https://www.facebook.com/obaidul1991
একতা ও জিহাদের আযান: তাড়না নাই লাব্বায়েক বলায়
- Update Time : ০২:৫৩:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
- / ১১ Time View

ফিরোজ মাহবুব কামাল :
ঈমান দৃশ্যমান হয় লাব্বায়েক বলায়
মুসলিম হওয়ার অর্থই হলো, মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতিটি হুকুমে লাব্বায়েক বলা। ঈমানদার আমৃত্যু বাঁচে এ মিশন নিয়ে। লাব্বায়েক হলো ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা (jargon)। এ শব্দটির মধ্য দিয়ে ব্যক্তির ঈমান, দর্শন ও তাড়না কথা বলে। ঈমানদারের দর্শনটি হলো মহান রব’য়ের এজেন্ডার সাথে পূর্ণ একাত্মতার এবং তাঁর লাগাতর তাড়নাটি হলো সে এজেন্ডাকে বিজয়ী করার। লাব্বায়েক বলার অর্থ, মহান রব’য়ের আহবানে পূর্ণ একাত্মতার ঘোষণা। যারা তার ডাকে লাব্বায়েক বলে -একমাত্র তারাই পায় জান্নাত। লাব্বায়েক না বলার অর্থ বিদ্রোহ; সে বিদ্রোহ ব্যক্তিকে কাফিরে পরিণত করে। আর বিদ্রোহীদের স্থান হলো জাহান্নাম। এক্ষেত্রে আরো শিক্ষণীয় বিষয় হলো, কাফির হতে বার বার বিদ্রোহের প্রয়োজন নেই; একটি বার বিদ্রোহই যথেষ্ট। সেটির প্রমাণ রেখেছে অভিশপ্ত ইবলিস। বিপুল অর্থ ব্যয়ে, নানা কষ্ট সয়ে এবং বহু হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে যখন কেউ আল্লাহর ঘর ক্বাবার পাশে গিয়ে “লাব্বায়েক, আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক, লা শারিকা লাকা লাব্বায়েক …বলে, এমন ব্যক্তির আমলের ওজনটি বিশাল। মহান রব‘য়ের করুণা বর্ষিত হয় তাঁর উপর। লাব্বায়েক বলার সে বিশাল আমল তাঁর পাপের ভাণ্ডার শূণ্য করে দেয়।

তবে শুধু হজ্জে গিয়ে নয়, ঈমানদারকে প্রতিদিন ৫ বার লাব্বায়েক বলতে হয় মসজিদের আযানের ডাকে। তেমনি লাব্বায়েক বলতে হয় একতা ও জিহাদের ডাকেও। ঈমানের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাটি হয় একতা ও জিহাদের ডাকে লাব্বায়েক বলার মধ্য দিয়ে। এমন কি বহু সূদখোর, ঘুষখোর, প্রতারক, ঋণখেলাফী, চাঁদাবাজ, ফ্যাসিস্ট, সেক্যুলারিস্টও নামাজ রোজা ও হজ্জ যাকাতের আযানে লাব্বায়েক বলার সামর্থ্য রাখে। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয় একতা ও জিহাদের ডাকে লাব্বায়েক বলতে। কারণ তাতে বিপুল অর্থ ও নিজ রক্তের খরচ আছে। একতা ও জিহাদের ডাকে লাব্বায়েক বলার গুরুত্ব এতোই অধিক যে, এ ক্ষেত্রে লাব্বায়েক না বললে মহান রব’য়ের “আ’মিরু বিল মা’রুফ এবং নেহী আনিল মুনকার”য়ের এজেন্ডা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে যায়। মহান রব’য়ের সে পবিত্র এজেন্ডার বিজয় শত কোটি মানুষের নামাজ রোজা ও হজ্জ যাকাত পালনে আসে না। বিজয় আসে না লক্ষ লক্ষ মসজিদ এবং হাজার হাজার মাদ্রাসা নির্মাণ করলেও। বাংলাদেশে কি এগুলির সংখ্যা কম? অথচ মুসলিম উম্মাহর উত্থাণই ঘটানোর মূল কারণ “আ’মিরু বিল মা’রুফ এবং নেহী আনিল মুনকার”য়ের এজেন্ডাকে সফল করা -যার উল্লেখ এসেছে সুরা আল ইমরানের ১০১৪ নম্বর আয়াতে। এবং মুসলিমগণ যেহেতু সে এজেন্ডা নিয়ে বাঁচে, তাদের দেয়া হয়েছে সর্বশ্রেষ্ঠ জাতির মর্যাদা -যারা ঘোষণা এসেছে সুরা আল ইমরানের ১১০ নম্বর আয়াতে।
