০৪:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬

ইউএনও’র অপেক্ষায় বসে থেকে সভা বর্জন: অশালীন মন্তব্যে ফুঁসছে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

বিশেষ প্রতিনিধি
  • Update Time : ০২:৫৯:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১২ Time View
নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি: পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে আয়োজিত প্রস্তুতি সভা রণক্ষেত্রে রূপ নিয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ গোলাম রব্বানী সরদার এর খামখেয়ালি এবং উপস্থিত সদস্যদের নিয়ে ‘অশালীন’ মন্তব্যের অভিযোগে সভা বর্জন করেছেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
​পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মিনি হলরুমে রমজান মাসের বাজার দর নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সভা হওয়ার কথা ছিল। সভায় উপস্থিত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের দাওয়াত দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট সময়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের খোকন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নুর কামাল, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দুরুল হোদা, উপজেলা জামায়াতের আমীর ইয়াকুব আলী, পৌর আমীর মনিরুল ইসলাম এবং বণিক সমিতির সভাপতি আসগার আলীসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত হন।
​উপস্থিত সদস্যরা মিটিং এর হলরুম ত্যাগ করে পরিষদ চত্বরে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে মিটিং বর্জন এর বিষয়টি তুলে ধরেন।  সভা ১০টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও পৌনে ১১টা পর্যন্ত ইউএনও হলরুমে প্রবেশ করেননি। অথচ পাশের অফিস কক্ষে তিনি কয়েকজন অফিসারের সাথে খোশগল্পে মেতে ছিলেন। দীর্ঘ ৪৫ মিনিট অপেক্ষার পর চরম বিরক্ত হয়ে আমন্ত্রিত সদস্যরা হলরুম ত্যাগ করেন এবং সভা বর্জন করেন। এ ছাড়াও প্রধান শিক্ষকদের বিভিন্ন সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাগজ পত্রে স্বাক্ষরের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা বাইরে বসিয়ে রাখেন। এছাড়াও পৌরসভার ও উপজেলা পরিষদের ৪থ শ্রেণীর কর্মচারীদের সাথে হর হামেশাই অশালীন কমেন্ট করে থাকেন।
​সভা বর্জনের বিষয়ে ইউএনও’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মিটিংয়ে আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা দেরি হলে সমস্যা কোথায়? যারা চলে গেছে তাদের আমি দাওয়াত করিনি। কিছু ব্যবসায়ী এসেছে তাদের নিয়ে মিটিং করেছি । যারা চলে গেছে তারা চুলকানি করলে আমার কিছু যায় আসে না।” এমন অশালীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের খবর ছড়িয়ে পড়লে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
সভায় উপস্থিত কসবা ইউপি চেয়ারম্যান অভিযোগ করে জানান,  সোনাইচন্ডী পশুহাটের টেন্ডার বাক্স খোলার সময়ও তাকে জানানো হয়নি। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ইউএনও অবজ্ঞার সুরে বলেন, “তিনি আবার কে যে তাকে ডাকতে হবে?”
​জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি ইউএনও’র এমন আচরণকে ‘স্বৈরাচারী’ আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।  রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ইউএনও’র অপসারণ দাবি করেছেন।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক মোঃ শাহাদাত হোসেন এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে আস্বস্ত করেন।
Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thedailysarkar@gmail.com

About Author Information

ইউএনও’র অপেক্ষায় বসে থেকে সভা বর্জন: অশালীন মন্তব্যে ফুঁসছে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

Update Time : ০২:৫৯:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি: পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে আয়োজিত প্রস্তুতি সভা রণক্ষেত্রে রূপ নিয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ গোলাম রব্বানী সরদার এর খামখেয়ালি এবং উপস্থিত সদস্যদের নিয়ে ‘অশালীন’ মন্তব্যের অভিযোগে সভা বর্জন করেছেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
​পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মিনি হলরুমে রমজান মাসের বাজার দর নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সভা হওয়ার কথা ছিল। সভায় উপস্থিত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের দাওয়াত দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট সময়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের খোকন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নুর কামাল, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দুরুল হোদা, উপজেলা জামায়াতের আমীর ইয়াকুব আলী, পৌর আমীর মনিরুল ইসলাম এবং বণিক সমিতির সভাপতি আসগার আলীসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত হন।
​উপস্থিত সদস্যরা মিটিং এর হলরুম ত্যাগ করে পরিষদ চত্বরে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে মিটিং বর্জন এর বিষয়টি তুলে ধরেন।  সভা ১০টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও পৌনে ১১টা পর্যন্ত ইউএনও হলরুমে প্রবেশ করেননি। অথচ পাশের অফিস কক্ষে তিনি কয়েকজন অফিসারের সাথে খোশগল্পে মেতে ছিলেন। দীর্ঘ ৪৫ মিনিট অপেক্ষার পর চরম বিরক্ত হয়ে আমন্ত্রিত সদস্যরা হলরুম ত্যাগ করেন এবং সভা বর্জন করেন। এ ছাড়াও প্রধান শিক্ষকদের বিভিন্ন সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাগজ পত্রে স্বাক্ষরের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা বাইরে বসিয়ে রাখেন। এছাড়াও পৌরসভার ও উপজেলা পরিষদের ৪থ শ্রেণীর কর্মচারীদের সাথে হর হামেশাই অশালীন কমেন্ট করে থাকেন।
​সভা বর্জনের বিষয়ে ইউএনও’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মিটিংয়ে আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা দেরি হলে সমস্যা কোথায়? যারা চলে গেছে তাদের আমি দাওয়াত করিনি। কিছু ব্যবসায়ী এসেছে তাদের নিয়ে মিটিং করেছি । যারা চলে গেছে তারা চুলকানি করলে আমার কিছু যায় আসে না।” এমন অশালীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের খবর ছড়িয়ে পড়লে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
সভায় উপস্থিত কসবা ইউপি চেয়ারম্যান অভিযোগ করে জানান,  সোনাইচন্ডী পশুহাটের টেন্ডার বাক্স খোলার সময়ও তাকে জানানো হয়নি। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ইউএনও অবজ্ঞার সুরে বলেন, “তিনি আবার কে যে তাকে ডাকতে হবে?”
​জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি ইউএনও’র এমন আচরণকে ‘স্বৈরাচারী’ আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।  রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ইউএনও’র অপসারণ দাবি করেছেন।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক মোঃ শাহাদাত হোসেন এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে আস্বস্ত করেন।