০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬

পঞ্চগড়ের দেবনগড় ইউনিয়নে টিআর কাবিটা-কাবিখা কাজে ব্যবহার হচ্ছে নিম্নমানের সামগ্রী

বিশেষ প্রতিনিধি
  • Update Time : ০১:৩৪:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
  • / ১৮ Time View
পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগড় ইউনিয়ন পরিষদে টিআর কাবিটা-কাবিখা কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে  নিম্নমানের  ইট ও অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী এলাবাসীর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার যোগসাজসে এসব কাজ হচ্ছে বলে অনেকেই দাবি করছেন।

সরেজমিনে ওই ইউনিয়নের প্রায় সবগুলো প্রকল্পে গেলে সোলিং এর নির্মাণ কাজে তিন নম্বর (শাল্টি) ইট ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়া সিসি কাজে ব্যবহার হয়েছে  নিম্নমানের সিমেন্ট ও পাথর চিপস বা ইটের খোয়া।

জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির ১ম পর্যায় প্রকল্পের আওতায় দেবনগড় ইউনিয়ন পরিষদের খেকিডাঙ্গী পাকা রাস্তা হইতে তহিদুলের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তায় ইট সোলিং করণ বাবদ ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা, মাঝগ্রাম তরিফ উদ্দিনের বাড়ী হইতে রসিদুলের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তায় ইট সোলিং করণ বাবদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা,  নিজবাড়ী পাকা রাস্তা হইতে মহিলা মাদ্রাসা পর্যন্ত সিসি ঢালাই করণ বাবদ ২ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ও সুকানী ভাঙা লোহার ব্রিজ কাঠ দিয়ে নির্মাণ বাবদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। কাবিটা প্রকল্পের আওতায় দলুয়াগছ পাকা রাস্তা হইতে ময়নুল এর বাড়ী পর্যন্ত রাস্তায় ইটের সোলিং করণ বাবদ ২লাখ ৩০ হাজার টাকা, নন্দগছ জহিরুলের বাড়ী হতে জাহিরুলের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তায় ইটের সোলিং করণ বাবদ ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, মাগুরমারী পাকা রাস্তা হতে পশ্চিমে আব্দুল জব্বারের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তায় ইটের সোলিং করণ বাবদ ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, ময়নাগুড়ী রঞ্জুর বাড়ী হতে আলমের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তায় ইটের সোলিং করণ বাবদ ২লাখ ৩০ হাজার ৫১৯ টাকা ও ঝালিংগীগছ জাহিদুলের বাড়ী হইতে কমিরুলের বাড়ী পর্যণÍ রাস্তায় ইটের সোলিং করণ বাবদ ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা এবং কাবিখা চাল হতে দেবনগড় পাকা রাস্তা হতে বিএনপির অফিস পর্যন্ত কাচা রাস্তায় মাটি ভরাট ও ইউড্রেন নির্মাণ ৬ দশমিক ৯৬৭ মেট্রিক টন ও গম হতে ময়নাগুড়ী পাকা রাস্তা হতে হাফেজিয়া মাদ্রাসা পর্যন্ত রাস্তা সিসি ঢালাই করণ ৬ দশমিক ৯৬৭ মেট্রিক টন বরাদ্দ দেয় সরকার।

গত বৃহস্পতিবার (৫মার্চ) এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে খেকিডাঙ্গী পাকা রাস্তা হইতে তহিদুলের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা ইট সোলিং করণ, দলুয়াগছ পাকা রাস্তা হইতে ময়নুল এর বাড়ী পর্যন্ত রাস্তায় ইটের সোলিং করণ ও নন্দগছ জহিরুলের বাড়ী হতে জাহিরুলের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তায় ইটের সোলিং করণ প্রকল্পে গেলে চোখে পড়ে  নিম্নমানের ইটের দৃশ্য। এছাড়াও অন্যান্য প্রকল্পগুলোর একই অবস্থা দেখা গেছে। এদিকে জানা গেছে, দেবনগড় পাকা রাস্তা হতে বিএনপির অফিস পর্যন্ত কাচা রাস্তায় মাটি ভরাট ও ইউড্রেন নির্মাণের কোনো কাজই করেননি চেয়ারম্যান।

