০৯:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভোলার শশীভূষণের এওয়াজপুরের উৎপাদিত কাঁঠালে উচ্চমাত্রার ক্যালরিক্যাশন
আবুল কাশেম
- Update Time : ০১:২৬:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
- / ২৫৮ Time View

মোঃ আবুল কাশেম : কাঁঠাল উৎপাদনের জন্য ভোলা জেলার চরফ্যাসন উপজেলার শশীভূষণ থানার এওয়াজপুর ইউনিয়নের মাটি সর্বোৎকৃষ্ট। ফলে “করব কাজ, গরব দেশ- সবার আগে বাংলাদেশ” – নীতি ও আদর্শের মহান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচীর আওতায় ঐ ইউনিয়নের প্রতিটি সরকারী সড়কের দুইপাশের সরকারি মাটিতে ভোলা জেলাবাসী কাঁঠাল গাছ উৎপাদনের জন্য রাষ্ট্রের কাছে আবেদন জানিয়েছে। এই ব্যাপারে গত ১১/০৩/২০২৬ ইং তারিখে একটি আবেদন ভোলা জেলার চরফ্যাসন উপজেলার উপজেলা পোষ্ট অফিসের রেজিষ্ট্রি ডাকযোগের প্রেরণ রশিদ নং- ৮৯৪ (আইটেম আইডি নং- (DL842919992BD) মাধ্যমে বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়ের নিকট রওয়ানা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উক্ত আবেদনের অনুলিপি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ সচিবালয়ের মাননীয় মন্ত্রী (আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয় ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়) মহোদয়গণের নিকট প্রেরণের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও উক্ত আবেদন প্রসঙ্গে মাননীয় সংসদ সদস্য, ভোলা -৪ (আসন নং – ১১৮, চরফ্যাসন-মনপুরা), ভূমি জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার, ভোলা জেলা প্রশাসক, ভোলা জেলা পুলিশ সুপার, চরফ্যাসন উপজেলা নির্বাহী অফিসার, চরফ্যাসন সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার, চরফ্যাসন থানার ও শশীভূষণ থানার অফিসার ইনচার্জ সূত্রে সত্যতা নিশ্চিৎ হওয়া গেছে। আবেদনের পক্ষে ভোলা জেলার বেসরকারি ও অরাজনৈতিক অর্গানাইজেশন- “প্রথম গ্রেড ভোলা জেলা বাস্তবায়ন সংস্থা” সূত্রে জানা গেছে যে, বহু বছর ধরেই বৃক্ষ রোপন কর্মসূচী নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাথে তাদের যোগাযোগ রয়েছে। উভয়ের মধ্যে জানাজানি করা হয়েছিল যে, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে সরকারিভাবে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচী চালু করবে। উক্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নামক মহান রাজনৈতিক দলটি রাষ্ট্র সরকারে আসার আগে বহু নির্বাচনী জনসভায় অসংখ্যবার নির্বাচনী ওয়াদায় বৃক্ষ রোপন করার কথা বলেছেন। প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষের অবদান মানব জাতীর জন্য ন-ফেরত প্রদানের মত ঋণবোধক। বাংলাদেশের গ্রামে গ্রামে সরকারী উদ্যোগে বৃক্ষ রোপন ও উহার রক্ষণাবেক্ষণ খুবই শ্রদ্ধার ও প্রশংসার এবং দক্ষ নাগরীকের পরিচালনায় বৃক্ষের দ্বারা রাষ্ট্রের জন্য উৎপাদিত অর্থনৈতিক উন্নতি অমৃত, টেকসই, লাভজনক, ঝুঁকিহীন, চিরস্থায়ী, ও অক্ষয়িষ্ঞু । কিন্তু বৃক্ষগুলোর বেশির ভাগ গাছ-ই যদি মা