যে মুসলিম দেশের উপর দখলদারি ইসলামের শত্রুপক্ষের, যেদেশে বিলুপ্ত মহান আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও শরিয়া, প্লাবন যেদেশে জুলুম ও দুর্বৃত্তির -সেদেশে প্রতিক্ষণ আযান উচ্চারিত হয় একতা ও জিহাদের। অধিকৃত সে ভূমি থেকে মজলুম নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা ফরিয়াদ তুলে মুক্তির। সমাজ বিপ্লবে অতি গুরুত্বপূর্ণ হলো উম্মাহর মাঝে একতা ও জিহাদ। একতা ছাড়া জিহাদ বিফল; এবং জিহাদ ছাড়া একতাও নিষ্ফল। তাই সমাজ পাল্টাতে হলে এবং ইসলামী রাষ্ট্র গড়তে হলে একতা ও জিহাদ -এ দুটি একত্রে চাই। তাই প্রতিনিয়ত একতা ও জিহাদের পক্ষে আযান ধ্বনিত হয় মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে। যারা পবিত্র কুর’আন বুঝে পাঠ করে -তারা সে আযান সুস্পষ্ট শুনতে পায়। তবে সে আযান শুনতে হলে স্রেফ কুর’আন তেলাওয়াত করলে চলে না, কুর’আনের প্রতিটি আয়াত বুঝতে হয়। তবে বুঝার জন্য শুধু সুস্থ কান নয়, তাকওয়া সমৃদ্ধ ঈমান লাগে। মুসলিমদের সমস্যা এখানেই। তারা কুর’আন তেলাওয়াত করে বটে, কিন্তু তারা কুর’আন বুঝতে রাজী নয় বা বুঝার সামর্থ্য রাখে না। কুর’আনী জ্ঞানের অপুষ্টিতে তাদের ঈমানও দুর্বল। ফলে সুস্থ কান থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ মুসলিম মহান রব’য়ের সে কুর’আনী আযান শুনতে পায় না। ফলে সে আযানে তারা সাড়াও দেয়না। সেটি বুঝা যায় মুসলিম উম্মাহ মাঝে গভীর বিভক্তি ও জিহাদশূণ্যতা দেখে।
একতা ও জিহাদের আযান পবিত্র কুর‘আনে
ফিলিস্তিনে চলছে ইসরাইলী গণহত্যা, গণহত্যা চলছে কাশ্মীর ও আরাকানে। অধিকাংশ মুসলিম দেশই আজ অধিকৃত নৃশংস রাজা বাদশাহ ও স্বৈরাচারী বেঈমান শক্তির হাতে। সেসব অধিকৃত দেশে চলছে গুম, খুন, নির্যাতন, বিচার বহির্ভুত হত্যা এবং রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। কোন মুসলিম ভূমি এভাবে জালেম শক্তির হাতে অধিকৃত হওয়া মাত্রই শুরু হয় একতা ও জিহাদের আযান। মহান রব’য়ের পক্ষ থেকে সে আযান ধ্বনিত হতে শোনা যায় নিচের আয়াতে:
فَلْيُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يَشْرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا بِالْآخِرَةِ ۚ وَمَن يُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيُقْتَلْ أَوْ يَغْلِبْ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا
অর্থ: “অতঃপর অবশ্যই তাঁরা জিহাদ করবে আল্লাহর রাস্তায় -যারা পার্থিব জীবনকে বিক্রয় করেছে আখেরাতের বিনিময়ে। বস্তুতঃ যারা আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করে এবং অতঃপর মৃত্যুবরণ করে কিংবা বিজয় অর্জন করে, আমি তাদেরকে মহা প্রতিদান দিব।”