খেকিডাঙ্গী পাকা রাস্তা হইতে তহিদুলের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা ইট সোলিং করণ প্রকল্পে পৌঁছা মাত্রই কাফি ও হালিমসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি জানান, এই রাস্তায় যে ইট গুলো ব্যবহার হচ্ছে এগুলো তিন নম্বর ইট। এভাবে রাস্তার কাজ না করতেও পারতেন আগেই রাস্তাটি ভালো ছিল। কয়েকমাস যেতে না যেতেই ইট গুলো ভেঙে যাবে সোলিং দেবে যাবে।
অন্যদিকে দলুয়াগছ পাকা রাস্তা হইতে ময়নুল এর বাড়ী পর্যন্ত রাস্তায় ইটের সোলিং করণ প্রকল্পে পৌঁছা মাত্রই তরুণ ও বয়স্ক ব্যক্তিরা বলেন, আগেই রাস্তাটি অনেক শক্ত ও সমান ছিল। এখন রাস্তাটি আরো খারাপ করছে। ইটের এজিং নরম মাটিতে পুতে দেওয়া হয়েছে। বর্ষা এলেই সাইটের মাটি থাকবে না। সাইটের মাটি না থাকলে ইট ধ্বসে পড়বে। এর আগে মাঝগ্রাম তরিফ উদ্দিনের বাড়ী হইতে রসিদুলের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা ইট সোলিং করণ প্রকল্পের ইটের মান নিয়ে নিউজ প্রকাশিত হলেও  নিম্নমানের ইট দিয়েই কাজ করা হয়েছে। এতে এলাকার মানুষ দায়িত্বরতদের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে বলেন, কাকে কি বলবেন দুর্নীতির বিষয়ে কেউ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে দেবনগড় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ছলেমান আলী বলেন, মেম্বাররা কে কখন কাজ করছে সেটা তো আমাকে বলছে না। ইট নি¤œমানের কিনা তাও তিনি বলতে পারছেন না।

এদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম শাহ গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ঘটনাস্থলে বলেন, তিনি কোনোই  নিম্নমানের ইট দেখছে না। ইটগুলো ভালোই রয়েছে। এলাকাবাসী তিন নম্বর ইটের কথা জানালে তিনি এলাকাবাসীর সঙ্গে পেঁচ ধরা কথা বলেন। অবশেষে প্রকল্প স্থান থেকে সটকে পড়েন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, প্রকল্প দেখার জন্য নির্দিষ্ট দপ্তর রয়েছে। আপনি (সাংবাদিক) পিআইওকে এসব বিষয়ে বলেন। তবে যদি কোনো প্রকল্প  নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ হয়, অভিযোগ পেলে কোনো বিল দেওয়া হবে না।
Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thedailysarkar@gmail.com

About Author Information

পঞ্চগড়ের দেবনগড় ইউনিয়নে টিআর কাবিটা-কাবিখা কাজে ব্যবহার হচ্ছে নিম্নমানের সামগ্রী

Update Time : ০১:৩৪:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগড় ইউনিয়ন পরিষদে টিআর কাবিটা-কাবিখা কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে  নিম্নমানের  ইট ও অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী এলাবাসীর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার যোগসাজসে এসব কাজ হচ্ছে বলে অনেকেই দাবি করছেন।

সরেজমিনে ওই ইউনিয়নের প্রায় সবগুলো প্রকল্পে গেলে সোলিং এর নির্মাণ কাজে তিন নম্বর (শাল্টি) ইট ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়া সিসি কাজে ব্যবহার হয়েছে  নিম্নমানের সিমেন্ট ও পাথর চিপস বা ইটের খোয়া।

জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির ১ম পর্যায় প্রকল্পের আওতায় দেবনগড় ইউনিয়ন পরিষদের খেকিডাঙ্গী পাকা রাস্তা হইতে তহিদুলের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তায় ইট সোলিং করণ বাবদ ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা, মাঝগ্রাম তরিফ উদ্দিনের বাড়ী হইতে রসিদুলের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তায় ইট সোলিং করণ বাবদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা,  নিজবাড়ী পাকা রাস্তা হইতে মহিলা মাদ্রাসা পর্যন্ত সিসি ঢালাই করণ বাবদ ২ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ও সুকানী ভাঙা লোহার ব্রিজ কাঠ দিয়ে নির্মাণ বাবদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। কাবিটা প্রকল্পের আওতায় দলুয়াগছ পাকা রাস্তা হইতে ময়নুল এর বাড়ী পর্যন্ত রাস্তায় ইটের সোলিং করণ বাবদ ২লাখ ৩০ হাজার টাকা, নন্দগছ জহিরুলের বাড়ী হতে জাহিরুলের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তায় ইটের সোলিং করণ বাবদ ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, মাগুরমারী পাকা রাস্তা হতে পশ্চিমে আব্দুল জব্বারের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তায় ইটের সোলিং করণ বাবদ ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, ময়নাগুড়ী রঞ্জুর বাড়ী হতে আলমের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তায় ইটের সোলিং করণ বাবদ ২লাখ ৩০ হাজার ৫১৯ টাকা ও ঝালিংগীগছ জাহিদুলের বাড়ী হইতে কমিরুলের বাড়ী পর্যণÍ রাস্তায় ইটের সোলিং করণ বাবদ ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা এবং কাবিখা চাল হতে দেবনগড় পাকা রাস্তা হতে বিএনপির অফিস পর্যন্ত কাচা রাস্তায় মাটি ভরাট ও ইউড্রেন নির্মাণ ৬ দশমিক ৯৬৭ মেট্রিক টন ও গম হতে ময়নাগুড়ী পাকা রাস্তা হতে হাফেজিয়া মাদ্রাসা পর্যন্ত রাস্তা সিসি ঢালাই করণ ৬ দশমিক ৯৬৭ মেট্রিক টন বরাদ্দ দেয় সরকার।

