী করা হয়। এতে স্বাক্ষী রাখা হয় ক্ষতিগ্রস্ত মুদি দোকানী বারেক খন্দকারের স্ত্রী জুয়েনা বেগম, মিঠু চৌকিদার, সুলতান মীর, কবির হাওলাদার, হাফিজুর রহমান বাচ্চু, জামাল মোল্লা, মিজান তালুকদারকে।

প্রথম দেয়া অভিযোগের আসামীকে রাখা হয়েছে নালিশী অভিযোগের সর্বশেষ স্বাক্ষী। একারণেই মামলাটি নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
অগ্নিকান্ডের ঘটনায় প্রথম দেয়া অভিযোগ এবং পরবর্তিতে আদলতে দেয়া নালিশী অভিযোগের বর্ণনায়ও রয়েছে বিস্তর পার্থক্য।
স্থানীয়দের দাবী সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উন্মেচন করে প্রকৃত দোষীকে শাস্তির আওতায় নেয়ার জন্য।
স্থানীয় ইউপি সদস্য হাফিজুর রহমান বাচ্চু ও গ্রাম পুলিশ মিরাজ খান মিঠু জানান, ঘটনার রাতে বাজারে শব্দ পেয়ে আমরা সেখানে যাই। ততক্ষণে দোকান পুড়ে ভস্মিভুত হয়ে গেছে। কে বা কারা আগুন দিয়ে অথবা কিভাবে আগুন লেগেছে তা আমরা কিছুই জানি না।
শুক্রবার বিকেলে সদর থানার এসআই আসাদুজ্জামান  ঘটনাস্থলে তদন্ত করে স্বাক্ষী ও স্থানীয়দের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
মামলার বাদী বারেক খন্দকার বলেন, প্রথমে একজনকে আসামী করে থানায় অভিযোগ দিয়েছিলাম। সে হুজুরবাড়ি গিয়ে শপথ করে নির্দোষ স্বীকার করেছে। পরে মতিনকে সন্দেহ হলে তাকেো হুজুর গিয়ে বলার জন্য বলা হলে সে অপারগতা প্রকাশ করে। এছাড়াও একাধিক কারণে সেসহ আরো কয়েকজনকে সন্দেহ করায় আদালতে মামলাটি করা হয়েছে।