০৪:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাটিকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ে দুর্নীতির অভিযোগে প্রধান শিক্ষিকা অবরুদ্ধ
বিশেষ প্রতিনিধি
- Update Time : ১০:২৬:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
- / ৭২ Time View

স্টাফ রিপোর্টার:( মোঃ আতিকুর রহমান) : রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা ইসমতআরার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। অভিযোগের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতা একপর্যায়ে বিদ্যালয়ের ভেতরেই প্রধান শিক্ষিকাকে অবরুদ্ধ করে রাখে।
রবিবার (৮ মার্চ) সকাল থেকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, উপবৃত্তির জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি’র চেয়ে বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগও উঠে এসেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, উপবৃত্তি সংক্রান্ত কার্যক্রমে কোনো স্বচ্ছতা নেই। অ্যাকাউন্ট খোলার অজুহাতে বারবার অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের। বিষয়টি নিয়ে বহুদিন ধরে অসন্তোষ থাকলেও কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে তারা দাবি করেন।
এছাড়াও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ফি নিয়েও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বোর্ড নির্ধারিত ফির চেয়ে অনেক বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে করে সাধারণ পরিবারের শিক্ষার্থীরা আর্থিকভাবে চাপে পড়েছে বলে জানান অভিভাবকরা।
অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের ক্যান্টিন বরাদ্দ নিয়েও অনিয়ম হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে ক্যান্টিন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
এসব অভিযোগের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রধান শিক্ষিকা ইসমতআরাকে বিদ্যালয়ের ভেতরেই অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ জনতা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন শামসুল ইসলাম। তিনি পরিস্থিতি শান্ত করতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন এবং ধৈর্যের সাথে তাদের অভিযোগ শোনেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুল ইসলাম উপস্থিত সবাইকে আশ্বস্ত করে বলেন, অভিযোগগুলো লিখিতভাবে জমা দিলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে। তিনি বিকাল ৩টার মধ্যে সব অভিযোগ লিখিত আকারে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগগুলো সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
বিদ্যালয়কে দুর্নীতিমুক্ত ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে পরিচালনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তাদের ভাষ্য, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো আপস নয়—শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলো তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হলেও স্থানীয়দের নজর এখন তদন্তের ফলাফল ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
Tag :























