০৫:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬

উৎসবমুখর পরিবেশে কানাডায় বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপিত

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
  • Update Time : ০৩:২২:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
  • / ৮ Time View

২৬ মার্চ ২০২৬, অটোয়া: যথাযথ মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে কানাডার অটোয়ায় মহান স্বাধীনতা ও
জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ হাইকমিশন কর্তৃক আয়োজিত এক কূটনৈতিক
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কানাডার সংসদ সদস্যবৃন্দ, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক
এবং প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন কানাডার
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদীয় সচিব রবার্ট অলিফ্যান্ট, এমপি।
হাইকমিশনার মোঃ জসীম উদ্দিন তাঁর স্বাগত ভাষণে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহিদ,
নির্যাতিতা বীরাঙ্গনা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি
উল্লেখ করেন যে, স্বাধীনতা কেবল একটি লক্ষ্য নয়, বরং এটি একটি নিরন্তর দায়িত্ব। গত ৫৫ বছর যাবৎ
বাংলাদেশ এই স্বাধীনতাকে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং জনগণের
আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রূপান্তর করার চেষ্টা চালিয়ে
যাচ্ছে। তিনি তৈরি পোশাক শিল্প, কৃষি, ক্ষুদ্রঋণ, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের
অভাবনীয় সাফল্যকে এই রূপান্তরের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন
অগ্রযাত্রায় কানাডার অংশীদারিত্ব এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও জনযোগাযোগের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান
দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মিয়ানমারে
প্রত্যাবাসন ইস্যুসহ বাংলাদেশের অন্যান্য চ্যালেঞ্জসমূহ তুলে ধরেন। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায়
হাইকমিশনার সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে বিশ্বশান্তি ও সহযোগিতার ওপর
গুরুত্বারোপ করেন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাকে সম্মিলিত অগ্রগতির কার্যকর পথ হিসেবে অভিহিত করেন।

 

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিশ্বমঞ্চে
গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য স্বীকৃত একটি রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে
বাংলাদেশের ভূমিকা এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকে দেশটির অগ্রগতির প্রশংসা করেন। পাশাপাশি কৃষি,
নবায়নযোগ্য জ্বালানি, দক্ষতা ও সেবা খাতে বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য সম্প্রসারণে কানাডার আগ্রহের কথা
জানান। তিনি বাংলাদেশের গত ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদীয় নির্বাচনকে ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ’ হিসেবে অভিহিত
করে এর ভূয়সী প্রশংসা করেন। এছাড়া ১০ লক্ষের অধিক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে
মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহায়তার প্রয়োজনীয়তার
কথা তিনি উল্লেখ করেন।
ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে আনুষ্ঠানিকভাবে কেক কাটা হয়, যা উদযাপনে এক উৎসবমুখর
মাত্রা যোগ করে। এ সময় প্রধান অতিথি রবার্ট অলিফ্যান্ট এমপি; কানাডা-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি
ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের সভাপতি ব্র্যাড রেডেকপ এমপি; এবং ডিপ্লোম্যাটিক কোরের ডিন ও মরক্কোর রাষ্ট্রদূত
হাইকমিশনারের সাথে যোগ দেন। এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশি শিল্পীদের পরিবেশনায় ‘বাংলাদেশ: বারো মাসে তেরো
পার্বণ’ শীর্ষক একটি আকর্ষণীয় নৃত্যনাট্য প্রদর্শিত হয়। বাংলাদেশের ঋতুচক্র ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের
এই নান্দনিক উপস্থাপন অতিথিদের মুগ্ধ করে।

বাংলাদেশ হাইকমিশন
অটোয়া, কানাডা

এর আগে সকালে ‘বাংলাদেশ হাউসে’ মিশনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে হাইকমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে
জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল শহিদের আত্মার
মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thedailysarkar@gmail.com

About Author Information

উৎসবমুখর পরিবেশে কানাডায় বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপিত

Update Time : ০৩:২২:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

২৬ মার্চ ২০২৬, অটোয়া: যথাযথ মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে কানাডার অটোয়ায় মহান স্বাধীনতা ও
জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ হাইকমিশন কর্তৃক আয়োজিত এক কূটনৈতিক
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কানাডার সংসদ সদস্যবৃন্দ, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক
এবং প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন কানাডার
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদীয় সচিব রবার্ট অলিফ্যান্ট, এমপি।
হাইকমিশনার মোঃ জসীম উদ্দিন তাঁর স্বাগত ভাষণে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহিদ,
নির্যাতিতা বীরাঙ্গনা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি
উল্লেখ করেন যে, স্বাধীনতা কেবল একটি লক্ষ্য নয়, বরং এটি একটি নিরন্তর দায়িত্ব। গত ৫৫ বছর যাবৎ
বাংলাদেশ এই স্বাধীনতাকে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং জনগণের
আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রূপান্তর করার চেষ্টা চালিয়ে
যাচ্ছে। তিনি তৈরি পোশাক শিল্প, কৃষি, ক্ষুদ্রঋণ, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের
অভাবনীয় সাফল্যকে এই রূপান্তরের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন
অগ্রযাত্রায় কানাডার অংশীদারিত্ব এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও জনযোগাযোগের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান
দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মিয়ানমারে
প্রত্যাবাসন ইস্যুসহ বাংলাদেশের অন্যান্য চ্যালেঞ্জসমূহ তুলে ধরেন। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায়
হাইকমিশনার সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে বিশ্বশান্তি ও সহযোগিতার ওপর
গুরুত্বারোপ করেন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাকে সম্মিলিত অগ্রগতির কার্যকর পথ হিসেবে অভিহিত করেন।

 

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিশ্বমঞ্চে
গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য স্বীকৃত একটি রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে
বাংলাদেশের ভূমিকা এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকে দেশটির অগ্রগতির প্রশংসা করেন। পাশাপাশি কৃষি,
নবায়নযোগ্য জ্বালানি, দক্ষতা ও সেবা খাতে বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য সম্প্রসারণে কানাডার আগ্রহের কথা
জানান। তিনি বাংলাদেশের গত ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদীয় নির্বাচনকে ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ’ হিসেবে অভিহিত
করে এর ভূয়সী প্রশংসা করেন। এছাড়া ১০ লক্ষের অধিক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে
মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহায়তার প্রয়োজনীয়তার
কথা তিনি উল্লেখ করেন।
ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে আনুষ্ঠানিকভাবে কেক কাটা হয়, যা উদযাপনে এক উৎসবমুখর
মাত্রা যোগ করে। এ সময় প্রধান অতিথি রবার্ট অলিফ্যান্ট এমপি; কানাডা-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি
ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের সভাপতি ব্র্যাড রেডেকপ এমপি; এবং ডিপ্লোম্যাটিক কোরের ডিন ও মরক্কোর রাষ্ট্রদূত
হাইকমিশনারের সাথে যোগ দেন। এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশি শিল্পীদের পরিবেশনায় ‘বাংলাদেশ: বারো মাসে তেরো
পার্বণ’ শীর্ষক একটি আকর্ষণীয় নৃত্যনাট্য প্রদর্শিত হয়। বাংলাদেশের ঋতুচক্র ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের
এই নান্দনিক উপস্থাপন অতিথিদের মুগ্ধ করে।

বাংলাদেশ হাইকমিশন
অটোয়া, কানাডা

এর আগে সকালে ‘বাংলাদেশ হাউসে’ মিশনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে হাইকমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে
জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল শহিদের আত্মার
মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।