০৩:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬

সাভারে নদী থেকে মিলল লাশের খণ্ডিত অংশ

বিশেষ প্রতিনিধি
  • Update Time : ১১:৪২:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
  • / ১৪ Time View

ফয়সাল , সাভার প্রতিনিধি : রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে কাটা হাত-পা উদ্ধারের ঘটনার পর সাভারের আমিনবাজার এলাকায় তুরাগ নদী থেকে এক যুবকের দেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মতিঝিল থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল রোববার (১ মার্চ) দিনভর অভিযান চালিয়ে সালেপুর ব্রিজের নিচ থেকে মরদেহের অংশগুলো উদ্ধার করে।

আমিনবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জাকির হোসেন জানান, সকালে অভিযান শুরু হলে প্রথমেই পেটের নিচের অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। বাকি অংশ উদ্ধারে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

ঢাকার সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশন–এর ডুবুরি দলের ইনচার্জ মো. আবুল খায়ের বলেন, ভোরে পুলিশের কাছ থেকে খবর পেয়ে চার সদস্যের একটি দল নিয়ে তারা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। অভিযানের শুরুতে কোমরের একটি অংশ পাওয়া যায়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে পল্টনের আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের সামনে একটি কাটা পা উদ্ধার করা হয়। পরদিন সকালে বায়তুল মোকাররম–এর সামনে থেকে দুটি হাত এবং পরে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে আরেকটি পা উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া হাতের আঙুলের ছাপ যাচাই করে পুলিশ নিশ্চিত হয়, খণ্ডিত অংশগুলো ৩০ বছর বয়সী ওবায়দুল্লাহর। তিনি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং একটি হোমিওপ্যাথিক প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, রাজধানীর স্কাউট ভবনের সামনে স্থাপিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি সাইকেলে এসে কালো পলিথিনে মোড়ানো কিছু ফেলে দ্রুত সরে যান। ভিডিও বিশ্লেষণে ওই ব্যক্তিকে শাহীন হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

পুলিশ জানায়, নিহত ওবায়দুল্লাহ মতিঝিলের কবি জসীমউদ্দীন রোডের একটি ফ্ল্যাটে হোটেল কর্মচারী শাহীন আলমের সঙ্গে থাকতেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন আলম ব্যক্তিগত ক্ষোভের জেরে শুক্রবার রাতে ওবায়দুল্লাহকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের। পরে মরদেহ টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন। নিহত ব্যক্তি তাকে ও তার পরিবারকে নিয়ে কটূক্তি করতেন বলেও তিনি জানান। শাহীনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতি জব্দ করেছে।

এসআই জাকির হোসেন বলেন, একটি খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা গেলেও বাকি অংশ উদ্ধারে অভিযান চলছে। মরদেহের সব অংশ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thedailysarkar@gmail.com

About Author Information

সাভারে নদী থেকে মিলল লাশের খণ্ডিত অংশ

Update Time : ১১:৪২:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

ফয়সাল , সাভার প্রতিনিধি : রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে কাটা হাত-পা উদ্ধারের ঘটনার পর সাভারের আমিনবাজার এলাকায় তুরাগ নদী থেকে এক যুবকের দেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মতিঝিল থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল রোববার (১ মার্চ) দিনভর অভিযান চালিয়ে সালেপুর ব্রিজের নিচ থেকে মরদেহের অংশগুলো উদ্ধার করে।

আমিনবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জাকির হোসেন জানান, সকালে অভিযান শুরু হলে প্রথমেই পেটের নিচের অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। বাকি অংশ উদ্ধারে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

ঢাকার সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশন–এর ডুবুরি দলের ইনচার্জ মো. আবুল খায়ের বলেন, ভোরে পুলিশের কাছ থেকে খবর পেয়ে চার সদস্যের একটি দল নিয়ে তারা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। অভিযানের শুরুতে কোমরের একটি অংশ পাওয়া যায়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে পল্টনের আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের সামনে একটি কাটা পা উদ্ধার করা হয়। পরদিন সকালে বায়তুল মোকাররম–এর সামনে থেকে দুটি হাত এবং পরে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে আরেকটি পা উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া হাতের আঙুলের ছাপ যাচাই করে পুলিশ নিশ্চিত হয়, খণ্ডিত অংশগুলো ৩০ বছর বয়সী ওবায়দুল্লাহর। তিনি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং একটি হোমিওপ্যাথিক প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, রাজধানীর স্কাউট ভবনের সামনে স্থাপিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি সাইকেলে এসে কালো পলিথিনে মোড়ানো কিছু ফেলে দ্রুত সরে যান। ভিডিও বিশ্লেষণে ওই ব্যক্তিকে শাহীন হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

পুলিশ জানায়, নিহত ওবায়দুল্লাহ মতিঝিলের কবি জসীমউদ্দীন রোডের একটি ফ্ল্যাটে হোটেল কর্মচারী শাহীন আলমের সঙ্গে থাকতেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন আলম ব্যক্তিগত ক্ষোভের জেরে শুক্রবার রাতে ওবায়দুল্লাহকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের। পরে মরদেহ টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন। নিহত ব্যক্তি তাকে ও তার পরিবারকে নিয়ে কটূক্তি করতেন বলেও তিনি জানান। শাহীনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতি জব্দ করেছে।

এসআই জাকির হোসেন বলেন, একটি খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা গেলেও বাকি অংশ উদ্ধারে অভিযান চলছে। মরদেহের সব অংশ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে।