রাবি ইসলামিক স্টাডিজে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট ওবায়দুল্লাহকে যোগসাজশে নিয়োগ
- Update Time : ০৪:৫৩:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৯ Time View

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : রাবি ইসলামিক স্টাডিজে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট ওবায়দুল্লাহকে যোগসাজশে নিয়োগ দিচ্ছে ভিসি ও জামাআত-শিবির। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী ফ্যাসিস্ট ভিসি, প্রক্টর ও শিক্ষকরা একে একে পদত্যাগ করতে শুরু করে। তাদের অন্যায়, দূর্নীতি আর ফ্যাসিস্ট তাবেদারী এতটাই তুঙ্গে ছিল যে, সরকারের সাথে সাথে তাদেরকেও পালানোর পথ বেছে নিতে হয়েছে। সেই রেশ ধরে ১৭ আগস্ট ২০২৪ ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ ৬ শিক্ষক। পদত্যাগ করা আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শিক্ষকরা হলেন-ভাইস- চ্যান্সেলর (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুছ ছবুর খান, ড. নারগীস সুলতানা চৌধুরী, ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, ড. মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ, সাঈদ ইসলাম, হুসনে আরা বেগম।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ফ্যাসিবাদের জাতাঁকলে পিষ্ট ছাত্রসমাজ যখন কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে নানামুখী নির্যাতনে জর্জরিত তখন আশ্চর্যজনক নীরব ভূমিকায় ছিল মানারাত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষ হয়। এরমধ্যেই গুলিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ ডিপার্টমেন্টের শাকিল পারভেজ নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। অমানবিক নির্যাতন এবং একজন শিক্ষার্থীর শাহাদাতও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নীরবতা ভাঙতে পারেনি। বরং ছাত্র হত্যা ও নির্যাতনে দৃশ্যমান ভূমিকা ছিলো আওয়ামী ফ্যাসিবাদী এই শিক্ষকদের। বিশেষ করে ড. মুহাম্মদ ওবায়দুল্লার। এরা ছাত্রদের আন্দোলন থেকে বিরত রাখতে নানা উপায় অবলম্বন করেছে। অমানবিক এই ফ্যাসিস্টরা আন্দলোনে আহত ও রক্তাক্ত ছাত্রদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থায় বাধা দিয়েছে।
দেশের অন্যতম সেরা এই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কে ধ্বংস করার অভিপ্রায়ে ড. মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহসহ স্বার্থান্বেষী কিছু শিক্ষক ও কর্মকর্তার অপপ্রয়াসে মেয়র আতিককে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়। ফলে সব ধরনের অন্যায়, অবিচার, বৈষম্যের পথ সুগম হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ক্যাম্পাস থাকতে পারবে না। এরই আলোকে মানারাতের গুলশান ক্যাম্পাসে ভর্তি নিষেধাজ্ঞা দেয় ইউজিসি। তাই ২০১৭ সালে স্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে আশুলিয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়টি। আশুলিয়া স্থায়ী ক্যাম্পাস জেনেই ভর্তি হয় হাজার হাজার শিক্ষার্থী।
কিন্তু গুঞ্জন শুরু হয় আশুলিয়ার স্থায়ী ক্যাম্পাসকে গুলশানে স্থানান্তরের। যা কোনভাবেই মানতে পারেনি বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আন্দোলনও করে। তবে আন্দোলন ও প্রতিবাদের বিষয়টি নিয়ে কিছু শিক্ষক শিক্ষার্থীদের হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গুলশান ক্যাম্পাস স্থানান্তরের নামে হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্টের পরিকল্পনার নেতৃত্ব দিয়েছেন কলা অনুষদের ডিন ড. মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ। তার এসব অপকর্ম এবং আওয়ামী ফ্যাসিস্টের কারণে বিপ্লব পরবর্তী ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে মানারাত প্রশাসন তাকে সহ ৬ জনকে বহিষ্কার করবে জেনে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে। সম্প্রতি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করলেও একই কারণে নিয়োগ দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অথচ শহীদদের রক্তের সাথে গাদ্দারী করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ফ্যাসিস্টকে নিয়োগ দেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে রাবি ভিসি এবং জামাআত-শিবির।

আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা অত্যন্ত ব্যথিত। জুলাই অংশীজনদের হাতে জুলাইয়ের গাদ্দার এবং আওয়ামী ফ্যাসিস্টকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। রাবিতে পড়ার পরও আমাদের মতো মেধাবী জুলাই যোদ্ধাদের নিয়োগ না দিয়ে ফ্যাসিস্ট নিয়োগ দিয়ে পুরো জুলাই যোদ্ধাদের অপমান করা হয়েছে।
আমি জানতে পেরেছি এটি জামাত এবং শিবির সবার চোখে ধুলা দিয়ে ভিসিকে দিয়ে করার চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যে বিষয়টি জানাজানি হয়েছে। তারা তড়িঘড়ি করে সিন্ডিকেট করে নিয়োগ চূড়ান্ত করবে এটাও সাবার মুখে মুখে। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট ড. মুহাম্মদ ওবায়দুল্লার ফ্যাসিবাদের সকল তথ্য অনলাইনে ভাইরাল। ফ্যাসিবাদ পূনর্বাসনের জন্য জুলাই অভ্যুথান হয়নি। ফ্যাসিবাদ পূনর্বাসনের জন্য রাবি ভিসিকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। ফ্যাসিবাদ পূনর্বাসনের জন্য রাকসু হয়নি। কোন এলাকা এবং ব্যক্তির পছন্দ অনুযায়ী কাওকে জামাআত-শিবির নিয়োগ দিবে এটাও অনভিপ্রেত, আদর্শের খলন, জুলাইয়ের সাথে গাদ্দারী। আশাকরি কর্তৃপক্ষের বোধগম্য হবে।























