১২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬

পড়ন্ত বেলায় মৃত্যুর কথা স্মরন হয় কেন ?—— মোশারফ হোসেন

মতামত
  • Update Time : ০৪:১৫:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • / ৩ Time View

জন্মের পর শিশুর বোধ শক্তি আসার পর মুসলিম ধর্মের অনুসারী প্রত্যেক বাবা মায়ের
প্রথম কর্তব্যটি হল সন্তানকে ধর্ম শিক্ষায় শিক্ষিত করা। ধর্ম জ্ঞান থাকলে সন্তানটি
দুনিয়াতে হালাল হারাম সঠিকভাবে চিনতে পারবে। হারাম ভক্ষন থেকে বেঁচে থাকা একটি বড়
ইবাদত। যৌবনে অনেকের মনে জাগে লোভ লালসা। তখন শরীরের রক্তে প্রবাহিত হয় উজান
সাগরের স্রোত। সেই স্রোতের ধারা বেশীদিন দীর্ঘায়িত হয় না। যাদের ধর্ম জ্ঞান কলবে
আছে তারা ভূল ভ্রান্তি তাওবার মাধ্যমে আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমা নেওয়ার চেষ্টা করে।
তবে আল্লাহ তাওবাকারীকে পছন্দ করেন। আমাদের সমাজে ঘুষ একটি অন্যায় কাজ- একথা
সকলে একবাক্যে স্বীকার করেন। অথচ দুঃখজনক যে, এটি দেশের সর্বত্র বহাল তবিয়তে চালু
রয়েছে। এতে একজনের প্রাপ্তি এবং অন্যজনের ক্ষতি ও মনঃকষ্ট, মানুষে মানুষে ঘৃণা,
ক্ষোভ, আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা ইত্যাদি নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের মধ্য দিয়ে পুরো
রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ক্রমে বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হয়। অপরদিকে সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ
অখুশি হন। এর অশুভ পরিণতি এক সময় নিজের উপর ও পরবর্তী প্রজন্মের উপর বর্তায়।
তাই স্বভাবতঃই এর নগ্ন চেহারা ও অশুভ পরিণতি নিয়ে আলোচনা এখন খুবই প্রাসঙ্গিক
এবং সময়ের অনিবার্য দাবী। আমাদের দেশের ক্ষমতাধর স্বৈরী রাষ্ট্রনায়ক লোভের আঘাতে
ছিটকে পড়েন সিংহাসন থেকে। কোটি কোটি টাকার মালিক যারা, তাদের নামে দায়ের হয়
দুর্নীতির মামলা। দেশ ছেড়ে পালিয়ে থাকেন বিদেশে। অধিক রাজক্ষমতা যারা আঁকড়ে ধরে উড়ে
বেরিয়েছেন সদাসর্বত্র, তাদেরকে আজ ঘুরে ঘুরে যেতে হয় বিচারকের এজলাসে।
প্রতাপশালীরা এখন দুর্নীতির অপরাধে দেশছাড়া । এমন আরও কত কী! জনগনের আমানতের
খেয়ানত করে কেউ আল্লাহর কাছ থেকে ছাড় পায় না। এবার আসা যাক লেখার মূল প্রসঙ্গে।
পড়ন্ত বেলা বা সূর্যাস্তের সময় মৃত্যুর কথা স্মরণে আসার পেছনে মনস্তাত্ত্বিক, দার্শনিক
ও ধর্মীয় বিভিন্ন কারণ রয়েছে। দিনের সমাপ্তি যেমন রাতের আগমনকে অনিবার্য করে
তোলে, তেমনি মানুষের অবচেতন মন একে জীবনের সমাপ্তি বা মৃত্যুর রূপক হিসেবে গ্রহণ
করে। পড়ন্ত বেলায় মৃত্যুর কথা মনে আসার প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
প্রকৃতির রূপক:- দিনের শেষ বা সূর্যাস্তকে অনেক সময় জীবনের 'বেলা ফুরিয়ে যাওয়ার' সাথে
তুলনা করা হয় । সূর্যের ডুবে যাওয়া যেমন দিনের আলোর অবসান ঘটায়, মৃত্যুও তেমনি
পার্থিব জীবনের অবসান ঘটায়।
একাকিত্ব ও নিস্তব্ধতা:- দিনের কোলাহল কমে বিকেলে যখন শান্ত পরিবেশ তৈরি হয়, তখন
মানুষ নিজের সাথে সময় কাটানোর সুযোগ পায়। এই নির্জনতায় জীবনের গভীর সত্যগুলো
যেমন-অস্তিত্বের নশ্বরতা ও পরকাল নিয়ে চিন্তা মনে ভিড় করে ।
ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক প্রভাব:- ইসলাম ধর্মসহ বিভিন্ন দর্শনে মৃত্যুকে বারবার স্মরণ
করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে যাতে মানুষ ভুল পথে পরিচালিত না হয় । দিনের শেষে ইবাদত বা
প্রার্থনার সময় মানুষ নিজের সারা দিনের কাজের হিসাব মেলায় এবং স্বাভাবিকভাবেই চূড়ান্ত
হিসাবের দিন তথা মৃত্যুর কথা স্মরণে ।