অন্য বহু আয়াতের ন্যায় জিহাদের আযান শোনা যায় নিচের আয়াতেও:
انفِرُوا خِفَافًا وَثِقَالًا وَجَاهِدُوا بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ۚ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ
অর্থ: “তোমদের প্রস্তুতি কম হোক বা বেশি হোক, যুদ্ধে বেরিয়ে পড়; এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করো নিজেদের মাল ও জান দিয়ে, এটি তোমাদের জন্যে অতি উত্তম, যদি তোমরা বুঝতে পারতে।” -(সুরা তাওবা, আয়াত ৪১)
জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সামর্থ্য যদি অধিকৃত দেশের দুর্বল মুসলিমদের না থাকে তবে জিহাদ ফরজ হয়ে যায় প্রতিবেশি দেশের মুসলিমদের উপরও। ইসরাইলী আগ্রাসন প্রতিরোধ করার সামর্থ্য ফিলিস্তিনবাসীর নাই; এরূপ অবস্থায় জিহাদ ফরজ হয়ে যায় প্রতিবেশি আরব দেশগুলির মুসলিমদের উপর। সে জিহাদে শামিল হওয়ার নির্দেশ নিচের আয়াতে:
وَمَا لَكُمْ لَا تُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ وَالْوِلْدَانِ الَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْ هَـٰذِهِ الْقَرْيَةِ الظَّالِمِ أَهْلُهَا وَاجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ وَلِيًّا وَاجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ نَصِيرًا
অর্থ: “এবং (হে ঈমানদারগণ) তোমাদের কি হলো যে, তেমারা আল্লাহর রাস্তার যুদ্ধ করছো না? এবং যুদ্ধ করছো সেসব দুর্বল পুরুষ, নারী ও শিশুদের জন্য, যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদিগকে এই জনপদ থেকে নিষ্কৃতি দান করুন -যার অধিবাসীরা অত্যাচারী! এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য অভিভাবক নির্ধারণ করে দিন এবং আপনার পক্ষ থেকে নির্ধারণ করে দিন আমাদের জন্য সাহায্যকারী।” -(সুরা নিসা, আয়াত ৭৫)।
বিভক্তি থেকেই ব্যর্থতা ও বিপর্যয়
ইসলামের শত্রু শক্তি একতাবদ্ধ; আফগানিস্তান ও ইরাকে ৪০টির বেশি কাফির দেশকে একত্রে যুদ্ধে করতে দেখা গেছে। কাফিরদের ধর্মে যুদ্ধ সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত নয়; তাদের ধর্মে ফরজ নয় একতা। কিন্তু তারপরও তারা একতাবদ্ধ। প্রশ্ন হলো কাফিরগণ যখন একতাবদ্ধ হয়ে যুদ্ধে লিপ্ত, তখন কি মুসলিমগণ নীরব, নিষ্ক্রিয় ও বিভক্ত থাকতে পারে? এ ব্যাপারে মহান রব’য়ের নির্দেশ এসেছে নিচের আয়াতে:
وَالَّذِينَ كَفَرُوا بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ ۚ إِلَّا تَفْعَلُوهُ تَكُن فِتْنَةٌ فِي الْأَرْضِ وَفَسَادٌ كَبِيرٌ
অর্থ: “আর যারা কাফের তারা (ইসলামের বিরুদ্ধে আক্রমণে) পরস্পরের সহযোগী এবং বন্ধু। তোমরা যদি তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের যুদ্ধে তাদের মত পরস্পরের সহযোগী ও বন্ধু না হও, তবে ফিতনা (অর্থাৎ অরাজকতা, শত্রুর অধিকৃতি, বিভক্তি, দাঙ্গা হাঙ্গামা ও দ্বীন পালনে প্রতিবন্ধকতা) বিস্তার লাভ করবে এবং দেশময় বড়ই সংঘাতের জন্ম দিবে।” –(সুরা আনফাল, আয়াত ৭৩) ।
