০৩:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬

রাজশাহীতে সারের সংকট: অতিরিক্ত দাম, হয়রানি ও ডিলারদের অনিয়মে দিশেহারা কৃষকরা

Reporter Name
  • Update Time : ০৩:০৪:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২৮০ Time View

স্টাফ রিপোর্টার : মো: আতিকুর রহমান :রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় সরকারি বরাদ্দকৃত সার পাচ্ছেন না কৃষকেরা। ইউনিয়ন পর্যায়ের অনেক ডিলার নিয়মিত সার না পাওয়ার অজুহাত দেখালেও বাস্তবে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি, কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা দিয়ে কৃষকদের বাধ্য হয়ে কীটনাশকের দোকান বা বেসরকারি ব্যবসায়ী থেকে সার কিনতে হচ্ছে।

অভিযোগ: ডিলারদের সিন্ডিকেট, কৃষকের ভোগান্তি
রাজশাহীর বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে— ডিলাররা সময়মতো সার না এনে ‘সরবরাহ কম’ দেখিয়ে সংকট সৃষ্টি করছে।

সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০–৩০০ টাকা বেশি দামে ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপি বিক্রি করা হচ্ছে। ডিলাররা অনেক সময় নিজস্ব পছন্দের মধ্যস্বত্বভোগীর কাছে সার বিক্রি করে বাজারে কৃত্রিম ঘাটতি তৈরি করছে।

একজন কৃষক বলেন, “সরকার দাম ঠিক করে দেয়, কিন্তু সেই দামে সার পাই না। বেশি দাম দিলেই তবেই সার মেলে। কে শুনবে আমাদের কথা?”

উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ
কৃষকদের অভিযোগ, উপজেলা কৃষি অফিস ও প্রশাসন বিষয়গুলো দেখেও না দেখার ভান করছে। অভিযোগ করলেও তদন্ত বা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

একজন স্থানীয় কৃষি ব্যবসায়ী বলেন, “মনিটরিং থাকলে এত অনিয়ম সম্ভব নয়। প্রশাসন চাইলে সার সংকট একদিনেই শেষ হয়ে যাবে।”

বিসিআইসি–বিএডিসি: বরাদ্দ ও নীতিমালায় সমন্বয়ের অভাব বাংলাদেশে সারের সরবরাহ প্রধানত দুটি সংস্থা পরিচালনা করে— বিসিআইসি (বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন): মূলত ইউরিয়া সার উৎপাদন ও বিতরণ করে।

বিএডিসি (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন): ইউরিয়া ছাড়া অন্যান্য সার (ডিএপি, টিএসপি, এমওপি), পাশাপাশি বীজ সরবরাহ করে।

কৃষকরা বলছেন, দুই সংস্থার ডিলারদের মাঝে নীতিমালার অসমতা ও সমন্বয়ের অভাবের কারণে মাঠপর্যায় বিতরণ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। কে কতটুকু সার বরাদ্দ পাবে—এ নিয়ে স্বচ্ছতা নেই। অনেকে অভিযোগ করেন, নিয়মিত মনিটরিং না থাকায় ডিলাররা সুযোগ নিচ্ছে।

কৃষকদের দাবি: সমন্বিত নীতিমালা ও কঠোর তদারকি, কৃষকদের প্রধান দাবিগুলো— বিসিআইসি ও বিএডিসি ডিলারদের জন্য একীভূত ও স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন। উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং সেল গঠন।
ডিলারদের লাইসেন্স নবায়নের সময় অভিযোগের ভিত্তিতে মূল্যায়ন। কৃষকদের অভিযোগ করার জন্য হটলাইন বা দ্রুত প্রতিকার ব্যবস্থা চালু করা।

সরকারি আশ্বাস প্রয়োজন, কৃষিবিদরা বলছেন, সময়মতো সার না পেলে উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং মৌসুমী ফসলের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি অনিয়ম বন্ধে সরকারকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thedailysarkar@gmail.com