কাঁঠাল গাছ (বা মেদী কাঁঠাল গাছ) হয় তবে গাছগুলো প্রতি বছর-ই বাংলাদেশের মানুষকে জাতীয় ফল কাঁঠাল প্রদান করবে। কাঁচা কাঁঠালের তরকারি- মাছ দিয়ে, মাংশ দিয়ে, ডাল দিয়ে রান্না করে খেতে মজা। এমনকি কাঁচা কাঠালের ভূনা খিঁচুরী, সবজি পোলাও এর সাথে কাঁচা কাঁঠাল রান্না, কাঁচা কাঠালের পোলাও, কাঁচা কাঠালের তরকারি, কাঁচা কাঠালের বিরানী, কাঁঠাল খিচুরী, হাঁস (দেশি হাঁস, বিদেশী হাঁস, চিনা হাঁস, বাদি হাঁস, রাজ হাঁস, বন্য হাঁস, গৃহ পালিত হাঁস) এর মাংসের সাথে কাঁচা কাঠালের বীচিহীন কোষ দিয়ে পাঁকা বাবুর্চির রান্না অত্যন্ত সুস্বাদু। পুষ্টির গুনে ও মানে কাঁচা কাঁঠালের তরকারির কাছে পৃথিবীর সকল তরকারি খাদ্য পরাজিত। রান্না করা কাঁঠালের বীজের স্বাদও তুলনাহীন। পাকা কাঁঠালের কোষের টসটসে স্বাদের কথা কারোর কাছেই অপরিচিত নয়। ঘরের বারান্দার পাশের কাঁঠাল গাছের পাকা কাঁঠালের সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়লে ঘরে শুয়ে থাকা ঘুমিয়ে থাকা সকলেরই কাঁঠাল খাওয়ার ইচ্ছায় ঘুম ভাঙ্গে। পাঁকা কাঠাল বাড়ির প্রতিবেশী ও পাড়া-প্রতিবেশীরাও নানান অজুহাতে কাঁঠাল খাওয়ার ইচ্ছায় পাকা কাঁঠাল বাড়িতে ছুটে আসে। পাকা কাঁঠালের রসের সাথে মিশানো তরল দুধের স্বাদ শুধু স্বাধ-ই নয়, গর্ভবতী রমনীদের ও ভূমিষ্ঠ নবজাতক বাচ্চাদের স্বাস্থ্য সুস্থ রাখার উৎকৃষ্ঠ খাদ্য। পাকা বা কাচা কাঁঠালের বীজের তৈরি বহু প্রকার খাদ্যের মধ্যে সকল প্রকারের খাদ্যই বাল্যকাল হতে দেহের হজম শক্তিকে ও দেহের বিপাকীয় কার্যাবলীকে বলিষ্ঠভাবে গড়ে তোলে। পাকা কাঠালের রসকে খাদ্য হিসেবে গ্রহন করলে, দৈহিক বিপাকীয় কার্যাবলীর দ্বারা চোখের জ্যোতি শক্তি বাড়ায় ও দৃষ্টি শক্তি বাড়ায়। পাকা কাঁঠালের কোষের রসের টসটসা মিষ্টির স্বাদ নেওয়ার জন্য ও পাকা কাঁঠালের কিছু না কিছু খাওয়ার জন্য পোষা প্রানী কুকুরও ভৃত্যের বাড়ি ছেড়ে কাঁঠাল বাড়ির বন বিড়াল, কাঠ বিড়াল, বন্য শেয়াল, খেক শিয়ালকে তাড়া করে নিজে কাঁঠাল বাড়ি পাহাড়া দেয় ও কাঠালের নিরাপত্তার জন্য কাঁঠাল বাড়ির দখলদারিত্ব করে। পাঁকা কাঁঠালের উচ্ছিষ্ঠাংশ কোন জলকূপে রাখলে ঐ জলকূপের সাথে সংযোগে থাকা সকল জলাশয়ের মাছও কাঁঠাল বাড়ির কাঁঠাল জলকূপে অবস্থান নেয় এবং জলজ মৎস্য প্রাণীগুলো কাঁঠালের উচ্ছিষ্ঠাংশ ভিটামিন বি-কমপ্লেক্সের মত গ্রহণ করে উপকৃত হয়। কাঁচা বা পাকা কাঁঠাল পঁচাংশ নদী-খাল-দিঘীর কিনারায় দাড়িয়ে মৎস্য আহরনী মৎস্য শিকারীদের বড় বড় মাছ শিকারের উৎকৃষ্ট কাঁচামাল। এছাড়াও কাঁঠালের ভর্তা, কাঁঠালের সিঙ্গারা, কাঁঠাল ভাজি, কাঁঠালের বার্গার, কাঁঠালের পিৎজ্জা, কাঁঠালের চপ ইত্যাদি খাদ্য বা বাংলাদেশের জাতীয় যেকোন বিষয়ের উপর অসহ্যকর এলার্জিযুক্তকরন ও রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিতকরন করা হলেও কাঁঠালজাত খাবার খেতে একেবারেই সুস্বাদু। কাঁচা কাঁঠালের ও পাঁকা কাঁঠালের সর্বাংশই বাংলাদেশের মানুষের জন্য উপকারী। খাদ্য কাঁঠাল পারিবারিক অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটায়। পাকা কাঁঠাল