তাই কাফিরদের থেকেও শিক্ষা নেয়ার আছে। কাফির শক্তিবর্গ ভাষা, বর্ণ, অতীত ঐতিহ্য ও আঞ্চলিকতার উর্দ্ধে উঠে একতাবদ্ধ হযেছে। ভারতীয় পৌত্তলিকগণ ১৪০ কোটি জনসংখ্যার বৃহৎ ভারতের জন্ম দিয়েছে। ভারত তাই গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। ইউরোপীয়রা জন্ম দিয়েছে ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন এবং উত্তর আমেরিকার লোকেরা জন্ম দিয়েছে ইউনাইটেড স্টেটস। পরস্পরের মাঝের একতা ও সহযোগীতা তাদেরকে বিশ্বশক্তিতে পরিণত করেছে। উপরিউক্ত আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা মুসলিমদের সাবধান করেছেন, তারা যদি কাফিরদের ন্যায় একতাবদ্ধ না হয় এবং কাফির শক্তির নির্মূলে জিহাদ না করে তবে প্লাবন আসবে ফিতনার ও ফ্যাসাদের।
প্রতিটি মুসলিমের উপর বিভক্ত থেকে বাঁচা নিয়ে হুশিয়ারী এবং একতার পক্ষে আযান এসেছে নিচের আয়াতে:
وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا ۚ
অর্থ: “আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ় হস্তে ধারণ কর; পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না… ।”–(সুরা আল ইমরান, আয়াত ১০৩)।
ইসলাম পূর্ব আরবগণ বাঁচতো রক্তাক্ত গোত্রীয় সংঘাতের নৃশংসতা নিয়ে। কারো জানমালের কোন নিরাপত্তা ছিল না। ইসলাম তাদেরকে শত শত বছরের সে নৃশংস সংঘাতের যাতনা থেকে মুক্তি দেয় এবং ঐক্যবদ্ধ একটি উম্মাহ রূপে খাড়া করে। তাদের পক্ষে তখন সম্ভব হয়েছিল শক্তিশালী ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ। সে রাষ্ট্রের কারণে তারা পায় বিশ্বশক্তির মর্যাদা। এসবই হলো একতার ফজিলত। কিন্তু আজকের মুসলিমগণ সে পথে নাই। মুসলিমদের ঘরে ঘরে আজ পবিত্র কুর‘আন আছে, আছে বিশাল জনশক্তি, আছে বিস্তর সম্পদ, আছে বিশাল ভূমি, আছে লক্ষ লক্ষ মসজিদ ও হাজার হাজার মাদ্রাসা; কিন্তু একতা নাই। একতা না থাকাতে তাদের হাতে কোন শক্তিশালী ইসলামী রাষ্ট্র নাই। ফলে স্বাধীনতা ও নিরাপত্তাও নাই। মুসলিম উম্মাহর অনৈক্যই ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের কাজকে অসম্ভব করে রেখেছে। এ ব্যর্থতা থেকে বুঝা যায় একতার গুরুত্ব কত অপরিসীম। পবিত্র কুর’আন তাই শুধু জিহাদের আযান দেয় না। শুধু নামাজ রোজা ও হজ্জ যাকাতের কথা বলে না; বরং বার বার আযান দেয় একতার এবং সাবধান করে বিভক্তি থেকে বাঁচার। বস্তুত একতার মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় জনগণের ঈমান; বিভক্তির মধ্যে প্রকাশ পায় তাদের বেঈমানী।
