তেঁতুলিয়ায় চেয়ার বাঁচাতে ও বহিষ্কারাদেশ ঠেকাতে ইউএনওকে জড়িয়ে চেয়ারম্যান আশরাফুলের বিভ্রান্তিকর মন্তব্য
- Update Time : ০১:১০:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
- / ১৬ Time View

পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় নিজের চেয়ার বাঁচাতে ও বহিষ্কারাদেশ ঠেকাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর ভিডিও ও অপপ্রচার অভিযোগ উঠেছে আশরাফুল ইসলাম নামে এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে তিনি ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মৌখিক নিষেধাজ্ঞার আদেশ ভঙ্গ করে মাইকিং এর মাধ্যমে অসহায় গরিব লোকদের পরিষদে নিয়ে এসে হট্টগোল সৃষ্টির পাঁয়তারা করেছেন।
এদিকে উদ্দেশ্যে প্রনোদিত ওই চেয়ারম্যানের কার্যক্রলাপের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে উপজেলার অন্য ছয় ইউনিয়ন পরিষদেরের চেয়ারম্যানরা। প্রচারিত ভিডিও ও বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে তেঁতুলিয়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তারা। ছয় চেয়ারম্যানের প্রেস বিজ্ঞপ্তির পরের দিনে রোববার (১৫ মার্চ) ওই চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের সামনে পরিষদে নিয়ে আসা অসহায় গরিব লোকদেরকে নিয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করেন।
জানা যায়, অভিযুক্ত আশরাফুল ইসলাম উপজেলার শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে উপজেলার ৪নং শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক আইডি থেকে একটি লাইভ করেন। সেখানে তিনি কমিশন ছাড়া কোনো বিল পাশ হয় না বলে মন্তব্য করেন। তবে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানরা মনে করেন, এটি তার ব্যক্তিগত বক্তব্য এবং বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো সামঞ্জস্য নেই।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, উপজেলার সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা নিয়ম অনুযায়ী কাজ শতভাগ সম্পন্ন করার পরই বিল উত্তোলন করে থাকেন। বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাজ সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন না হলে কোনো বিল অনুমোদন করা হবে না। তিনি ইতোমধ্যে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) সকল প্রকল্পের কাজ পুনরায় যাচাই-বাছাই করার নির্দেশনাও দিয়েছেন।
এছাড়া চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলামের আইডি থেকে যে টাকা লেনদেনের ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, সে বিষয়ে ইউএনও অবগত ছিলেন না বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। ওই সময় ইউএনও অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযানে ব্যস্ত ছিলেন। ভিডিওতে যে ব্যক্তিকে দেখা যায় তিনি উপজেলা প্রশাসনের কেউ নন।
একইসঙ্গে অভিযোগ করা হয়, শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বিভিন্ন সময়ে আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে অন্য চেয়ারম্যানদের কাছে সুপারিশ করেছেন এবং অবৈধ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তারা।
এছাড়া গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে মুঠোফোন নিয়ে ব্যালটে সিল মেরে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করে সমালোচনা, একাধিক তার বিরুদ্ধে মামলা ও ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বে অবহেলা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সেচ্ছাচারিতাসহ বিভিন্ন সম্মানি ব্যক্তিদের ফেসবুকে লাইভ করে ফায়দা হাসিলের অভিযোগও রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা আরও বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকে তিনি এমনটা শুরু করেছেন। তিনি কমিশন বাণিজ্য বা অন্যান্য বিভ্রান্তিকর বিষয় উপস্থাপনের মাধ্যমে শুধু উপজেলা প্রশাসন নয় তাদের ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন। এমনকি এ সকল বিষয়ে তার ইউনিয়ন পরিষদের অন্যান্য পুরুষ ইউপি সদস্যরা জানার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্যরা আগে থেকেই বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ দিয়ে আসছেন। এছাড়া ইতোপূর্বে অন্যান্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণের সময়েও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠেছিল। যখনি অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু করা হয় তখনি তিনি তদন্ত কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্থ এবং তার বিরুদ্ধে যেন কোন ব্যবস্থা না নেয়া হয় সেজন্য তার অপরাধকে আড়াল করতে জনগণের সহানুভুতি নেয়ার জন্য এভাবে ফেসবুক লাইভে এসে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন বিষোদগার করেন।
এ বিষয়ে উপজলার ভজনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মসলিম উদ্দিন বলেন, আশরাফুল চেয়ারম্যান যেটা করেছে সেটা ঠিক করেননি। সে যেটা করছে সেটা সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। তেঁতুলিয়ার সম্মানহানী হলো। তার সমস্যা হয়েছে বলতে পারতো, সবাই বসে সমাধান করা যেতো। ইউএনও মহাদয় ভাল মানুষ। আমরা শতভাগ কাজ করি, তদন্ত করার পরেই আমরা বিল উত্তোলন করি।
একই কথা বলেন, উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তারেক হোসেন, আমাদের কাছে মনে হয়েছে তার এমন অভিযোগের সঠিকতা নেই। ওনার এমন অভিযোগ থাকলে আমাদের চেয়ারম্যানদের বলতে পারতেন, আমরা সবাই বলে সমাধানের ব্যবস্থা করতাম। তিনি যেটা করছে ঠিক তা করেননি।
এদিকে শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, একজন ইউএনও একজন চেয়ারম্যানের কাছে তেল মারার সময় নাই, ৪টা পর্যন্ত তেল মারার কারণ একটায় যেন আমি ভিডিও গুলো ভাইরাল না করি। পিআইওকে ওখানে বলে দেওয়া হয়নি এখানে আলমগীর চেয়ারম্যানকে দিয়ে সকল ইউনিয়নের টাকাগুলো কালেকশন করা হয়েছে এবং এর সরাসরি নির্দেশনা দিয়েছেন ইউএনও মহোদয়। এই রিসেন্ট তো পনেরো পারসেন্টে টাকা দিতে গিয়ে ৩লাখ টাকা উনাকে ঘুষ দিতে হয়েছে আমার মেম্বাররা সবাই জানে, মিটিং করেই দেওয়া হয়েছে। তবে পনেরো পারসেন্ট টাকা নেওয়ার কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, আশরাফুল ইসলাম নামে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তার আশরাফ শেখ (ইংরেজি) ফেসবুক আইডিতে যে ভিডিও প্রকাশ বা লাইভ করেছেন তার সাথে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই, সেটি ভিত্তিহীন। তিনি আরও বলেন, তেঁতুলিয়া মডেল থানা পুলিশ কর্তৃক ওই চেয়ারম্যান গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনার জন্য আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে চলমান ৪টি ফৌজদারী মামলার বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে লিখিতভাবে জানোনা হয়। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মসহ ইউনিয়ন পরিষদ ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের পরিপন্থি অভিযোগ রয়েছে।


