স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। কাঁঠালের হজমের মাধ্যমে মানব দেহে উচ্চ মাত্রার ক্যালরিক্যাশন ঘটে। কাচা কাঁঠাল পাতা গরু, ছাগল, ঘোড়া, ভেড়া ও মহিষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করলে তাদের দেহের পশম তৈলাক্ত হয়। কাঁঠাল গাছের মরা পাতা বা ঝরে পড়া পাতা মাটিতে পড়ে থাকলে মরা পাতা বা ঝরে পড়া পাতার নীচের আড়ালের মাটিতে থাকা মাটির উপকারী অতিআনুবীক্ষণীক মাইক্রোবায়োলজিক্যাল জীবের কর্ম ক্ষমতা বাড়ে। কাঁঠাল গাছের মরা পাতা বা ঝরে পড়া পাতা পঁচে মাঠির উর্বরতা ও উর্বরতা শক্তি বহুগুনে বাড়ায়। কাঁঠাল বৃক্ষের ছায়া বিশুদ্ধ অক্সিজেন পূর্ন বাতাসে ভরপুর থাকে। কাঁঠাল বৃক্ষের বাড়িতে কোন শ্বাস কষ্টের লোক হাঁটাচলা ও পায়চারী করলে তার শ্বাস কষ্ট দিনে দিনে কমতে থাকে। কাঁঠাল বৃক্ষের দেওয়া প্রকৃতি- মানব ফুসফুসের বায়ু শোধনাগার বটে। বয়স্ক ও পাকা কাঁঠাল গাছের লাল কাঠ দীর্ঘ মেয়াদী ফার্নিচার তৈরির জন্য উৎকৃষ্ঠ কিংবা কাঁঠাল কাঠের তৈরি যেকোন উৎপাদনই টেকসই মঝবুত ও টেকসই হয়। স্থায়িত্বের কারণে পাকা কাঁঠাল গাছের কাঠের ফার্নিচারকে দালান বাড়ির বা ইরানের সাড়ে চার শত বছরের বয়স্ক রাজ প্রাসাদ- গুলিস্তান প্রাসাদের পন্য বলা হয়। গাছ হিসেবে কাঁঠাল গাছের লাভের কোন প্রতিপক্ষ বা নেতিবাচকতা নাই। এজন্য “করব কাজ, গরব দেশ- সবার আগে বাংলাদেশ” – নীতি ও আদর্শের মহান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সরকারের বাংলাদেশে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচীর আওতায়- ভোলা জেলার চরফ্যাসন উপজেলার শশীভূষণ থানার এওয়াজপুর ইউনিয়নের প্রতিটি সরকারী রাস্তার উভয় পাশে কাঁঠাল গাছ রোপন করা প্রয়োজন। কেননা- ঐ এওয়াজপুরের মাটি হৃষ্টপুষ্ট ও প্রফুল্ল কাঁঠাল গাছ উৎপাদনের উপাদানে ভরপুর। এওয়াজপুরের মাটিতে উৎপাদিত কাঁঠাল গাছের পাঁকা কাঁঠালের রস অনেক মিষ্টি ও স্বাদে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। এওয়াজপুরের মা কাঁঠাল গাছ (মেদী কাঁঠাল গাছ) পরিনত হয়ে ছয় বা সাত বছরের মাথায় কাঁঠাল দেওয়া শুরু করে। আট বা নয় বছরের মাথায় অসংখ্য সংখ্যায় কাঁঠাল ধরা শুরু করে। প্রতি বছরই কাঁঠাল ধরে। এওয়াজপুরের কাঁঠাল বৃক্ষও অন্যান্য জেলার কাঁঠাল গাছের তুলনায় বেশী হারে মোটাতাজা হয়। এওয়াজপুরের মাটিতে কাঁঠাল উৎপাদিত হওয়ার এই ঐশ্বরিক ক্ষমতা প্রকৃতিগতভাবে সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত। এজন্য বৃক্ষ রোপনকে রাষ্ট্রের লাভজনক বিবেচনায় নিয়ে- “করব কাজ, গরব দেশ- সবার আগে বাংলাদেশ” – নীতি ও আদর্শের মহান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বাংলাদেশ সরকারের বৃক্ষ রোপন কর্মসূচীর আওতায়- ভোলা জেলার চরফ্যাসন উপজেলার শশীভূষণ থানার এওয়াজপুর ইউনিয়নের প্রতিটি সরকারী রাস্তার উভয় পাশে সরকারি কাঁঠাল গাছ রোপন রাষ্ট্র হিতকর। ছবিতে- এওয়াজপুরের সরকারি সড়কে মা কাঁঠাল বৃক্ষ উৎপাদনের জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট আবেদন।
Tag :