পরিতাপের বিষয় হলো, মুসলিমগণ একতার আযান শুনলেও লাব্বায়েক বলে না। মহান রব‘য়ের ঘোষিত সাবধান বাণীতেও তারা কর্ণপাত করেনা। কারণ, সে সামর্থ্য তারা হারিয়ে ফেলেছে। সে সামর্থ্য বিলুপ্তিব কারণ, কুর’আনী জ্ঞানের অজ্ঞতা। কারণ, কুর’আনী জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করার কাজটি হয়নি। নানা ভাষা ও নানা বর্ণের কাফিরগণ একতার পথে গেলেও মুসলিমগণ যায়নি। তারা বেছে নিয়েছে বিভক্তির পথ। এবং বিভক্তির পথ বেয়ে তারা বাঁচছে ফিতনা ফ্যাসাদ ও পরাজয় পরাধীনতা নিয়ে। যারা এরূপ বিদ্রোহ ও বিভক্তির পথ বেছে নেয়, তাদের জন্য হুশিয়ারি এসেছে নিচের আয়াতে:
إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا لَّسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ ۚ إِنَّمَا أَمْرُهُمْ إِلَى اللَّهِ ثُمَّ يُنَبِّئُهُم بِمَا كَانُوا يَفْعَلُونَ
অর্থ: “নিশ্চয় যারা (মজহাব, ফিরকা, ত্বরিকা, আক্বিদার নামে) তাদের নিজ ধর্মকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে এবং অনেক দলে বিভক্ত হয়ে গেছে, (হে নবী) এই বিভক্ত ব্যক্তিদের সাথে আপনার কোন সম্পর্ক নাই। (অতএব তাদের নিয়ে আপনি ভাববেন না) তাদের ব্যাপারটি একমাত্র আল্লাহ তা’আয়ালার হাতে ন্যস্ত; অতঃপর তিনি বলে দেবেন -তাদের আমলের বিষয়ে।”–(সুরা আন‘আম, আয়াত ১৫৯)।
ইসলামে অতি গুরুত্বপূর্ণ হলো মহান আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূলের উপর অটল বিশ্বাস এবং সে সাথে মুসলিম উম্মাহর একতা। একতা মানেই মহান আল্লাহর হুকুমের সাথে একাত্মতা। অপর দিকে বিভক্তি মানের তাঁর হুকুমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এব সিরাতাল মুস্তাকীম থেকে বিচ্যুতি। যারা মজহাব, ফিরকা, ত্বরিকা ও আক্বিদার নামে মুসলিম উম্মাহকে খণ্ড বিখণ্ড করে এবং বিভক্ত হয় বহু দলে, তাদের ব্যাপার মহান রব’য়ের বয়ান হলো, তাদের ধর্ম পালনের সাথে নবীজী (সা:)‘য়ের কোন সম্পর্ক নাই। আর নবীজী (সা:)‘য়ের সাথে সম্পর্ক না থাকার অর্থ, সম্পর্ক নাই ইসলামের সাথে। উপরের আয়াতে আরো ঘোষণা হলো, যারা পরস্পরে বিভক্ত হলো তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত বা সুপারিশের দায় নবীজী (সা)‘য়ের হাতের রাখা হয়নি। তাদের ব্যাপারটি খোদ আল্লাহ তায়ালা দেখবেন -সে ঘোষণাটি এসেছে উপরের আয়াতে।
তাই নামাজের আযানে সাড়া দেয়াটাই আসল ঈমানদারী নয় -সে সামর্থ্য বহু ঘুষখোর, সূদখোর, মিথ্যাবাদী ও দুর্বৃত্ত স্বৈরাচারীরও থাকে। বরং ঈমানদারীর শীর্ষ পরীক্ষাটি হয় জিহাদের আযানে লাব্বায়েক বলার মধ্য দিয়ে। যার মধ্যে জিহাদ আছে, একমাত্র সেই প্রকৃত ঈমানদার। সে কথাটি স্পষ্ট করে বলা হয়েছে সুরা হুজরাতের ১৫ নম্বর আয়াতে। তবে কিছু ব্যক্তির জিহাদ বিজয় দিবে না, এজন্য চাই মুসলিম উম্মাহর একতাবদ্ধ জিহাদ। তাই উদ্যোগী হতে হবে মুসলিম উম্মাহর মাঝে একতা গড়ায়। আর জিহাদ ও একতার পথে দর্শনের বল ও অনুপ্রেরণা পেতে জরুরি হলো কুর’আনী জ্ঞান। বস্তুত চলমান এ বিপর্যয় থেকে বাঁচতে হলে মুসলিমদের শুধু নামাজ রোজা ও হজ্জ যাকাত পালনে উদ্যোগী হলে চলবে না, সে সাথে কুর‘আনমুখী, একতামুখী ও জিহাদমুখীও হবে না। নইলে মুক্তি নাই -না এ দুনিয়ায়, না আখেরাতে। ০২/০৭/২০২৬














