১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬
https://www.facebook.com/obaidul1991

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চিত্রশিল্পী সাঈদা কামাল টুলুর মৃত্যুতে বিশিষ্ট্যজনের শোকবার্তা

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
  • Update Time : ০২:৫৬:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৪ Time View

নিজস্ব প্রতিনিধি: বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী সাঈদা কামাল টুলুর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ দেশের বিশিষ্ট্যজনরা। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চিত্রশিল্পী সাঈদা কামাল টুলুর মৃত্যুতে বাংলাদেশ হারাল মুক্তিযুদ্ধের এক সাহসী অংশগ্রহণকারী অগ্নিকন্যা এবং শিল্পাঙ্গনের একজন গুণী মানুষকে।
রোববার (১৮ অক্টোবর ২০২৬) সকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৪ বছর বয়সে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি তাঁর একমাত্র মেয়েকে রেখে গেছেন, যিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত কবি ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অগ্রণী ব্যক্তিত্ব সুফিয়া কামালের কনিষ্ঠ কন্যা এবং মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামালের ছোট বোন। সুফিয়া কামালের ৬ সন্তান মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সাঈদা কামাল টুলুর অবদান ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি তাঁর বড় বোন সুলতানা কামালের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধের এলাকায় বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতালে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্য তাঁর এই মানবিক অবদান ও সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘সর্বাধিনায়কের বিশেষ প্রশংসাপত্র’ লাভকরেন।
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের পাশাপাশি চিত্রশিল্পী হিসেবেও তিনি নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে শিল্পশিক্ষা গ্রহণের পর ভারতের শান্তিনিকেতনের কলাভবনে নকশাবিষয়ক প্রশিক্ষণ নেন। তাঁর শিল্পকর্ম দেশে-বিদেশে বিভিন্ন একক ও যৌথ প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে। সৃজনশীল শিল্পচর্চার মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের চারুশিল্পের জগতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।
সাঈদা কামাল টুলুর জীবন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়-দেশপ্রেম শুধু যুদ্ধের ময়দানে সাহসিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের সেবা, মানবিক দায়িত্ববোধ এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়েও দেশ ও সমাজের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ ঘটে।
তাঁর প্রয়াণে পরিবার-পরিজন, স্বজন, সহযোদ্ধা, শিল্পীসমাজ এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী গভীরভাবে শোকাহত। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা সৃষ্টিকর্তা অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার শক্তি দান করুন- মহান আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন, আমীন।
শোকবার্তায়-আমরা মুক্তিযোদ্ধার পক্ষে-
বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন হায়দার খোকা, মশগুল চৌধুরী, শফিকুর রহমান শহীদ, মাহমুদুল আলম খান বেনু, শামসুল আলম খান রিজভী, মনিরুল হক, শামসুদ্দিন পেয়ারা, জি কে বাবুল, আবু বক্কর সিদ্দিক, এস.কে. মহিউদ্দিন চৌধুরী, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন, সৈয়দ মামুন মাহবুব (সিনিয়র এডভোকেট), কাজী জহিরুল কাইয়ূম, মশরুরুল হক, বাবুল খান, মৃণাল, আলম ভূঁইয়া, ড. তারেক হারুণ, শাহারুক হক, তাসলিম, সাজ্জাত জহির, মতিন হাওলাদার, নুরুল ইসলাম নাসিরউদ্দিন সহ আরও অনেকে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

thedailysarkar

দৈনিক সরকার পত্রিকা ১৯৯১ সাল হতে ঢাকা হতে প্রকাশিত হচ্ছে।

https://www.facebook.com/obaidul1991

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চিত্রশিল্পী সাঈদা কামাল টুলুর মৃত্যুতে বিশিষ্ট্যজনের শোকবার্তা

Update Time : ০২:৫৬:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি: বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী সাঈদা কামাল টুলুর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ দেশের বিশিষ্ট্যজনরা। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চিত্রশিল্পী সাঈদা কামাল টুলুর মৃত্যুতে বাংলাদেশ হারাল মুক্তিযুদ্ধের এক সাহসী অংশগ্রহণকারী অগ্নিকন্যা এবং শিল্পাঙ্গনের একজন গুণী মানুষকে।
রোববার (১৮ অক্টোবর ২০২৬) সকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৪ বছর বয়সে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি তাঁর একমাত্র মেয়েকে রেখে গেছেন, যিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত কবি ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অগ্রণী ব্যক্তিত্ব সুফিয়া কামালের কনিষ্ঠ কন্যা এবং মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামালের ছোট বোন। সুফিয়া কামালের ৬ সন্তান মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সাঈদা কামাল টুলুর অবদান ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি তাঁর বড় বোন সুলতানা কামালের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধের এলাকায় বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতালে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্য তাঁর এই মানবিক অবদান ও সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘সর্বাধিনায়কের বিশেষ প্রশংসাপত্র’ লাভকরেন।
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের পাশাপাশি চিত্রশিল্পী হিসেবেও তিনি নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে শিল্পশিক্ষা গ্রহণের পর ভারতের শান্তিনিকেতনের কলাভবনে নকশাবিষয়ক প্রশিক্ষণ নেন। তাঁর শিল্পকর্ম দেশে-বিদেশে বিভিন্ন একক ও যৌথ প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে। সৃজনশীল শিল্পচর্চার মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের চারুশিল্পের জগতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।
সাঈদা কামাল টুলুর জীবন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়-দেশপ্রেম শুধু যুদ্ধের ময়দানে সাহসিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের সেবা, মানবিক দায়িত্ববোধ এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়েও দেশ ও সমাজের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ ঘটে।
তাঁর প্রয়াণে পরিবার-পরিজন, স্বজন, সহযোদ্ধা, শিল্পীসমাজ এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী গভীরভাবে শোকাহত। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা সৃষ্টিকর্তা অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার শক্তি দান করুন- মহান আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন, আমীন।
শোকবার্তায়-আমরা মুক্তিযোদ্ধার পক্ষে-
বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন হায়দার খোকা, মশগুল চৌধুরী, শফিকুর রহমান শহীদ, মাহমুদুল আলম খান বেনু, শামসুল আলম খান রিজভী, মনিরুল হক, শামসুদ্দিন পেয়ারা, জি কে বাবুল, আবু বক্কর সিদ্দিক, এস.কে. মহিউদ্দিন চৌধুরী, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন, সৈয়দ মামুন মাহবুব (সিনিয়র এডভোকেট), কাজী জহিরুল কাইয়ূম, মশরুরুল হক, বাবুল খান, মৃণাল, আলম ভূঁইয়া, ড. তারেক হারুণ, শাহারুক হক, তাসলিম, সাজ্জাত জহির, মতিন হাওলাদার, নুরুল ইসলাম নাসিরউদ্দিন সহ আরও অনেকে।