অনিশ্চয়তা ও ভয়:- অন্ধকার বা রাতের আগমন মানুষের মনে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি
করে। এই অনিশ্চয়তা অনেক সময় অজানা জগত বা মৃত্যুর প্রতি ভয়ের উদ্বেগ সৃষ্টি করে ।
স্মৃতি ও বিষণ্ণতা :- শরতের বিকেল বা পড়ন্ত রোদের ম্লানতা মানুষের মধ্যে এক ধরনের
মনস্তাত্ত্বিক বিষণ্ণতা তৈরি করতে পারে, যা হারানো প্রিয়জন বা নিজের জীবনের
সংক্ষিপ্ততার কথা মনে করিয়ে দেয় ।
শরীরের দূর্বলতার কারনে অতীতের সকল কর্মকান্ড যখন চোখের আয়নায় উদয় হতে থাকে
তখনই পড়ন্ত বেলার এই ভাবনার মাধ্যমে মানুষ মূলত জীবনের নশ্বরতাকে স্বীকার করে নিয়ে
তাওবা করে সৎ পথে চলার প্রেরণা পায় ।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thedailysarkar@gmail.com

About Author Information

পড়ন্ত বেলায় মৃত্যুর কথা স্মরন হয় কেন ?—— মোশারফ হোসেন

Update Time : ০৪:১৫:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

জন্মের পর শিশুর বোধ শক্তি আসার পর মুসলিম ধর্মের অনুসারী প্রত্যেক বাবা মায়ের
প্রথম কর্তব্যটি হল সন্তানকে ধর্ম শিক্ষায় শিক্ষিত করা। ধর্ম জ্ঞান থাকলে সন্তানটি
দুনিয়াতে হালাল হারাম সঠিকভাবে চিনতে পারবে। হারাম ভক্ষন থেকে বেঁচে থাকা একটি বড়
ইবাদত। যৌবনে অনেকের মনে জাগে লোভ লালসা। তখন শরীরের রক্তে প্রবাহিত হয় উজান
সাগরের স্রোত। সেই স্রোতের ধারা বেশীদিন দীর্ঘায়িত হয় না। যাদের ধর্ম জ্ঞান কলবে
আছে তারা ভূল ভ্রান্তি তাওবার মাধ্যমে আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমা নেওয়ার চেষ্টা করে।
তবে আল্লাহ তাওবাকারীকে পছন্দ করেন। আমাদের সমাজে ঘুষ একটি অন্যায় কাজ- একথা
সকলে একবাক্যে স্বীকার করেন। অথচ দুঃখজনক যে, এটি দেশের সর্বত্র বহাল তবিয়তে চালু
রয়েছে। এতে একজনের প্রাপ্তি এবং অন্যজনের ক্ষতি ও মনঃকষ্ট, মানুষে মানুষে ঘৃণা,
ক্ষোভ, আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা ইত্যাদি নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের মধ্য দিয়ে পুরো
রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ক্রমে বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হয়। অপরদিকে সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ
অখুশি হন। এর অশুভ পরিণতি এক সময় নিজের উপর ও পরবর্তী প্রজন্মের উপর বর্তায়।
তাই স্বভাবতঃই এর নগ্ন চেহারা ও অশুভ পরিণতি নিয়ে আলোচনা এখন খুবই প্রাসঙ্গিক
এবং সময়ের অনিবার্য দাবী। আমাদের দেশের ক্ষমতাধর স্বৈরী রাষ্ট্রনায়ক লোভের আঘাতে