About Author Information

রাজশাহীতে সারের সংকট: অতিরিক্ত দাম, হয়রানি ও ডিলারদের অনিয়মে দিশেহারা কৃষকরা

Update Time : ০৩:০৪:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার : মো: আতিকুর রহমান :রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় সরকারি বরাদ্দকৃত সার পাচ্ছেন না কৃষকেরা। ইউনিয়ন পর্যায়ের অনেক ডিলার নিয়মিত সার না পাওয়ার অজুহাত দেখালেও বাস্তবে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি, কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা দিয়ে কৃষকদের বাধ্য হয়ে কীটনাশকের দোকান বা বেসরকারি ব্যবসায়ী থেকে সার কিনতে হচ্ছে।

অভিযোগ: ডিলারদের সিন্ডিকেট, কৃষকের ভোগান্তি
রাজশাহীর বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে— ডিলাররা সময়মতো সার না এনে ‘সরবরাহ কম’ দেখিয়ে সংকট সৃষ্টি করছে।

সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০–৩০০ টাকা বেশি দামে ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপি বিক্রি করা হচ্ছে। ডিলাররা অনেক সময় নিজস্ব পছন্দের মধ্যস্বত্বভোগীর কাছে সার বিক্রি করে বাজারে কৃত্রিম ঘাটতি তৈরি করছে।

একজন কৃষক বলেন, “সরকার দাম ঠিক করে দেয়, কিন্তু সেই দামে সার পাই না। বেশি দাম দিলেই তবেই সার মেলে। কে শুনবে আমাদের কথা?”

উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ
কৃষকদের অভিযোগ, উপজেলা কৃষি অফিস ও প্রশাসন বিষয়গুলো দেখেও না দেখার ভান করছে। অভিযোগ করলেও তদন্ত বা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

একজন স্থানীয় কৃষি ব্যবসায়ী বলেন, “মনিটরিং থাকলে এত অনিয়ম সম্ভব নয়। প্রশাসন চাইলে সার সংকট একদিনেই শেষ হয়ে যাবে।”

বিসিআইসি–বিএডিসি: বরাদ্দ ও নীতিমালায় সমন্বয়ের অভাব বাংলাদেশে সারের সরবরাহ প্রধানত দুটি সংস্থা পরিচালনা করে— বিসিআইসি (বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন): মূলত ইউরিয়া সার উৎপাদন ও বিতরণ করে।

বিএডিসি (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন): ইউরিয়া ছাড়া অন্যান্য সার (ডিএপি, টিএসপি, এমওপি), পাশাপাশি বীজ সরবরাহ করে।

কৃষকরা বলছেন, দুই সংস্থার ডিলারদের মাঝে নীতিমালার অসমতা ও সমন্বয়ের অভাবের কারণে মাঠপর্যায় বিতরণ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। কে কতটুকু সার বরাদ্দ পাবে—এ নিয়ে স্বচ্ছতা নেই। অনেকে অভিযোগ করেন, নিয়মিত মনিটরিং না থাকায় ডিলাররা সুযোগ নিচ্ছে।

কৃষকদের দাবি: সমন্বিত নীতিমালা ও কঠোর তদারকি, কৃষকদের প্রধান দাবিগুলো— বিসিআইসি ও বিএডিসি ডিলারদের জন্য একীভূত ও স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন। উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং সেল গঠন।
ডিলারদের লাইসেন্স নবায়নের সময় অভিযোগের ভিত্তিতে মূল্যায়ন। কৃষকদের অভিযোগ করার জন্য হটলাইন বা দ্রুত প্রতিকার ব্যবস্থা চালু করা।

সরকারি আশ্বাস প্রয়োজন, কৃষিবিদরা বলছেন, সময়মতো সার না পেলে উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং মৌসুমী ফসলের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি অনিয়ম বন্ধে সরকারকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।