গত বৃহস্পতিবার (৫মার্চ) এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে খেকিডাঙ্গী পাকা রাস্তা হইতে তহিদুলের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা ইট সোলিং করণ, দলুয়াগছ পাকা রাস্তা হইতে ময়নুল এর বাড়ী পর্যন্ত রাস্তায় ইটের সোলিং করণ ও নন্দগছ জহিরুলের বাড়ী হতে জাহিরুলের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তায় ইটের সোলিং করণ প্রকল্পে গেলে চোখে পড়ে  নিম্নমানের ইটের দৃশ্য। এছাড়াও অন্যান্য প্রকল্পগুলোর একই অবস্থা দেখা গেছে। এদিকে জানা গেছে, দেবনগড় পাকা রাস্তা হতে বিএনপির অফিস পর্যন্ত কাচা রাস্তায় মাটি ভরাট ও ইউড্রেন নির্মাণের কোনো কাজই করেননি চেয়ারম্যান।

খেকিডাঙ্গী পাকা রাস্তা হইতে তহিদুলের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা ইট সোলিং করণ প্রকল্পে পৌঁছা মাত্রই কাফি ও হালিমসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি জানান, এই রাস্তায় যে ইট গুলো ব্যবহার হচ্ছে এগুলো তিন নম্বর ইট। এভাবে রাস্তার কাজ না করতেও পারতেন আগেই রাস্তাটি ভালো ছিল। কয়েকমাস যেতে না যেতেই ইট গুলো ভেঙে যাবে সোলিং দেবে যাবে।
অন্যদিকে দলুয়াগছ পাকা রাস্তা হইতে ময়নুল এর বাড়ী পর্যন্ত রাস্তায় ইটের সোলিং করণ প্রকল্পে পৌঁছা মাত্রই তরুণ ও বয়স্ক ব্যক্তিরা বলেন, আগেই রাস্তাটি অনেক শক্ত ও সমান ছিল। এখন রাস্তাটি আরো খারাপ করছে। ইটের এজিং নরম মাটিতে পুতে দেওয়া হয়েছে। বর্ষা এলেই সাইটের মাটি থাকবে না। সাইটের মাটি না থাকলে ইট ধ্বসে পড়বে। এর আগে মাঝগ্রাম তরিফ উদ্দিনের বাড়ী হইতে রসিদুলের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা ইট সোলিং করণ প্রকল্পের ইটের মান নিয়ে নিউজ প্রকাশিত হলেও  নিম্নমানের ইট দিয়েই কাজ করা হয়েছে। এতে এলাকার মানুষ দায়িত্বরতদের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে বলেন, কাকে কি বলবেন দুর্নীতির বিষয়ে কেউ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে দেবনগড় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ছলেমান আলী বলেন, মেম্বাররা কে কখন কাজ করছে সেটা তো আমাকে বলছে না। ইট নি¤œমানের কিনা তাও তিনি বলতে পারছেন না।

এদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম শাহ গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ঘটনাস্থলে বলেন, তিনি কোনোই  নিম্নমানের ইট দেখছে না। ইটগুলো ভালোই রয়েছে। এলাকাবাসী তিন নম্বর ইটের কথা জানালে তিনি এলাকাবাসীর সঙ্গে পেঁচ ধরা কথা বলেন। অবশেষে প্রকল্প স্থান থেকে সটকে পড়েন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, প্রকল্প দেখার জন্য নির্দিষ্ট দপ্তর রয়েছে। আপনি (সাংবাদিক) পিআইওকে এসব বিষয়ে বলেন। তবে যদি কোনো প্রকল্প  নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ হয়, অভিযোগ পেলে কোনো বিল দেওয়া হবে না।