ছিটকে পড়েন সিংহাসন থেকে। কোটি কোটি টাকার মালিক যারা, তাদের নামে দায়ের হয়
দুর্নীতির মামলা। দেশ ছেড়ে পালিয়ে থাকেন বিদেশে। অধিক রাজক্ষমতা যারা আঁকড়ে ধরে উড়ে
বেরিয়েছেন সদাসর্বত্র, তাদেরকে আজ ঘুরে ঘুরে যেতে হয় বিচারকের এজলাসে।
প্রতাপশালীরা এখন দুর্নীতির অপরাধে দেশছাড়া । এমন আরও কত কী! জনগনের আমানতের
খেয়ানত করে কেউ আল্লাহর কাছ থেকে ছাড় পায় না। এবার আসা যাক লেখার মূল প্রসঙ্গে।
পড়ন্ত বেলা বা সূর্যাস্তের সময় মৃত্যুর কথা স্মরণে আসার পেছনে মনস্তাত্ত্বিক, দার্শনিক
ও ধর্মীয় বিভিন্ন কারণ রয়েছে। দিনের সমাপ্তি যেমন রাতের আগমনকে অনিবার্য করে
তোলে, তেমনি মানুষের অবচেতন মন একে জীবনের সমাপ্তি বা মৃত্যুর রূপক হিসেবে গ্রহণ
করে। পড়ন্ত বেলায় মৃত্যুর কথা মনে আসার প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
প্রকৃতির রূপক:- দিনের শেষ বা সূর্যাস্তকে অনেক সময় জীবনের 'বেলা ফুরিয়ে যাওয়ার' সাথে
তুলনা করা হয় । সূর্যের ডুবে যাওয়া যেমন দিনের আলোর অবসান ঘটায়, মৃত্যুও তেমনি
পার্থিব জীবনের অবসান ঘটায়।
একাকিত্ব ও নিস্তব্ধতা:- দিনের কোলাহল কমে বিকেলে যখন শান্ত পরিবেশ তৈরি হয়, তখন
মানুষ নিজের সাথে সময় কাটানোর সুযোগ পায়। এই নির্জনতায় জীবনের গভীর সত্যগুলো
যেমন-অস্তিত্বের নশ্বরতা ও পরকাল নিয়ে চিন্তা মনে ভিড় করে ।
ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক প্রভাব:- ইসলাম ধর্মসহ বিভিন্ন দর্শনে মৃত্যুকে বারবার স্মরণ
করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে যাতে মানুষ ভুল পথে পরিচালিত না হয় । দিনের শেষে ইবাদত বা
প্রার্থনার সময় মানুষ নিজের সারা দিনের কাজের হিসাব মেলায় এবং স্বাভাবিকভাবেই চূড়ান্ত
হিসাবের দিন তথা মৃত্যুর কথা স্মরণে ।

অনিশ্চয়তা ও ভয়:- অন্ধকার বা রাতের আগমন মানুষের মনে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি
করে। এই অনিশ্চয়তা অনেক সময় অজানা জগত বা মৃত্যুর প্রতি ভয়ের উদ্বেগ সৃষ্টি করে ।
স্মৃতি ও বিষণ্ণতা :- শরতের বিকেল বা পড়ন্ত রোদের ম্লানতা মানুষের মধ্যে এক ধরনের
মনস্তাত্ত্বিক বিষণ্ণতা তৈরি করতে পারে, যা হারানো প্রিয়জন বা নিজের জীবনের
সংক্ষিপ্ততার কথা মনে করিয়ে দেয় ।
শরীরের দূর্বলতার কারনে অতীতের সকল কর্মকান্ড যখন চোখের আয়নায় উদয় হতে থাকে
তখনই পড়ন্ত বেলার এই ভাবনার মাধ্যমে মানুষ মূলত জীবনের নশ্বরতাকে স্বীকার করে নিয়ে
তাওবা করে সৎ পথে চলার প্রেরণা পায় ।