০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাওলানা ক্বারী শাহ আহমাদুল্লাহ আশরাফ (রহ.) ছিলেন মানবতার সেবায় নিবেদিত প্রাণ
বিশেষ প্রতিনিধি
- Update Time : ০৫:৪২:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৬ Time View

গাজী ইসমাইল ভাঁওয়ারী : হযরত হাফেজ্জী হুজুর (রহ.)–এর বড় সাহেবজাদা, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন–এর দ্বিতীয় আমিরে শরীয়ত, মাওলানা ক্বারী শাহ আহমাদুল্লাহ আশরাফ (রহ.) ছিলেন একজন দূরদর্শী রাজনীতিবিদ ও মানবতার সেবায় নিবেদিত এক মহান পুরুষ। তাঁর পুরো জীবনজুড়েই ছিল আর্তমানবতার কল্যাণে নিঃস্বার্থ আত্মনিবেদন। জীবদ্দশায় তিনি অসংখ্য পথশিশু ও ছিন্নমূল এতিমকে রাস্তা থেকে তুলে এনে স্নেহ-মমতায় লালন-পালন করেছেন এবং তাদের শিক্ষা ও দ্বীনি তারবিয়তের সুব্যবস্থা করেছেন। এ সকল শিশুর মধ্যে অনেকেই আজ পবিত্র কুরআনের হাফেজ ও আলেম হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দ্বীনের খেদমতে নিয়োজিত রয়েছেন। মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে তিনি অনেক সময় নিজ হাতে এসব শিশুদের গোসল করাতেন, আহার করাতেন এবং পিতৃস্নেহে আগলে রাখতেন। শুধু তাই নয়, এলাকার অসংখ্য দরিদ্র পরিবার, বিধবা ও অসহায় মানুষের পাশে তিনি সর্বদা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ বিতরণ, কুরবানির ঈদে দরিদ্রদের মাঝে গোশত বণ্টনসহ মানবসেবামূলক সকল কার্যক্রমেই ছিল তাঁর সক্রিয় ও অগ্রণী অংশগ্রহণ। মাওলানা আহমাদুল্লাহ আশরাফ (রহ.) ছিলেন একজন গর্বিত মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ছিল অত্যন্ত অনাড়ম্বর, সহজ-সরল ও সংযমপূর্ণ। পিতা হযরত হাফেজ্জী হুজুর (রহ.)–এর ১৯৮৭ সালে ইন্তেকালের পর প্রায় তিন দশক ধরে তিনি বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমিরের দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করেন। নিরহংকার, জনদরদী, আপসহীন ও সৎ সাহসী এই বীরপুরুষ ইসলামবিরোধী সকল অপতৎপরতা প্রতিহত করতে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। হক কথা বলতে তিনি কখনো দ্বিধা করতেন না; আল্লাহ ছাড়া কাউকেই ভয় করতেন না। ইসলামী রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য প্রয়োজনীয় সকল গুণাবলিই তাঁর মধ্যে পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান ছিল। তিনি ছোটদের স্নেহ করতেন এবং বড়দের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতেন।

তাঁর একটি গভীর তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য আজও স্মরণীয়— “মসজিদ আল্লাহর ঘর, আর জমিনও আল্লাহর। যে রাজনীতি আল্লাহর ঘর মসজিদে করা যায় না, সে রাজনীতি আল্লাহর জমিনেও করার কারো অধিকার নেই।” তওবার রাজনীতির প্রবর্তক হযরত হাফেজ্জী হুজুর (রহ.)–এর চিন্তা-চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশে ইসলামী হুকুমত তথা কুরআন-সুন্নাহর শাসন প্রতিষ্ঠায় তিনি আজীবন নিরলস মেহনত করে গেছেন। আজ ৬ রমজান ১৪৪৭ হিজরি, মোতাবেক ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি, মঙ্গলবার বাদ আছর, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের উদ্যোগে আয়োজিত “আর্ত মানবতার সেবায় মাওলানা ক্বারী শাহ আহমাদুল্লাহ আশরাফ (রহ.)–এর অবদান” শীর্ষক আলোচনা, দোয়া ও ইফতার মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে আমীরে খেলাফত মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী এসব কথা বলেন। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন দলের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ হাফেজ্জী, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন এবং প্রচার সম্পাদক মাওলানা সাইফুল ইসলাম সুনামগঞ্জী। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মুফতি আবুল হাসান কাসেমী, মাওলানা আব্দুর রশিদ ফরিদী, মুফতি হাবিবুর রহমান, মাওলানা রুহুল আমিন, মুফতি কামরুল ইসলাম, মাওলানা জসিম উদ্দিনসহ অসংখ্য আলেম-ওলামা, ছাত্র-শিক্ষক ও সহস্রাধিক রোজাদার মুসল্লি। ইফতারের পূর্বক্ষণে হযরত হাফেজ্জী হুজুর (রহ.), মাওলানা ক্বারী শাহ আহমাদুল্লাহ আশরাফ (রহ.) ও মাওলানা হাফেজ ক্বারী আতাউল্লাহ (রহ.)–এর রূহের মাগফিরাত কামনা এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
Tag :






















